📄 শিশুর মাথায় কোন মহিলার হাত বুলানো
৪৪২-অনুচ্ছেদ: শিশুর মাথায় কোন মহিলার হাত বুলানো।
৯৭৮ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقِ الثَّقَفِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي وَكَانَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ فَأَخَذَهُ الْحَجَّاجُ مِنْهُ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ الزُّبَيْرِ بَعَثَنِي إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فَأَخْبِرُهَا بِمَا يُعَامِلُهُمْ حَجَّاجُ وَتَدْعُو لِى وَتَمْسَحُ رَأْسِي وَأَنَا يَوْمَئِذٍ وَصِيْفٌ
৯৭৮। ইবরাহীম ইবনে মারযূক আছ-ছাকাফী (র) বলেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা)-র সমর্থক ছিলেন এবং পরে হাজ্জাজ তাকে তার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) আমাকে তার মা আসমা বিনতে আবু বাক্স (রা)-এর কাছে পাঠাতেন এবং আমি তাকে তাদের প্রতি হাজ্জাজের দুর্ব্যবহারের কথা অবগত করতাম। তিনি আমার জন্য দোয়া করতেন এবং আমার মাথায় হাত বুলাতেন। আমি ছিলাম তখন বালক বয়সী।
📄 মুয়ানাকা (আলিঙ্গন)
৪৪৩-অনুচ্ছেদ : মুয়ানাকা (আলিঙ্গন)।
৯৭৯ - عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ أَنْ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ بَلَغَهُ حَدِيْثٌ عَنْ رَجُلٍ مِّنْ أَصْحَابِ النَّبِيُّ ﷺ فَابْتَعْتُ بَعِيرًا فَشَدَدْتُ إِلَيْهِ رَحْلَى شَهْرًا حَتَّى قَدِمْتُ الشَّامَ فَإِذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَنَيْسِ فَبَعَثْتُ إِلَيْهِ أَنْ جَابِرًا بِالْبَابِ فَرَجَعَ الرَّسُولُ فَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ نَعَمْ فَخَرَجَ فَاعْتَنَقَنِي قُلْتُ حَدِيْثٌ بَلَغَنِي لَمْ أَسْمَعْهُ خَشِيْتُ أَنْ امُوْتَ أَوْ تَمُوْتَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ يَحْشُرُ اللَّهُ الْعِبَادَ أَوِ النَّاسَ عُرَاةً غُرُلا بُهُمَا قُلْنَا مَا بُهُمَا قَالَ لَيْسَ مَعَهُمْ شَيْءٌ فَيُنَادِيهِمْ بِصَوْتٍ يَسْمَعُهُ مَنْ بَعْدَ أَحْسِبُهُ قَالَ كَمَا يَسْمَعُهُ مَنْ قَرُبَ أَنَا الْمِلْكُ لاَ يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِّنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَأَحَدٌ مِّنْ أَهْلِ النَّارِ يَطْلُبُهُ بِمَظْلِمَةٍ وَلَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِّنْ أَهْلِ النَّارِ يَدْخُلُ النَّارَ وَاحَدٌ مِّنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَطلُبُهُ بِمَظْلِمَةٍ قُلْتُ وَكَيْفَ وَإِنَّمَا نَأْتِي اللَّهَ عُرَاةً بُهُمَا قَالَ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ .
৯৭৯। ইবনে আকীল (র) থেকে বর্ণিত। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) তার নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর এক সাহাবীর বরাতে একটি হাদীস সম্পর্কে অবহিত হন। আমি (জাবের) একটি উট ক্রয় করে তাতে আরোহণ করে এক মাসের পথ অতিক্রম করে সিরিয়ায় গিয়ে তার নিকট উপস্থিত হই। সেই সাহাবী ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা)। আমি তাকে খবর পাঠালাম যে, জাবের তোমার দ্বারে অপেক্ষমাণ। দূত ফিরে এসে জিজ্জেস করলো, আপনার নাম কি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা)? আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি বাইরে বের হয়ে এসে আমাকে আলিঙ্গন করেন। আমি বললাম, এমন একটি হাদীস আমার নিকট পৌঁছেছে যা আমি ইতিপূর্বে শুনিনি। আমার আশংকা হলো হয়তো আমি মারা যাবো অথবা আপনি মারা যাবেন। তিনি বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছি : আল্লাহ তাআলা বান্দাগণকে বা মানবজাতিকে হাশরের মাঠে উঠাবেন বস্ত্রহীন ও সহায়-সম্বলহীন অবস্থায়। আমরা বললাম, সহায়-সম্বলহীন কি? তিনি বলেন: তাদের কোন সহায়-সম্বল থাকবে না। তিনি তাদেরকে সশব্দে ডাকবেন, দূরবর্তীগণও তা শুনতে পাবে, যেমন শুনতে পাবে নিকটবর্তীরা, "আমিই রাজাধিরাজ"। কোন বেহেশতবাসী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ তার উপর কোন দোযখবাসীর কোন দাবি অবশিষ্ট থাকবে। আর কোন দোযখবাসীও দোযখে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ তার উপর কোন বেহেশতবাসীর কোন দাবি অবশিষ্ট থাকবে। আমি বললাম, সে দাবি কিভাবে মিটমাট করবে, যেখানে আমরা সকলে উত্থিত হবো আল্লাহ্র সমীপে সহায়-সম্বলহীনভাবে? তিনি বলেন: নেকী এবং গোনাহ দ্বারা (বু,আ, ইলা, তা, হা)।
📄 নিজ কন্যাকে চুমা দেয়া
৪৪৪-অনুচ্ছেদ: নিজ কন্যাকে চুমা দেয়া।
৯৮০ - عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَداً كَانَ أَشْبَهُ حَدِيثًا وَكَلامًا بِرَسُولِ اللهِ ﷺ مِنْ فَاطِمَةَ وَكَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَرَحْبَ بِهَا وَقَبْلَهَا وأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ اذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَرَحْبَتْ وَقَبْلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مَجْلِسِهَا فَدَخَلَتْ عَلَيْهِ فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوفَّى فَرَحْبَ بِهَا وَقَبَّلَهَا .
৯৮০। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) বলেন, কথাবার্তায় ফাতেমার চাইতে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। ফাতেমা (রা) তার নিকট এলে তিনি উঠে তার নিকট যেতেন, তাকে স্বাগত জানাতেন, তাকে চুমা দিতেন এবং তাকে নিজের জায়গায় বসাতেন। আর রাসূলুল্লাহ (স)-ও তার নিকট গেলে ফাতেমা (রা)-ও তাঁর নিকট উঠে যেতেন, তাঁর হাত ধরে তাঁকে স্বাগত জানাতেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসাতেন। নবী (স) অন্তিমরোগে আক্রান্ত অবস্থায় ফাতেমা (রা) আসলে তিনি তাকে স্বাগত জানান এবং চুমা দেন (বু, মু, দা, তি)।
📄 হাতে চুমা দেয়া
৪৪৫-অনুচ্ছেদ: হাতে চুমা দেয়া।
৯৮১ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنَّا فِي غَزْوَةٍ فَحَاصَ النَّاسُ حَيْصَةً قُلْنَا كَيْفَ نَلْقِي النَّبِيُّ ﷺ وَقَدْ فَرَرْنَا فَنَزَلَتْ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ فَقُلْنَا لَا نَقْدَمُ الْمَدِينَةَ فَلَا يَرَانَا أَحَدٌ فَقُلْنَا لَوْ قَدِمْنَا فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ قُلْنَا نَحْنُ الْفَرَّارُونَ قَالَ أَنْتُمُ الْعَكَّارُونَ فَقَبَّلْنَا يَدَهُ قَالَ أَنَا فِتْتُكُمْ .
৯৮১। ইবনে উমার (রা) বলেন, আমরা একটি যুদ্ধে যোগদান করলাম। (যুদ্ধের ভয়াবহতায়) লোকজন পলায়ন করলো। আমরা বলাবলি করলাম, আমরা কেমন করে নবী (স)-এর সাথে সাক্ষাত করবো, অথচ আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেছি। তখন নাযিল হলো, "অবশ্য যুদ্ধকৌশল অবলম্বনের জন্য পশ্চাৎপদ হলে স্বতন্ত্র কথা” (সূরা আনফালঃ ১৬)। আমরা বলাবলি করলাম, আমরা মদীনায় ফিরে যাবো না। তাহলে লোকজন আমাদেরকে দেখবে না। আমরা আরও বললাম, যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই! নবী (স) ফজরের নামায পড়ে কেবল বের হয়েছেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো পলাতকের দল। তিনি বলেন: তোমরা তো পাল্টা আক্রমণকারী দল। তাঁর একথায় আমরা তাঁর হাতে চুমা দিলাম। তিনি বলেন: আমি তোমাদের দলভুক্ত (দা, তি, ই, আ)।
৯৮২ - হাদ্দানী আবদুর রহমান ইবনু রুযাইন বলেন, আমরা বারিদা দিয়ে যাচ্ছিলাম। ফাকীল লাহুনা সালমা ইবনুল আকওয়া ফাতাইতুহু ফাসাল্লামনা আলাইহি ফাআখরজা ইয়াদাইহি ফাক্বালা বায়া’তু বিহাতাইনি নাবিউল্লাহ ফায়াখরজা কাফ্ফা লাহু যাখমাতান কাআন্নাহা কাফ্ফু বা’ঈরিন ফাকুমনা ইলাইহা ফাক্কাব্বালনাহা ।
৯৮২। আবদুর রহমান ইবনে রাজীন (র) বলেন, আমরা একদা রাবাযা নামক স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের বলা হলো, সালামা ইবনুল আকওয়া (রা) এখানে আছেন। আমরা তার নিকট এসে তাকে সালাম দিলাম। তিনি তার দুই হাত বের করে বলেন, এই দুই হাতে আমি আল্লাহ্র নবীর হাতে বায়আত হয়েছি। তিনি তার হৃষ্টপুষ্ট এক হাতের তালু বের করলেন, যা ছিল উটের পাঞ্জার মত। আমরা উঠে তার নিকট গিয়ে তাতে চুমা দিলাম।
৯৮৩ - عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ قَالَ ثَابِتٌ لِأَنَسٍ أَمَسِسْتَ النَّبِيُّ ﷺ بِيَدِكَ قَالَ نَعَمْ فَقَبَّلَهَا
৯৮৩। ইবনে জুদআন (র) থেকে বর্ণিত। সাবিত (র) আনাস (রা)-কে বলেন, আপনি কি নবী (স)-কে নিজ হাতে স্পর্শ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ। তখন তিনি তার হাতে চুমা দিলেন।