📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 লজ্জাশীলতা

📄 লজ্জাশীলতা


۲۷۱ - بَابُ الْحَيَاء
২৭১- অনুচ্ছেদ: লজ্জাশীলতা।
৬০০- عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عُقْبَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ اللهِ إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلامِ النُّبُوَّةِ إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ.
৬০০। আবু মাসউদ (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ নবুয়াতী কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে তাতে এও আছে, "তুমি নির্লজ্জ হতে পারলে যাচ্ছে তাই করতে পারো" (বু,দা,ই,আ,হি,তা)।
৬০১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْإِيْمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُوْنَ شُعْبَةً أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: ঈমানের ষাট বা সত্তরের অধিক শাখা আছে। তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট শাখা হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই) এবং তার সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। লজ্জাশীলতাও ঈমানের একটি বিশেষ শাখা (বু,মু)।
৬০২- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ أَشَدُّ حَيَاءٌ مِّنَ الْعَدْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ.
৬০২। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, নবী (স) অন্দর মহলের পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে তাঁর চেহারা দর্শনেই আমরা তা বুঝতে পারতাম (বু,মু, ই)।
৬০৩- عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ حَدَّثَاهُ أَنْ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ مُضْطَجِعُ عَلَى فِرَاشِ عَائِشَةَ لَأَبِسًا مِرْطَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ أَبِي بَكْرٍ هُوَ كَذَلِكَ فَقَضْي إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَاذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَقَضْي إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ قَالَ عُثْمَانُ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ اجْمَعِي إِلَيْكَ ثِيَابَكَ قَالَ فَقَضَيْتُ الَيْهِ حَاجَتِي ثُمَّ انْصَرَفْتُ قَالَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنْ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَبِّي وَإِنِّي خَشِيْتُ إِنْ اذِنْتُ لَهُ وَأَنَا عَلَى تِلْكَ الْحَالِ أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَى فِي حَاجَتِهِ.
৬০৩। উসমান (রা) ও আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। আবু বাক্স (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি তখন আয়েশা (রা)-এর একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় তার বিছানায় শায়িত ছিলেন। তিনি এই অবস্থায় থাকতেই আবু বাক্স (রা)-কে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন। আবু বাক্স (রা) তার সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। অতঃপর উমার (রা) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি শায়িত অবস্থায় তাকেও অনুমতি দিলেন। তিনিও তাঁর সাথে প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। উসমান (রা) বলেন, অতঃপর আমি তার সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলাম। তিনি উঠে বসে আয়েশা (রা)-কে বলেনঃ তুমি তোমার কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নাও। উসমান (রা) বলেন, আমিও তাঁর সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে বিদায় নিলাম। আয়েশা (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দেখলাম, আপনি আবু বাক্স ও উমার (রা)-র আগমনে শংকিত বা সতর্ক হননি, যতটা হয়েছেন উসমান (রা)-এর আগমনে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ উসমান
২২০ আল-আদাবুল মুফরাদ
অতিশয় লজ্জাশীল প্রকৃতির লোক। আমি আশংকা করলাম, যদি আমি তাকে এই অবস্থায় ঘরে ঢোকার অনুমতি দেই তবে সে তার প্রয়োজন নিয়ে আমার নিকট পৌঁছতো না (মু, মুশকিল)।
৬০৪- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا كَانَ الْفُحْشَ فِي شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ.
৬০৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা কোন বস্তুর কেবল কদর্যতাই বৃদ্ধি করে। আর লজ্জা কোন জিনিসের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে (আ,ই)।
৬০৫- عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مَرَّ بِرَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০৫। সালেম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে লজ্জাশীলতার বিরুদ্ধে নসীহত করছিল। নবী (স) বলেনঃ তাকে ছাড়ো। কেননা লজ্জাশীলতা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত (মু, আ)।
৬০৬- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى رَجُلٍ يُعَاتِبُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ حَتَّى كَأَنَّهُ يَقُولُ أَضَرُّ بِكَ فَقَالَ ﷺ دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, নবী (স) এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি লজ্জা সম্পর্কে তার ভাইকে তিরস্কার করে বলছিল: তুমি খুবই লাজুক, এতে তোমার দারুণ ক্ষতি হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ঈমানের অংশ।
৬০৭- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِي كَاشِفَاعَنْ فَخِذَيْهِ أَوْ سَاقَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ ثُمَّ تَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ النَّبِيُّ ﷺ وَسَوَّى ثَيَابَهُ قَالَ مُحَمَّدٌ وَلَا أَقُولُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ فَدَخَلَ فَتَحَدِّثَ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهِشٌ وَلَمْ تُبَالِهُ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهِشْ وَلَمْ تُبَالِهُ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ قَالَ أَلَا أَسْتَحْيِي مِنْ رَّجُلٍ تَسْتَحْيِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ .
৬০৭। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তার ঘরে শোয়া ছিলেন। তার উরু অথবা পা খোলা ছিলো। আবু বাকর (রা) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথাবার্তা বলেন। এরপর উমার (রা) অনুমতি চাইলে তিনি তাকেও অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায় কথাবার্তা বলেন। অতঃপর উসমান (রা) অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (স) উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করলেন। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারটি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি বলতে পারি না। এরপর উসমান (রা) এসে কথাবার্তা বলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রা) বলেন, আবু বাক্স (রা) এলেন, আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উমার (রা) এলেন,
আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উসমান (রা) আসতেই আপনি উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: আমি কি সে ব্যক্তিকে লজ্জা করবো না ফেরেশতারা যাকে লজ্জা করে থাকেন (মু, মুশকিল)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00