📄 যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে
٣٠١ - بَابُ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْعَافِيَةَ.
৩০১- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
৭২৯- عَنْ أَوْسَط ابْنِ اسْمَاعِيلَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ عَامَ أَوَّل مَقَامِي هَذَا ثُمَّ بَكَى أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبَرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَهُمَا في النَّارِ وَسَلُوا اللَّهَ المُعَافَاةَ فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرٌ مِّنَ الْمُعَافَاةِ وَلَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا.
৭২৯। আওসাত ইবনে ইসমাঈল (র) বলেন, আমি আবু বাক্স সিদ্দীক (রা)-কে নবী (স)-এর ইনতিকালের পর বলতে শুনেছি, নবী (স) হিজরতের প্রথম বছর আমার এই স্থানে দাঁড়ালেন। এ কথা বলে আবু বাক্স (রা) কাঁদলেন, অতঃপর বলেন, তোমরা অবশ্যই সত্যকে আকড়ে থাকবে। কেননা তা পুণ্যের সাথী এবং এই দু'টি জান্নাতে যাবে। তোমরা অবশ্যই মিথ্যা পরিহার করবে। কেননা তা পাপের সাথী এবং এই দু'টি দোযখে যাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা কারো। কেননা নিরাপত্তা হচ্ছে ঈমানের পর সর্বাধিক কল্যাণবাহী। তোমরা সম্পর্কচ্ছেদ করো না, একে অপরের পিছনে দুর্নাম করো না, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (তি,ই, আ,তহা, হি)।
৭৩০- عَنْ مُعَاذٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ تَمَامَ النَّعْمَةِ قَالَ هَلْ تَدْرِي مَا تَمَامُ النَّعْمَةِ قَالَ تَمَامُ النَّعْمَةِ دُخُولُ الْجَنَّةِ وَالْفَوْزُ مِنَ النَّارِ ثُمَّ مَرَّ
২৫৯
عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَبْرَ قَالَ قَدْ سَأَلْتَ رَبِّكَ الْبَلاءَ فَسَلَهُ الْعَافِيَةَ وَمَرَّ عَلَي رَجُلٍ يَقُولُ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ قَالَ سَلْ.
৭৩০। মুআয (রা) বলেন, নবী (স) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন বলছিল, “হে আল্লাহ! আমি তোমার সমস্ত নিয়ামত কামনা করি"। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি জানো, সমস্ত নিয়ামত কি? সে বললো, পূর্ণ নিয়ামত হচ্ছে বেহেশতে প্রবেশ লাভ এবং দোযখ থেকে মুক্তি লাভ। অতঃপর তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিলো, "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধৈর্য প্রার্থনা করি"। তিনি বলেনঃ তুমি আমার প্রভুর কাছে বিপদ কামনা করলে। অতএব তুমি তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিল, "হে গৌরব ও মহত্বের অধিকারী"। তিনি বলেনঃ তুমি এখনই তাঁর কাছে কিছু প্রার্থনা করো (তি,আ)।
৭৩১- عَنِ الْعَباسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللهَ بِهِ فَقَالَ يَا عَبَّاسُ سَلِ اللهَ العَافِيَةَ ثُمَّ مَكَتْتُ قَلِيلاً ثُمَّ جِئْتُ فَقُلْتُ عَلَّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللهَ بِهِ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ .
৭৩১। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বলেনঃ আপনি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন। কিছু দিন গত হওয়ার পর আমি আবার গিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমাকে বলেন: হে আব্বাস, হে আল্লাহ্র রাসূলের চাচা! আল্লাহ্ কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন (তি,তা)।
📄 যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে
٣٠٢ - بَابُ مَنْ كَرِهَ الدُّعَاءَ بِالْبَلاءِ
৩০২- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে।
৭৩২- عَنْ أَنَسِ قَالَ قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ اللَّهُمْ لَمْ تُعْطِنِي مَالاً فَاتَصَدِّقُ بِهِ فَابْتَلِنِي بِبَلاء يَكُونُ أَوْ قَالَ فِيْهِ أَجْرٌ فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ لَا تَطِيقُهُ أَلَا قُلْتَ اللَّهُمَّ أَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
৭৩২। আনাস (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর উপস্থিতিতে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সম্পদ দান করোনি যে, আমি তা দান-খয়রাত করবো। অতএব তুমি আমাকে এমন বিপদে নিক্ষেপ করো যাতে সওয়াব হবে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা তোমার সামর্থ্যের বাইরে। তুমি বলো না কেন, "হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো"।
৭৩৩- عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلَ قُلْتُ لِحَمِيدِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ نَعَمْ دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ قَدْ جُهِدَ مِنَ الْمَرَضِ فَكَأَنَّهُ فَرْخٌ مَنْتُوفٌ قَالَ أَدْعُ اللَّهَ بِشَيْءٍ أَوْ سَلَهُ فَجَعَلَ يَقُولُ اللَّهُمَّ مَا أَنْتَ مُعَذِّبِي بِهِ فِي الْآخِرَةِ فَعَجَلَهُ فِي الدُّنْيَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ لَا تَسْتَطِيعُهُ أَوْ لَا تَسْتَطِيعُوا الا قُلْتَ اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ وَدَعَا لَهُ فَشَفَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.
৭৩৩। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। সে রোগ যাতনায় পালকছিন্ন মুরগীর বাচ্চাবৎ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহ্র কাছে কিছু প্রার্থনা করো। সে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখেরাতে যে শাস্তি দিবে তা এই দুনিয়াতে দাও। রাসূলুল্লাহ (স) বলোঃ সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না বা তা সহ্য করার সামর্থ্য তোমাদের নাই। তুমি কেন বলো না, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো"। অতঃপর তিনি তার জন্য দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন (মু,তি,আ,তহা)।
📄 যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে
٣٠٣ - بَابُ مَنْ تَعَوَّذَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ
৩০৩- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
৭৩৪- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمْرٍو قَالَ يَقُولُ الرَّجُلُ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ ثُمَّ يَسْكُتُ فَإِذَا قَالَ ذلكَ فَلْيَقُلْ الأَبَلَاءٌ فِيهِ عَلاء.৭৩৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, কোন ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিপদের কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, অতঃপর ক্ষান্ত দেয়। সে উক্তরূপ বললে অবশ্যই যেন আরো বলে, তবে যে বিপদে উন্নতি নিহিত আছে তা ব্যতীত।
৭৩৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاء وَسُوءِ الْقَضَاءِ.৭৩৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) কঠিন বিপদ, ধ্বংসের মুখোমুখি হওয়া, শত্রুর বিদ্বেষজাত আনন্দ ও দুর্ভাগ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন (বু,মু)।
📄 অসন্তোষের সময় যে ব্যক্তি কারো কথার পুনরাবৃত্তি করে
٣٠٤ - بَابُ مَنْ حَكَى كَلَامَ الرَّجُلِ عِنْدَ الْعِتَابِ.
৩০৪- অনুচ্ছেদঃ অসন্তোষের সময় যে ব্যক্তি কারো কথার পুনরাবৃত্তি করে।
৭৩৬- عَنْ أَبِي نَوْفَلِ بْنِ أَبِي عَقْرَبٍ أَنْ آبَاهُ سَأَلَ النَّبِيِّ ﷺ عَنِ الصُّوْمِ فَقَالَ صُمْ يَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي زِدْنِي قَالَ زِدْنِي زِدْنِي صُمْ يَوْمَيْنِ مِنْ كُلِّ
২৬১ মুসলিম
شَهْرٍ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي زِدْنِي فَإِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَقَالَ إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا فَأَفْحَمَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَنْ يُزِيدُنِي ثُمَّ قَالَ صُمْ ثَلَاثًا مِّنْ كُلِّ شَهْرٍ.
৭৩৬। আবু নাওফাল ইবনে আবু আকরাব (র) থেকে বর্ণিত। তার পিতা নবী (স)-কে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে একদিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলেন: আমাকে বাড়িয়ে দিন, আমাকে বাড়িয়ে দিন। যাও, মাসে দুই দিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বলেন: আমার শক্তি আছে, আমার শক্তি আছে। তিনি আমাকে চুপ করিয়ে দিলেন, শেষে ভাবলাম যে, তিনি বুঝি আমাকে আর অধিক রোযা রাখার অনুমতি দিবেন না। অতঃপর তিনি বলেন: তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখো (না)।