📄 মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা নিষেধ
٦٩ - بَابَ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْمَوْتِ.
২৯০- অনুচ্ছেদঃ মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা নিষেধ।
৬৯২- حَدَّثَنِي قَيْسٌ قَالَ أَتَيْتُ خَبَّابًا وَقَدْ اكْتَوَى سَبْعًا قَالَ لَوْلَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ.
৬৯২। কায়েস (র) বলেন, আমি অসুস্থ খাব্বাব (রা)-এর নিকট গেলাম। তিনি তার শরীরে গরম লোহার সাতটি সেঁক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যদি মৃত্যু কামনা করতে আমাদেরকে নিষেধ না করতেন, তবে আমি অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম (বু, মু)।
📄 মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ
۲۹۱ - بَابَ دَعْوَاتِ النَّبِيِّ ﷺ
২৯১- অনুচ্ছেদঃ মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৩- عَنْ أَبِي مُوسى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَ كَلَهُ وَعَمَدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي وَكُلَّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
৬৯৩। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) এই দোয়া পড়তেনঃ "হে প্রভু! আমার গুনাহ, অজ্ঞতা, আমার প্রতিটি কাজে আমার বাড়াবাড়ি এবং আমার চাইতে তুমিই আমার যে অপরাধসমূহ সম্পর্কে অধিক অবগত সেগুলি ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! অছমার প্রতিটি গুনাহ, ইচ্ছাকৃত গুনাহ, অজ্ঞতা প্রসূত গুনাহ, ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সার্বিক গুনাহ ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমার পূর্বাপর গোপন-প্রকাশ্য সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমিই অগ্রসরকারী, তুমিই বিলম্বকারী এবং তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান" (বু,মু,শা)।
৬৯৪- عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجَدِّي وَخَطَايَ وَعَمَدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي .
৬৯৪। আবু মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো আমার গুনাহসমূহ, আমার মূর্খতা, আমার কাজকর্মে আমার বাড়াবাড়ি এবং
২৪৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
তুমি আমার যেসব অপরাধ সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অবগত। হে আল্লাহ! আমায় ক্ষমা করো। আমার ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ, বাস্তবে কৃত গুনাহ, আমার সকল গুনাহ, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও" (দা, না, আ,খু, হা, হি)।
৬৯৫- عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ أَخَذَ بِيَدِي النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا مُعَادُ قُلْتُ لَبَّيْكَ قَالَ إِنِّي أُحِبُّكَ قُلْتُ وَأَنَا وَاللَّهِ أُحِبُّكَ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تَقُولُهَا فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاتِكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.
৬৯৫। মুআয ইবনে জাবাল (রা) বলেন, নবী (স) আমার হাত ধরে বললেনঃ হে মুআয! আমি বললাম, আমি আপনার নিকট হাযির। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে কয়েকটি কলেমা শিখিয়ে দিবো না যা তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযের পর বলবে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য করো তোমার যিকির করতে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে এবং উত্তমরূপে তোমার ইবাদত করতে" (দা,না,তা)।
৬৯৬- عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺلهِ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْداً كثيرًا طيبًا مباركًا فيه فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ صَاحِبُ الْكَلِمَةِ فَسَكَتَ وَرَأَي أَنَّهُ هَجَمَ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ عَلَى شَيْءٍ كَرِهَهُ فَقَالَ مَنْ هُوَ فَلَمْ يَقُلْ إِلَّا صَوَابًا فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا أَرْجُوْ بِهَا الْخَيْرَ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رَأَيْتُ ثَلاثَةَ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَ أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ .
৬৯৬। আবু আইউব আনসারী (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর সামনে বললো, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর পর্যাপ্ত প্রশংসা পবিত্রতাপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ"। নবী (স) বলেন: এই শব্দগুলি কার? সে নীরব থাকলো। সে মনে করলো যে, সে নবী (স)-এর সামনে তাঁর অমনোপূত কথা বলেছে। তিনি পুনরায় বলেন: কে সে? সে তো যথার্থই বলেছে। এক ব্যক্তি বললো, আমি, এর দ্বারা আমি কল্যাণই আশা করছি। তিনি বলেন: সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি লক্ষ্য করেছি যে, তেরোজন ফেরেশতা এই শব্দগুলো মহামহিম আল্লাহ্র দরবারে পৌছাবার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করছে।
৬৯৭- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ اللهِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُدْخُلَ الْخَلَاءَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.
৬৯৭। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) পায়খানায় প্রবেশের সময় বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিকৃষ্ট (নারী ও পুরুষ) জিনের (অনিষ্ট) থেকে 'আশ্রয় প্রার্থনা করছি" (বু,মু,দা, তি,না,ই)।
৬৯৮- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ غُفْرَانَكَ .
৬৯৮। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) পায়খানা থেকে বের হবার সময় বলতেনঃ "হে আল্লাহ! তোমার নিকট ক্ষমা চাই" (দা, না, ই,আ, দার, খু, হি)।
৬৯৯- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعَلِّمُنَا هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فتنة المَسِيحِ الدَّجَالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ.
৬৯৯। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) যেভাবে আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন তদ্রূপ (গুরুত্ব সহকারে) আমাদেরকে এই দোয়াও শিক্ষা দিতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের আযাব থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি মসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের ভয়াবহ সংকট থেকে তোমার আশ্রয় চাই" (মু, তি, না, ই,মা,আ)।
৭০০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَتِي حَاجَتَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ فَأَتَي القرْبةَ فَأَطلَقَ شَنَاقَهَا ثُمَّ تَوَضَّا وُضُوء بَيْنَ الْوُضُوعَيْنِ وَلَمْ يُكْثِرُ وَقَدْ أَبْلَغَ فَصَلِّي فَقُمْتُ فَتَمَطَيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يُرِي أَنِّي كُنْتُ اتَّقِيْهِ لَهُ فَتَوَضَّاتُ فَقَامَ فَصَلِّي فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَتَامَّتْ صَلَاتُهُ مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأْذَنَهُ بِلاَلُ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأَ وَكَانَ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُوراً وَفِي سَمْعِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَّعَنْ يَسَارِي نُورًا وَفُوقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَأَعَظَمْ لِي نُورًا قَالَ كَرِيبٌ وَسَبْعًا فِي التَّابُوتِ فَلَقِيْتُ رَجُلاً مِّنْ وَلَدِ الْعَبَّاسِ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ فَذَكَرَ عَصَبِي وَلَحْمِي وَدَمِيْ وَشَعْرِي وَبَشَرِي وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ.
৭০০। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা ময়মূনা (রা)-র ঘরে রাত কাটালাম। নবী (স) উঠে নিজের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করেন, তারপর নিজের হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পুনরায় উঠে তিনি পানির মশকের কাছে গিয়ে তার বন্ধন খুলেন। তারপর মোটামুটি উযু করলেন, তবে অতিরিক্ত কিছু না করলেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলেন। আমি জেগে গা মোড়ামুড়ি দিলাম। কারণ আমি যে তাঁর কার্যক্রম দেখেছি তা তিনি টের পান এটা আমি পছন্দ করিনি। এরপর আমি উযু করলাম। তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে
২৪৮ আল-আদাবুল মুফরাদ
ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে আনলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায তেরো রাকআত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং নাক ডাকতে লাগলেন। তিনি ঘুমালে তাঁর নাক ডাকতো। বিলাল (রা) এসে নামাযের কথা বললেন। তিনি উঠে পুনরায় উযু না করেই ফজরের (সুন্নাত) নামায পড়লেন। (এ রাতে) তার দোয়ার মধ্যে ছিলঃ "হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর পয়দা করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার ডান দিকে নূর, আমার বাম দিকে নূর, আমার উপরে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পিছনে নূর এবং বিরাট নূর দান করুন"। রাবী ইয়াকুব (র) বলেন, আরও সাতটি বিষয় যা আমার অন্তরে রয়েছে। সালামা ইবনে কুহায়ল (র) বলেন, এরপর আমি আব্বাস পরিবারের একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি ঐ বিষয়গুলো আমাকে বর্ণনা করলেন। আমার শিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে এবং আমার ত্বকে---- আরও দু'টি বিষয় বললেন (বু,মু,দা, না, ই)।
৭০১- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى فَقَضَى صَلَاتَهُ يَثْنِي عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلَهُ ثُمَّ يَكُونُ فِي آخِرِ كَلَامِهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ لَيْ نُورًا فِي قَلْبِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا فِي سَمْعِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا فِي بَصَرِي وَاجَعَلِي لَي نُورًا عَنْ يَمِينِي وَنُورًا عَنْ شِمَالِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَنُورًا مِّنْ خَلْفِي وَزِدْنِي نُورًا وزدني نُورًا وَزِدْنِي نُوراً .
৭০১। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) রাতে ঘুম থেকে উঠলে নামায পড়তেন এবং নামাযান্তে আল্লাহ্র যথাযোগ্য প্রশংসা করতেন। অতঃপর তাঁর কথার শেষ অংশ এরূপ হতোঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দান করো, আমার কানে নূর দান করো, আমার চোখে নূর দান করো, আমার সামনে নূর দান করো, আমার পিছনে নূর দান করো এবং আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও" (বু,মু, দা, না, ই)।
৭০২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ مِنْ جُوفِ اللَّيْلِ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ انْتُ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قيامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعَدَكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ الْحَقُّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقَّ اللَّهُمَّ لَكَ أسْلَمْتُ وَبَكَ أمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَالَيْكَ أَنَبْتُ وَبَكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ اللَّهِي لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ.
৭০২। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মাঝরাতে যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ ও জমিনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যকার সকলের রক্ষক। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব।
২৪৯ মুসলিম
আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত অবধারিত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি। আপনারই উপর ভরসা করেছি, আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করেছি। আপনার জন্য যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছি, আপনর কাছে ফয়সালা চেয়েছি। অতএব আমার পূর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করুন। আপনি আমার ইলাহ। আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই" (বু,মু)।
৭০৩- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَأَهْلِي وَاسْتُرْ عَوْرَتِي وَآمِنْ رَوْعَتِي وَاحْفَظَنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ يُسَارِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَعْتَالَ مِنْ تَحْتِي.
৭০৩। ইবনে উমার (রা) বলেন, নবী (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি আমার দীন ও আমর পরিবার- পরিজনের নিরাপত্তা। তুমি আমার দোষ গোপন রাখো, আমার ভীত অবস্থায় আমাকে নিরাপত্তা দান করো এবং আমাকে সামনে-পিছনে, ডানে-বামে ও উপরের দিক থেকে হেফাযত করো। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিচের দিকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে" (দা,ই, বায)।
৭০৪- حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَانْكَفَا الْمُشْرِكُونَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اسْتَوُوا حَتَّى أَثْنَى عَلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلٌ فَصَارُوا خَلْفَهُ صُفُوفًا فَقَالَ اللَّهُم لَكَ الْحَمْدُ كُلَّهُ اللَّهُمْ لا قَابِضَ لِمَا بَسَطَتْ وَلَا مُقَرِّبَ لِمَا بَاعَدْتُ وَلَا مُبَاعِدَ لِمَا قَرَّبْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ اللَّهُمَّ ابْسُطُ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَعِيمَ الْمُقِيمَ الَّذِي لَا يَحُولُ وَلَا يَزُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَعِيمَ يَوْمَ العَيْلَةِ وَالْأَمْنَ يَوْمَ الْحَرْبِ اللَّهُمْ عَائِدًا بِكَ مِنْ سُوْءِ مَا أَعْطَيْتَنَا وَشَرِّ مَا مَنَعْتَ مِنَّا اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيْمَانَ وَزَيَّنَّهُ فِي قُلُوبِنَا وَكَرَّهُ إِلَيْنَا الكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِيْنَ اللَّهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ وَأَحْيِنَا مُسْلِمِينَ وَالْحِقْنَا بِالصَّالِحِيْنَ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا مَفْتُونِيْنَ اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ اللَّهُمَّ قَاتِلَ الكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ الهُ الْحَقِّ.
৭০৪। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মুশরিকরা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে চলে গেলো তখন রাসূলুল্লাহ (স) বললেনঃ
২৫০ আল-আদাবুল মুফরাদ
তোমরা সারিবদ্ধভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াও, যাতে আমি আমার মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের প্রশংসা করতে পারি। অতএব সাহাবীগণ তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি যা সম্প্রসারিত করো তা কেউ সংকুচিত করতে পারে না, তুমি যাকে দূরে ঠেলে দাও তাকে কেউ কাছে আনতে পারে না, তুমি যাকে কাছে টেনে নাও তাকে কেউ দূরে ঠেলে দিতে পারে না, তুমি যাকে না দাও তাকে কেউ দিতে পারে না এবং তুমি যাকে দান করো তাকে কেউ আটকে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর তোমার বরকত, তোমার রহমাত, তোমার অনুগ্রহ এবং তোমার দেয়া রিযিক প্রসারিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট স্থায়ী নিয়ামত প্রার্থনা করি যা পরিবর্তন বা বিলীন হয় না। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুঃখের দিনে তোমার নিয়ামত ও যুদ্ধের দিনে তোমার নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দান করেছো তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি যা আমাকে দান করোনি তার অনিষ্ট থেকেও আমাকে রক্ষা করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় বানাও, আমাদের অন্তরকে সৌন্দর্যময় করো এবং কুফর, পাপাচার ও বিদ্রোহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত বানাও। তুমি আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করো। হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলমানরূপে মৃত্যু দান করো, মুসলমানরূপে জীবিত রাখো এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে মিলিত করো, অপমানিত ও বিপর্যস্তরূপে নয়। হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ” (না, হা, হি,)।
📄 বিপদাপদের সময় দোয়া করা
۲۹۲ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْكُرْبِ
২৯২- অনুচ্ছেদ: বিপদাপদের সময় দোয়া করা।
৭০৫- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو عِنْدَ الكُرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.
৭০৫। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) কঠিন বিপদের সময় দোয়া করতেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদে রব্বুল আরশিল আযীম” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের রব এবং মহান আরশের মালিক") (বু, মু, তি, ই, আ, আন)।
৭০৬- حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُ قَالَ لأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي أَسْمَعُكَ تَدْعُو كُل غَدَاةِ اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِيَّ اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِيْنَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلَاثًا وَتَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْر لا اله الا أَنْتَ تُعِيدُهَا ثَلاثًا حَيْنَ تُمْسِي وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلَاثًا فَقَالَ نَعَمْ يَا بُنَيَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ بِهِنَّ
২৫১ মুসলিম
وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ اسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ الله ﷺ دَعْوَاتُ الْمَكْرُوبِ اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو وَلَا تَكِلْنِي إِلَيَّ نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
৭০৬। আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (র) তার পিতাকে বলেন, হে পিতা! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে এই দোয়া করতে শুনিঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার শরীর নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার কান নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার চোখ নিরাপদ রাখো। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই"। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার তা পড়েন। আপনি আরো বলেন, "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর ও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই"। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে এগুলো তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার পড়েন। তিনি বলেন, হাঁ, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এই দোয়াগুলি বলতে শুনেছি এবং আমি তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করতে ভালোবাসি। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ বিপদগ্রস্ত লোকের দোয়া হলোঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমাতের আশা করি। অতএব তুমি মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর সোপর্দ করো না এবং আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই" (দা,আ,বা,তা,না)।
৭০৭- عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ عِنْدَ الْكُرْبِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ العَرْشِ الْعَظِيمِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ اللَّهُمَّ اصْرِفْ شَرَّهُ.
৭০৭। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) বিপদকালে বলতেনঃ "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রভু, পৃথিবীর প্রভু এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক। হে আল্লাহ! তুমি এর অনিষ্ট দূর করে দাও” (বু)।
📄 ইস্তিখারার দোয়া
۲۹۳ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْاسْتِخَارَةِ
২৯৩- অনুচ্ছেদ: ইস্তিখারার দোয়া।
৭০৮- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ الله يُعَلِّمُنَا الْإِسْتِخَارَةَ فِي الْأُمُورِ كَالسُّورَةِ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا هَمَّ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكَعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَاسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لَّيْ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجَلِ أَمْرِي وَأَجَلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لَيْ فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِل أَمْرِي وَاجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَضْنِي وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ.
৭০৮। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) আমাদেরকে যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, তেমনি সকল ব্যাপারে আমাদেরকে ইস্তিখারা করা শিক্ষা দিতেন। কেউ কোন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সে যেন দুই রাআত নামায পড়ে এবং তারপর বলেঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বিইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফারদু লী। ওয়াইন কুন্তা তালামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাস্রেফহু আন্নী ওয়াস্রিফনী আনহু ওয়াক্ব্দুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা সুম্মা রাদ্দিনী বিহী" (হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার শক্তির সাহায্যে শক্তি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা তুমিই ক্ষমতাবান এবং আমি অক্ষম। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে এবং আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের জন্য কল্যাণকর হলে তুমি তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও। আর যদি তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তুমি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখো। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্দ্ধারণ করো এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দাও"। আর (আমার এ কাজ এর স্থলে) নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে (বু)।
৭০৯- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مَسْجِدِ الْفَتْحِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ يَوْمَ الثلاثاء وَيَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ فَاسْتُجِيبَ لَهُ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ مِنْ يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ. قَالَ جَابِرٌ وَلَمْ يَنْزِلُ بِي أَمْرٌ مُهِم غَائِظٌ الا تَوَخَّيْتُ تِلْكَ السَّاعَةِ فَدَعَوْتُ اللهَ فِيهِ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ الأَ عَرَفْتُ الْإِجَابَةَ.
৭০৯। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) এই মসজিদে অর্থাৎ মসজিদুল ফাতহ (বিজয়ের মসজিদ)-এ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার দোয়া করলেন এবং বুধবার নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দোয়া কবুল হলো। জাবের (রা) বলেন, যখনই আমার কোন গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ উপস্থিত হয়েছে তখনই আমি উক্ত সময়ে প্রার্থনার ইচ্ছা করেছি এবং বুধবার এই সময়ে দোয়া করেছি এবং তা যে কবুল হয়েছে তাও বুঝতে পেরেছি (আ)।
৭১০- عَنْ أَنَسٍ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَدَعَا رَجُلٌ فَقَالَ يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ إِنِّي أَسْأَلُكَ فَقَالَ أَتَدْرُونَ بَمَا دَعَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ دَعَا اللَّهَ بَاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ.
৭১০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। আমি নবী (স)-এর সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার দোয়ায় বললো, "হে আসমানসমূহের সৃষ্টিকর্তা, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আমি তোমার
২৫৩ মুসলিম
কাছে প্রার্থনা করছি"। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: সে কোন্ নামে (আল্লাহকে ডেকে) দোয়া করছে তা কি তোমরা জানো? সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ! সে আল্লাহর কাছে তাঁর এমন নামের উসীলায় দোয়া করেছে যে, সেই নামে কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন (দা,তি,আ)।
৭১১- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرِ لِلنَّبِيِّ ﷺ عَلَّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلَاتِي قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْعَفُورُ الرَّحِيمُ .
৭১১। আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-কে বলেন, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযে পড়তে পারি। নবী (স) বলেনঃ তুমি এ দোয়া পড়বেঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ফাল্ফির লী মিন ইনদিকা মাগফিরাতান ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম" (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর অনেক যুলুম করেছি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ করে দাও এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী অতি দয়ালু) (বু)।