📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 ভাইয়ের সম্মানার্থে কোন ব্যক্তির দাঁড়ানো

📄 ভাইয়ের সম্মানার্থে কোন ব্যক্তির দাঁড়ানো


৪২৯-অনুচ্ছেদ: ভাইয়ের সম্মানার্থে কোন ব্যক্তির দাঁড়ানো।
৯৫২ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ وَكَانَ قَائِدُ كَعْبٍ مِّنْ بَنِيْهِ حِيْنَ عَلَى قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكَ يُحَدِّثُ حَدِيثَهُ حِينَ تَخَلَّفَ عَنْ رَسُول الله ﷺ عَنْ غَزْوَةٍ تَبُوكَ فَتَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَذَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِتَوْبَةِ اللهِ عَلَيْنَا حِيْنَ صَلَّى صَلَاةَ الْفَجْرِ فَتَلَقَّانِي النَّاسُ فَوْجًا فَوْجًا يُهَنُّوني بالتَّوبة يَقُولُونَ لتَهنَّكَ تَوبة الله عَلَيْكَ حَتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا بِرَسُول الله ﷺ حَوْلَهُ النَّاسُ فَقَامَ إِلَى طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ يُهَرُولُ حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنَانِي وَاللهِ مَا قَامَ إِلَى رَجُلٌ مِّنَ الْمُهَاجِرِينَ غَيْرَهُ لَا أَنْسَاهَا لِطَلْحَةَ .
৯৫২। আবদুল্লাহ ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। কাব (রা) অন্ধ হয়ে গেলে তার পুত্রদের মধ্যে তিনি তার পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি বলেন, কাব ইবনে মালেক (রা) তাবুক যুদ্ধে যোগদান না করে রাসূলুল্লাহ (স)-এর পেছনে থেকে যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, অতঃপর আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (স) ফজরের নামায পড়ার পর আল্লাহ কর্তৃক আমাদের তওবা কবুল করার কথা ঘোষণা করলেন। তাতে দলে দলে লোক এসে আমার তওবা কবুল হওয়ার জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন। তারা বলেন, আপনার তওবা আল্লাহ্র দরবারে কবুল হওয়ায় আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই। এমতাবস্থায় আমি গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) লোক পরিবেষ্টিত অবস্থায় সমাসীন। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা) উঠে দৌড়ে এসে আমার সাথে মোসাফাহা (করমর্দন) করেন এবং আমাকে অভিনন্দন জানান। আল্লাহর শপথ! মুহাজিরদের মধ্যে তিনি ব্যতীত আর কেউ আমার দিকে উঠে আসেননি। আমি তালহার এ ব্যবহার কখনও ভুলতে পারবো না (বু.মু,দা, তি,না)।
৯৫৩ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ نَاسًا نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فَأَرْسِلَ إِلَيْهِ فَجَاءَ عَلَى حِمَارٍ فَلَمَّا بَلَغَ قَرِيبًا مِّنَ الْمَسْجِدِ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ ائْتُوا خَيْرُكُمْ أَوْ سَيِّدَكُمْ فَقَالَ يَا سَعْدُ إِنَّ هَؤُلاَءِ نَزَلُوا عَلَى حُكْمِكَ فَقَالَ سَعْدٌ أَحْكُمُ فِيْهِمْ أَنْ تُقْتَلَ مُقَاتِلَتُهُمْ وَتُسْبَى ذُرِّيَّتُهُمْ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ حَكَمْتَ بِحُكْمِ اللَّهِ أَوْ قَالَ حَكَمْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ .
৯৫৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। লোকেরা (ইহুদীরা) সাদ ইবনে মুআয (রা)-এর ফয়সালা মেনে নেয়ার ব্যাপারে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করলে তার জন্য লোক পাঠানো হলো। তিনি একটি গাধায় চড়ে আসলেন। তিনি মসজিদের নিকটে এসে পৌঁছলে নবী (স) বলেন: তোমাদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তিকে বা তোমাদের নেতাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করো। তিনি বলেনঃ হে সাদ! তারা তোমার ফয়সালা মেনে নেয়ার সম্মতি প্রকাশ করেছে। সাদ (রা) বলেন, তাদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা এই যে, তাদের মধ্যকার যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদের হত্যা করা হবে এবং তাদের শিশুদের বন্দী করা হবে। নবী (স) বলেনঃ তুমি আল্লাহ্ বা মহান মালিকের ফয়সালা অনুযায়ী ফয়সালা করেছো (বু,মু, দা,না)।
৯৫৪ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا كَانَ شَخْصُ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ رُؤْيَةً مِّنَ النَّبِيِّ اللهِ وَكَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُومُوا إِلَيْهِ لِمَا يَعْلَمُونَ مِنْ كَرَاهِيَتِهِ ذَلِكَ
৯৫৪। আনাস (রা) বলেন, সাহাবীগণের নিকট নবী (স)-এর দর্শন যতো প্রিয় ছিল, আর কারো দর্শন তাদের নিকট এতো প্রিয় ছিলো না। অথচ তারা তাঁকে (আসতে) দেখে তাঁর (সম্মানার্থে) কখনো উঠে দাঁড়াতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, তা তাঁর অপছন্দীয় (তি, আ)।
৯৫৫ - عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِّنَ النَّاسِ كَانَ أَشْبَهُ بِالنَّبِيِّ كَلَامًا وَلَا حَدِيثًا وَلَا جِلْسَةً مِّنْ فَاطِمَةَ قَالَتْ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا رَأَهَا قَدْ أَقْبَلَتْ رَحْبَ بِهَا ثُمَّ قَامَ إِلَيْهَا فَقَبْلَهَا ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِهَا فَجَاءَ بِهَا حَتَّى يُجْلِسَهَا فِي مَكَانِهِ وَكَانَتْ إِذَا أَتَاهَا النَّبِيُّ اللهِ رَحْبَتْ بِهِ ثُمَّ قَامَتْ إِلَيْهِ فَقَبَّلَتْهُ وَإِنَّهَا دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فِي مَرَضِهِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ فَرَحْبَ وَقَبْلَهَا وَأَسَرَّ إِلَيْهَا فَبَكَتْ ثُمَّ فَقُلْتُ لِلنِّسَاءِ إِنْ كُنْتُ لَأَرَى أَنَّ لِهذِهِ الْمَرْأَةِ فَضْلاً عَلَى النِّسَاءِ أَسَرَّ إِلَيْهَا فَضَحِكَتْ فَإِذَا هِيَ مِنَ النِّسَاءِ بَيْنَمَا هِيَ تَبْكِي إِذَا هِيَ تَضْحَكُ فَسَأَلْتُهَا مَا قَالَ لَكِ قَالَتْ إِنِّي إِذَا لَبَدْرَةٌ فَلَمَّا قُبِضَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَتْ أَسَرُّ إِلَىَّ فَقَالَ إِنِّي مَيِّتٌ فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَسَرَّ إِلَىَّ فَقَالَ إِنَّكِ أَوَّلُ أَهْلِي بِي لُحُوقًا فَسُرِرْتُ بِذلِكَ وَأَعْجَبَنِي .
৯৫5। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা) বলেন, কথাবার্তায়, উঠাবসায় ফাতেমার চাইতে নবী (স)-এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, নবী (স) তাকে দেখলেই অভ্যর্থনা জানাতেন, তার জন্য উঠে দাঁড়াতেন এবং তাকে চুমা দিতেন, অতঃপর তার হাত ধরে তাকে এনে নিজের বসার স্থানে বসাতেন। অপরদিকে নবী (স)-ও তাঁর নিকট গেলে তিনি তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতেন এবং উঠে গিয়ে তাঁকে চুমা দিতেন। নবী (স)-এর অন্তিম রোগের সময় তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে অভ্যর্থনা জানালেন, তাকে চুমা দিলেন এবং তার সাথে গোপনে কথা বললেন। ফাতেমা (রা) তাতে কেঁদে দিলেন। তিনি পুনরায় তাকে গোপনে কিছু বললে এবার তিনি (ফাতেমা) হাসেন। আমি উপস্থিত মহিলাগণকে বললাম, আমি মনে করি নারী জাতির মধ্যে এই মহিলা মর্যাদায় অনন্য। তবুও ইনি একজন নারীই, কখনো কাদেন আবার কখনও হাসেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আপনাকে কী বলেছেন? তিনি বলেন, নিশ্চয় আমি এখন গোপন রহস্যের সংরক্ষক। নবী (স) ইন্তিকাল করার পর তিন বলেন, প্রথমার তিনি গোপনে বলেন: "আমার মৃত্যু আসন্ন"। তাই আমি কেঁদেছি। অতঃপর তিনি গোপনে আমাকে বলেন: "আমার পরিজনদের মধ্যে সর্বপ্রথম তুমিই (মৃত্যুবরণ করে) আমার সাথে মিলিত হবে"। এতে আমি খুশি হই এবং তা আমাকে আনন্দ করে (বু ৩৩৫৪, তি ৩৮০৯, মু, দা, হা, হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 উপবিষ্ট ব্যক্তির জন্য কারো দাঁড়ানো

📄 উপবিষ্ট ব্যক্তির জন্য কারো দাঁড়ানো


৪৩০-অনুচ্ছেদ: উপবিষ্ট ব্যক্তির জন্য কারো দাঁড়ানো।
৯৫৬ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ اشْتَكَى النَّبِيُّ ﷺ فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُسْمِعُ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا قَرَأْنَا قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا فَصَلَّيْنَا بِصَلَاتِهِ قُعُودًا فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنْ كِدْتُمْ لَتَفْعَلُوا فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّوْمِ يَقُومُونَ عَلَى مَلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ فَلَا تَفْعَلُوا اِئْتَمُّوا بِأَئِمَّتِكُمْ إِنْ صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِنْ صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا
৯৫৬। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তাঁর পেছনে নামায পড়লাম। তিনি বসা অবস্থায় ইমামতি করেন। আর আবু বকর (রা) তাঁর মুকাব্বির হন। তিনি আমাদের দিকে লক্ষ্য করে আমাদেরকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখেন। তিনি আমাদেরকে বসবার জন্য ইঙ্গিত করলেন। তাই আমরা বসে পড়লাম এবং বসা অবস্থায় তাঁর সাথে নামায পড়লাম। তিনি সালাম ফিরানোর পর বলেন: তোমরা তো প্রায় পারস্যবাসী ও রোমবাসীদের মত আচরণ করলে। তারা তাদের রাজা-বাদশাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, অথচ রাজা-বাদশাগণ থাকে বসা অবস্থায়। তোমরা এরূপ করো না। তোমরা তোমাদের ইমামগণের অনুসরণ করো। ইমাম যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়েন তবে তোমরাও দাঁড়ানো অবস্থায় নামায পড়ো। আর যদি তারা বসা অবস্থায় নামায পড়েন তবে তোমরাও বসা অবস্থায় নামায পড়ো (মু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়

📄 কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়


৪৩১-অনুচ্ছেদ: কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়।
৯৫৭ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ إِذَا تَشَاوَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَضَعْ يَدَهُ بِفِيْهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ فِيهِ .
৯৫৭। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তার হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। কেননা শয়তান মুখে প্রবেশ করে (মু, দা, আ, আন)।
৯৫৮ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا تَنَاءَبَ فَلْيَضَعْ يَدَهُ عَلَى فِيْهِ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ.
৯৫৮। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, কারো হাই আসলে সে যেন তার হাত তার মুখের উপর রাখে। কেননা তা শয়তানের পক্ষ থেকে।
৯৫৯ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا تَشَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ على فِيهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُهُ
৯৫৯। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন তার মুখ চেপে ধরে। অন্যথায় শয়তান তাতে প্রবেশ করে (মু, দা)।
৯৬০ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ إِذَا تَشَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ فَمَهُ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُهُ
৯৬০। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তার হাত দ্বারা তার মুখ চেপে ধরে। অন্যথায় শয়তান তাতে ঢুকে পড়ে (মু, দা, আ, আন)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 একজন অপরজনের মথার উকুন বেছে দিবে কি?

📄 একজন অপরজনের মথার উকুন বেছে দিবে কি?


৪৩২-অনুচ্ছেদ: একজন অপরজনের মথার উকুন বেছে দিবে কি?
৯৬১ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْخُلُ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ بِنْتِ مِلْحَانَ فَتَطْعَمُهُ وَكَانَتْ تَحْتَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَأَطْعَمَتْهُ وَجَعَلَتْ تَقْلِي رَأْسَهُ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ يَضْحَكُ
৯৬১। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) মিলহন-কন্যা উম্মু হারাম (রা)-এর বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তিনি তাঁকে আহার করাতেন। তিনি ছিলেন উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর স্ত্রী। একদা উম্মু হারাম (রা) তাঁকে আহার করানোর পর তাঁর মাথার উকুন বাছতে লাগলেন। নবী (স) ঘুমিয়ে পড়লেন এবং ক্ষণিক পর হাসতে হাসতে জাগ্রত হলেন (বু,মু, দা, তি, না, ই, আ, মা)।
৯৬২ - عَنْ قَيْسِ بْنِ عَاصِمِ السَّعْدِى قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ هُذَا سَيِّدُ أَهْلِ الْوَبَرِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا الْمَالُ الَّذِي لَيْسَ عَلَى فِيْهِ تَبِعَةٌ مِنْ طَالِبٍ وَلَا مِنْ ضَيْفَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ نِعْمَ الْمَالُ أَرْبَعُونَ وَالْكَثْرَةُ سِتُّوْنَ وَوَيْلٌ لِأَصْحَابِ الْمِيْتَيْنِ إِلَّا مَنْ أَعْطَى الكَرِيمَةَ وَمَنَحَ الْغَزِيرَةَ وَنَحَرَ السَّمِينَةَ فَأَكَلَ وَأَطْعَمَ الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا أَكْرَمُ هَذِهِ الْأَخْلاقِ لَا يُحَلُّ بِوَادٍ أَنَا فِيهِ مِنْ كَثْرَةِ نَعَمِي فَقَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ بِالْعَطِيَّةِ قُلْتُ أعطى البكر وَأَعْطَى النَّابَ قَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي الْمَنِيْحَةِ قَالَ إِنِّي لَأَمْنَحُ الْمِائَةَ قَالَ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي الطُّرُوقَةِ قَالَ يَغْدُو النَّاسُ بحِبَالِهِمْ وَلَا يُوزَعُ رَجُلٌ مِّنْ جَمَلٍ يَخْتَطِمُهُ فَيُمْسِكُ مَا بَدَا لَهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَرُدَّه فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ فَمَالُكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ مَالُ مَوَالِيْكَ قَالَ مَالِي قَالَ فَإِنَّمَا لَكَ مِنْ مَالِكَ مَا أَكَلْتَ فَأَقْنَيْتَ أَوْ أَعْطَيْتَ فَأَمْضَيْتَ وَسَائِرَهُ لِمَوَالِيْكَ فَقُلْتُ لَا جَرَمَ لَئِنْ رَجَعْتُ لَأُقِلَنَّ عَدَدَهَا فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ جَمَعَ بَنِيْهِ فَقَالَ يَا بُنَيَّ خُذُوا عَنِّى فَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْخُذُوا عَنْ أَحَدٍ هُوَ أَنْصَحُ لَكُمْ مِّنِّى لَا تَنُوحُوا عَلَى فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يُنَحْ عَلَيْهِ وَقَدْ سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَنْهَى عَنِ النِّيَاحَةِ وَكَفْتُونِي فِي ثِيَابِيُّ الَّتِي كُنْتُ أَصَلَّى فِيْهَا وَسَوْدُوا أَكَابِرَكُمْ فَإِنَّكُمْ إِذَا سَوَّدْتُمْ أَكَابِرَكُمْ لَمْ يَزَلْ لِأَبِيْكُمْ فِيكُمْ خَلِيفَةً وَإِذَا سَوَّدْتُمْ أَصَاغِرِكُمْ هَانَ أَكَابِرَكُمُ النَّاسِ وَزَهْدُوا فِيكُمْ وَأَصْلِحُوا عَيْشَكُمْ فَإِنَّ فِيهِ غنى عن طلب النَّاسِ وَأَيَّاكُمْ وَالْمَسْأَلَةَ فَإِنَّهَا آخَرُ كَسْبِ الْمَرْءِ وَإِذَا دَفَنْتُمُونِي فَسَرُّوا عَلَى قَبْرِى فَإِنَّهُ كَانَ يَكُونُ شَيْءٌ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا الْحَيِّ مِنْ بَكْرِ بْنِ وَائِلٍ خُمَاشَاتٍ فَلَا آمَنُ سَفِيهَا أَنْ يَأْتِيَ أَمْرًا يَدْخُلُ عَلَيْكُمْ عَيْبًا فِي دِينِكُمْ
৯৬২। কায়েস ইবনে আসেম আস-সাদী (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন: সে হলো তাঁবুবাসীদের নেতা। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কি পরিমাণ মাল থাকলে আমার উপর যাঞ্চাকারী বা মেহমানের কোন দায়দায়িত্ব থাকে না? রাসূলুল্লাহ (স) বলেন : চল্লিশটি (পশু সংখ্যা) উত্তম, আর ঊর্ধ্বতন সংখ্যা ষাট। আর দুই শতের মালিকদের তো বিপদ। তবে যে ব্যক্তি উঠতি বয়সের উট দান করে, দুধ পানের জন্য কাউকে উষ্ট্রী ধার দেয় এবং মোটাতাজা উট যবেহ করে নিজেও আহার করে এবং অভাবী ভদ্রলোক ও যাঞ্চাকারীদেরও আহার করায় (তার ভয়ের কোন কারণ নাই)। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা তো অতি উত্তম স্বভাব। কিন্তু আমি যে উপত্যকায় বাস করি সেখানে আমার পশুর প্রাচুর্যের বিচারে এটা তো মামুলি ব্যাপার। তিনি জিজ্ঞেস করেন: তুমি কিরূপ দান-খয়রাত করো? আমি বললাম, উঠতি বয়সের উষ্ট্রীও দান করে থাকি। তিনি বলেন: তুমি কিভাবে দুধ পানের জন্য উষ্ট্রী ধার দিয়ে থাকো? আমি বললাম, আমি শত সংখ্যক দান করি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন: প্রজননের ব্যাপারে তুমি কি করো? আমি বললাম, লোকজন তাদের গর্ভ গ্রহণকারিনী উষ্ট্রী নিয়ে আসে এবং আমার উট পালের মধ্যকার যে উটটিকে প্ররোচিত করতে পারে, তা সাথে নিয়ে যায় এবং তার প্রয়োজন মাফিক তা তার কাছে রেখে দেয়। প্রয়োজন শেষে সে তা ফেরত দিয়ে যায়। নবী (স) বলেন: তোমার নিজের মাল তোমার অধিক প্রিয় নাকি তোমার ওয়ারিসদের মাল? রাবী বলেন, আমার মাল। তিনি বলেন: তোমার মাল তাই যা তুমি নিজে পানাহার করে শেষ করেছো অথবা কাউকে (আল্লাহ্ পথে) দান করেছো। তাছাড়া অবশিষ্টটুকু তোমার ওয়ারিসদের মাল। আমি বললাম, এবার ফিরে গিয়ে অবশ্যই উটের সংখ্যা কমিয়ে ফেলবো। অতঃপর তার মৃত্যুর সময় আসন্ন হলে তিনি তার পুত্রদের ডেকে একত্র করেন এবং বলেন, হে পুত্রগণ! তোমরা আমার উপদেশ শোনো। কেননা তোমাদের জন্য আমার উপদেশের চেয়ে অধিক কল্যাণকামী উপদেশদাতা আর কাউকে পাবে না। আমার মৃত্যুর পর আমার জন্য বিলাপ করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর জন্য বিলাপ করা হয়নি। আমি নবী (স)-কে "বিলাপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি"। আর আমার নামায পড়ার বস্ত্র দ্বারা আমার কাফন দিবে। তোমরা তোমাদের মধ্যকার প্রবীণদের নেতা নির্বাচিত করবে। কেননা যাবৎ তোমরা তোমাদের প্রবীণদের নেতা বানাবে তোমাদের পিতৃপুরুষের প্রতিনিধিত্ব তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে। আর যখন তোমরা তোমাদের মধ্যকার যুবকদের তোমাদের নেতা নির্বাচিত করবে, তখন লোক সমক্ষে তোমাদের পিতৃপুরুষের অবমাননা হবে। তোমাদের মধ্যে কৃষ্ণসাধনার প্রেরণা যোগাবে। তোমাদের জীবনযাত্রাকে সমুন্নত করো। কেননা তাতে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় না। তোমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে। কেননা তা হচ্ছে সর্বশেষ নিকৃষ্টতর পেশা। যখন তোমরা আমাকে দাফন করবে তখন আমার কবর মাটির সাথে সমান করে দিবে। কেননা আমার এবং ঐ পার্শ্ববর্তী জনপদে বসবাসরত বাক্স ইবনে ওয়াইল গোত্রের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হতো। পাছে তাদের মধ্যকার কোন নির্বোধ ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করে বসে যার প্রতিশোধ গ্রহণ তোমাদের বেলায় তোমাদের দীন-ধর্মের জন্য অনিষ্টকর হবে (হা, হি, আ, তা, ইস্তীআব)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00