📄 যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে
٣٠٢ - بَابُ مَنْ كَرِهَ الدُّعَاءَ بِالْبَلاءِ
৩০২- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে।
৭৩২- عَنْ أَنَسِ قَالَ قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ اللَّهُمْ لَمْ تُعْطِنِي مَالاً فَاتَصَدِّقُ بِهِ فَابْتَلِنِي بِبَلاء يَكُونُ أَوْ قَالَ فِيْهِ أَجْرٌ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ لَا تَطِيقُهُ أَلَا قُلْتَ اللَّهُمَّ أَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
৭৩২। আনাস (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর উপস্থিতিতে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সম্পদ দান করোনি যে, আমি তা দান-খয়রাত করবো। অতএব তুমি আমাকে এমন বিপদে নিক্ষেপ করো যাতে সওয়াব হবে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা তোমার সামর্থ্যের বাইরে। তুমি বলো না কেন, "হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো"।
৭৩৩- عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَ قُلْتُ لِحَمِيدِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ نَعَمْ دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ قَدْ جُهِدَ مِنَ الْمَرَضِ فَكَأَنَّهُ فَرْخٌ مَنْتُوفٌ قَالَ أَدْعُ اللَّهَ بِشَيْءٍ أَوْ سَلَهُ فَجَعَلَ يَقُولُ اللَّهُمَّ مَا أَنْتَ مُعَذِّبِي بِهِ فِي الْآخِرَةِ فَعَجَلَهُ فِي الدُّنْيَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ لَا تَسْتَطِيعُهُ أَوْ لَا تَسْتَطِيعُوا الا قُلْتَ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ وَدَعَا لَهُ فَشَفَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.
৭৩৩। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। সে রোগ যাতনায় পালকছিন্ন মুরগীর বাচ্চাবৎ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহ্র কাছে কিছু প্রার্থনা করো। সে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখেরাতে যে শাস্তি দিবে তা এই দুনিয়াতে দাও। রাসূলুল্লাহ (স) বলোঃ সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না বা তা সহ্য করার সামর্থ্য তোমাদের নাই। তুমি কেন বলো না, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো"। অতঃপর তিনি তার জন্য দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন (মু,তি,আ,তহা)।
📄 যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে
٣٠٣ - بَابُ مَنْ تَعَوَّذَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ
৩০৩- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
৭৩৪- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمْرٍو قَالَ يَقُولُ الرَّجُلُ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ ثُمَّ يَسْكُتُ فَإِذَا قَالَ ذلكَ فَلْيَقُلْ الأَبَلَاءٌ فِيهِ عَلاء.৭৩৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, কোন ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিপদের কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, অতঃপর ক্ষান্ত দেয়। সে উক্তরূপ বললে অবশ্যই যেন আরো বলে, তবে যে বিপদে উন্নতি নিহিত আছে তা ব্যতীত।
৭৩৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاء وَسُوءِ الْقَضَاءِ.৭৩৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কঠিন বিপদ, ধ্বংসের মুখোমুখি হওয়া, শত্রুর বিদ্বেষজাত আনন্দ ও দুর্ভাগ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (বু,মু)।
📄 অসন্তোষের সময় যে ব্যক্তি কারো কথার পুনরাবৃত্তি করে
٣٠٤ - بَابُ مَنْ حَكَى كَلَامَ الرَّجُلِ عِنْدَ الْعِتَابِ.
৩০৪- অনুচ্ছেদঃ অসন্তোষের সময় যে ব্যক্তি কারো কথার পুনরাবৃত্তি করে।
৭৩৬- عَنْ أَبِي نَوْفَلِ بْنِ أَبِي عَقْرَبٍ أَنْ آبَاهُ سَأَلَ النَّبِيِّ ﷺ عَنِ الصُّوْمِ فَقَالَ صُمْ يَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي زِدْنِي قَالَ زِدْنِي زِدْنِي صُمْ يَوْمَيْنِ مِنْ كُلِّ
২৬১ মুসলিম
شَهْرٍ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي زِدْنِي فَإِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَقَالَ إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَأَفْحَمَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَنْ يُزِيدُنِي ثُمَّ قَالَ صُمْ ثَلَاثًا مِّنْ كُلِّ شَهْرٍ.
৭৩৬। আবু নাওফাল ইবনে আবু আকরাব (র) থেকে বর্ণিত। তার পিতা নবী (স)-কে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে একদিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলেন: আমাকে বাড়িয়ে দিন, আমাকে বাড়িয়ে দিন। যাও, মাসে দুই দিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বলেন: আমার শক্তি আছে, আমার শক্তি আছে। তিনি আমাকে চুপ করিয়ে দিলেন, শেষে ভাবলাম যে, তিনি বুঝি আমাকে আর অধিক রোযা রাখার অনুমতি দিবেন না। অতঃপর তিনি বলেন: তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখো (না)।
📄 (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)
٣٠٥ - بَابٌ
৩০৫-অনুচ্ছেদ: (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)।
৭৩৭- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَارْتَفَعَتْ رِيحٌ خَبِيثَةٌ مُنْتِنَةٌ فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَا هُذِهِ هُذِهِ رِيْحُ الَّذِينَ يَغْتَابُونَ الْمُؤْمِنِينَ.
৭৩৭। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে ছিলাম। তখন দুর্গন্ধময় দুষিত বায়ু প্রবাহিত হলে তিনি বলেনঃ তোমরা জানো, তা কি? এটা হলো মুমিন লোকদের গীবতকারীদের বায়ু (আ)।
৭৩৮- عَنْ جَابِرٍ قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ مُنْتِنَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ إِنْ نَاساً مِّنَ الْمُنَافِقِينَ اغْتَابُوا أَنَاسًا مِّنَ الْمُسْلِمِينَ فَبَعَثَتْ هُذِهِ الرِّيحُ لِذَلِكَ.
৭৩৮। জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর যুগে দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু উত্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: মোনাফিকদের মধ্যে কতক লোক মুমিনদের মধ্যকার কতক লোকের গীবত করেছে। তাই এই বায়ু প্রবাহিত হয়েছে (আ, আন)।
৭৩৯- عَنِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ يَقُولُ مَنْ أُعْتِيْبَ عِنْدَهُ مَؤْمِنٌ فَنَصَرَهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا خَيْرًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ أُعْتِيْبَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ شَراً وَمَا التَقَمَ أَحَدٌ لُقْمَةً شَرَّاً مِنْ اعْتِيَابِ مُؤْمِنٍ إِنْ قَالَ فِيْهِ مَا يَعْلَمُ فَقَدِ اعْتَابَهُ وَإِنْ قَالَ فِيْهِ بِمَا لَا يَعْلَمُ فَقَدَ بَهَتُهُ.
৭৩৯। ইবনে উম্মে আব্দ (রা) বলেন, কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার অনুপস্থিত মুমিনের সাহায্য করলে আল্লাহ তাকে এজন্য দুনিয়া ও আখেরাতে
২৬২ আল-আদাবুল মুফরাদ
পুরস্কৃত করবেন। কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার সাহায্য না করলে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর মন্দ ফল (শাস্তি) ভোগ করাবেন। মুমিন ব্যক্তির গীবতের চেয়ে মন্দ গ্রাস আর কেউ গ্রহণ করে না। সে যদি তার সম্পর্কে তার জ্ঞাত কথাই বলে তবে সে তার গীবতই করলো। আর সে যদি এমন কথা বলে যা সে জ্ঞাত নয়, তবে সে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটালো।