📄 সালাম না দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করলে
১০৭৬ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فِيْمَنْ يَسْتَأْذِنُ قَبْلَ أَنْ يُسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْذَنُ لَهُ حَتَّى يبدأ بالسلام .
১০৭৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি সালাম না দিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করে তিনি তার সম্পর্কে বলেন, সে সালাম না দেয়া পর্যন্ত তাকে প্রবেশানুমতি দেয়া যাবে না।
১০৭৭ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ إِذَا دَخَلَ وَلَمْ يَقُلْ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ فَقُلْ لَا حَتَّى يَأْتِيَ بالمفتاح السلام .
১০৭৭। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, কেউ সালাম না দিয়ে প্রবেশ করলে তুমি বলো, সে চাবি নিয়ে না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ সালাম না দেয়া পর্যন্ত (খোলা যাবে না)।
📄 বিনা অনুমতিতে কেউ ভেতর বাড়িতে তাকালে তার চোখ ফুটো করে দেয়া হবে
১০৭৮ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَوْ اطَّلَعَ رَجُلٌ فِي بَيْتِكَ فَخَذَفْتَهُ بِحَصَاةٍ فَفَقَاتْ عَيْنُهُ مَا كَانَ عَلَيْكَ جُنَاحٌ .
১০৭৮। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: যদি কোন লোক তোমার ঘরের মধ্যে উঁকি মেরে দেখে এবং তুমি তার প্রতি কংকর নিক্ষেপ করো, তা তার চোখে বিদ্ধ হলে তাতে তোমার কোন দোষ হবে না (বু, মু, দা, না, কু, আ)।
১০৭৯ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ قَائِمًا يُصَلَّى فَاطَّلَعَ رَجُلٌ فِي بَيْتِهِ فَأَخَدَ سَهُما مِّنْ كِنَانَتِه فَسَدَّدَ نَحْوَ عَيْنَيْهِ
১০৭৯। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁর ঘরের মধ্যে উঁকি মেরে তাকায়। তিনি তাঁর তুণীর থেকে তীর তুলে নিয়ে তার দুই চোখ বরাবর তাক করেন (বু, মু, তি, না, দা)।
📄 চোখের কারণেই অনুমতি প্রার্থনা করতে হয়
৪৯৬-অনুচ্ছেদ: চোখের কারণেই অনুমতি প্রার্থনা করতে হয়।
১০৮০ - عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنْ رَجُلاً اِطَّلَعَ مِنْ جُحْرٍ فِي بَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَمَعَ النبي ﷺ مِدْرَى يَحْكُ بِهِ رَأْسَهُ فَلَمَّا رَأَهُ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تَنْظُرُنِي لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنِكَ .
১০৮০। সাহল ইবনে সাদ (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (স)-এর ঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিলো। নবী (স) তখন লোহার একটি চিরুনী দিয়ে তাঁর মাথা আচড়াচ্ছিলেন। নবী (স) তাকে দেখে বলেন: আমি যদি জানতে পারতাম যে, তুমি (উঁকি মেরে) আমাকে দেখছো, তাহলে আমি এই চিরুনী দিয়ে তোমার চোখে আঘাত করতাম (বু, মু, তি, না)।
১০৮১ - وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِذْنُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ .
১০৮১। মহানবী (স) বলেন: চোখের কারণেই অনুমতি প্রার্থনার বিধান দেয়া হয়েছে (দা)।
১০৮২ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ اطَّلَعَ رَجُلٌ مِّنْ خُلَلٍ فِي حُجْرَةِ النَّبِيُّ ﷺ فَسَدَّدَ رَسُولُ اللَّهِ بِمِشْقَ فَأَخْرَجَ الرَّجُلُ رَأْسَهُ .
১০৮২। আনাস (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর ঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে উঁকি মারে। রাসূলুল্লাহ (স) তীরের ফলা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। লোকটি তার মাথা টেনে বের করে নেয়।
📄 কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার ঘরে সালাম করলে
৪৯৭-অনুচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার ঘরে সালাম করলে।
১০৮৩ - عَنْ أَبِي مُوسى قَالَ اسْتَأْذَنْتُ عَلَى عُمَرَ فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي ثَلَاثًا فَادْبُرْتُ فَأَرْسَلَ إِلَى فَقَالَ يَا عَبْدَ اللهِ اشْتَدَّ عَلَيْكَ أَنْ تَحْتَبِسَ عَلَى بَابِي اعْلَمْ أَنَّ النَّاسَ كَذَلِكَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَحْتَسِبُوا عَلَى بَابِكَ فَقُلْتُ بَلْ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْكَ ثَلَاثًا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي فَرَجَعْتُ وَكُنَّا نُؤْمَرُ بِذلِكَ فَقَالَ مِمَّنْ سَمِعْتَ هُذَا فَقُلْتُ سَمِعْتُهُ مِنَ النَّبِيِّ فَقَالَ أَسَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ مَا لَمْ نَسْمَعْ لَئِنْ لَّمْ تَأْتِنِي عَلَى هَذَا بِبَيِّنَةٍ لَأَجْعَلَنَّكَ نَكَالاً فَخَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ نَفَرًا مِّنَ الْأَنْصَارِ جُلُوسًا فِي الْمَسْجِدِ فَسَأَلْتُهُمْ فَقَالُوا أَوَيُشِكُ فِي هَذَا أَحَدٌ فَأَخْبَرْتُهُمْ مَا قَالَ عُمَرُ فَقَالُوا لَا يَقُوْمُ مَعَكَ إِلَّا أَصْغَرُنَا فَقَامَ مَعِى أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَوْ أَبُو مَسْعُودٍ إِلى عُمَرَ فَقَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يُرِيدُ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ حَتَّى آتَاهُ فَسَلَّمَ فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ ثُمَّ سَلَّمَ الثَّانِيَةَ ثُمَّ الثَّالِثَةَ فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَقَالَ قَضَيْنَا مَا عَلَيْنَا ثُمَّ رَجَعَ فَأَدْرَكَهُ سَعْدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا سَلَّمْتَ مِنْ مَرَّةٍ إِلا وَأَنَا أَسْمَعُ وَارَدُّ عَلَيْكَ وَلَكِنْ أَحْبَبْتُ أَنْ تُكْثَرَ مِنَ السَّلَامِ عَلَى وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِي فَقَالَ أَبُو مُوسَى وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَآمِينًا عَلَى حَدِيْثِ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَجَلٌ وَلَكُنْ أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْتَثْبَتَ .
১০৮৩। আবু মূসা (রা) বলেন, আমি উমার (রা)-র নিকট তিনবার প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করলাম, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তাই আমি ফিরে এলাম। তিনি আমার নিকট লোক পাঠিয়ে বলেন, হে আবদুল্লাহ! তোমার কতো কষ্ট হলো যে, তুমি আমার ঘরের দরজায় অবরুদ্ধ হলে। বুঝে নাও! তোমার ঘরের দরজায়ও লোকজন এভাবে অবরুদ্ধ হয়ে কষ্ট ভোগ করে। আমি বললাম, আমি আপনার নিকট তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করেছি, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি। তাই আমি ফিরে এসেছি। আর আমাদেরকে অনুরূপ নির্দেশই দেয়া হয়েছে। উমার (রা) বলেন, আপনি তা কার নিকট শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি তা নবী (স)-এর নিকট শুনেছি। উমার (রা) বলেন, সত্যিই কি আপনি নবী (স)-এর কাছে শুনেছেন, যা আমি শুনিনি? আপনি যদি একথার প্রমাণ নিয়ে আসতে ব্যর্থ হন তবে আমি আপনাকে উচিৎ শাস্তি দিবো। অতএব আমি রওয়ানা হয়ে মসজিদে (নববীতে) উপবিষ্ট একদল আনসারীর নিকট গিয়ে পৌঁছলাম এবং তাদের নিকট প্রমাণ প্রার্থনা করলাম। তারা বলেন, এই বিষয়ে কি কেউ সন্দেহ করতে পারে? অতএব উমার (রা) যা বলেছেন আমি তাদেরকে তা অবহিত করলাম। তারা বলেন, আমাদের মধ্যকার কনিষ্ঠতর ব্যক্তিই তোমার সাথে দাঁড়াবে। অতএব আবু সাঈদ খুদরী (রা) অথবা আবু মাসউদ (রা) আমার সাথে উমার (রা)-র নিকট যেতে দাঁড়ালেন। তিনি বলেন, আমরা নবী (স)-এর সাথে রওয়ানা হলাম। তিনি সাদ ইবনে উবাদা (রা)-কে দেখতে যাওয়ার মনস্থ করলেন। তিনি তার বাড়িতে পৌঁছে সালাম দিলেন, কিন্তু তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো না। এভাবে তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার সালাম দিলেন, কিন্তু তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো না। তিনি বলেন: আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করেছি। অতঃপর তিনি ফিরে চললেন। ইতিমধ্যে সাদ (রা) (বের হয়ে এসে) তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন! আপনি যতবারই সালাম দিয়েছেন তা আমি শুনতে পেয়েছি এবং আপনার সালামের উত্তর দিয়েছি। কিন্তু আমার প্রতি ও আমার পরিবার-পরিজনের প্রতি আপনার অধিক সালাম আশা করছিলাম (তাই সাড়া দেইনি)। আবু মূসা (রা) এবার উমার (রা)-কে বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীসের ব্যাপারে অবশ্যই আমি বিশ্বস্ত আমানতদার। তিনি বলেন, অবশ্যই, কিন্তু আমি এর অনুকূলে আরো প্রমাণ আশা করছিলাম (বু, মু)।