📄 যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে
৮৯৮- بَابُ مَنْ كَمَهَ أَعْمَى
৩৯৮-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে।
৯০০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمِهَ أَعْمَى عَنِ السَّبِيلِ .
৯০০। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্ধকে পথহারা করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন (হা, হি)。
📄 বিদ্রোহ
٣٩٩- بَابُ الْبَغْيِ
৯০১- حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ الله بِفَنَاءِ بَيْتِهِ بِمَكَّةَ جَالِسٌ إِذْ مَرَّ بِهِ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونِ فَكَشَرَ إِلى النَّبِيِّ الله فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ أَلَا تَجْلِسُ قَالَ بَلَى فَجَلَسَ النَّبِيُّ ﷺ مُسْتَقْبِلَهُ فَبَيْنَمَا هُوَ يُحَدِّثُهُ إِذْ شَخَصَ النَّبِيُّ ﷺ بِبَصَره الى السَّمَاءِ فَقَالَ أَتَانِي رَسُولُ اللهِ أَنفًا وَأَنْتَ جَالِسٌ قَالَ فَمَا قَالَ لَكَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ قَالَ عُثْمَانُ فَذَلِكَ حِيْنَ اسْتَقَرُ الْإِيْمَانُ فِي قَلْبِي وَأَحْبَبْتُ مُحَمَّداً .
৯০১। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, একদা নবী (স) তাঁর মক্কার বাড়ির আঙ্গিনায় বসা ছিলেন। তখন উসমান ইবনে মাযউন (রা) সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নবী (স)-এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন। নবী (স) তাকে বলেন: তুমি কি বসবে না? তিনি বলেন, হাঁ। নবী (স) তার দিকে মুখ করে বসলেন। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় নবী (স) আসমানের দিকে তাকিয়ে বলেন: এইমাত্র আল্লাহ্ দূত আমার নিকট আসেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি আপনাকে কি বলেছেন? তিনি বলেনঃ "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেন ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার ও নিকট আত্মীয়-স্বজনকে দান-খয়রাত করার এবং বারণ করেন অশ্লীলতা, গর্হিত কর্ম ও বিদ্রোহ। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে" (সূরা নাহল: ৯০)। উসমান (রা) বলেন, এটা তখনকার কথা যখন ঈমান আমার অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছে এবং মুহাম্মাদ (স)-কে আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি (আ)。
📄 বিদ্রোহের শাস্তি
٤٠٠ - بَابُ عُقُوبَةِ الْبَغْيِ
৯০২- عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تُدْرِكَا دَخَلْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ مُحَمَّدُ بْنُ عبد العزيز بالسبابة والوسطى
৯০২। আবু বকর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আনাস (র) থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: যে ব্যক্তি দুইটি কন্যা সন্তানকে বালেগ হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করে, আমি এবং সে এই দু'টির মতো পাশাপাশি জান্নাতে প্রবেশ করবো। হাদীস বর্ণনাকালে রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আযীয (র) তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন।
৯০৩- وَبَابَانِ يُعَجِلانِ فِي الدُّنْيَا الْبَغْيُ وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ .
৯০৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: দু'টি অপরাধের শাস্তি সত্বর দুনিয়াতেই দেয়া হয় (১) বিদ্রোহ এবং (২) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।
📄 বংশমর্যাদা
٤٠١ - بَابُ الْحَسَبِ
৯০৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ الكَرِيمَ ابْنَ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ .
৯০৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: নিশ্চয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পুত্র অর্থাৎ ইউসুফ (আ) হলেন ইয়াকূব (আ)-এর পুত্র, তিনি ইসহাক (আ)-এর পুত্র এবং তিনি ইবরাহীম (আ)-এর পুত্র (বু, মু)।
৯০৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ إِنَّ أَوْلِيَائِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُتَّقُونَ وَانْ كَانَ نَسَبٌ أَقْرَبُ مِنْ نَسَب فَلا يَأْتينى النَّاسُ بِالْأَعْمَالِ وَتَأْتُونَ بِالدُّنْيَا تَحْمِلُونَهَا عَلَى رِقَابِكُمْ فَتَقُولُونَ يَا مُحَمَّدُ فَأَقُولُ هُكَذَا وَهُكَذَا لَا وَأَعْرِضُ فِي كِلَا عِطْفَيْهِ.
৯০৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কিয়ামতের দিন আমার বন্ধু হবে মোত্তাকী পরহেজগারগণ। বংশগত সম্পর্ক অপরের তুলনায় অধিক নিকটতর হলেও তা উপকারে আসবে না। লোকজন আমার নিকট আসবে তাদের আমল নিয়ে, আর তোমরা আসবে দুনিয়াকে তোমাদের কাঁধে তুলে নিয়ে। তোমরা ডেকে বলবে, হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ! আর আমি এরূপ এরূপ বলবো: আমি কোন কাজে আসবো না। আমি সব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবো।
৯০৬- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَا أَرَى أَحَدًا يَعْمَلُ بِهَذِهِ الْآيَةِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ من ذكر وأنثى حَتَّى بَلَغَ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ . فَيَقُولُ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ أَنَا أَكْرَمُ مِنْكَ فَلَيْسَ أَحَدٌ أَكْرَمُ مِنْ أَحَدٍ إِلا بِتَقْوَى الله .
৯০৬। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, আমার মতে কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত আয়াত অনুযায়ী আচরণ করে না (অনুবাদ): "হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারীর সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছি..... নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র নিকট সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু" (সূরা হুজুরাত: ১৩)। আল্লাহর এই বাণী বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত। অথচ তাকওয়া ব্যতীত কেউ কারো চেয়ে অধিক সম্ভ্রান্ত হতে পারে না।
৯০৭- عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمَّ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا تَعُدُّوْنَ الْكَرَمَ قَدْ بَيْنَ اللَّهُ الْكَرَمَ فَاكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ مَا تَعُدُّونَ الحَسَبَ أَفْضَلُكُمْ حَسَنًا أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا .
৯০৭। ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, তোমরা কাদের সম্ভ্রান্ত গণ্য করো? আল্লাহ অবশ্যই সম্ভ্রান্ত কে তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন: "নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সবচাইতে সম্ভ্রান্ত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী আল্লাহভীরু" (৪৯: ১৩)। তোমরা কাকে মর্যাদাবান গণ্য করো? যার স্বভাব-চরিত্র সর্বোত্তম সে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান।