📄 মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ
২৮৮ - بابُ دَعْوَاتِ النَّبِيِّ ﷺ
২৮৮- অনুচ্ছেদঃ মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ।
৬৬৭- عَنْ أَبِي صِرْمَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِنَايَ وَعَلَى مَوْلاهُ .
৬৬৭। আবু সিরমা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐশ্বর্য প্রার্থনা করি"। তাঁর প্রভু তাঁকে ঐশ্বর্য দান করেন (আ)।
৬৬৮- عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكل بْن حُمَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي دُعَاءً انْتَفِعُ بِهِ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ عَافِنِي مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَبَصَرِي وَلِسَانِي وَقَلْبِي وَشَرِّ مَنَبِّي قَالَ وَكِيعٌ مَنِي يَعْنِي الزِّنَا وَالْفُجُورَ.
৬৬৮। শুতাইর ইবনে শাকল ইবনে হুমাইদ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা দ্বারা আমি উপকৃত হবো। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার কান, আমার চোখ, আমার যাবান, আমার অন্তর এবং অসৎ কামনার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখো"। রাবী ওয়াকী (র) বলেন, কামনা-বাসনার অনিষ্ট অর্থ ব্যভিচার ও পাপাচার (দা, তি, না, হা)।
৬৬৯- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَيَسِّرْ الْهُدَي لِي.
৬৬৯। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমাকে গোপনে সাহায্য করো, আমার বিরুদ্ধে (বিরোধীকে) সাহায্য করো না, আমাকে প্রকাশ্যে সাহায্য করো, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না এবং হেদায়াতের পথকে আমার জন্য সুগম করো" (দা, তি, ই, হা, হি)।
৬৭০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو بِهَذَا رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَيَسِّرْ لِي الْهُدَي وَانْصُرْنِي عَلَي مَنْ بَغْيِ عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِي شَكَارًا لَكَ ذكارًا رَاهِبًا لَكَ مُطَوِّعًا لَكَ مُخْبِتًا لَكَ أَواها مُنِيبًا تَقَبَلْ تَوبَتِي وَاغْسِلْ حُوبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاهْدِ قَلْبِي وَسَدَّدٌ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيْمَةَ قَلْبِي.
৬৭০। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) এভাবে দোয়া করতেনঃ “হে প্রভু! আমাক সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে (কাউকে) সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না। আমার জন্য কৌশল এঁটে দাও এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে কৌশল এঁটে দিও না। আমার জন্য হেদায়াতের পথ সুগম করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমালংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। হে প্রভু! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও, তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়েমুছে সাফ করো, আমার যবানকে সোজা রাখো, আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো এবং আমার বক্ষ থেকে সমস্ত হিংসা দূরীভূত করো" (তি, দা, ই, হা,হি)।
৬৭১- عَنْ مُحَمَّد بْن كَعْبِ الْقُرَنِي قَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ إِنَّهُ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعَ اللهُ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْهُ الجَدُّ وَمَنْ يُرِدا بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّيْنِ سَمِعْتُ هُؤُلاءَ الكَلِمَاتِ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ عَنْ هَذِهِ الْأَعْوَادِ.
৭৭১। মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাযী (র) থেকে বর্ণিত। মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলেন, "প্রভু! তুমি যাকে দান করো তা প্রতিরোধ করার কেউ নাই। আর আল্লাহ যার প্রতিবন্ধক হন তাকে কেউ দান করতে পারে না। কারো বংশমর্য্যাদা বা সম্পদশালীর সম্পদ তাঁর কাছে কোন উপকারে আসে না। আর আল্লাহ যার কল্যাণ সাধন করতে চান তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন"। অতঃপর তিনি বলেন, আমি এই কথাগুলি নবী (স)-কে এই মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি (মা)।
৬৭২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنْ أَوْثَقِ الدُّعَاءِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ رَبِّ اغْفِرْ لِي .
৬৭২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তোমার অতীব শক্তিশালী ও কার্যকর দোয়া হলো, তোমার এভাবে বলা, "হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার বান্দা। আমি আমার উপর যুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ স্বীকার করি। তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নাই। হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো" (মু, আ)।
৬৭৩- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدْعُو اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيْهَا مَعَاشِي وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَحْمَةً لَّيْ مِنْ كُلِّ سُوْءٍ أَوْ كَمَا قَالَ.
৬৭৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার দীনের ব্যাপারে আমাকে সংশোধন করে দাও, যা আমার সকল কাজের রক্ষাকবচ। তুমি আমার পার্থিব জীবনকে সংশোধন করে দাও, যেখানে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা এবং প্রতিটি অনিষ্ট' থেকে রক্ষার জন্য আমার মৃত্যুকে আমার জন্য রহমতের উৎস বানাও” (মু, আন, তা)।
৬৭৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرْكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَائَةِ الْأَعْدَاءِ.
৬৭৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ কঠিন দুর্বিপাক থেকে, পাপের স্পর্শ থেকে, ভাগ্যবিড়ম্বনা থেকে এবং দুশমনের দুশমনি থেকে (বু, মু, না) ৮
৬৭৫- عَنْ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْخَمْسِ مِنَ الْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَسُوْءِ الكبَرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ.
৬৭৫। উমার (রা) বলেন, নবী (স) পাঁচটি জিনিস থেকে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ অলসতা, কার্পণ্য, চরম বার্ধক্য, অন্তরের বিপর্যয় এবং কবরের আযাব থেকে (দা,মু, না)
৬৭৬- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.
৬৭৬। আনাস (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি অপারগতা থেকে, ভীরুতা থেকে এবং বার্ধক্য থেকে। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে" (বু,মু, দা, না,তি)।
৬৭৭- عَنْ أَنَسٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمَّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَظَلَعِ الدِّينِ وَعَلَبَةِ الرِّجَالِ.
৬৭৭। আনাস (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণত, ঋণের বোঝা ও লোকজনের দাপট থেকে" (বু, দা, তি, না)।
৬৭৮- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ ﷺ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَالْمُؤَخِّرُ لا اله الا أَنْتَ .
৬৭৮। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স)-এর দোয়াসমূহের মধ্যে এটিও ছিলঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো আমার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ, আমার গোপন প্রকাশ্য সকল পাপ এবং যে পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। নিশ্চয় তুমি অগ্রসরকারী ও বিলম্বকারী। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই" (বু, মু,আ, হা)।
৬৭৯- عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالْعَفَافَ والغنى وَقَالَ أَصْحَابُنَا عَنْ عُمَرَ وَالتَّقَى.
৬৭৯। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, নবী (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত, নিরাপত্তা ও ঐশ্বর্য প্রার্থনা করছি। উমার (রা)-এর বর্ণনায় তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রার্থনার কথাও উল্লেখ আছে (মু,তি,ই)।
৬৮০- عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ قَالَ سَمِعْتُ شَيْخًا يُنَادِي بِأَعْلَى صَوْتِهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعْوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِ لَا يَخْلِطُهُ شَيْئً قُلْتُ مَنْ هُذَا الشَّيْخُ قِبْلَ أَبُو الدَّرْدَاءِ.
৬৮০। ছুমামা ইবনে হাযন (র) বলেন, আমি এক প্রবীণ ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাক দিতে শুনলাম, "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অনিষ্ট থেকে এমন আশ্রয় প্রার্থনা করছি যার মধ্যে কোন কিছু হস্তক্ষেপ করতে পারে না"। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রবীণ শায়েখ কে? বলা হলো, আবু দারদা (রা)।
৬৮১- عَنْ عَبْدِ اللهِ بن أَبِي أَوْفَى أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ البَارِدِ كَمَا يُطَهِّرُ الثَّوْبُ الدُّنْسُ مِنَ الْوَسَخِ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ.
৬৮১। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলতেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র করো বরফ, শিশিরবিন্দু ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা, যেমন অপরিষ্কার কাপড়-চোপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা আসমান- যমীন ও এতোদুভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এসব পূর্ণ পরিমাণ" (আ)।
৬৮২- عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُكْثِرُ أَنْ يُدْعُوَ بِهَذَا الدُّعَاءِ اللَّهُمَّ أَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ قَالَ شُعْبَةُ فَذَكَرْتُهُ لِعِبَادَةَ فَقَالَ كَانَ أَنَسَ يَدْعُو بِهِ وَلَمْ يَرْفَعَهُ .
৬৮২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) পর্যাপ্ত পরিমাণে নিম্নোক্ত দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো, আখেরাতেও কল্যাণ দান করো এবং দোযখের শান্তি থেকে আমাদের রক্ষা করো"। আনাস (রা)-ও এই দোয়া পড়তেন কিন্তু তা নবী (স)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট করতেন না (বু,মু,দা,না,আ)।
৬৮৩- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ.
৬৮৩। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি দারিদ্র্য, দৈন্যদশা ও লাঞ্ছনা থেকে। আমি তোমার নিকট আরো আশ্রয় প্রার্থনা করি নির্যাতন করা ও নির্যাতিত হওয়া থেকে" (দা,না,ই,হা)।
৬৮৪- عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَدَعَا بِدُعَاء كَثِيرٍ لَا نَحْفَظُهُ فَقُلْنَا دَعَوْتَ بِدُعَاء لا نَحْفَظُهُ فَقَالَ سَأُنَبِّئُكُمْ بِشَيْءٍ يُجْمَعُ ذَلِكَ كُلَّهُ لَكُمْ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِمَّا سَأَلَكَ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ ﷺ وَنَسْتَعِيذُكَ مِمَّا اسْتَعَاذَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ ﷺ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ البَلاغُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ أَوْ كَمَا قَالَ.
৬৮৪। আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি অনেক দোয়া করলেন। কিন্তু আমরা তা স্মরণ রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি অনেক দোয়া করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই স্মরণ রাখতে পারিনি। তিনি বলেনঃ "আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না, যা সেই সমস্ত দোয়ার সমষ্টি হবে? তোমরা বলো, "হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা তোমার নিকট সেই কল্যাণ কামনা করি, যা তোমার নবী মুহাম্মাদ (স) তোমার নিকট কামনা করেছেন এবং আমরা তোমার নিকট সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যে অনিষ্ট থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ (স) আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই কল্যাণে পৌঁছে দাও। আল্লাহ ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ পৌঁছানোর আর কোন শক্তি নাই"। অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন (তি,তা)।
৬৮৫- عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ اللَّهُمُ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِن فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِن فِتْنَةِ النَّارِ.
৬৮৫। আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি মসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি দোযখ থেকে"।
৬৮৬- عَنْ سَعِيدٍ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ قَنَّعْنِي بِمَا رَزَقْتَنِي وَبَارِكْ لِي فِيهِ وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ بِخَيْرٍ .
৬৮৬। সাঈদ (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) বলতেন, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে রিযিক দান করেছো তাতে সন্তুষ্ট থাকার তৌফিক দাও, আমাকে তাতে বরকত দাও এবং প্রতিটি অদৃশ্য বিষয়ে কল্যাণ সহকারে আমার হেফাযত করো"।
৬৮৭- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَّبِيُّ ﷺ اللَّهُمَّ أَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
৬৮৭। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) প্রচুর পরিমাণে এই দোয়া পড়তেনঃ "আমাদের প্রভু! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করো"।
৬৮৮- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَكْثُرُ أَنْ يَقُولَ اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ.
৬৮৮। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) বেশী পরিমাণে বলতেনঃ "হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অবিচল রাখো" (তি,আ, হা, হি)।
৬৮৯- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالْبَرَدِ وَالثَّلْجِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَنَقْنِي كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدُّنَسِ.
৬৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) এরূপ দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আসমান ও যমীন পরিপূর্ণ এবং এরপর তুমি যা চাও তা পরিপূর্ণ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র করো শিশির বিন্দু, বরফ ও শীতল পানি দ্বারা। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করো গুনাহ থেকে, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়” (আ)।
৬৯০- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَائَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ.
৬৯০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর দোয়াসমূহের মধ্যে এই দোয়াও ছিলঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি তোমার দেয়া নিয়ামতরাজি বিলুপ্ত হওয়া থেকে, তোমার দেয়া শান্তি ও নিরাপত্তা অন্তর্হিত হওয়া থেকে, তোমার আকস্মিক প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে এবং তোমার সার্বিক অসন্তুষ্টি থেকে” (দা, মু,না, আন)।
📄 ঝড়-বৃষ্টির সময় দোয়া করা
۲۸۹ - بَابُ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْغَيْثِ وَالْمَطَر .
২৮৯- অনুচ্ছেদঃ ঝড়-বৃষ্টির সময় দোয়া করা।
৬৯১- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا رَأَي نَاشِئًا فِي أُفُقِ مِّنْ أَفَاقِ السَّمَاءِ تَرَكَ عَمَلَهُ وَإِنْ كَانَ فِي صَلَاةٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَإِنْ كَشَفَهُ اللَّهُ حَمِدَ اللَّهَ وَإِنْ مَطَرَتْ قَالَ اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا .
৬৯১। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আকাশে মেঘমালা দেখলে তার কাজকর্ম ত্যাগ করতেন, এমনকি তিনি নামাযে রত থাকলে তাও। অতঃপর তিনি মেঘমালার দিকে তাকাতেন। আল্লাহ মেঘমালা দূর করলে তিনি আল্লাহ্র প্রশংসা করতেন। আর মেঘ বৃষ্টি বর্ষণ করলে তিনি বলতেনঃ "হে আল্লাহ! মুষলধারে কল্যাণকর বৃষ্টি দাও" (বু, দা, না,ই)।
📄 মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা নিষেধ
٦٩ - بَابَ الدُّعَاءِ عِنْدَ الْمَوْتِ.
২৯০- অনুচ্ছেদঃ মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা নিষেধ।
৬৯২- حَدَّثَنِي قَيْسٌ قَالَ أَتَيْتُ خَبَّابًا وَقَدْ اكْتَوَى سَبْعًا قَالَ لَوْلَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ.
৬৯২। কায়েস (র) বলেন, আমি অসুস্থ খাব্বাব (রা)-এর নিকট গেলাম। তিনি তার শরীরে গরম লোহার সাতটি সেঁক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) যদি মৃত্যু কামনা করতে আমাদেরকে নিষেধ না করতেন, তবে আমি অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম (বু, মু)।
📄 মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ
۲۹۱ - بَابَ دَعْوَاتِ النَّبِيِّ ﷺ
২৯১- অনুচ্ছেদঃ মহানবী (স)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৩- عَنْ أَبِي مُوسى عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَ كَلَهُ وَعَمَدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي وَكُلَّ ذَلِكَ عِنْدِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
৬৯৩। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) এই দোয়া পড়তেনঃ "হে প্রভু! আমার গুনাহ, অজ্ঞতা, আমার প্রতিটি কাজে আমার বাড়াবাড়ি এবং আমার চাইতে তুমিই আমার যে অপরাধসমূহ সম্পর্কে অধিক অবগত সেগুলি ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! অছমার প্রতিটি গুনাহ, ইচ্ছাকৃত গুনাহ, অজ্ঞতা প্রসূত গুনাহ, ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সার্বিক গুনাহ ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমার পূর্বাপর গোপন-প্রকাশ্য সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমিই অগ্রসরকারী, তুমিই বিলম্বকারী এবং তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান" (বু,মু,শা)।
৬৯৪- عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجَدِّي وَخَطَايَ وَعَمَدِي وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي .
৬৯৪। আবু মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো আমার গুনাহসমূহ, আমার মূর্খতা, আমার কাজকর্মে আমার বাড়াবাড়ি এবং
২৪৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
তুমি আমার যেসব অপরাধ সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অবগত। হে আল্লাহ! আমায় ক্ষমা করো। আমার ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ, বাস্তবে কৃত গুনাহ, আমার সকল গুনাহ, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও" (দা, না, আ,খু, হা, হি)।
৬৯৫- عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ أَخَذَ بِيَدِي النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا مُعَادُ قُلْتُ لَبَّيْكَ قَالَ إِنِّي أُحِبُّكَ قُلْتُ وَأَنَا وَاللَّهِ أُحِبُّكَ قَالَ أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تَقُولُهَا فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاتِكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ.
৬৯৫। মুআয ইবনে জাবাল (রা) বলেন, নবী (স) আমার হাত ধরে বললেনঃ হে মুআয! আমি বললাম, আমি আপনার নিকট হাযির। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে কয়েকটি কলেমা শিখিয়ে দিবো না যা তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযের পর বলবে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য করো তোমার যিকির করতে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে এবং উত্তমরূপে তোমার ইবাদত করতে" (দা,না,তা)।
৬৯৬- عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺلهِ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْداً كثيرًا طيبًا مباركًا فيه فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ صَاحِبُ الْكَلِمَةِ فَسَكَتَ وَرَأَي أَنَّهُ هَجَمَ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ عَلَى شَيْءٍ كَرِهَهُ فَقَالَ مَنْ هُوَ فَلَمْ يَقُلْ إِلَّا صَوَابًا فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا أَرْجُوْ بِهَا الْخَيْرَ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رَأَيْتُ ثَلاثَةَ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَ أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ .
৬৯৬। আবু আইউব আনসারী (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর সামনে বললো, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর পর্যাপ্ত প্রশংসা পবিত্রতাপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ"। নবী (স) বলেন: এই শব্দগুলি কার? সে নীরব থাকলো। সে মনে করলো যে, সে নবী (স)-এর সামনে তাঁর অমনোপূত কথা বলেছে। তিনি পুনরায় বলেন: কে সে? সে তো যথার্থই বলেছে। এক ব্যক্তি বললো, আমি, এর দ্বারা আমি কল্যাণই আশা করছি। তিনি বলেন: সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি লক্ষ্য করেছি যে, তেরোজন ফেরেশতা এই শব্দগুলো মহামহিম আল্লাহ্র দরবারে পৌছাবার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করছে।
৬৯৭- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ اللهِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُدْخُلَ الْخَلَاءَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.
৬৯৭। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) পায়খানায় প্রবেশের সময় বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিকৃষ্ট (নারী ও পুরুষ) জিনের (অনিষ্ট) থেকে 'আশ্রয় প্রার্থনা করছি" (বু,মু,দা, তি,না,ই)।
৬৯৮- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ قَالَ غُفْرَانَكَ .
৬৯৮। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) পায়খানা থেকে বের হবার সময় বলতেনঃ "হে আল্লাহ! তোমার নিকট ক্ষমা চাই" (দা, না, ই,আ, দার, খু, হি)।
৬৯৯- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعَلِّمُنَا هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فتنة المَسِيحِ الدَّجَالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ.
৬৯৯। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) যেভাবে আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন তদ্রূপ (গুরুত্ব সহকারে) আমাদেরকে এই দোয়াও শিক্ষা দিতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের আযাব থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি মসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের ভয়াবহ সংকট থেকে তোমার আশ্রয় চাই" (মু, তি, না, ই,মা,আ)।
৭০০- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَتِي حَاجَتَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ فَأَتَي القرْبةَ فَأَطلَقَ شَنَاقَهَا ثُمَّ تَوَضَّا وُضُوء بَيْنَ الْوُضُوعَيْنِ وَلَمْ يُكْثِرُ وَقَدْ أَبْلَغَ فَصَلِّي فَقُمْتُ فَتَمَطَيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يُرِي أَنِّي كُنْتُ اتَّقِيْهِ لَهُ فَتَوَضَّاتُ فَقَامَ فَصَلِّي فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَتَامَّتْ صَلَاتُهُ مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأْذَنَهُ بِلاَلُ بِالصَّلَاةِ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأَ وَكَانَ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُوراً وَفِي سَمْعِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَّعَنْ يَسَارِي نُورًا وَفُوقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَأَعَظَمْ لِي نُورًا قَالَ كَرِيبٌ وَسَبْعًا فِي التَّابُوتِ فَلَقِيْتُ رَجُلاً مِّنْ وَلَدِ الْعَبَّاسِ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ فَذَكَرَ عَصَبِي وَلَحْمِي وَدَمِيْ وَشَعْرِي وَبَشَرِي وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ.
৭০০। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা ময়মূনা (রা)-র ঘরে রাত কাটালাম। নবী (স) উঠে নিজের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করেন, তারপর নিজের হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পুনরায় উঠে তিনি পানির মশকের কাছে গিয়ে তার বন্ধন খুলেন। তারপর মোটামুটি উযু করলেন, তবে অতিরিক্ত কিছু না করলেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলেন। আমি জেগে গা মোড়ামুড়ি দিলাম। কারণ আমি যে তাঁর কার্যক্রম দেখেছি তা তিনি টের পান এটা আমি পছন্দ করিনি। এরপর আমি উযু করলাম। তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে
২৪৮ আল-আদাবুল মুফরাদ
ঘুরিয়ে তাঁর ডানপাশে আনলেন। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এই রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায তেরো রাকআত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং নাক ডাকতে লাগলেন। তিনি ঘুমালে তাঁর নাক ডাকতো। বিলাল (রা) এসে নামাযের কথা বললেন। তিনি উঠে পুনরায় উযু না করেই ফজরের (সুন্নাত) নামায পড়লেন। (এ রাতে) তার দোয়ার মধ্যে ছিলঃ "হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর পয়দা করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার ডান দিকে নূর, আমার বাম দিকে নূর, আমার উপরে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পিছনে নূর এবং বিরাট নূর দান করুন"। রাবী ইয়াকুব (র) বলেন, আরও সাতটি বিষয় যা আমার অন্তরে রয়েছে। সালামা ইবনে কুহায়ল (র) বলেন, এরপর আমি আব্বাস পরিবারের একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি ঐ বিষয়গুলো আমাকে বর্ণনা করলেন। আমার শিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে এবং আমার ত্বকে---- আরও দু'টি বিষয় বললেন (বু,মু,দা, না, ই)।
৭০১- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى فَقَضَى صَلَاتَهُ يَثْنِي عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلَهُ ثُمَّ يَكُونُ فِي آخِرِ كَلَامِهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ لَيْ نُورًا فِي قَلْبِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا فِي سَمْعِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا فِي بَصَرِي وَاجَعَلِي لَي نُورًا عَنْ يَمِينِي وَنُورًا عَنْ شِمَالِي وَاجْعَلْ لَي نُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَنُورًا مِّنْ خَلْفِي وَزِدْنِي نُورًا وزدني نُورًا وَزِدْنِي نُوراً .
৭০১। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) রাতে ঘুম থেকে উঠলে নামায পড়তেন এবং নামাযান্তে আল্লাহ্র যথাযোগ্য প্রশংসা করতেন। অতঃপর তাঁর কথার শেষ অংশ এরূপ হতোঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দান করো, আমার কানে নূর দান করো, আমার চোখে নূর দান করো, আমার সামনে নূর দান করো, আমার পিছনে নূর দান করো এবং আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও" (বু,মু, দা, না, ই)।
৭০২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ مِنْ جُوفِ اللَّيْلِ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ انْتُ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قيامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعَدَكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ الْحَقُّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقَّ اللَّهُمَّ لَكَ أسْلَمْتُ وَبَكَ أمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَالَيْكَ أَنَبْتُ وَبَكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ اللَّهِي لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ.
৭০২। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) মাঝরাতে যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ ও জমিনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যকার সকলের রক্ষক। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব।
২৪৯ মুসলিম
আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত অবধারিত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি। আপনারই উপর ভরসা করেছি, আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করেছি। আপনার জন্য যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছি, আপনর কাছে ফয়সালা চেয়েছি। অতএব আমার পূর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করুন। আপনি আমার ইলাহ। আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই" (বু,মু)।
৭০৩- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُو اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَأَهْلِي وَاسْتُرْ عَوْرَتِي وَآمِنْ رَوْعَتِي وَاحْفَظَنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ يُسَارِي وَمِنْ فَوْقِي وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَعْتَالَ مِنْ تَحْتِي.
৭০৩। ইবনে উমার (রা) বলেন, নবী (স) দোয়া করতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি আমার দীন ও আমর পরিবার- পরিজনের নিরাপত্তা। তুমি আমার দোষ গোপন রাখো, আমার ভীত অবস্থায় আমাকে নিরাপত্তা দান করো এবং আমাকে সামনে-পিছনে, ডানে-বামে ও উপরের দিক থেকে হেফাযত করো। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিচের দিকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে" (দা,ই, বায)।
৭০৪- حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَانْكَفَا الْمُشْرِكُونَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اسْتَوُوا حَتَّى أَثْنَى عَلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلٌ فَصَارُوا خَلْفَهُ صُفُوفًا فَقَالَ اللَّهُم لَكَ الْحَمْدُ كُلَّهُ اللَّهُمْ لا قَابِضَ لِمَا بَسَطَتْ وَلَا مُقَرِّبَ لِمَا بَاعَدْتُ وَلَا مُبَاعِدَ لِمَا قَرَّبْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ اللَّهُمَّ ابْسُطُ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَعِيمَ الْمُقِيمَ الَّذِي لَا يَحُولُ وَلَا يَزُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَعِيمَ يَوْمَ العَيْلَةِ وَالْأَمْنَ يَوْمَ الْحَرْبِ اللَّهُمْ عَائِدًا بِكَ مِنْ سُوْءِ مَا أَعْطَيْتَنَا وَشَرِّ مَا مَنَعْتَ مِنَّا اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيْمَانَ وَزَيَّنَّهُ فِي قُلُوبِنَا وَكَرَّهُ إِلَيْنَا الكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِيْنَ اللَّهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ وَأَحْيِنَا مُسْلِمِينَ وَالْحِقْنَا بِالصَّالِحِيْنَ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا مَفْتُونِيْنَ اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ اللَّهُمَّ قَاتِلَ الكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ الهُ الْحَقِّ.
৭০৪। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মুশরিকরা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে চলে গেলো তখন রাসূলুল্লাহ (স) বললেনঃ
২৫০ আল-আদাবুল মুফরাদ
তোমরা সারিবদ্ধভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াও, যাতে আমি আমার মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের প্রশংসা করতে পারি। অতএব সাহাবীগণ তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি যা সম্প্রসারিত করো তা কেউ সংকুচিত করতে পারে না, তুমি যাকে দূরে ঠেলে দাও তাকে কেউ কাছে আনতে পারে না, তুমি যাকে কাছে টেনে নাও তাকে কেউ দূরে ঠেলে দিতে পারে না, তুমি যাকে না দাও তাকে কেউ দিতে পারে না এবং তুমি যাকে দান করো তাকে কেউ আটকে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর তোমার বরকত, তোমার রহমাত, তোমার অনুগ্রহ এবং তোমার দেয়া রিযিক প্রসারিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট স্থায়ী নিয়ামত প্রার্থনা করি যা পরিবর্তন বা বিলীন হয় না। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুঃখের দিনে তোমার নিয়ামত ও যুদ্ধের দিনে তোমার নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দান করেছো তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি যা আমাকে দান করোনি তার অনিষ্ট থেকেও আমাকে রক্ষা করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় বানাও, আমাদের অন্তরকে সৌন্দর্যময় করো এবং কুফর, পাপাচার ও বিদ্রোহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত বানাও। তুমি আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করো। হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলমানরূপে মৃত্যু দান করো, মুসলমানরূপে জীবিত রাখো এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে মিলিত করো, অপমানিত ও বিপর্যস্তরূপে নয়। হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ” (না, হা, হি,)।