📄 মৃত ব্যক্তির গীবত
৩০৭- বাব : মৃত ব্যক্তির গীবত।
৩০৭- অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির গীবত।
৭৪২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ الْأَسْلَمِيُّ فَأَقَرَّ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ بِالزِّنَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ أَمَرَ بِرَجْمِهِ ثُمَّ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِأَصْحَابِهِ فَمَرَّ عَلَى رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ شَيْئًا ثُمَّ سَارَ حَتَّى مَرَّ عَلَى حِمَارٍ مَيْتٍ قَدِ انْتَفَخَ وَارْتَفَعَتْ رِجْلَاهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَهُمَا انْزِلَا فَكُلَا مِنْ هَذَا الْحِمَارِ فَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَيْتَةٌ قَالَ مَا نِلْتُمَا مِنْ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ هَذَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيَسْبَحُ الْآنَ فِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ.
৭৪২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, মায়েয ইবনে মালেক আল-আসলামী এসে চতুর্থবার (যেনার অপরাধের) স্বীকারোক্তি করলে, নবী (স) তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যার নির্দেশ দেন। পরে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর কতক সহচরসহ তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তাদের মধ্যকার একজন বললো, এই বিশ্বাসঘাতক কয়েকবারই নবী (স)-এর নিকট এলো এবং প্রতিবারই তিনি তাকে ফিরে যেতে বলেন। পরে তাকে কুকুরের ন্যায় হত্যা করা হলো। নবী (স) তাদের কথায় কোন মন্তব্য না করে নীরব থাকলেন, শেষে একটি মৃত গাধার নিকট এসে উপনীত হলেন, যার পাগুলো উপরের দিকে উত্থিত ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা দু'জনে এটা থেকে খাও। তারা উভয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মরা গাধার গোশত? তিনি বলেনঃ তোমরা দু'জনে এইমাত্র তোমাদের ভাইয়ের যে মানহানি করেছো তা এর তুলনায় অধিক গর্হিত। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! সে এখন বেহেশতের ঝর্ণাসমূহের মধ্যকার একটি ঝর্ণায় আনন্দে সাতার কাটছে (দা, না, বুখারীর তারীখ)।
📄 যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে
৩০৮ - বাবঃ যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে।
৩০৮-অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে।
৭৪৩- عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَأَبِي وَأَنَا شَابٌّ فَأَدْرَكْنَا شَيْخًا فِي الطَّرِيقِ وَعَلَيْهِ بُرْدَةٌ يَمَانِيَّةٌ وَعَلَى غُلَامِهِ بُرْدَةٌ يَمَانِيَّةٌ فَقُلْتُ يَا عَمُّ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الْبُرْدَةَ فَتَلْبَسَهَا وَتُعْطِيَ غُلَامَكَ هَذِهِ الْبُرْدَةَ فَيَكُونَ عَلَيْكَ بُرْدَتَانِ وَعَلَيْهِ بُرْدَةٌ فَالْتَفَتَ إِلَى أَبِي فَقَالَ أَهَذَا ابْنُكَ قَالَ نَعَمْ فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي وَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ إِنِّي أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَالْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ يَا ابْنَ أَخِي لَأَنْ يَذْهَبَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَيَّ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ حَسَنَاتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقُلْتُ يَا أَبَتِ مَنْ هَذَا قَالَ هَذَا أَبُو الْيُسْرِ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو.
৭৪৩। উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর পৌত্র উবাদা ইবনুল ওলীদ (র) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে বের হলাম। আমি তখন এক যুবা পুরুষ। আমরা এক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করলাম। তার পরনে ছিল একটি কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল এবং তার গোলামের পরনেও ছিল অনুরূপ একখানা কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল। আমি বললাম, চাচাজান! আপনি তো আপনার কম্বলখানা আপনার গোলামকে দিয়ে তার এই চাদরখানাসহ দু'খানা চাদর পরতে পারতেন এবং তার পরনেও থাকতো কম্বল। এমনটি করতে আপনাকে কিসে বাধা দিলো? তিনি আমার পিতার মুখোমুখি হয়ে বলেন, এ বুঝি তোমার পুত্র? তিনি বলেন, হাঁ। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমাকে তার মাধ্যমে বরকত দান করুন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা যা আহার করবে, তাদেরকেও তাই আহার করাবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরাবে। হে ভাতিজা! দুনিয়ার সামগ্রী যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা আখেরাতের সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার চেয়ে আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আমি বললাম, আব্বাজান! ইনি কে? তিনি বলেন, আবুল যুসর কাব ইবনে আমর (রা) (মু,ই)।
📄 মুসলমানদের খাদ্য-পানীয় ও তৈজসপত্র বিনা অনুমতিতে পরস্পরের ব্যবহার
৩০৯ - بَابُ دَالَّةِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ
৩০৯ - অনুচ্ছেদ: মুসলমানদের খাদ্য-পানীয় ও তৈজসপত্র বিনা অনুমতিতে পরস্পরের ব্যবহার।
৭৪৪- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ أَدْرَكْتُ السَّلَفَ وَأَنَّهُمْ لَيَكُونُونَ فِي الْمَنْزِلَ الواحد بِأَهَالِيْهِمْ فَرُبَّمَا نَزَلَ عَلَى بَعْضِهِمُ الضَّيْفُ وَقَدْرُ أَحَدِهِمْ عَلَى النَّارِ فَيَأْخُذُهَا صَاحِبُ الضَّيْف لضَيْفِهِ فَيَفْقَدُ القَدْرَ صَاحِبُهَا فَيَقُولُ مَنْ أَخَذَ القَدْرَ فَيَقُولُ صَاحِبُ الضيف نَحْنُ أَخَذْنَاهَا لِضَيْفْنَا فَيَقُولُ صَاحِبُ القَدْرِ بَارَكَ اللهُ لَكُمْ فِيْهَا أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَ بَقِيَّةُ وَقَالَ مُحَمَّدٌ وَالخُبْرُ إِذَا خَبَزُوا مِثْلَ ذَلِكَ وَلَيْسَ بَيْنَهُمْ إِلَّا جِدْرُ الْقَصَبِ قَالَ بَقِيَّةُ وأَدْرَكْتُ أَنَا ذَلِكَ مُحَمَّدَ بْنَ زِيَادٍ وَأَصْحَابَهُ.
৭৪৪। মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ (র) বলেন, আমি আগেকার মহান ব্যক্তিদের (সাহাবীগণের) সাক্ষাত পেয়েছি। তারা একই বাড়িতে বেশ কয়েক পরিবার বাস করতেন। কখনো এমনও হতো যে, তাদের কোন পরিবারে মেহমান এসেছে এবং অপর পরিবারের চুলায় খাবার রান্না হচ্ছে। যে ঘরে মেহমান এসেছে সেই ঘরের মালিক তার মেহামানের জন্য চুলার উপর বসানো সেই খাবার নিয়ে যেতো। আর খাদ্যের মালিক পরিবার এসে দেখতো যে, তার রান্না করা খাদ্য পাতিলসহ উধাও। সে বলতো, পাতিল কে নিয়ে গেলো? মেহমান আপ্যায়নকারীগণ বলতো, আমরা আমাদের মেহমানের জন্য তা নিয়েছি। তখন পাতিল ভর্তি খাদ্যের মালিক বলতো, আল্লাহ তাতে তোমাদের বরকত দান করুন। রাবী বাকিয়্যা (র) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ (র) বলতেন, সদ্য প্রস্তুত রুটির ব্যাপারেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতো। এই দুই পরিবারের মাঝখানে একটি নল-খাগড়ার বেড়া ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। বাকিয়্যা (র) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ও তার সাথীদের মধ্যেও এমন অবস্থা লক্ষ্য করেছি।