📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)

📄 সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)


۲۷۷ - بَابُ سَيِّدِ الْاسْتِغْفَارِ
২৭৭- অনুচ্ছেদঃ সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২১- عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ سَيِّدُ الْاسْتِغْفَارِ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ
২২৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ إِذَا قَالَ حِيْنَ يُمْسِي فَمَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ أَوْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِذَا قَالَ حِيْنَ يُصْبِحُ فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ مِثْلَهُ.
৬২১। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর। আমি তোমার দেয়া নিয়ামতের কথা স্বীকার করি এবং আমার পাপের কথাও তোমার কাছে স্বীকার করি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফকারী আর কেউ নাই। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই"। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এরূপ বলে (ঐ রাতে) মারা গেলে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে বা বেহেশতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর সে ভোরে উপনীত হয়ে ঐরূপ বললে এবং সেদিন মারা গেলে বেহেশতে প্রবেশ করবে বা বেহেশতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে (বু,তি, না)।
৬২২- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ إِنَّا كُنَّا لَنَعُدُّ فِي الْمَجْلِسِ لِلنَّبِيِّ ﷺ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ مِائَةَ مَرَّةٍ.
৬২২। ইবনে উমার (রা) বলেন, আমরা নবী (স)-এর মজলিসে অবশ্যই গণনা করে দেখতাম যে, তিনি এক মজলিসে শতবার বলতেনঃ "প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার তওবা কবুল করো। নিশ্চয় তুমিই একমাত্র তওবা কবুলকারী, দয়াময়" (দা, তি, না, আ, হি)।
৬২৩- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الضُّحَى ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ حَتَّى قَالَهَا مِائَةَ مَرَّةٍ.
৬২৩। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) চাশতের নামায পড়লেন, অতঃপর বলেনঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষামা করো এবং আমার তওবা কবুল করো। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী, দয়াময়"। এমনকি তিনি তা শতবার বললেন (না, আ)।
৬২৪- عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوس عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ سَيِّدُ الْاسْتِغْفَارِ أَنْ يَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ أَبُوءُ لَكَ بِذَنْبٍ فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ قَالَ مَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يُوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يَمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنًا بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ.
৬২৪। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো, কারো এভাবে বলাঃ "হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার দেয়া ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর। আমি আমার কৃতকর্মের ক্ষতি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি তোমার কাছে তোমার দেয়া নিয়ামতরাজির স্বীকারোক্তি করছি এবং আমি তোমার কাছে আমার গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফকারী আর কেউ নাই"। নবী (স) বলেনঃ কোন ব্যক্তি দৃঢ় প্রত্যয়সহ দিনের বেলা তা বললে এবং সেদিনই সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বে মারা গেলে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কোন ব্যক্তি দৃঢ় প্রত্যয়সহ তা রাতের বেলা বললে এবং ভোর হওয়ার পূর্বেই মারা গেলে সেও জানাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে (বু,তি, না)।
৬২৫- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ تُوبُوا إِلَى اللهِ فَإِنِّي أَتُوبُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ.
৬২৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা আল্লাহ্র কাছে তওবা করো। আমি দৈনিক শতবার আল্লাহ্র কাছে তওবা করি।
৬২৬- عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ مُعَقِّبَاتٌ لاَ يَخَيْبُ قَائِلُهُنَّ سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ رَفَعَهُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ وَ عَمْرُو بْنُ قَيْسٍ.
৬২৬। কাব ইবনে উজরা (রা) বলেন, নামাযের পরে পড়ার কলেমা আছে, যেগুলোর পাঠকারী ক্ষতিগ্রস্থ হয় নাঃ "আল্লাহ মহাপবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আল্লাহ মহান"। রাবী আবু উনাইস ও আমর ইবনে কায়েস (র) হাদীসটি মারফু সুত্রে বর্ণনা করেছেন (মু,তি, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা

📄 ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা


۲۷۸ - بَابُ دُعَاءِ الْآخِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ.
২৭৮-অনুচ্ছেদঃ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬২৭- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَسْرَعُ الدُّعَاءِ إِجَابَةً دُعَاءُ غَائِبٍ لَّغَائِب .
৬২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ সত্বর কবুল হওয়ার মতো দোয়া হলো এক অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অপর অনুপস্থিত ব্যক্তির দোয়া (তি, দা)।
৭২৮- عَنْ أَبِي بَكْرِ الصَّدِّيقِ أَنَّ دَعْوَةَ الْآخِ فِي اللهِ تُسْتَجَابُ.
৬২৮। আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) বলেন, আল্লাহ্র সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ভাইয়ের দোয়া কবুল হয়।
৬২৯- عَنْ صَفْوَانِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَفْوَانٍ وَكَانَتْ تَحْتَهُ الدَّرْدَاءُ بِنْتُ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ قَدِمْتُ عَلَيْهِمُ الشَّامَ فَوَجَدْتُ أَمَّ الدَّرْدَاءِ فِي الْبَيْتِ وَلَمْ أَجِدْ أَبَا الدَّرْدَاءِ قَالَتْ اتُرِيدُ الْحَجَّ العَامَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَتْ فَادْعُ اللهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ إِنَّ دَعْوَةَ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ مُسْتَجَابَةٌ لِأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُؤَكِّلٌ كُلَّمَا دَعَا لِأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ أَمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ قَالَ فَلَقِيْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي السُّوقِ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ يَأْثَرُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ
৬২৯। সাফওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (র) থেকে বর্ণিত। আবু দারদা (রা)-এর কন্যা দারদা তার স্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় আমার শ্বশুরালয়ে আসলাম। আমি বাড়িতে দারদার মাকে (আমার শাশুড়ীকে) পেলাম, কিন্তু দারদার পিতাকে (আমর শ্বশুরকে) পেলাম না। শাশুড়ী বলেন, তুমি কি এ বছর হজ্জ করার ইচ্ছা করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তাহলে আমাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। কেননা নবী (স) বলতেনঃ "অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য মুসলমানের দোয়া কবুল হয়ে থাকে। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা মোতায়েন থাকেন। যখন সে তার কোন ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দোয়া করে, তখন সেই ফেরেশতা বলেন, আমীন এবং তোমারও অনুরূপ কল্যাণ হোক"। রাবী বলেন, বাজারে আবু দারদা (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনিও অনুরূপ বললেন এবং তা নবী (স)-এর বরাতে বললেন (মু, দা, ই, হি, আন)।
৬৩০- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَجُلٌ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلِمُحَمَّدٍ وَحْدَنَا فَقَالَ النبي ﷺ لَقَدْ حَجَبْتَهَا عَنْ نَّاسِ كَثِيرٍ.
৬৩০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ! কেবল আমাকে ও মুহাম্মাদ (স)-কে ক্ষমা করুন। নবী (স) বলেন: তুমি অনেক লোককে দোয়া থেকে বঞ্চিত করলে (বু, আ, হি)।
৬৩১- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيُّ اللهِ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْمَجْلِسِ مِائَةَ مَرَّةٍ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.
৬৩১। ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে এক মজলিসে আল্লাহ্র কাছে শতবার ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনেছিঃ "হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো, আমার তওবা কবুল করো এবং আমাকে অনুগ্রহ করো। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু" (না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বিবিধ

📄 বিবিধ


۲۷۹ - بَابٌ
২৭৯- অনুচ্ছেদ: বিবিধ।
৬৩২- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ إِنِّي لَأَدْعُو فِي كُلِّ شَيْءٍ مِّنْ أَمْرِي حَتَّي أَنْ يُفْسَحَ اللَّهُ فِي مَشْيِ دَابَّتِي حَتَّى أَرِي مِنْ ذَلِكَ مَا يَسُرُّنِي .
৬৩২। ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি আমার প্রতিটি ব্যাপারেই দোয়া করে থাকি, এমনকি আমার জন্তুযানকে দ্রুত গতিসম্পন্ন করে দেওয়ার জন্যও দোয়া করি। তাতে আমি আনন্দদায়ক ফলই লাভ করি।
৬৩৩- عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ فِيْمَا يَدْعُو اللَّهُمَّ تَوَفَّنِي مَعَ الْأَبْرَارِ وَلَا تُخْلِفْنِي فِي الْأَشْرَارِ وَالْحِقْنِي بِالْأَخْيَارِ.
৬৩৩। উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তার দোয়াসমূহের মধ্যে একটি ছিলোঃ "হে আল্লাহ! সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমার মৃত্যু দান করো, নিকৃষ্ট লোকদের মধ্যে আমাকে জীবিত রেখো না এবং উত্তম লোকদের সাথে আমার মিলন ঘটাও"।
৬৩৪- عَنْ شَقِيقٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللهِ يُكْثِرُ أَنْ يَدْعُوَ بِهُؤُلاءِ الدَّعَوَاتِ رَبَّنَا أَصْلِحْ بَيْنَنَا وَاهْدِنَا سُبُلَ الْإِسْلَامِ وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَاصْرِفْ عَنَّا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَاتِنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لِنِعْمَتِكَ مُثْنِيْنَ بِهَا قَائِلِينَ بِهَا وَأَتْمِمْهَا عَلَيْنَا.
৬৩৪। শাকীক (র) বলেন, আবদুল্লাহ (রা) বেশীর ভাগ নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করতেনঃ "আমাদের প্রতিপালক! আমাদের মধ্যকার সম্পর্কের সংশোধন করে দাও, আমাদেরকে ইসলামের পথে পরিচালিত করো, আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে মুক্তি দাও, প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে আমাদের দূরে রাখো, আমাদের শ্রবণেন্দীয়, অন্তরসমূহ ও আমাদের স্ত্রী-পুত্রদের মধ্যে বরকত দান করো এবং আমাদের তওবা কবুল করো। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। তুমি আমাদেরকে নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ, এগুলোর প্রশংসাকারী ও আলোচনাকারী বানাও এবং তা আমাদেরকে পূর্ণরূপে দান করো" (দা, ই, তা)।
৬৩৫- عَنْ ثَابِتٍ قَالَ كَانَ أَنَسٌ إِذَا دَعَا لِأَخِيهِ يَقُولُ جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ صَلَاةَ قَوْمٍ ابْرَارٍ لَيْسُوا بِظُلْمَةٍ وَلَا فُجَارٍ يَقُومُونَ اللَّيْلَ وَيَصُومُونَ النَّهَارَ.
৬৩৫। সাবিত (র) বলেন, আনাস (রা) তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করার সময় বলতেন," আল্লাহ তার প্রতি সৎকর্মপরায়ণ লোকদের দোয়া বর্ষণ করুন, যারা যালেম বা পাপাচারী নন, যারা রাত জেগে ইবাদত করেন এবং দিনের বেলা রোযা রাখেন"।
৬৩৬- عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ يَقُولُ ذَهَبَتْ بِي أُمِّي إِلَي النَّبِيِّ ﷺ فَمَسَحَ عَلَي رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالرِّزْقِ.
৬৩৬। আমর ইবনে হুরাইস (রা) বলেন, আমার মা আমাকে নিয়ে নবী (স)-এর নিকট গেলেন। তিনি আমার মাথা মলে দিলেন এবং আমার রিযিকের জন্য দোয়া করলেন (উসদুল গাবা)।
৬৩৭- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قِيْلَ لَهُ إِنَّ إِخْوَانَكَ أَتَوكَ مِنَ الْبَصْرَةِ وَيَوْمَئِدْ بالزاوية لِتَدْعُو اللهَ لَهُمْ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَآتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ فَاسْتَزَادُوْهُ فَقَالَ مِثْلَهَا فَقَالَ إِنْ أُوْتِيْتُمْ هُذَا فَقَدْ أُوْتِيْتُمْ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ .
৬৩৭। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন যে, তিনি যাবিয়ায় অবস্থানকালে তাকে বলা হলো, আপনার ভাই-বন্ধু তাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট দোয়া করানোর উদ্দেশ্যে বসরা থেকে আপনার নিকট এসেছে। তিনি বলেন, "হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের দয়া করুন, আমাদের দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন"। তারা আরো অধিক দোয়ার আবেদন করলে তিনি পূর্বোক্ত দোয়া করেন। তিনি বলেন, তোমাদের যদি তা দান করা হয় তাহলে তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করা হলো।
৬৩৮- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ أَخَذَ النَّبِيُّ ﷺ غُصْنًا فَنَفَضَهُ فَلَمْ يَنْتَفِضْ ثُمَّ نَفَضَهُ فَلَمْ يَنْتَفِضُ ثُمَّ نَفَضَهُ فَانْتَقَضَ قَالَ إِنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَنْفِضْنَ الْخَطَايَا كَمَا تَنْفَضُ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا .
৬৩৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) একটি গাছের ডাল ধরে নাড়া দিলেন কিন্তু পাতা ঝরলো না। তিনি পুনরায় তা ধরে নাড়া দিলেন কিন্তু এবারও পাতা ঝরলো না। তিনি পুনরায় ডাল ধরে নাড়া দিলে এবার পাতা ঝরলো। তিনি বলেন: “সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বাক্য গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন গাছ তার পাতাসমূহ ঝরিয়ে দেয় (তি, আ)।
৬৩৯- عَنْ أَنَسٍ يَقُولُ أَتَتْ امْرَأَةُ النَّبِيِّ اللهِ تَشْكُو إِلَيْهِ الْحَاجَةَ أَوْ بَعْضَ الْحَاجَةِ فَقَالَ أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِّنْ ذَلكَ تُهَلِّلِيْنَ اللَّهَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ عِنْدَ مَنَامِكَ وَتُسَبِّحِيْنَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ وَتَحْمَدِيْنَ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ فَتِلْكَ مِائَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا .
৬৩৯। আনাস (রা) বলেন, এক মহিলা তার কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য নবী (স)-এর নিকট আসলো। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছু বলে দিবো না? তোমার শয়নকালে তুমি তেত্রিশবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", তেত্রিশবার " সুবহানাল্লাহ" এবং চৌত্রিশবার "আলহামদু লিল্লাহ" বলবে, তাতে এক শতবার হবে এবং তা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম (আ, হি)।
৬৪০- وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ هَلَلَ مِائَةً وَسَبَّحَ مِائَةً وَكَبَّرَ مِائَةً خَيْرٌ لَهُ مِنْ عَشْرِ رِقَابٍ يُعْتِقُهَا وَسَبْعِ بَدَنَاتٍ يَنْحَرُهَا .
৬৪০। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি এক শতবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এক শতবার সুবহানাল্লাহ এবং এক শতবার আল্লাহু আকবার বলবে তার জন্য তা দশটি গোলাম আযাদ করা এবং সাতটি উট কোরবানী করার চেয়ে উত্তম।
৬৪১- فَأَتَي النَّبِيُّ ﷺ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ قَالَ سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ثُمَّ آتَاهُ الغَدِ فَقَالَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ قَالَ سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَإِذَا أُعْطِيْتَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَقَدْ أَفْلَحْتَ .
৬৪১। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন দোয়া সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহ্র কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। সে পরদিন সকালে তার নিকট এসে আবার বললো, হে আল্লাহ্ নবী! কোন দোয়া সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, সুখ- শান্তি প্রার্থনা করো। যদি তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা দান করা হয় তবে তুমি সফলকাম হলে (তি,ই)।
৬৪২- عَنْ أَبِي ذَرِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَحَبُّ الكَلامِ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ سُبْحَانَ الله وبحمده.
৬৪২। আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ আল্লাহ্র নিকট সর্বোত্তম কথা হচ্ছেঃ "সুবহানাল্লাহ লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামdu ওয়া হুয়া আলা কুল্লে শায়ইন কাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” (আল্লাহ মহাপবিত্র, তাঁর কোন শরীক নাই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। মন্দকে রোধ করা এবং কল্যাণ হাসিল করার শক্তি আল্লাহ ব্যতীত কারো নাই। আল্লাহ মহাপবিত্র ও সকল প্রশংসা তাঁরই") (মু)।
৬৪৩- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ ﷺ وَأَنَا أَصَلِّي وَلَهُ حَاجَةٌ فَأَبْطَأْتُ عَلَيْهِ قَالَ يَا عَائِشَةُ عَلَيْكَ بِجُمَل الدُّعَاءِ وَجَوامعه فَلَمَّا انْصَرَفْتُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا جُمَلُ الدُّعَاءِ وَجَوَامِعُهُ قَالَ قُولِي اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلَّه عَاجِلِهِ وَاجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَسْأَلُكَ مِمَّا سَأَلَكَ بِهِ مُحَمَّدٌ وَأَعُوذُ بِكَ مِمَّا تَعَوَّذَ مِنْهُ مُحَمَّدٌ وَمَا قَضَيْتَ لِي مِنْ قَضَاء فَاجْعَلْ عَاقِبَتَهُ رُشْدًا .
৬৪৩। আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি নামায পড়ছিলাম। তার কি একটা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমি তাতে বিলম্ব করলাম। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তুমি অবশ্যই সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপকার্থক দোয়া করবে। নামায শেষ করে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপকার্থক দোয়া কি? তিনি বলেনঃ তুমি বলো, "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিলম্বে ও অবিলম্বে, আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সব রকম কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার নিকট বিলম্বে ও অবিলম্বে আমার জানা ও অজানা সব রকম ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি তোমার নিকট বেহেশত এবং যে কথা ও কাজ বেহেশতের নিকটবর্তী করে দেয় তা প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট দোযখ থেকে এবং যে কথা ও কাজ দোযখের নিকটবর্তী করে দেয় তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট সেই জিনিস প্রার্থনা করছি যা মুহাম্মাদ (স) তোমার নিকট প্রার্থনা করেছেন। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই জিনিস থেকে যা থেকে মুহাম্মাদ (স) তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আমার ব্যাপারে তুমি যে ফয়সালা করেছো পরিণামে তাকে (আমার) হেদায়াতের উপায় বানাও” (ই)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মহানবী (স)-এর উপর দুরূদ পাঠ

📄 মহানবী (স)-এর উপর দুরূদ পাঠ


۲۸۰ - بَابُ الصَّلاةَ عَلي النَّبِيِّ .
২৮০- অনুচ্ছেদঃ মহানবী (স)-এর উপর দুরূদ পাঠ।
৬৪৪- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ مُسْلِمٍ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ صَدَقَةٌ فَلْيَقُلْ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ فَإِنَّهَا لَهُ زَكَاةً.
৬৪৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে মুসলমান ব্যক্তির দান-খয়রাত করার সামর্থ্য নাই, সে যেন তার দোয়ায় বলে, "আল্লাহুম্মা সল্লে আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা ওয়া সল্লে আলাল-মুমিনীনা ওয়াল-মুমিনাত ওয়াল-মুসলিমীনা ওয়াল-মুসলিমাত" (হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদকে দয়া করো এবং মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষ সকলকে দয়া করো)। এটাই তার জন্য যাকাতস্বরূপ (হা,হি)।
৬৪৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ مَنْ قَالَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَي أل مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآل إِبْرَاهِيمَ وَتَرْحَمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرْحَمْتَ علي ابْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ شَهِدْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالشَّهَادَةِ وَشَفَعْتُ لَهُ .
৬৪৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে, "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতিও অনুগ্রহ করো, যেমন তুমি অনুগ্রহ করেছো ইবরাহীম (আ)-কে, ইবরাহীমের পরিজনের প্রতি। আর তুমি বরকত দান করো মুহাম্মাদকে এবং তাঁর পরিবারবর্গকে, যেমন তুমি বরকত দান করেছো ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিজনকে। আর তুমি রহমাত বর্ষণ করো মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিজনদের উপর, যেমন
২৩৩ মুসলিম
তুমি রহমাত বর্ষণ করেছো ইবরাহীমের উপর এবং তার পরিজনের উপর"। কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষী দিবো এবং তার জন্য শাফাআত করবো (তাবারীর তাহযীব, ফাতহুল বারী)।
৬৪৬- عَنْ أَنَسٍ وَمَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَرَجَ يَتَبَرُزُ فَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا يَتْبَعُهُ فَخَرَجَ عُمَرُ فَأَتْبَعَهُ بِفَخَارَةٍ أَوْ مُطَهَّرَةٍ فَوَجَدَهُ سَاجِدًا فِي مَسْرُبٍ فَتَنَحَّي فَجَلَسَ وَرَاءَهُ حَتَّي رَفَعَ النَّبِيُّ ﷺ رَأْسَهُ فَقَالَ أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ حِيْنَ وَجَدْتَنِي سَاجِدًا فَتَنَجَّيْتَ عَنِّي إِنَّ جِبْرِيلَ جَاءَنِي فَقَالَ مَنْ صَلَّي عَلَيْكَ وَاحِدَةً صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتِ.
৬৪৬। আনাস (রা) ও মালেক ইবনে আওস ইবনে হাদাসান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়তে বের হলেন, কিন্তু সাথে যাওয়ার মতো কাউকে পেলেন না। উমার (রা) মাটির ঘড়া বা পানির পাত্র নিয়ে তাঁর পিছে পিছে গেলেন। তিনি তাঁকে একটি শুষ্ক পাহাড়ী নালার মধ্যে সিজদারত অবস্থায় পেলেন। তিনি সরে গিয়ে তাঁর পিছনে বসলেন। শেষে নবী (স) তাঁর মাথা তুলে বলেনঃ হে উমার! তুমি আমাকে সিজদারত দেখে একপাশে সরে গিয়ে ভালোই করেছো। জিবরাঈল (আ) এসে আমাকে বলেন, যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দুরূদ পড়ে, আল্লাহ তাঁর প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন এবং তার মর্যাদা দশ গুণ বাড়িয়ে দেন (আ, ইলা, সাখাবী)।
৬৪৭- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَلِّي عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَحَطْ عَنْهُ عَشَرَ خَطِيئَاتِ.
৬৪৭। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মুছে দেন (আ, আবু নাঈম)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00