📄 তোমরা বাতাসকে গালি দিও না
২৪৮ - بابُ لَا تَسُبُّوا الرِّيْحَ
২৯৮- অনুচ্ছেদ : তোমরা বাতাসকে গালি দিও না।
৭২৪- عَنْ أَبَيٍّ قَالَ لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ خَيْرَ هُذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرَ مَا فِيْهَا وَخَيْرَ مَا أَرْسَلْتَ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيْهَا وَشَرِّمَا أَرْسَلْتَ بِهِ.
৭২৪। উবাই ইবনে কাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা বায়ুকে গালি দিও না। তোমরা তাতে অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পেলে এই দোয়া পড়বে, “হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে কামনা করি এ বায়ুর কল্যাণ, এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং সে যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছে তার কল্যাণ। আমরা তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এ বায়ুর অনিষ্ট থেকে, এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি থেকে এবং সে যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে” (তি, হা)।
৭২৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الرِّيْحُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ والعَذَابِ فَلَا تَسُبُّوهَا وَلَكِنْ سَلُوا اللَّهَ مِنْ خَيْرِهَا وَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا .
৭২৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ বায়ু হলো আল্লাহ্র রহমতের অংশ। তা রহমাত ও শান্তি বয়ে আনে। অতএব তোমরা তাকে গালি দিও না। বরং তোমরা আল্লাহ্র কাছে তার মধ্যে নিহিত কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তার ক্ষতি থেকে আল্লাহ্বর কাছে আশ্রয় চাও (দা, ই, না, হা, হি, আন)।
📄 বজ্রধ্বনির সময় দোয়া করা
۲۹۹ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الصَّوَاعِقِ .
২৯৯- অনুচ্ছেদঃ বজ্রধ্বনির সময় দোয়া করা।
৭২৬- عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ والصواعق قَالَ اللَّهُمَّ لَا تَقْتُلَنَا بِصَعِقِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ.
৭২৬। সালেম ইবনে আবদুল্লাহ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার বজ্রপাত দ্বারা আমাদের হত্যা করো না, তোমার আযাব দ্বারা আমাদেরকে ধ্বংস করো না এবং তার আগেই আমাদের ক্ষমা করে দাও” (তি,না, আ, হা, ইলা)।
📄 কেউ বজ্রধ্বনি শুনলে
٣٠٠ - بَابُ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ
৩০০- অনুচ্ছেদঃ কেউ বজ্রধ্বনি শুনলে।
৭২৭- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كَانَ إِذَا سَمِعَ صَوْتَ الرَّعْدِ قَالَ سُبْحَانَ الَّذِي سَبَّحَتْ لَهُ قَالَ إِنَّ الرَّعْدَ مَلَكُ يُنْعِقُ بِالْغَيْثِ كَمَا يَنْعِقُ الرَّاعِي بِغَنَمِهِ.
৭২৭। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বজ্রধ্বনি শুনতে পেলে বলতেনঃ "মহাপবিত্র সেই সত্তা বজ্রধ্বনি যাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করলো"। তিনি বলেন, বজ্রধ্বনিকারী হলেন একজন ফেরেশতা। তিনি মেঘমালাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যান, যেমন রাখাল তার মেষপালকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।
৭২৮- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ تَرَكَ الْحَدِيثَ وَقَالَ سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ ثُمَّ يَقُولُ إِنَّ هَذَا لَوَعِيدٌ شَدِيدٌ لِأَهْلِ الْأَرْضِ .
৭২৮। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। বজ্রধ্বনি শুনতে পেলে আলাপ-আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে বলতেনঃ "মহাপবিত্র সেই সত্তা বজ্রধ্বনি যাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাকুল যার ভয়ে শংকিত" (সূরা রাদ: ১৩)। অতঃপর তিনি বলতেন, এটা হলো জগতবাসীর জন্য চরম ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি (মা)।
📄 যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে
٣٠١ - بَابُ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْعَافِيَةَ.
৩০১- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
৭২৯- عَنْ أَوْسَط ابْنِ اسْمَاعِيلَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ عَامَ أَوَّل مَقَامِي هَذَا ثُمَّ بَكَى أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبَرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَهُمَا في النَّارِ وَسَلُوا اللَّهَ المُعَافَاةَ فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرٌ مِّنَ الْمُعَافَاةِ وَلَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا.
৭২৯। আওসাত ইবনে ইসমাঈল (র) বলেন, আমি আবু বাক্স সিদ্দীক (রা)-কে নবী (স)-এর ইনতিকালের পর বলতে শুনেছি, নবী (স) হিজরতের প্রথম বছর আমার এই স্থানে দাঁড়ালেন। এ কথা বলে আবু বাক্স (রা) কাঁদলেন, অতঃপর বলেন, তোমরা অবশ্যই সত্যকে আকড়ে থাকবে। কেননা তা পুণ্যের সাথী এবং এই দু'টি জান্নাতে যাবে। তোমরা অবশ্যই মিথ্যা পরিহার করবে। কেননা তা পাপের সাথী এবং এই দু'টি দোযখে যাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা কারো। কেননা নিরাপত্তা হচ্ছে ঈমানের পর সর্বাধিক কল্যাণবাহী। তোমরা সম্পর্কচ্ছেদ করো না, একে অপরের পিছনে দুর্নাম করো না, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (তি,ই, আ,তহা, হি)।
৭৩০- عَنْ مُعَاذٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ تَمَامَ النَّعْمَةِ قَالَ هَلْ تَدْرِي مَا تَمَامُ النَّعْمَةِ قَالَ تَمَامُ النَّعْمَةِ دُخُولُ الْجَنَّةِ وَالْفَوْزُ مِنَ النَّارِ ثُمَّ مَرَّ
২৫৯
عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَبْرَ قَالَ قَدْ سَأَلْتَ رَبِّكَ الْبَلاءَ فَسَلَهُ الْعَافِيَةَ وَمَرَّ عَلَي رَجُلٍ يَقُولُ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ قَالَ سَلْ.
৭৩০। মুআয (রা) বলেন, নবী (স) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন বলছিল, “হে আল্লাহ! আমি তোমার সমস্ত নিয়ামত কামনা করি"। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি জানো, সমস্ত নিয়ামত কি? সে বললো, পূর্ণ নিয়ামত হচ্ছে বেহেশতে প্রবেশ লাভ এবং দোযখ থেকে মুক্তি লাভ। অতঃপর তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিলো, "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধৈর্য প্রার্থনা করি"। তিনি বলেনঃ তুমি আমার প্রভুর কাছে বিপদ কামনা করলে। অতএব তুমি তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিল, "হে গৌরব ও মহত্বের অধিকারী"। তিনি বলেনঃ তুমি এখনই তাঁর কাছে কিছু প্রার্থনা করো (তি,আ)।
৭৩১- عَنِ الْعَباسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللهَ بِهِ فَقَالَ يَا عَبَّاسُ سَلِ اللهَ العَافِيَةَ ثُمَّ مَكَتْتُ قَلِيلاً ثُمَّ جِئْتُ فَقُلْتُ عَلَّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللهَ بِهِ يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ .
৭৩১। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বলেনঃ আপনি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন। কিছু দিন গত হওয়ার পর আমি আবার গিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহ্র নিকট প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমাকে বলেন: হে আব্বাস, হে আল্লাহ্র রাসূলের চাচা! আল্লাহ্ কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন (তি,তা)।