📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বিপদাপদের সময় দোয়া করা

📄 বিপদাপদের সময় দোয়া করা


۲۹۲ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْكُرْبِ
২৯২- অনুচ্ছেদ: বিপদাপদের সময় দোয়া করা।
৭০৫- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو عِنْدَ الكُرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.
৭০৫। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) কঠিন বিপদের সময় দোয়া করতেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদে রব্বুল আরশিল আযীম” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের রব এবং মহান আরশের মালিক") (বু, মু, তি, ই, আ, আন)।
৭০৬- حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُ قَالَ لأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي أَسْمَعُكَ تَدْعُو كُل غَدَاةِ اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِيَّ اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِيْنَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلَاثًا وَتَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْر لا اله الا أَنْتَ تُعِيدُهَا ثَلاثًا حَيْنَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلَاثًا فَقَالَ نَعَمْ يَا بُنَيَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ بِهِنَّ
২৫১ মুসলিম
وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ اسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ دَعْوَاتُ الْمَكْرُوبِ اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو وَلَا تَكِلْنِي إِلَيَّ نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
৭০৬। আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (র) তার পিতাকে বলেন, হে পিতা! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে এই দোয়া করতে শুনিঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার শরীর নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার কান নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার চোখ নিরাপদ রাখো। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই"। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার তা পড়েন। আপনি আরো বলেন, "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর ও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই"। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে এগুলো তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার পড়েন। তিনি বলেন, হাঁ, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই দোয়াগুলি বলতে শুনেছি এবং আমি তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করতে ভালোবাসি। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ বিপদগ্রস্ত লোকের দোয়া হলোঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমাতের আশা করি। অতএব তুমি মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর সোপর্দ করো না এবং আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই" (দা,আ,বা,তা,না)।
৭০৭- عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ عِنْدَ الْكُرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ العَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ اللَّهُمَّ اصْرِفْ شَرَّهُ.
৭০৭। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) বিপদকালে বলতেনঃ "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রভু, পৃথিবীর প্রভু এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক। হে আল্লাহ! তুমি এর অনিষ্ট দূর করে দাও” (বু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 ইস্তিখারার দোয়া

📄 ইস্তিখারার দোয়া


۲۹۳ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْاسْتِخَارَةِ
২৯৩- অনুচ্ছেদ: ইস্তিখারার দোয়া।
৭০৮- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ الله يُعَلِّمُنَا الْإِسْتِخَارَةَ فِي الْأُمُورِ كَالسُّورَةِ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا هَمَّ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكَعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَاسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لَّيْ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجَلِ أَمْرِي وَأَجَلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لَيْ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِل أَمْرِي وَاجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَضْنِي وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ.
৭০৮। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) আমাদেরকে যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, তেমনি সকল ব্যাপারে আমাদেরকে ইস্তিখারা করা শিক্ষা দিতেন। কেউ কোন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সে যেন দুই রাআত নামায পড়ে এবং তারপর বলেঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বিইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফারদু লী। ওয়াইন কুন্তা তালামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাস্রেফহু আন্নী ওয়াস্রিফনী আনহু ওয়াক্‌ব্দুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা সুম্মা রাদ্দিনী বিহী" (হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার শক্তির সাহায্যে শক্তি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা তুমিই ক্ষমতাবান এবং আমি অক্ষম। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে এবং আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের জন্য কল্যাণকর হলে তুমি তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও। আর যদি তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তুমি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখো। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্দ্ধারণ করো এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দাও"। আর (আমার এ কাজ এর স্থলে) নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে (বু)।
৭০৯- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مَسْجِدِ الْفَتْحِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ يَوْمَ الثلاثاء وَيَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ فَاسْتُجِيبَ لَهُ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ مِنْ يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ. قَالَ جَابِرٌ وَلَمْ يَنْزِلُ بِي أَمْرٌ مُهِم غَائِظٌ الا تَوَخَّيْتُ تِلْكَ السَّاعَةِ فَدَعَوْتُ اللهَ فِيهِ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ الأَ عَرَفْتُ الْإِجَابَةَ.
৭০৯। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) এই মসজিদে অর্থাৎ মসজিদুল ফাতহ (বিজয়ের মসজিদ)-এ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার দোয়া করলেন এবং বুধবার নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দোয়া কবুল হলো। জাবের (রা) বলেন, যখনই আমার কোন গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ উপস্থিত হয়েছে তখনই আমি উক্ত সময়ে প্রার্থনার ইচ্ছা করেছি এবং বুধবার এই সময়ে দোয়া করেছি এবং তা যে কবুল হয়েছে তাও বুঝতে পেরেছি (আ)।
৭১০- عَنْ أَنَسٍ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَدَعَا رَجُلٌ فَقَالَ يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ إِنِّي أَسْأَلُكَ فَقَالَ أَتَدْرُونَ بَمَا دَعَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ دَعَا اللَّهَ بَاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ.
৭১০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। আমি নবী (স)-এর সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার দোয়ায় বললো, "হে আসমানসমূহের সৃষ্টিকর্তা, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি তোমার
২৫৩ মুসলিম
কাছে প্রার্থনা করছি"। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: সে কোন্ নামে (আল্লাহকে ডেকে) দোয়া করছে তা কি তোমরা জানো? সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সে আল্লাহর কাছে তাঁর এমন নামের উসীলায় দোয়া করেছে যে, সেই নামে কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন (দা,তি,আ)।
৭১১- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرِ لِلنَّبِيِّ ﷺ عَلَّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْعَفُورُ الرَّحِيمُ .
৭১১। আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-কে বলেন, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযে পড়তে পারি। নবী (স) বলেনঃ তুমি এ দোয়া পড়বেঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ফাল্ফির লী মিন ইনদিকা মাগফিরাতান ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম" (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর অনেক যুলুম করেছি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ করে দাও এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী অতি দয়ালু) (বু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে

📄 কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে


٢٩٤ - بَابُ إِذَا خَافَ السُّلْطَانَ
২৯৪- অনুচ্ছেদঃ কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে।
৭১২- قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ إِذَا كَانَ عَلَى أَحَدِكُمْ إِمَامٌ يَخَافُ تَغْطَرَسَهُ أَوْظُلْمَهُ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ العَرْشِ الْعَظِيمِ كُنْ لِي جَارًا مِّنْ فُلَانِ مِنْ فُلانٍ وَاحْزَا بِهِ مِنْ خَلَائِقِكَ أَنْ يُفْرُطَ عَلَى أَحَدٌ مِّنْهُمْ أَوْ يَطْغَى عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ ولا اله الا انت .
৭১২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, তোমাদের কেউ নিজের উপর তাদের শাসকের স্বৈরাচার বা অত্যাচারের আশংকা করলে সে যেন বলেঃ "হে আল্লাহ, সাত আসমানের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতি! তুমি আমার প্রতিবেশী হও তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যকার অমুকের পুত্র অমুকের বিরুদ্ধে এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাতে তাদের কেউ আমার প্রতি বাড়াবাড়ি বা অবিচার করতে না পারে। তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার প্রশংসা মহিমামণ্ডিত এবং তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই" (তা, বা)।
৭১৩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِذَا أَتَيْتَ سُلْطَانًا مُهِيبًا تَخَافُ أَنْ يَسْطُوَ بِكَ فَقُلْ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعًا اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَاحْذَرُ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لَا إِلهَ إِلا هُوَ الْمُمْسِكُ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ أَنْ يَقَعْنَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلَانٍ
২৫৪ আল-আদাবুল মুফরাদ
وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ اللَّهُمْ كُنْ لَّيْ جَارًا مِّنْ شَرِّهِمْ جَلَّ ثَنَاؤُكَ وَعَزَّ جَارَكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَلَا اللَّهَ غَيْرُكَ ثَلَاثَ مَرَّات.
৭১৩। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, তুমি যদি স্বৈরাচারী শাসকের নিকট আসো যার কঠোরতায় তুমি শংকিত, তবে তুমি তিনবার বলবেঃ "আল্লাহ মহান, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। আমি যার ভয়ে ভীত ও শংকিত আল্লাহ তার চেয়েও অধিক সম্মানিত। আমি আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে তার নির্দেশ ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে সুস্থির রেখেছেন, তাঁর অমুক বান্দার, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তার বাহিনী, তার অনুসারী দলবল থেকে। হে আল্লাহ! তাদের অনিষ্টের মোকাবিলায় তুমি আমার প্রতিবেশী হও। তোমার প্রশংসা মহিমান্বিত, তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার নাম বরকতপূর্ণ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই" (তা, শা, খু)।
৭১৪- عَنِ ابْنِ عَبَّاس قَالَ مَنْ نَزَلَ بِهِ هَمَّ أَوْ غَمَّ أَوْ كَرْبُ أَوْ خَافَ مِنْ سُلْطَانٍ فَدَعَا بِهَؤُلَاءِ اسْتُجِيبَ لَهُ أَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ العَظيمِ وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ رَبِّ السَّمَواتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعِ وَمَا فِيهِنَّ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ثُمَّ سَلِ اللَّهَ حَاجَتَكَ .
৭১৪। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, কোন ব্যক্তি দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা বিপদে পতিত হলে অথবা শাসকের অত্যাচারের ভয়ে শংকিত হলে সে যেন নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হবেঃ "আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি সাত আসমান ও মহান আরশের প্রভু। আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমিই সাত আসমান ও মহিমান্বিত আরশের প্রভু! আমি তেমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং সাত আসমান, সাত যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তুমিই সেগুলোর রব। তুমিই সর্বশক্তিমান"। অতঃপর তুমি আল্লাহর কাছে তোমার প্রয়োজন পেশ করো।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 দোয়াকারীর জন্য যে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চিত করা হয়

📄 দোয়াকারীর জন্য যে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চিত করা হয়


২৯৫ - بَابَ مَا يَدَخَّرُ لِلدَّاعِي مِنَ الْأَجْرِ وَالثَّوَابِ
২৯৫- অনুচ্ছেদ: দোয়াকারীর জন্য যে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চিত করা হয়।
৭১৫- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو لَيْسَ بِاثْمٍ وَلَا بِقَطِيعَةِ رَحِمِ إِلا أَعْطَاهُ إِحْدَى ثَلَاثَ إِمَّا أَنْ تُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ وَإِمَّا أَنْ تُدَخِّرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَإِمَّا أَنْ يَدْفَعَ عَنْهُ مِنَ السُّوْءِ مِثْلِهَا قَالَ إِذَا يَكْثُرُ قَالَ اللَّهُ أَكْثَرُ.
৭১৫। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে কোন মুসলমান ব্যক্তি পাপাচার বা আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া ব্যতীত যে কোন দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের যে কোন একটি দান করেনঃ (১) হয় দ্রুত তার দোয়া কবুল করেন অথবা (২) তা তার পরকালের জন্য সঞ্চিত রাখেন অথবা (৩) অনুরূপ কোন ক্ষতি তার থেকে অপসারিত করেন। এক ব্যক্তি বললো, তাহলে সে তো অধিক পরিমাণে দোয়া করতে পারে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তার চেয়েও অধিক কবুলকারী (তি, আ, হা, তহা)।
৭১৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يَنْصُبُ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ يَسْأَلُ مَسْأَلَة إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهَا إِمَّا عَجَلَهَا لَهُ فِي الدُّنْيَا وَأَمَّا ذَخَرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مَا لَمْ يَعْجَلْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا عِجْلَتُهُ قَالَ يَقُولُ دَعَوْتُ وَدَعَوْتُ وَلَا أَرَاهُ يُسْتَجَابُ لِي.
৭১৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: মুমিন ব্যক্তি মাত্রই আল্লাহ্র দিকে মুখ করে তার কাছে কিছু প্রার্থনা করলে এবং (ফল লাভে) তাড়াহুড়া না করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। হয় তা তিনি তাকে দুনিয়াতে অবিলম্বে দান করেন অথবা তার আখেরাতের জীবনের জন্য তা সঞ্চিত রাখেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার তাড়াহুড়া কিরূপ? তিনি বলেনঃ সে বলে, আমি তো দোয়ার পর দোয়া করতে থাকলাম, কিন্তু তা কবুল হতে দেখছি না (বু, মু, আ, হা, হি, আন)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00