📄 কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়
৪৩১-অনুচ্ছেদ: কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়।
৯৫৭ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ إِذَا تَشَاوَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَضَعْ يَدَهُ بِفِيْهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ فِيهِ .
৯৫৭। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তার হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। কেননা শয়তান মুখে প্রবেশ করে (মু, দা, আ, আন)।
৯৫৮ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا تَنَاءَبَ فَلْيَضَعْ يَدَهُ عَلَى فِيْهِ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ.
৯৫৮। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, কারো হাই আসলে সে যেন তার হাত তার মুখের উপর রাখে। কেননা তা শয়তানের পক্ষ থেকে।
৯৫৯ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا تَشَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ على فِيهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُهُ
৯৫৯। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন তার মুখ চেপে ধরে। অন্যথায় শয়তান তাতে প্রবেশ করে (মু, দা)।
৯৬০ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ إِذَا تَشَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ فَمَهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُهُ
৯৬০। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তার হাত দ্বারা তার মুখ চেপে ধরে। অন্যথায় শয়তান তাতে ঢুকে পড়ে (মু, দা, আ, আন)।
📄 একজন অপরজনের মথার উকুন বেছে দিবে কি?
৪৩২-অনুচ্ছেদ: একজন অপরজনের মথার উকুন বেছে দিবে কি?
৯৬১ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ فَتَطْعَمُهُ وَكَانَتْ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَأَطْعَمَتْهُ وَجَعَلَتْ تَقْلِي رَأْسَهُ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ يَضْحَكُ
৯৬১। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) মিলহন-কন্যা উম্মু হারাম (রা)-এর বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তিনি তাঁকে আহার করাতেন। তিনি ছিলেন উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর স্ত্রী। একদা উম্মু হারাম (রা) তাঁকে আহার করানোর পর তাঁর মাথার উকুন বাছতে লাগলেন। নবী (স) ঘুমিয়ে পড়লেন এবং ক্ষণিক পর হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন (বু,মু, দা, তি, না, ই, আ, মা)।
৯৬২ - عَنْ قَيْسِ بْنِ عَاصِمِ السَّعْدِى قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ هُذَا سَيِّدُ أَهْلِ الْوَبَرِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمَالُ الَّذِي لَيْسَ عَلَى فِيْهِ تَبِعَةٌ مِنْ طَالِبٍ وَلَا مِنْ ضَيْفَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ نِعْمَ الْمَالُ أَرْبَعُونَ وَالْكَثْرَةُ سِتُّوْنَ وَوَيْلٌ لِأَصْحَابِ الْمِيْتَيْنِ إِلَّا مَنْ أَعْطَى الكَرِيمَةَ وَمَنَحَ الْغَزِيرَةَ وَنَحَرَ السَّمِينَةَ فَأَكَلَ وَأَطْعَمَ الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَكْرَمُ هَذِهِ الْأَخْلاقِ لَا يُحَلُّ بِوَادٍ أَنَا فِيهِ مِنْ كَثْرَةِ نَعَمِي فَقَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ بِالْعَطِيَّةِ قُلْتُ أعطى البكر وَأَعْطَى النَّابَ قَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي الْمَنِيْحَةِ قَالَ إِنِّي لَأَمْنَحُ الْمِائَةَ قَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي الطُّرُوقَةِ قَالَ يَغْدُو النَّاسُ بحِبَالِهِمْ وَلَا يُوزَعُ رَجُلٌ مِّنْ جَمَلٍ يَخْتَطِمُهُ فَيُمْسِكُ مَا بَدَا لَهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَرُدَّه فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ فَمَالُكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ مَالُ مَوَالِيْكَ قَالَ مَالِي قَالَ فَإِنَّمَا لَكَ مِنْ مَالِكَ مَا أَكَلْتَ فَأَقْنَيْتَ أَوْ أَعْطَيْتَ فَأَمْضَيْتَ وَسَائِرَهُ لِمَوَالِيْكَ فَقُلْتُ لَا جَرَمَ لَئِنْ رَجَعْتُ لَأُقِلَنَّ عَدَدَهَا فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ جَمَعَ بَنِيْهِ فَقَالَ يَا بُنَيَّ خُذُوا عَنِّى فَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْخُذُوا عَنْ أَحَدٍ هُوَ أَنْصَحُ لَكُمْ مِّنِّى لَا تَنُوحُوا عَلَى فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يُنَحْ عَلَيْهِ وَقَدْ سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَنْهَى عَنِ النِّيَاحَةِ وَكَفْتُونِي فِي ثِيَابِيُّ الَّتِي كُنْتُ أَصَلَّى فِيْهَا وَسَوْدُوا أَكَابِرَكُمْ فَإِنَّكُمْ إِذَا سَوَّدْتُمْ أَكَابِرَكُمْ لَمْ يَزَلْ لِأَبِيْكُمْ فِيكُمْ خَلِيفَةً وَإِذَا سَوَّدْتُمْ أَصَاغِرِكُمْ هَانَ أَكَابِرَكُمُ النَّاسِ وَزَهْدُوا فِيكُمْ وَأَصْلِحُوا عَيْشَكُمْ فَإِنَّ فِيهِ غنى عن طلب النَّاسِ وَأَيَّاكُمْ وَالْمَسْأَلَةَ فَإِنَّهَا آخَرُ كَسْبِ الْمَرْءِ وَإِذَا دَفَنْتُمُونِي فَسَرُّوا عَلَى قَبْرِى فَإِنَّهُ كَانَ يَكُونُ شَيْءٌ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا الْحَيِّ مِنْ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ خُمَاشَاتٍ فَلَا آمَنُ سَفِيهَا أَنْ يَأْتِيَ أَمْرًا يَدْخُلُ عَلَيْكُمْ عَيْبًا فِي دِينِكُمْ
৯৬২। কায়েস ইবনে আসেম আস-সাদী (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন: সে হলো তাঁবুবাসীদের নেতা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কি পরিমাণ মাল থাকলে আমার উপর যাঞ্চাকারী বা মেহমানের কোন দায়দায়িত্ব থাকে না? রাসূলুল্লাহ (স) বলেন : চল্লিশটি (পশু সংখ্যা) উত্তম, আর ঊর্ধ্বতন সংখ্যা ষাট। আর দুই শতের মালিকদের তো বিপদ। তবে যে ব্যক্তি উঠতি বয়সের উট দান করে, দুধ পানের জন্য কাউকে উষ্ট্রী ধার দেয় এবং মোটাতাজা উট যবেহ করে নিজেও আহার করে এবং অভাবী ভদ্রলোক ও যাঞ্চাকারীদেরও আহার করায় (তার ভয়ের কোন কারণ নাই)। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা তো অতি উত্তম স্বভাব। কিন্তু আমি যে উপত্যকায় বাস করি সেখানে আমার পশুর প্রাচুর্যের বিচারে এটা তো মামুলি ব্যাপার। তিনি জিজ্ঞেস করেন: তুমি কিরূপ দান-খয়রাত করো? আমি বললাম, উঠতি বয়সের উষ্ট্রীও দান করে থাকি। তিনি বলেন: তুমি কিভাবে দুধ পানের জন্য উষ্ট্রী ধার দিয়ে থাকো? আমি বললাম, আমি শত সংখ্যক দান করি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন: প্রজননের ব্যাপারে তুমি কি করো? আমি বললাম, লোকজন তাদের গর্ভ গ্রহণকারিনী উষ্ট্রী নিয়ে আসে এবং আমার উট পালের মধ্যকার যে উটটিকে প্ররোচিত করতে পারে, তা সাথে নিয়ে যায় এবং তার প্রয়োজন মাফিক তা তার কাছে রেখে দেয়। প্রয়োজন শেষে সে তা ফেরত দিয়ে যায়। নবী (স) বলেন: তোমার নিজের মাল তোমার অধিক প্রিয় নাকি তোমার ওয়ারিসদের মাল? রাবী বলেন, আমার মাল। তিনি বলেন: তোমার মাল তাই যা তুমি নিজে পানাহার করে শেষ করেছো অথবা কাউকে (আল্লাহ্ পথে) দান করেছো। তাছাড়া অবশিষ্টটুকু তোমার ওয়ারিসদের মাল। আমি বললাম, এবার ফিরে গিয়ে অবশ্যই উটের সংখ্যা কমিয়ে ফেলবো। অতঃপর তার মৃত্যুর সময় আসন্ন হলে তিনি তার পুত্রদের ডেকে একত্র করেন এবং বলেন, হে পুত্রগণ! তোমরা আমার উপদেশ শোনো। কেননা তোমাদের জন্য আমার উপদেশের চেয়ে অধিক কল্যাণকামী উপদেশদাতা আর কাউকে পাবে না। আমার মৃত্যুর পর আমার জন্য বিলাপ করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর জন্য বিলাপ করা হয়নি। আমি নবী (স)-কে "বিলাপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি"। আর আমার নামায পড়ার বস্ত্র দ্বারা আমার কাফন দিবে। তোমরা তোমাদের মধ্যকার প্রবীণদের নেতা নির্বাচিত করবে। কেননা যাবৎ তোমরা তোমাদের প্রবীণদের নেতা বানাবে তোমাদের পিতৃপুরুষের প্রতিনিধিত্ব তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে। আর যখন তোমরা তোমাদের মধ্যকার যুবকদের তোমাদের নেতা নির্বাচিত করবে, তখন লোক সমক্ষে তোমাদের পিতৃপুরুষের অবমাননা হবে। তোমাদের মধ্যে কৃষ্ণসাধনার প্রেরণা যোগাবে। তোমাদের জীবনযাত্রাকে সমুন্নত করো। কেননা তাতে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় না। তোমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে। কেননা তা হচ্ছে সর্বশেষ নিকৃষ্টতর পেশা। যখন তোমরা আমাকে দাফন করবে তখন আমার কবর মাটির সাথে সমান করে দিবে। কেননা আমার এবং ঐ পার্শ্ববর্তী জনপদে বসবাসরত বাক্স ইবনে ওয়াইল গোত্রের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হতো। পাছে তাদের মধ্যকার কোন নির্বোধ ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করে বসে যার প্রতিশোধ গ্রহণ তোমাদের বেলায় তোমাদের দীন-ধর্মের জন্য অনিষ্টকর হবে (হা, হি, আ, তা, ইস্তীআব)।
📄 অবাক-বিস্ময়ে মাথা দোলানো এবং দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরা
৪৩৩-অনুচ্ছেদ: অবাক-বিস্ময়ে মাথা দোলানো এবং দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরা।
৯৬৩ - عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ آتَيْتُ النَّبِيُّ اللهِ بِوَضُوءٍ فَحَرَّكَ رَأْسَهُ وَغَضٌ عَلَى شَفَتَيْهِ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَذَيْتُكَ قَالَ لَا وَلَكِنَّكَ تُدْرِكُ أَمَرَاءَ أَوْ أَئِمَّةً يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَ مَعَهُمْ فَصَلَّهُ وَلَا تَقُولُنَّ صَلَّيْتُ فَلَا أَصَلَّى
৯৬৩। আবু যার (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর উযুর পানি নিয়ে আসলাম। তিনি তাঁর মাথা মললেন এবং দাঁত দ্বারা দুই ঠোঁট চেপে ধরলেন। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আপনাকে কষ্ট দিয়েছি? তিনি বলেন: না। তুমি এমন অনেক আমীর ও ইমামের সাক্ষাত পাবে যারা ওয়াক্তমত নামায পরবে না, নামাযে বিলম্ব করবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি হুকুম করেন? তিনি বলেন: তুমি ওয়াক্তমত নামায পড়বে, তারপর তাদের সাথে মিলিত হলে তাদের সাথেও নামায পড়বে। কিন্তু তুমি বলবে না, আমি নামায পড়েছি, পুনরায় আর পড়বো না (বু, দা, তি)।
📄 হতবাক হয়ে বা অন্য কারণে কারো নিজ উরুতে চপেটাঘাত করা
৪৩৪-অনুচ্ছেদ: হতবাক হয়ে বা অন্য কারণে কারো নিজ উরুতে চপেটাঘাত করা।
৯৬৪ - عَنْ عَلِيَّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ طَرَقَةُ وَفَاطِمَةَ بِنْتَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ أَلَا تُصَلُّونَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَنْفُسُنَا عِنْدَ الله فَإِذَا شَاءَ أَنْ يُبْعَثَنَا بَعَثَنَا فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ وَلَمْ يَرْجِعُ إِلَيَّ شَيْئًا ثُمَّ سَمِعْتُ وَهُوَ مُدْبِرٌ يَضْرِبُ فَخِذَهُ يَقُولُ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً .
৯৬৪। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রাসূলুল্লাহ (স) তার এবং ফাতেমার নিকট এসে বলেনঃ তোমরা কি (রাতে নফল) নামায পড়ো না? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের প্রাণ তো আল্লাহ্ হাতে, যখন তাঁর মর্জি হয় আমরা উঠি। নবী (স) আমার কথার কোন প্রতিউত্তর না করে চলে গেলেন। আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে তাঁর উরুতে চপেটাঘাত করে বলছেন: "মানুষ অতিশয় বিতর্কপ্রিয়" (সূরা কাহফঃ ৫৪)।
৯৬৫ - عَنْ أَبِي رَزِينِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ رَأَيْتُهُ يَضْرِبُ جَبْهَتَهُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ أَتَزْعُمُونَ أَنِّي اكْذبُ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ آيَكُونُ لَكُمُ الْمَهْنَا وَعَلَى الْمَأْثَمُ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولَ إِذَا انْقَطَعَ شِيْعُ أَحَدِكُمْ فَلَا يَمْشِي فِي نَعْلِهِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصْلِحَهُ
৯৬৫। আবু রযীন (র) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-কে দেখেছি যে, তিনি তার কপালে চপেটাঘাত করে বলছেন, হে ইরাকবাসীরা! তোমরা কি মনে করো যে, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর মিথ্যা আরোপ করি? তোমরা সওয়াবের ভাগী হবে আর আমি হবো গুনাহর ভাগী? আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয় আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কারো এক জুতার ফিতা ছিড়ে গেলে সে যেন অপর জুতাটি পায়ে দিয়ে না হাঁটে, যাবৎ না তা মেরামত করে নেয় (মু,ই, না, আ, আন)।
৯৬৬ - عَنْ أَبي العالية البَرَاء قَالَ مَرَّ بِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّامِتِ فَالْقَيْتُ لَهُ كُرْسِيًّا فَجَلَسَ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ ابْنَ زِيَادٍ قَدْ اَخَّرَ الصَّلَاةَ فَمَا تَأْمُرُ فَضَرَبَ فَخِذِى ضَرَبَةً أَحْسَبُهُ قَالَ حَتَّى أَثْرَ فِيْهَا ثُمَّ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا ذَرَّ كَمَا سَأَلْتَنِي فَضَرَبَ فَخَدَى كَمَا ضَرَبْتُ فَخِذَكَ فَقَالَ صَلِّ الصَّلاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَ مَعَهُمْ فَصَلَّ وَلَا تَقُلْ قَدْ صَلَّيْتُ فَلَا أَصَلَّى .
৯৬৬। আবুল আলিয়া আল-বারাআ (র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (র) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তার জন্য একটি চেয়ার রেখে দিলাম। তিনি তাতে বসলে আমি তাকে বললাম, ইবনে যিয়াদ দেরীতে নামায পড়ে। আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি আমার উরুতে সজোরে চপেটাঘাত করেন এবং ফলে তাতে দাগ পড়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, তুমি আমাকে যা জিজ্ঞেস করলে হুবহু এই প্রশ্নটি আমি আবু যার (রা)-কে করেছিলাম। তিনি আমার উরুতে চপেটাঘাত করেন, যেমন আমি তোমার উরুতে চপেটাঘাত করলাম। তিনি বলেন, তুমি ওয়াক্তমত নামায পড়ে নাও। যদি পরে তাদের সাথে নামায পাও তবে পুনরায় তাদের সাথে নামায পড়ে নিও এবং বলো না, আমি তো নামায পড়েছি, এখন আর পড়বো না (বু, মু)।
৯৬৭ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي رَهْطٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ حَتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فِي أَطْمِ بَنِي مَغَالَةَ وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادِ يَوْمَئِذٍ الْحُلْمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ النَّبِيُّ ﷺ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَنَظَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الْأُمِّيِّينَ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ فَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ النَّبِيُّ ﷺ ثُمَّ قَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ ثُمَّ قَالَ لِابْنِ صَيَّادِ مَاذَا تَرَى فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَّكََاذِبُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ خُلَّطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنِّي خَبَاتُ لَكَ خَبِيْتًا قَالَ هُوَ الدُّخُ قَالَ إِخْسَا فَلَمْ تَعْدُ قَدْرَكَ قَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لِي فِيْهِ أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنْ يَكُ هُوَ لَا تُسَلِّطُ عَلَيْهِ وَإِنْ لَّمْ يَكُ هُوَ فَلَا خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ قَالَ سَالِمٌ وَسَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ هُوَ وَأَبَيُّ بْنُ كَعْبٍ الْأَنْصَارِيُّ يَوْمًا إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ حَتَّى إِذَا دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ طَفِقَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَهُوَ يَسْمَعُ مِن ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يُرَاهُ وَابْنُ صَيَادٍ مُضْطَجِعُ عَلَى فرَاشِهِ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا زَمْزَمَةٌ فَرَآتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادِ النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يَتَّقِى بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لِابْنِ صَيَّادِ أَيْ صَافِ وَهُوَ اسْمُهُ هَذَا مُحَمَّدٌ فَتَنَاهَى ابْنُ صَيَّادٍ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْ تَرَكَتْهُ لَبَيْنَ قَالَ سَالِمٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنِّي أَنْذِرُكُمُوهُ وَمَا مِنْ نَبِيَّ إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ بِهِ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنْ سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقُلُهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ .
৯৬৭। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। উমার (রা) নবী (স)-এর সাথে একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইবনে সাইয়াদ-এর নিকট গেলেন। তারা তাকে (ইবনে সাইয়াদকে) বনু মাগালা দুর্গের পাশে অন্যান্য বালকের সাথে খেলাধুলারত পেলেন। তখন ইবনে সাইয়াদ বালেগ প্রায়। সে নবী (স)-এর আগমন অনুভব করার আগেই নবী (স) তার হাত ধরে ফেলেন। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করেন: তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, আমি আল্লাহ্র রাসূল? ইবনে সাইয়াদ তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। এরপর সে নবী (স)-কে বললো, আপনি কি সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আল্লাহ্র রাসূল? তখন নবী (স) তাকে ছেড়ে দিয়ে বলেনঃ আমি আল্লাহর উপর এবং তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি ইবনে সাইয়াদকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কী দেখে থাকো? ইবনে সাইয়াদ বললো, আমার কাছে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী আগমন করে থাকে। নবী (স) বলেনঃ ব্যাপারটি তোমার কাছে বিভ্রান্তিকর করা হয়েছে। এরপর নবী (স) বলেন: আমি একটি বিষয়ে তোমার থেকে (আমার মনের মধ্যে) গোপন রেখেছি। বলতো, সেটি কি? ইবনে সাইয়াদ বললো, তা হচ্ছে 'আদ্-দুগ্ধ'। তিনি বলেন: তুমি লাঞ্ছিত হও। তুমি কখনো তোমার (জন্য নির্ধারিত) সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। উমার (রা) বলেন, আমাকে অনুমতি দিন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (স) বলেনঃ যদি সে সেই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তাহলে তাকে কাবু করার সামর্থ্য তোমাকে দেয়া হয়নি। আর যদি সে সেই দাজ্জাল না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে তোমার কোন কল্যাণ নেই। রাবী সালেম (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রা)-কে বলতে শুনেছি, এরপর রাসূলুল্লাহ (স) এবং উবাই ইবনে কাব (রা) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গেলেন যেখানে ইবনে সাইয়াদ ছিল। ইবনে সাইয়াদ তাঁকে দেখে ফেলার আগেই ইবনে সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী (স) তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন, যার ভেতর থেকে তার গুনগুন শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ইবনে সাইয়াদের মা রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখতে পেলো যে, তিনি খেজুর গাছের কাণ্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে অগ্রসর হচ্ছেন। সে তখন ইবনে সাইয়াদকে ডেকে বললো, ও সাফ! (এটি ইবনে সাইয়াদের ডাকনাম) এই যে মুহাম্মাদ! তখন ইবনে সাইয়াদ লাফিয়ে উঠলো। নবী (স) বলেন: সে (ইবন সাইয়াদের মা) তাকে স্ব-অবস্থায় থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেতো। সালেম (র) বলেন, আবদুল্লাহ (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (স) জনসমাবেশে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন, অতঃপর দাজ্জালের প্রসংগ উত্থাপন করলেন। তিনি বলেন: আমি তোমাদেরকে তার ব্যাপারে সতর্ক করছি এবং এমন কোন নবী আসেননি যিনি তাঁর উম্মাতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেননি। নূহ (আ)-ও তাঁর উম্মাতকে সতর্ক করেছেন। তবে আমি তার ব্যাপারে এমন একটি কথা বলবো যা পূর্ববর্তী নবীগণ বলেননি। জেনে রাখো! সে হবে কানা। আর আল্লাহ কখনও অন্ধ নন (বু, মু)।
৯৬৮ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ اللهِ إِذَا كَانَ جُنُبًا يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثَ حَفَنَاتٍ مِّنْ مَا ، قَالَ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ شَعْرِي أَكْثَرُ مِنْ ذَاكَ قَالَ وَضَرَبَ جَابِرٌ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الْحَسَنِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي كَانَ شَعْرُ النَّبِيِّ ﷺ أَكْثَرُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَطْيَبُ .
৯৬৮। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) নাপাক হলে (অর্থাৎ তাঁর উপর গোসল ফরজ হলে) তিন অঞ্জলী পানি তাঁর মাথায় ঢালতেন। হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (র) বলেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আমার মাথার চুল যে অনেক বেশী ঘন। রাবী বলেন, জাবের (রা) হাসানের উরুতে চপেটাঘাত করে বলেন, ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (স)-এর মাথার চুল তোমার মাথার চুলের চাইতে বেশী ঘন ও সরস ছিল (বু, মু, না)।