📄 হতবাক হয়ে বা অন্য কারণে কারো নিজ উরুতে চপেটাঘাত করা
৪৩৪-অনুচ্ছেদ: হতবাক হয়ে বা অন্য কারণে কারো নিজ উরুতে চপেটাঘাত করা।
৯৬৪ - عَنْ عَلِيَّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ طَرَقَةُ وَفَاطِمَةَ بِنْتَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ أَلَا تُصَلُّونَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَنْفُسُنَا عِنْدَ الله فَإِذَا شَاءَ أَنْ يُبْعَثَنَا بَعَثَنَا فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ وَلَمْ يَرْجِعُ إِلَيَّ شَيْئًا ثُمَّ سَمِعْتُ وَهُوَ مُدْبِرٌ يَضْرِبُ فَخِذَهُ يَقُولُ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً .
৯৬৪। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রাসূলুল্লাহ (স) তার এবং ফাতেমার নিকট এসে বলেনঃ তোমরা কি (রাতে নফল) নামায পড়ো না? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রাণ তো আল্লাহ্ হাতে, যখন তাঁর মর্জি হয় আমরা উঠি। নবী (স) আমার কথার কোন প্রতিউত্তর না করে চলে গেলেন। আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে তাঁর উরুতে চপেটাঘাত করে বলছেন: "মানুষ অতিশয় বিতর্কপ্রিয়" (সূরা কাহফঃ ৫৪)।
৯৬৫ - عَنْ أَبِي رَزِينِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ رَأَيْتُهُ يَضْرِبُ جَبْهَتَهُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ أَتَزْعُمُونَ أَنِّي اكْذبُ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ آيَكُونُ لَكُمُ الْمَهْنَا وَعَلَى الْمَأْثَمُ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولَ إِذَا انْقَطَعَ شِيْعُ أَحَدِكُمْ فَلَا يَمْشِي فِي نَعْلِهِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصْلِحَهُ
৯৬৫। আবু রযীন (র) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-কে দেখেছি যে, তিনি তার কপালে চপেটাঘাত করে বলছেন, হে ইরাকবাসীরা! তোমরা কি মনে করো যে, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর মিথ্যা আরোপ করি? তোমরা সওয়াবের ভাগী হবে আর আমি হবো গুনাহর ভাগী? আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয় আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো এক জুতার ফিতা ছিড়ে গেলে সে যেন অপর জুতাটি পায়ে দিয়ে না হাঁটে, যাবৎ না তা মেরামত করে নেয় (মু,ই, না, আ, আন)।
৯৬৬ - عَنْ أَبي العالية البَرَاء قَالَ مَرَّ بِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّامِتِ فَالْقَيْتُ لَهُ كُرْسِيًّا فَجَلَسَ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ ابْنَ زِيَادٍ قَدْ اَخَّرَ الصَّلَاةَ فَمَا تَأْمُرُ فَضَرَبَ فَخِذِى ضَرَبَةً أَحْسَبُهُ قَالَ حَتَّى أَثْرَ فِيْهَا ثُمَّ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا ذَرَّ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخَدَى كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ فَقَالَ صَلِّ الصَّلاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَ مَعَهُمْ فَصَلَّ وَلَا تَقُلْ قَدْ صَلَّيْتُ فَلَا أَصَلَّى .
৯৬৬। আবুল আলিয়া আল-বারাআ (র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (র) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তার জন্য একটি চেয়ার রেখে দিলাম। তিনি তাতে বসলে আমি তাকে বললাম, ইবনে যিয়াদ দেরীতে নামায পড়ে। আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি আমার উরুতে সজোরে চপেটাঘাত করেন এবং ফলে তাতে দাগ পড়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, তুমি আমাকে যা জিজ্ঞেস করলে হুবহু এই প্রশ্নটি আমি আবু যার (রা)-কে করেছিলাম। তিনি আমার উরুতে চপেটাঘাত করেন, যেমন আমি তোমার উরুতে চপেটাঘাত করলাম। তিনি বলেন, তুমি ওয়াক্তমত নামায পড়ে নাও। যদি পরে তাদের সাথে নামায পাও তবে পুনরায় তাদের সাথে নামায পড়ে নিও এবং বলো না, আমি তো নামায পড়েছি, এখন আর পড়বো না (বু, মু)।
৯৬৭ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي رَهْطٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ حَتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فِي أَطْمِ بَنِي مَغَالَةَ وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادِ يَوْمَئِذٍ الْحُلْمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ النَّبِيُّ ﷺ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الْأُمِّيِّينَ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ فَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ النَّبِيُّ ﷺ ثُمَّ قَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ ثُمَّ قَالَ لِابْنِ صَيَّادِ مَاذَا تَرَى فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَّكََاذِبُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُلَّطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنِّي خَبَاتُ لَكَ خَبِيْتًا قَالَ هُوَ الدُّخُ قَالَ إِخْسَا فَلَمْ تَعْدُ قَدْرَكَ قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لِي فِيْهِ أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنْ يَكُ هُوَ لَا تُسَلِّطُ عَلَيْهِ وَإِنْ لَّمْ يَكُ هُوَ فَلَا خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ قَالَ سَالِمٌ وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ هُوَ وَأَبَيُّ بْنُ كَعْبٍ الْأَنْصَارِيُّ يَوْمًا إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ حَتَّى إِذَا دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ طَفِقَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَهُوَ يَسْمَعُ مِن ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يُرَاهُ وَابْنُ صَيَادٍ مُضْطَجِعُ عَلَى فرَاشِهِ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا زَمْزَمَةٌ فَرَآتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادِ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يَتَّقِى بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لِابْنِ صَيَّادِ أَيْ صَافِ وَهُوَ اسْمُهُ هَذَا مُحَمَّدٌ فَتَنَاهَى ابْنُ صَيَّادٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْ تَرَكَتْهُ لَبَيْنَ قَالَ سَالِمٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنِّي أَنْذِرُكُمُوهُ وَمَا مِنْ نَبِيَّ إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ بِهِ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنْ سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقُلُهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ .
৯৬৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। উমার (রা) নবী (স)-এর সাথে একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইবনে সাইয়াদ-এর নিকট গেলেন। তারা তাকে (ইবনে সাইয়াদকে) বনু মাগালা দুর্গের পাশে অন্যান্য বালকের সাথে খেলাধুলারত পেলেন। তখন ইবনে সাইয়াদ বালেগ প্রায়। সে নবী (স)-এর আগমন অনুভব করার আগেই নবী (স) তার হাত ধরে ফেলেন। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করেন: তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, আমি আল্লাহ্র রাসূল? ইবনে সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। এরপর সে নবী (স)-কে বললো, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহ্র রাসূল? তখন নবী (স) তাকে ছেড়ে দিয়ে বলেনঃ আমি আল্লাহর উপর এবং তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি ইবনে সাইয়াদকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কী দেখে থাকো? ইবনে সাইয়াদ বললো, আমার কাছে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমন করে থাকে। নবী (স) বলেনঃ ব্যাপারটি তোমার কাছে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। এরপর নবী (স) বলেন: আমি একটি বিষয়ে তোমার থেকে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। বলতো, সেটি কি? ইবনে সাইয়াদ বললো, তা হচ্ছে 'আদ্-দুগ্ধ'। তিনি বলেন: তুমি লাঞ্ছিত হও। তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। উমার (রা) বলেন, আমাকে অনুমতি দিন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (স) বলেনঃ যদি সে সেই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবু করার সামর্থ্য তোমাকে দেয়া হয়নি। আর যদি সে সেই দাজ্জাল না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই। রাবী সালেম (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রা)-কে বলতে শুনেছি, এরপর রাসূলুল্লাহ (স) এবং উবাই ইবনে কাব (রা) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গেলেন যেখানে ইবনে সাইয়াদ ছিল। ইবনে সাইয়াদ তাঁকে দেখে ফেলার আগেই ইবনে সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী (স) তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন, যার ভেতর থেকে তার গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ইবনে সাইয়াদের মা রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখতে পেলো যে, তিনি খেজুর গাছের কাণ্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে অগ্রসর হচ্ছেন। সে তখন ইবনে সাইয়াদকে ডেকে বললো, ও সাফ! (এটি ইবনে সাইয়াদের ডাকনাম) এই যে মুহাম্মাদ! তখন ইবনে সাইয়াদ লাফিয়ে উঠলো। নবী (স) বলেন: সে (ইবন সাইয়াদের মা) তাকে স্ব-অবস্থায় থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেতো। সালেম (র) বলেন, আবদুল্লাহ (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (স) জনসমাবেশে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, অতঃপর দাজ্জালের প্রসংগ উত্থাপন করলেন। তিনি বলেন: আমি তোমাদেরকে তার ব্যাপারে সতর্ক করছি এবং এমন কোন নবী আসেননি যিনি তাঁর উম্মাতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেননি। নূহ (আ)-ও তাঁর উম্মাতকে সতর্ক করেছেন। তবে আমি তার ব্যাপারে এমন একটি কথা বলবো যা পূর্ববর্তী নবীগণ বলেননি। জেনে রাখো! সে হবে কানা। আর আল্লাহ কখনও অন্ধ নন (বু, মু)।
৯৬৮ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ اللهِ إِذَا كَانَ جُنُبًا يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ مِّنْ مَا ، قَالَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ شَعْرِي أَكْثَرُ مِنْ ذَاكَ قَالَ وَضَرَبَ جَابِرٌ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الْحَسَنِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي كَانَ شَعْرُ النَّبِيِّ ﷺ أَكْثَرُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَطْيَبُ .
৯৬৮। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) নাপাক হলে (অর্থাৎ তাঁর উপর গোসল ফরজ হলে) তিন অঞ্জলী পানি তাঁর মাথায় ঢালতেন। হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (র) বলেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আমার মাথার চুল যে অনেক বেশী ঘন। রাবী বলেন, জাবের (রা) হাসানের উরুতে চপেটাঘাত করে বলেন, ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (স)-এর মাথার চুল তোমার মাথার চুলের চাইতে বেশী ঘন ও সরস ছিল (বু, মু, না)।
📄 যে উপবিষ্ট ব্যক্তি তার সম্মানে অপরের দণ্ডায়মান হওয়াকে অপছন্দ করে
৪৩৬-অনুচ্ছেদ: যে উপবিষ্ট ব্যক্তি তার সম্মানে অপরের দণ্ডায়মান হওয়াকে অপছন্দ করে।
৯৬৯ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ صُرِعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ فَرَسَ بِالْمَدِينَةِ عَلَى جِذْعِ نَخْلَةٍ فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَكُنَّا نَعُودُهُ فِي مَشْرُبَةٍ لِعَائِشَةَ فَأَتَيْنَاهُ وَهُوَ يُصَلَّى قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا قِيَامًا ثُمَّ آتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى وَهُوَ يُصَلَّى المَكْتُوبَةَ قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ قِيَامًا فَأَوْمَا إِلَيْنَا أَنْ أَقْعُدُوا فَلَمَّا قَضَى الصَّلاةَ قَالَ إِذَا صَلَّى الْإِمَامُ قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَلَا تَقُومُوا وَالْإِمَامُ قَاعِدٌ كَمَا تَفْعَلُ فَارِسُ بِعُظَمَائِهِمْ .
৯৬৯। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) মদীনায় ঘোড়ার পিঠ থেকে একটি খেজুর গাছের গোড়ার উপর পড়ে যান এবং তাঁর পায়ে আঘাত পান। আমরা আয়েশা (রা)-এর ঘরে তাঁকে দেখতে যেতাম। একবার আমরা তাঁর নিকট এসে দেখি যে, তিনি বসে নামায পড়ছেন। আমরা তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে নামায পড়লাম। আরেকবার আমরা তাঁর নিকট এসে দেখি যে, তিনি বসা অবস্থায় ফরজ নামায পড়ছেন। আমরা তাঁর পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় নামায পড়লাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে বসতে বলেন। নামায শেষ করে তিনি বলেন: ইমাম বসা অবস্থায় নামায পড়লে তোমরাও বসে নামায পড়বে। আর ইমাম দাঁড়ানো অবস্থায় নামায পড়লে তোমরাও দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। ইমাম বসা অবস্থায় থাকলে তোমরা (তার সম্মানে) দাঁড়িও না, যেমন পারস্যবাসীরা তাদের নেতাদের বেলায় দাঁড়ায় (আ ১৪২৫৪)।
৯৭০ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ وَوُلِدَ لِغُلَامٍ مِّنَ الْأَنْصَارِ غُلامٌ فَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ لا نُكْنِيكَ بِرَسُولِ اللهِ ﷺ حَتَّى قَعَدْنَا فِي الطَّرِيقِ نَسْأَلُهُ عَنِ السَّاعَةِ فَقَالَ جِئْتُمُونِي تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ يَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ قُلْنَا وُلِدَ لِغُلَامٍ مِّنَ الْأَنْصَارِ غُلامٌ فَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا فَقَالَتِ الْأَنْصَارُ لَا تُكْنِيكَ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ أَحْسَنَتِ الْأَنْصَارُ سَمُوا بِاسْمِي وَلَا تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي .
৯৭০। জাবের (রা) বলেন, আনসারদের মধ্যকার এক যুবকের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে তার নাম রাখে মুহাম্মাদ। আনসারগণ বলেন, আমরা আল্লাহ্র রাসূলের নামে তোমাকে ডাকবো না। শেষে আমরা তাঁর নিকট কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য রাস্তার উপর বসলাম। তিনি বলেন : তোমরা কি আমার কাছে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে আমার নিকট এসেছো? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন : শত বছর বাঁচবে এমন লোক খুব কমই আছে। আমরা বললাম, আনসারদের মধ্যকার এক যুবকের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। সে তার নাম রেখেছে মুহাম্মাদ। আনসারগণ তাকে বলেছেন, আমরা আল্লাহ্র রাসূলের নামে তোমাকে ডাকবো না। তিনি বলেন : আনসারগণ উত্তম কাজ করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখো, কিন্তু আমার ডাকনামে কাউকে অভিহিত করো না (বু, মু, দা, আন, হি)।
📄 (দুনিয়া কতই না তুচ্ছ)
৪৩৭-অনুচ্ছেদঃ (দুনিয়া কতই না তুচ্ছ)।
৯৭১ - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ مَرَّ فِي السُّوقِ دَاخِلاً مِّنْ بَعْضٍ الْعَالِيَةِ وَالنَّاسُ كَنَفَيْهِ فَمَرْ بِجَدَى أَسَكَ مَيِّتِ فَتَنَاوَلَهُ فَأَخَذَ بِأُذُنِهِ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ بِدِرْهَم فَقَالُوا مَا نُحِبُّ أَنَّهُ لَنَا بِشَيْءٍ وَمَا نَصْنَعُ بِهِ قَالَ أَتُحِبُّونَ أَنَّهُ لَكُمْ قَالُوا لَا قَالَ ذلكَ لَهُمْ ثَلاثًا فَقَالُوا لَا وَالله لَوْ كَانَ حَيًّا لَكَانَ عَيْبًا فِيْهِ أَنَّهُ أَسَكُ وَالْأَسَكُ الَّذِي لَيْسَ لَهُ أَذْنَانِ فَكَيْفَ وَهُوَ مَيْتٌ قَالَ فَوَاللَّهِ لِلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللهِ مِنْ هُذَا عَلَيْكُمْ .
৯৭১। জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর উভয় পাশে লোক পরিবেষ্টিত অবস্থায় কোন এক উচ্চভূমি দিয়ে একটি বাজার অতিক্রম করছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সামনে ক্ষুদ্র কানবিশিষ্ট একটি মৃত ছাগলছানা পড়লো। তিনি সেটির কান ধরে বলেন : তোমাদের কেউ এক দিরহামের বিনিময়ে এটি পেতে আগ্রহী হবে কি? তারা বলেন, কোন কিছুর বিনিময়ে এটি পেতে আমরা আগ্রহী নই। আমরা এটি দিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা কি (বিনামূল্যে) এটি নিতে আগ্রহী হবে? তারা বলেন, না। তিনি তাদেরকে তিনবার একথা জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, আল্লাহর শপথ! না। জীবিত হলেও তো তা ত্রুটিপূর্ণ হতো। কারণ তা কানবিহীন। (রাবী বলেন) "দুই কানবিহীন পশুকে 'আসাক্ক' বলে" (ইমাম নববী অর্থ করেছেন "ক্ষুদ্র কানবিশিষ্ট")। অতএব মৃত হওয়াতে তা তো আরো মূল্যহীন। তিনি বলেন: আল্লাহর শপথ! এটি তোমাদের নিকট যতোখানি তুচ্ছ, দুনিয়াটা আল্লাহ্র কাছে তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ (মু, দা, আ)।
৯৭২ - عَنْ عُلَى بْنِ ضَمْرَةَ قَالَ رَأَيْتُ عِنْدَ أَبِي رَجُلاً تَعَزَّى بِعَزاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَاعَضَّهُ أَبِي وَلَمْ يُكْنِهِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ قَالَ كَأَنَّكُمْ أَنْكَرْتُمُوهُ فَقَالَ إِنِّي لَا أَهَابُ فِي هَذَا أَحَدًا أَبَدًا إِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ مَنْ تَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَاعَضُوهُ وَلَا تَكْنُوهُ .
৯৭২। উতাই ইবনে দামরা (র) বলেন, আমি দেখলাম যে, আমার পিতার নিকট এক ব্যক্তি জাহিলী যুগের মত বিলাপ করছে। আমার পিতা পরোক্ষভাবে না বলে সরাসরি তাকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন। এজন্য তার সাথীরা তার দিকে তাকালে তিনি বলেন, তাকে এভাবে বলা হয়তো তোমরা অপছন্দ করছো। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি কখনও কাউকে সমীহ করবো না। নিশ্চয় আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "যে ব্যক্তি জাহিলী যুগের মতো বিলাপ করবে, তোমরা তাকে পরোক্ষে না বলে তার প্রতি কঠোর ব্যবহার করবে"।
📄 কারো পায়ে ঝিঝি ধরলে যা বলবে
৪৩৮-অনুচ্ছেদ: কারো পায়ে ঝিঝি ধরলে যা বলবে।
৯৭৩ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ خَدِرَتْ رِجْلُ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَذْكُرْ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيْكَ فَقَالَ مُحَمَّدٌ ﷺ
৯৭৩। আবদুর রহমান ইবনে সাদ (র) বলেন, ইবনে উমার (রা)-এর পা ঝিঝি ধরে অবশ হলে এক ব্যক্তি তাকে বললো, আপনার প্রিয়মত ব্যক্তিকে স্মরণ করুন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (স) (ইবনুস সুন্নী)।