📄 (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)
٣٠٥ - بَابٌ
৩০৫-অনুচ্ছেদ: (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)।
৭৩৭- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَارْتَفَعَتْ رِيحٌ خَبِيثَةٌ مُنْتِنَةٌ فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَا هُذِهِ هُذِهِ رِيْحُ الَّذِينَ يَغْتَابُونَ الْمُؤْمِنِينَ.
৭৩৭। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ছিলাম। তখন দুর্গন্ধময় দুষিত বায়ু প্রবাহিত হলে তিনি বলেনঃ তোমরা জানো, তা কি? এটা হলো মুমিন লোকদের গীবতকারীদের বায়ু (আ)।
৭৩৮- عَنْ جَابِرٍ قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ مُنْتِنَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ إِنْ نَاساً مِّنَ الْمُنَافِقِينَ اغْتَابُوا أَنَاسًا مِّنَ الْمُسْلِمِينَ فَبَعَثَتْ هُذِهِ الرِّيحُ لِذَلِكَ.
৭৩৮। জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু উত্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: মোনাফিকদের মধ্যে কতক লোক মুমিনদের মধ্যকার কতক লোকের গীবত করেছে। তাই এই বায়ু প্রবাহিত হয়েছে (আ, আন)।
৭৩৯- عَنِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ يَقُولُ مَنْ أُعْتِيْبَ عِنْدَهُ مَؤْمِنٌ فَنَصَرَهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا خَيْرًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ أُعْتِيْبَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ شَراً وَمَا التَقَمَ أَحَدٌ لُقْمَةً شَرَّاً مِنْ اعْتِيَابِ مُؤْمِنٍ إِنْ قَالَ فِيْهِ مَا يَعْلَمُ فَقَدِ اعْتَابَهُ وَإِنْ قَالَ فِيْهِ بِمَا لَا يَعْلَمُ فَقَدَ بَهَتُهُ.
৭৩৯। ইবনে উম্মে আব্দ (রা) বলেন, কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার অনুপস্থিত মুমিনের সাহায্য করলে আল্লাহ তাকে এজন্য দুনিয়া ও আখেরাতে
২৬২ আল-আদাবুল মুফরাদ
পুরস্কৃত করবেন। কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার সাহায্য না করলে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর মন্দ ফল (শাস্তি) ভোগ করাবেন। মুমিন ব্যক্তির গীবতের চেয়ে মন্দ গ্রাস আর কেউ গ্রহণ করে না। সে যদি তার সম্পর্কে তার জ্ঞাত কথাই বলে তবে সে তার গীবতই করলো। আর সে যদি এমন কথা বলে যা সে জ্ঞাত নয়, তবে সে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটালো।
📄 আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ “তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে"
٣٠٦ - بَابُ الْغَيْبَة وَقَوْلُ الله تَعَالَى وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا
৩০৬- অনুচ্ছেদঃ গীবত। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ "তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে" (৪৯:১২)।
৭৪০- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَتَى عَلَى قَبْرَيْنِ يُعَذِّبُ صَاحِبَاهُمَا فَقَالَ إِنَّهُمَا لَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ وَبَلَى أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَغْتَابُ النَّاسَ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ لا يَتَأَذَّى مِنَ الْبَولِ فَدَعَا بِجَرِيدَةٍ رُطْبَةٍ أَوْ بِجَرِيدَتَيْنِ فَكَسَرَهُمَا ثُمَّ أَمَرَ بِكُلِّ كَسْرَةٍ فَغُرِسَتْ عَلَى قَبْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَمَا إِنَّهُ سَيَهُونُ مِنْ عَذَابِهِمَا مَا كَانَتَا رُطْبَتَيْنِ أَوْ لَمْ تَيْبَسَا .
৭৪০। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ছিলাম। তিনি দুইটি কবরের নিকট পৌঁছলেন। কবরবাসীদ্বয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তিদ্বয়কে কোন গুরুতর অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। হাঁ, তাদের একজন মানুষের গীবত করতো এবং অপরজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। তিনি তাজা একটি খেজুর শাখা বা দুইটি খেজুর শাখা আনতে বললেন। তিনি তা দুই টুকরা করে ভাংলেন, অতঃপর তা দুই কবরের উপর গেড়ে দিতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ যতক্ষণ এই ডাল দুইটি তাজা থাকবে অথবা শুকিয়ে না যাবে, ততক্ষণ এদের হাল্কা শাস্তি হবে (আ, তা)।
৭৪১- عَنْ قَيْسٍ قَالَ كَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ يَسِيرُ مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَمَرَّ عَلَى بَغَلٍ مَيْت قَدْ انْتَفَخَ فَقَالَ وَاللَّهِ لَأَنْ يَأْكُلَ أَحَدُكُمْ هَذَا حَتَّى يَمْلَا بَطْنَهُ خَيْرٌ مِّنْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ مُسْلِم .
৭৪১। কায়েস (র) বলেন, আমর ইবনুল আস (রা) তার কতক সঙ্গীসহ সফর করছিলেন। তিনি একটি মৃত খচ্চরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যা ফুলে উঠেছিল। তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! তোমাদের কেউ যদি তা পেট পুরে আহারও করে তবুও সেটা তার কোন মুসলমানের গোশত খাওয়ার চেয়ে উত্তম।
📄 মৃত ব্যক্তির গীবত
৩০৭- বাব : মৃত ব্যক্তির গীবত।
৩০৭- অনুচ্ছেদ: মৃত ব্যক্তির গীবত।
৭৪২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ الْأَسْلَمِيُّ فَأَقَرَّ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ بِالزِّنَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ أَمَرَ بِرَجْمِهِ ثُمَّ سَارَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِأَصْحَابِهِ فَمَرَّ عَلَى رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ شَيْئًا ثُمَّ سَارَ حَتَّى مَرَّ عَلَى حِمَارٍ مَيْتٍ قَدِ انْتَفَخَ وَارْتَفَعَتْ رِجْلَاهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَهُمَا انْزِلَا فَكُلَا مِنْ هَذَا الْحِمَارِ فَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَيْتَةٌ قَالَ مَا نِلْتُمَا مِنْ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ هَذَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيَسْبَحُ الْآنَ فِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ.
৭৪২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, মায়েয ইবনে মালেক আল-আসলামী এসে চতুর্থবার (যেনার অপরাধের) স্বীকারোক্তি করলে, নবী (স) তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যার নির্দেশ দেন। পরে রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর কতক সহচরসহ তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তাদের মধ্যকার একজন বললো, এই বিশ্বাসঘাতক কয়েকবারই নবী (স)-এর নিকট এলো এবং প্রতিবারই তিনি তাকে ফিরে যেতে বলেন। পরে তাকে কুকুরের ন্যায় হত্যা করা হলো। নবী (স) তাদের কথায় কোন মন্তব্য না করে নীরব থাকলেন, শেষে একটি মৃত গাধার নিকট এসে উপনীত হলেন, যার পাগুলো উপরের দিকে উত্থিত ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা দু'জনে এটা থেকে খাও। তারা উভয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মরা গাধার গোশত? তিনি বলেনঃ তোমরা দু'জনে এইমাত্র তোমাদের ভাইয়ের যে মানহানি করেছো তা এর তুলনায় অধিক গর্হিত। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! সে এখন বেহেশতের ঝর্ণাসমূহের মধ্যকার একটি ঝর্ণায় আনন্দে সাতার কাটছে (দা, না, বুখারীর তারীখ)।
📄 যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে
৩০৮ - বাবঃ যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে।
৩০৮-অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে।
৭৪৩- عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَأَبِي وَأَنَا شَابٌّ فَأَدْرَكْنَا شَيْخًا فِي الطَّرِيقِ وَعَلَيْهِ بُرْدَةٌ يَمَانِيَّةٌ وَعَلَى غُلَامِهِ بُرْدَةٌ يَمَانِيَّةٌ فَقُلْتُ يَا عَمُّ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الْبُرْدَةَ فَتَلْبَسَهَا وَتُعْطِيَ غُلَامَكَ هَذِهِ الْبُرْدَةَ فَيَكُونَ عَلَيْكَ بُرْدَتَانِ وَعَلَيْهِ بُرْدَةٌ فَالْتَفَتَ إِلَى أَبِي فَقَالَ أَهَذَا ابْنُكَ قَالَ نَعَمْ فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي وَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ إِنِّي أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَالْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ يَا ابْنَ أَخِي لَأَنْ يَذْهَبَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَيَّ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ حَسَنَاتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقُلْتُ يَا أَبَتِ مَنْ هَذَا قَالَ هَذَا أَبُو الْيُسْرِ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو.
৭৪৩। উবাদা ইবনুস সামিত (রা)-এর পৌত্র উবাদা ইবনুল ওলীদ (র) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে বের হলাম। আমি তখন এক যুবা পুরুষ। আমরা এক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করলাম। তার পরনে ছিল একটি কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল এবং তার গোলামের পরনেও ছিল অনুরূপ একখানা কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল। আমি বললাম, চাচাজান! আপনি তো আপনার কম্বলখানা আপনার গোলামকে দিয়ে তার এই চাদরখানাসহ দু'খানা চাদর পরতে পারতেন এবং তার পরনেও থাকতো কম্বল। এমনটি করতে আপনাকে কিসে বাধা দিলো? তিনি আমার পিতার মুখোমুখি হয়ে বলেন, এ বুঝি তোমার পুত্র? তিনি বলেন, হাঁ। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমাকে তার মাধ্যমে বরকত দান করুন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা যা আহার করবে, তাদেরকেও তাই আহার করাবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরাবে। হে ভাতিজা! দুনিয়ার সামগ্রী যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা আখেরাতের সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার চেয়ে আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আমি বললাম, আব্বাজান! ইনি কে? তিনি বলেন, আবুল যুসর কাব ইবনে আমর (রা) (মু,ই)।