📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 হাঁচি দেয়া

📄 হাঁচি দেয়া


৪১৫-অনুচ্ছেদ : হাঁচি দেয়া।
৯২৭ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ التَّشَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَحَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ تُشَمِّتَهُ وَأَمَّا التَّشَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِذَا قَالَ هَاهُ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ .
৯২৭। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন কিন্তু হাই তোলা অপছন্দ করেন। অতএব কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা করলে এবং যে কোন মুসলমান তা শোনতে পেলে হাঁচির জবাব দেয়া তার কর্তব্য। আর হাই উঠে শয়তানের পক্ষ থেকে। অতএব কেউ তা যেন যথাসাধ্য প্রতিহত করে। কোন ব্যক্তি হাই তুলে 'হা' (মুখ গহব্বর ফাঁক) করলে তাতে শয়তান (আনন্দে) অট্টহাসি দেয় (বু,মু,তি, দা, না, আ, হা,হি, খু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কেউ হাঁচি দিয়ে যা বলবে

📄 কেউ হাঁচি দিয়ে যা বলবে


৪১৬-অনুচ্ছেদ : কেউ হাঁচি দিয়ে যা বলবে।
৯২৮ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ قَالَ الْمَلَكُ رَبِّ الْعَالَمِينَ فَإِذَا قَالَ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ الْمَلَكُ يَرْحَمُكَ اللهُ .
৯২৮। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে শুধু 'আলহামদু লিল্লাহ' বললে একজন ফেরেশতা বলেন, 'রব্বিল আলামীন'। আর সে 'আলহামdu লিল্লাহি রব্বিল আলামীন' বললে ফেরেশতা বলেন, 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' (আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন) (তাবারানী)।
৯২৯ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ إِذَا عَطَسَ فَلْيَقُلْ الْحَمْدُ لِلَّهِ فَإِذَا قَالَ فَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ يَرْحَمُكَ اللهُ فَإِذَا قَالَ لَهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَلْيَقُلْ يَهْدِيْكَ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكَ .
৯২৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কেউ হাঁচি দিয়ে যেন 'আলহামদু লিল্লাহ' বলে। সে 'আলহামদু লিল্লাহ' বললে তার অপর (মুসলমান) ভাই বা সংগী যেন 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে। সে তার জবাবে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বললে (শুকরিয়াস্বরূপ) সে যেন বলে, 'ইয়াহদিকাল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকা' (আল্লাহ তোমায় সৎপথে চালিত করুন এবং তোমার অবস্থার সংশোধন করুন) (বু,দা)। ইমাম বুখারী (র) এই বিষয়বস্তু সংক্রান্ত হাদীসমূহের মধ্যে উক্ত হাদীসকে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 হাঁচিদাতার জবাব দেয়া

📄 হাঁচিদাতার জবাব দেয়া


৪১৭-অনুচ্ছেদ: হাঁচিদাতার জবাব দেয়া।
৯৩০ - عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمِ الأفْرِيقِي قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُمْ كَانُوا غُرَاةً فِي الْبَحْرِ زَمَنَ مُعَاوِيَةَ فَانْضَمُّ مَرْكَبُنَا إِلى مَرْكَبِ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِي فَلَمَّا حَضَرَ غَدَاؤُنَا أَرْسَلْنَا إِلَيْهِ فَأَتَانَا فَقَالَ دَعَوْتُمُونِي وَأَنَا صَائِمٌ فَلَمْ يَكُنْ لِّي بُدٌّ مِّنْ أَنْ أُجِيبَكُمْ لِأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِنَّ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ سِتْ خِصَالٍ واجِبَةٍ إِنْ تَرَكَ مِنْهَا شَيْئًا فَقَدْ تَرَكَ حَقًّا وَاحِبًا لِأَخِيهِ عَلَيْهِ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِذَا لقِيَهُ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ وَيَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَحْضُرُهُ إِذَا مَاتَ وَيَنْصَحُهُ إِذَا اسْتَنْصَحَهُ قَالَ وَكَانَ مَعَنَا رَجُلٌ مَزَاحَ يَقُولُ لِرَجُلٍ أَصَابَ طَعَامُنَا جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا وَبَرًّا فَغَضِبَ عَلَيْهِ حِيْنَ أَكْثَرَ عَلَيْهِ فَقَالَ لِأَبِي أَيُّوبَ مَا تَرَى فِي رَجُلٍ إِذَا قُلْتُ لَهُ جَزَاكَ اللهُ خَيراً وبَراً غَضِبَ وَشَتَمَنِي فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ إِنَّا كُنَّا نَقُولُ إِنَّ مَنْ لَمْ يُصْلِحُهُ الخَيْرُ أَصْلَحَهُ الشَّرُّ فَاقْلِبْ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ حِيْنَ آتَاهُ جَزَاكَ اللهُ شَراً وَعَرًّا فَضَحِكَ وَرَضِي وَقَالَ مَا تَدَعُ مَزَاحَكَ فَقَالَ الرَّجُلُ جَزَى اللَّهُ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِي خَيْرًا
৯৩০। আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আনউম আল-ইফরীকী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তারা মুআবিয়া (রা)-এর আমলে নৌ-যুদ্ধে যোগদান করেন। পথিমধ্যে আমাদের জাহাজ আবু আইউব আনসারী (রা)-র জাহাজের নিকটবর্তী হলে এবং আমাদের সকালের খাবার উপস্থিত হলে আমরা তার নিকট লোক পাঠালাম। তিনি এসে বলেন, তোমরা আমাকে দাওয়াত দিয়েছো। কিন্তু আমি রোযাদার। তবুও আমি তোমাদের দাওয়াত কবুল করেছি। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: এক মুসলমানের উপর তার অপর মুসলমান ভাইয়ের ছয়টি অনিবার্য দাবি রয়েছে। যদি কেউ তার একটিও লংঘন করে তবে সে তার ভাইয়ের প্রতি একটি অপরিহার্য কর্তব্য পালন করলো না। (১) তার সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দিবে। (২) সে তাকে দাওয়াত দিলে তা কবুল করবে। (৩) সে হাঁচি দিলে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) তার জবাব দিবে। (৪) সে রোগগ্রস্ত হলে তাকে দেখতে যাবে। (৫) সে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে এবং (৬) সে পরামর্শ চাইলে তাকে উত্তম পরামর্শ দিবে। রাবী বলেন, আমাদের সাথে (ঐ অভিযানে) একজন রসিক লোকও ছিলেন। তিনি আমাদের সাথে আহাররত এক ব্যক্তিকে বলেন, আল্লাহ তোমাকে অতিশয় উত্তম প্রতিদান দিন। তাকে বারবার এরূপ বললে সে ক্ষেপে যেতো। রসিক ব্যক্তি আবু আইউব (রা)-কে বলেন, এই লোকটি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, আমি তাকে 'জাযাকাল্লাহু খায়রান ওয়া বাররান' বললে সে ক্ষেপে যায় এবং আমাকে গালি দেয়। আবু আইউব (রা) বলেন, আমরা বলতাম, কল্যাণ যার জন্য বাঞ্ছনীয় নয় অমঙ্গলই তার জন্য বাঞ্ছনীয়। অতএব তাকে এর উল্টা বলো। ঐ লোকটি তার নিকট এলে রসিক ব্যক্তি তাকে বলেন, জাযাকাল্লাহু শাররান ওয়া আররান (আল্লাহ তোমাকে অমঙ্গল ও কঠোর প্রতিদান দিন)। লোকটি হেসে দিলো এবং প্রসন্ন হলো আর বললো, তুমি বুঝি তোমার রসিকতা ত্যাগ করতে পারো না। তিনি বলেন, আল্লাহ আবু আইউব আনসারী (রা)-কে উত্তম প্রতিদান দিন (তাহযীবুল কামাল)।
৯৩১ - عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَرْبَعُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ يَعُودُهُ إِذَا مَرِضَ وَيَشْهَدُهُ إِذَا مَاتَ وَيُجِيبُهُ إِذَا دَعَاهُ وَيُشَمِّتُهُ إِذَا عَطَسَ .
৯৩১। আবু মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন : এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের চারটি কর্তব্য রয়েছে। (১) সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে। (২) সে মারা গেলে তার জানাযায় শামিল হবে। (৩) সে তাকে দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করবে। (৪) সে হাঁচি দিলে তার হাঁচির জবাব দিবে (ই, আ, হা, হি)।
৯৩২ - عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعِ أَمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَاتَّبَاعِ الْجَنَائِزِ وَتَسْمِيتِ الْعَاطِسِ وَأَبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ وَإِفْشَاءِ السَّلَامِ وَأَجَابَةِ الدَّاعِي وَنَهَانَا عَنْ خَوَاتِيمِ الذَّهَبِ وَعَنْ أَنِيَةِ الْفِضَّةِ وَعَنِ الْمَيَاثِرِ وَالْقَسِيَّةِ وَالْإِسْتَبْرَقِ وَالدِّيبَاجِ وَالْحَرِيرِ .
৯৩২। বারাআ ইবনে আযেব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের আদেশ করেছেন : (১) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতে, (২) জানাযায় শরীক হতে, (৩) হাঁচিদাতার হাঁচির জবাব দিতে, (৪) প্রতিজ্ঞা পালন করতে, (৫) উৎপীড়িতের সাহায্য করতে, (৬) সালামের বহুল প্রচলন করতে এবং (৭) দাওয়াত দানকারীর দাওয়াত কবুল করতে। তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন : (১) সোনার আংটি পরতে, (২) রূপার বাসনপত্র ব্যবহার করতে এবং (৩) নরম তুলতুলে রেশমী বস্ত্র, (৪) (তৎকালে মিসরে উৎপাদিত) এক প্রকার রেশমী বস্ত্র, (৫) মোটা রেশমী বস্ত্র, (৬) রেশম ও সূতা মিশ্রিত রেশমী বস্ত্র ও (৭) মিহি রেশমী বস্ত্র ব্যবহার করতে (বু, মু, তি, না, ই)।
৯৩৩ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتَّ قِيْلَ مَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلَّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمَّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبَعْهُ .
৯৩৩। অবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের ছয়টি কর্তব্য রয়েছে। জিজ্ঞেসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই কর্তব্যগুলো কি কি? তিনি বলেনঃ (১) তার সাথে তোমার সাক্ষাত হলে সালাম দিবে। (২) সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তার দাওয়াত কবুল করবে। (৩) সে তোমার কাছে পরামর্শ চাইলে তুমি তাকে পরামর্শ দিবে। (৪) সে হাঁচি দিয়ে আল্লাহ্র প্রশংসা করলে তুমি তার জবাব দিবে। (৫) সে অসুস্থ হলে তুমি তাকে দেখতে যাবে। (৬) সে মারা গেলে তুমি তার জানাযায় ও দাফনে শরীক হবে (বু,মু,না আন, হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 যে হাঁচি দিতে শোনবে সে বলবে

📄 যে হাঁচি দিতে শোনবে সে বলবে


৪১৮-অনুচ্ছেদ: যে হাঁচি দিতে শোনবে সে বলবে, আলহামদু লিল্লাহ।
৯৩৪ - عَنْ عَلَى قَالَ مَنْ قَالَ عِنْدَ عَطْسَةٍ سَمِعَهَا الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ عَلَى كُلِّ حَالٍ مَا كَانَ لَمْ يَجِدُ وَجَعَ الشَّرْسِ وَلَا الْأُذُنِ أَبَدًا .
৯৩৪। আলী (রা) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে হাঁচি দিতে শোনে বলে, "আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আলা কুল্লি হালিন মাকানা" (সর্বাবস্থায় বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্ জন্য প্রশংসা), কখনো তার দাঁতের ও কানের অসুখ হবে না (আ, তা, শা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00