📄 যে বলে কথায়ও যাদুকরী প্রভাব থাকে
৩৮৬ - بَابُ مَنْ قَالَ إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا
৮৮০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنْ رَجُلًا أَوْ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَتَكَلَّمَ بِكَلامٍ بَيِّنِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ مِنَ البَيَانِ سِحْرًا وَإِنَّ مِنَ الشَّعْرِ حِكْمَةً .
৮৮০। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বা এক বেদুইন নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় কথাবার্তা বললো। নবী (স) বলেনঃ কথায়ও যাদুকরী প্রভাব থাকে এবং কবিতাও প্রজ্ঞাপূর্ণ হতে পারে (দা, তি, ই, আ, হি, তহা)।
৮৮১- حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سَلَام أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ دَفَعَ وَلَدَهُ إِلَى الشَّعْبِي يُؤَدِّبُهُمْ فَقَالَ عَلَّمْهُمُ الشِّعْرَ يَمْجُدُوا وَيُنْجِدُوا وَأَطْعِمْهُمُ اللَّحْمَ تَشْتَدَّ قُلُوبُهُمْ وَجَزَ شُعُورَهُمْ تَشْتَدَّ رِقَابُهُمْ وَجَالِسٌ بِهِمْ عِلْيَةَ الرِّجَالِ يُنَاقِضُوهُمُ الكَلامَ .
৮৮১। উমার ইবনে সালাম (র) থেকে বর্ণিত। আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান তার সন্তানদের আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়ার জন্য শাবী (র)-এর নিকট সোপর্দ করেন। তিনি বলেন, এদের কবিতা শিক্ষা দিন, তাতে তারা উচ্চাভিলাসী ও নির্ভীক হবে, এদের গোশত খাওয়ান, তাতে তাদের হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এদের মস্তক মুণ্ডন করান, তাতে তাদের ঘাড় শক্ত হবে এবং এদের নিয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সমাবেশে বসুন। তাতে তাদের সাথে বাক্য বিনিময়ে তারা কথা বলার কৌশল আয়ত্ত করতে পারবে (তারীখুল কবীর, আবু হাতেম, ইবনে হিব্বান)।
📄 নিন্দনীয় কবিতা
۳۸۷- بَابُ مَا يُكْرَهُ مِنَ الشَّعْرِ
৮৮২- عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ جُرْمًا إِنْسَانُ شَاعِرٌ يَهْجُو القَبِيلَةَ مِنْ أَسْرَهَا وَرَجُلٌ تَنَقَّى مِنْ أَبِيْهِ .
৮৮২। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: মানুষের মধ্যে মারাত্মক অপরাধী হলো সেই কবি যে সমগ্র গোত্রের নিন্দা করে এবং যে ব্যক্তি নিজ পিতাকে অস্বীকার করে (ই ৩৭৬১)।
📄 বাচালতা
৩৮৮- بَابُ كَثْرَةِ الْكَلَامِ
৮৮৩- عَنِ ابْنِ عُمَرَ يَقُولُ قَدِمَ رَجُلَانِ مِنَ الْمَشْرِقِ خَطِيبَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَامَا فَتَكَلَّمَا ثُمَّ قَعَدَا وَقَامَ ثَابِتُ ابْنُ قَيْسٍ خَطِيبُ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَتَكَلَّمَ فَعَجِبَ النَّاسُ مِنْ كَلامِهمَا فَقَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخْطُبُ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا قَوْلَكُمْ فَإِنَّمَا تَسْقِيقُ الكَلامِ مِنَ الشَّيْطَانِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا ৮৮৩। ইবনে উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে প্রাচ্য থেকে দুই বাগ্মী পুরুষ (মদীনায়) আসে। তারা দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করলো, অতঃপর বসলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স)-এর বক্তা সাবিত ইবনে কায়েস (রা) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। কিন্তু লোকজন পূর্বের দুই বক্তার বক্তৃতায়ই অভিভূত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বলেনঃ হে জনগণ! নিজেদের কথা বলো। কেননা মারপ্যাচের কথা বলা শয়তানের অভ্যাস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে (বু, দা, তি, হি)।
৮৮৪- عَنْ أَنَسٍ يَقُولُ خَطَبَ رَجُلٌ عِنْدَ عُمَرَ فَاكْثَرَ الكَلَامَ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ كَثْرَةَ الْكَلَامِ فِي الخُطب مِنْ شَقَائِقِ الشَّيْطَانِ .
৮৮৪। আনাস (রা) বলেন, এক ব্যক্তি উমার (রা)-র সামনে দীর্ঘ বক্তৃতা করলো। উমার (রা) বলেন, বক্তৃতায় লম্বা-চওড়া কথা বলা শয়তানের কাজ।
৮৮৫- عَنْ أَبِي يَزِيدَ أَوْ مَعْنِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ اجْتَمِعُوا فِي مَسَاجِدِكُمْ وَكُلَّمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فَلْيُؤْذُنُونِي فَأَتَانَا أَوَّلُ مَنْ أَتَى فَجَلَسَ فَتَكَلَّمَ مُتَكَلَّمُ مِّنَّا ثُمَّ قَالَ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ الَّذِي لَيْسَ لِلْحَمْدِ دُونَهُ مُقْصِدٌ وَلاَ وَرَاءَهُ مَنْقَةٌ فَغَضِبَ فَقَامَ فَتَلَاوَمْنَا بَيْنَنَا فَقُلْنَا آتَانَا أَوَّلُ مَنْ أَتَى فَذَهَبَ إِلى مَسْجِد آخَرَ فَجَلَسَ فِيْهِ فَآتَيْنَاهُ فَكَلَّمْنَاهُ فَجَاءَ مَعَنَا فَقَعَدَ فِي مَجْلِسِهِ أَوْ قَرِيبًا مِّنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي مَا شَاءَ جَعَلَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَمَا شَاءَ جَعَلَ خَلْفَهُ وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ سِحْرًا ثُمَّ أَمَرَنَا وَعَلَّمَنَا ৮৮৫। আবু ইয়াযীদ অথবা মান ইবনে ইয়াযীদ (র) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলে পাঠান: তোমরা তোমাদের মসজিসমূহে একত্র হও। লোকজন একত্র হলে তারা যেন আমাকে খবর দেয়। অতঃপর আগমনকারী প্রথমে আমাদের মসজিদে আসেন এবং বসেন। তখন আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলেন। তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র যাঁর প্রশংসা দ্বারা একমাত্র তাঁর সত্তা ছাড়া আর কিছুই কাম্য নয়। আর তিনি ছাড়া পালিয়ে যাবার অন্য কোন ঠাই নাই। এতে নবী (স) অসন্তুষ্ট হন এবং উঠে চলে যান। আমরা এজন্য পরস্পরকে দোষারোপ করে বললাম, আগন্তুক তো
৩০৯ মুসলিম
প্রথমেই আমাদের মসজিদে আসেন (আর আমরা তাঁকে অসন্তুষ্ট করলাম)। অতঃপর তিনি অন্য এক মসজিদে গিয়ে সেখানে বসেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট (ক্ষমা চাইলাম)। অতএব তিনি আমাদের সাথে ফিরে এলেন এবং তাঁর আগের জায়গায় বা তার সন্নিকটে বসেন, অতঃপর বলেন : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি যা ইচ্ছা তাঁর সম্মুখে করেন এবং যা ইচ্ছা তাঁর পশ্চাতে করেন। আর কোন কোন বক্তৃতায় যাদুকরী প্রভাব থাকে। অতঃপর তিনি আমাদের উদ্দেশে ওয়াজ-নসীহত করেন এবং জ্ঞান দান করেন (আ ১৫৯৫)।
📄 আশা-আকাঙ্ক্ষা
۳۸۹ - بَابُ التَّمَنَّى
৮৮৬- قَالَتْ عَائِشَةُ أَرقَ النَّبِيُّ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ لَيْتَ رَجُلًا صَالِحًا مِّنْ أَصْحَابِي يَجِيتُنِي فَيَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ إِذْ سَمِعْنَا صَوْتَ السَّلَاحِ فَقَالَ مَنْ هُذَا قِيلَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ أَحْرُسُكَ قَنَامَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى سَمِعْنَا غَطِيطَهُ .
৮৮৬। আয়েশা (রা) বলেন, এক রাতে নবী (স)-এর ঘুম আসছিলো না। তিনি বলেন, আহা! আমার সাহাবীদের মধ্যকার কোন সৎকর্মশীল ব্যক্তি এসে এই রাতটুকু যদি আমাকে পাহারা দিতো। তৎক্ষণাৎ আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেন: কে এই লোক? বলা হলো, সা'দ। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে পাহারা দিতে এসেছি। অতঃপর নবী (স) ঘুমিয়ে গেলেন, এমনকি আমরা তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেলাম (বু, মু, তি, দা)।