📄 বিদ্রোহ
٢٦٨ - بَابُ الْبَغْيِ
২৬৮- অনুচ্ছেদ : বিদ্রোহ।
৫৯১- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَوْ أَنْ جَبَلَا بَغْيِ عَلَى جَبَلٍ لَدِكَ الْبَاغِيِّ.
৫৯১। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, যদি এক পাহাড় অন্য পাহাড়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতো, তবে বিদ্রোহী পাহাড় একাকার হয়ে যেতো (তাফসীরে রূহুল মাআনী, সূরা ইউনুস, জামে সগীর, শুয়াব)।
৫৯২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ احْتَجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ فَقَالَتِ النَّارُ يَدْخُلُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ وَالمُتَجَبِّرُونَ وَقَالَت الجَنَّةُ لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا الضُّعَفَاءُ وَالْمَسَاكِينُ فَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أَنْتَقِمُ بِكِ مِمَّنْ شِئْتُ وَقَالَ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكَ مَنْ شِئْتُ.
৫৯২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: দোযখ ও বেহেশত বিতর্কে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, অহংকারী ও পরাক্রমশালী স্বৈরাচারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও নিঃস্বরাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা দোযখকে বলেন, তুই হলি আমার আযাব। যার থেকে ইচ্ছা আমি তোর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো। তিনি বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার রহমাত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো।
৫৯৩- عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَعَصَى إِمَامَهُ فَمَاتَ عَاصِيًا فَلَا تُسْأَلُ عَنْهُ وَآمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبَقَ مِنْ سَيِّدِهِ وَامْرَأَةٌ غَابَ زَوْجُهَا وَكَفَاهَا مُؤنَةَ الدُّنْيَا فَتَبَرِّجَتْ وَتَمَرَّجَتْ بَعْدَهُ وَثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلُ نَازَعَ اللهِ رِدَاءَهُ فَإِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرِيَاءُ وَ إِزَارَهُ عِزَّهُ وَرَجُلٌ شَكٍّ فِي أَمْرِ اللَّهِ وَالْقَنُوطُ مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ.
৫৯৩। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না (সরাসরি দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে)। (১) যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো এবং তার ইমামের (নেতার) অবাধ্য হলো এবং অবাধ্য অবস্থায় মারা গেলো। তাকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (২) যে ক্রীতদাসী বা ক্রীতদাস তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেলো। (৩) যে নারীর স্বামী বহির্দেশে গিয়েছে, সে যদি তার অনুপস্থিতিতে তার রূপ-যৌবনের পসরা করে বেড়ায় এবং ভ্রষ্টা হয়। আরো তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র চাদর নিয়ে টানাহেঁচড়া করে। আর তাঁর চাদর হচ্ছে অহংকার এবং তাঁর পরিধেয় হচ্ছে তাঁর ইজ্জত। (২) যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের মধ্যে সন্দেহ পোষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ রহমাত থেকে নিরাশ হয় (আ)।
৫৯৪- حَدَّثَنَا بَكَارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كُلُّ ذُنُوبِ يُؤَخِّرُ اللَّهُ مِنْهَا مَا شَاءَ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا الْبَغِيُّ وَعُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ أَوْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ يُعَجِّلُ لِصَاحِبِهَا فِي الدُّنْيَا قَبْلَ الْمَوْتِ.
৫৯৪। বাক্কার ইবনে আবদুল আযীয (র) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আল্লাহ তার মর্যিমাফিক গুনাহসমূহের মধ্যে যে কোন গুনাহের শাস্তি প্রদান কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহ, পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার গুনাহর শাস্তি অপরাধীর মৃত্যুর পূর্বেই এই দুনিয়াতে দিয়ে থাকেন (দা, তি)।
৫৯৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ يُبْصِرُ أَحَدُكُمُ القَدَاةَ فِي عَيْنٍ أَخِيهِ وَيَنْسَى الْجِدْلَ أَوِ الجذع فِي عَيْنِ نَفْسِهِ قَالَ أَبُو عُبَيْدِ الجِزْلُ الخَشَبَةُ العَالِيَةُ الكَبِيرَةُ.
৫৯৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যকার সামান্য ধূলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা কড়িকাঠ বা গুড়ি পড়ে থাকলেও তা দেখতে পায় না।
৫৯৬- عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ مَعْقِلِ الْمُزَنِي فَأَمَاطَ أَذِي عَنِ الطَّرِيقِ فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَبَادَرْتُهُ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ شَيْئًا فَصَنْعْتُهُ قَالَ أَحْسَنْتَ يَا ابْنَ أَخِي سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ مَنْ أَمَاطَ أَذَا عَنْ طَرِيقِ المسلمينَ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ وَمَنْ تُقْبَلَتْ لَهُ حَسَنَةٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৫৯৬। মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমি মাকিল আল-মুযানী (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করলেন। অতঃপর আমিও রাস্তায় কিছু একটা দেখে তা সরালাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে কিসে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? আমি বললাম, আপনাকে এরূপ করতে দেখে আমিও তাই করলাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি খুব উত্তম কাজ করেছো। আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলমানদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করে, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়। আর যার একটি সওয়াবের কাজ কবুল হয়, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।
📄 উপহারাদি গ্রহণ
২৬৯ - بَابُ قُبُول الهدية
২৬৯- অনুচ্ছেদ: উপহারাদি গ্রহণ।
৫৯৭- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ تَهَادُوا تَحَابُّوا .
৫৯৭। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তোমরা পরস্পর উপহারাদি বিনিময় করো, তোমাদের পারস্পরিক মহব্বত সৃষ্টি হবে (যায়লাঈ ও সুয়ূতীর মতে আবু ইয়ালা, নাসাঈর কিতাবুল কুনা, শুআব, ইবনে আদীর কামিল)।
৫৯৮- عَنْ ثَابِتٍ قَالَ كَانَ أَنَسٌ يَقُولُ يَا بُنَيَّ تَبَادَلُوا بَيْنَكُمْ فَإِنَّهُ أَوَدُّ لِمَا بَيْنَكُمْ .
৫৯৮। সাবিত (র) বলেন, আনাস (রা) বলতেন, হে বৎসগণ! তোমরা পরস্পরের জন্য অর্থ-সম্পদ ব্যয় করো, তা তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টির উপায় হবে।
📄 মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি উপহারাদি বর্জন করে
۲۷۰ - بَابُ مَنْ لَمْ يَقْبَلِ الْهَدْيَةَ لَمَّا دَخَلَ الْبُغْضُ فِي النَّاسِ
২৭০- অনুচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি উপহারাদি বর্জন করে।
৫৯৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَهْدِي رَجُلٌ مِّنْ بَنِي فَزَارَةَ لِلنَّبِيِّ اللَّهُ نَاقَةً فَعَوَّضَهُ فَتَسَخْطَهُ فَسَمِعْتُ النَّبِيُّ الله عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ يُهْدِي أَحَدُهُمْ فَأَعَوِّضُهُ بِقَدْرِ مَا عِنْدِي ثُمَّ يَسْخُطُهُ وَأَيْمُ اللَّهِ لَا أَقْبَلُ بَعْدَ عَامِي هَذَا مِنَ الْعَرَبِ هَدْيَةً إِلَّا مِنْ قُرَشِي أَوْ أَنْصَارِي أَوْ ثَقَفِي أَوْ دَوْسِي.
৫৯৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ফাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (স)-কে একটি উষ্ট্রী উপহার দিলো। তিনিও তাকে প্রতিদান দিলেন। তাতে সে অসন্তুষ্ট হলো। আমি নবী (স)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমাকে তোমাদের কেউ হাদিয়া দিলে আমিও আমার সামর্থ্য অনুসারে তাকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। তাতে সে অসন্তুষ্ট হয়। আল্লাহ্র শপথ! এই বছরের পর আমি কুরাশী, আনসারী, সাকাফী ও দাওসী গোত্র ছাড়া কোন বেদুইনের হাদিয়া গ্রহণ করব না (তি, দা, না, আ, বা, হি)।
📄 লজ্জাশীলতা
۲۷۱ - بَابُ الْحَيَاء
২৭১- অনুচ্ছেদ: লজ্জাশীলতা।
৬০০- عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ عُقْبَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ اللهِ إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلامِ النُّبُوَّةِ إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ.
৬০০। আবু মাসউদ (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ নবুয়াতী কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে তাতে এও আছে, "তুমি নির্লজ্জ হতে পারলে যাচ্ছে তাই করতে পারো" (বু,দা,ই,আ,হি,তা)।
৬০১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْإِيْمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ أَوْ بِضْعٌ وَسَبْعُوْنَ شُعْبَةً أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: ঈমানের ষাট বা সত্তরের অধিক শাখা আছে। তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট শাখা হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই) এবং তার সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। লজ্জাশীলতাও ঈমানের একটি বিশেষ শাখা (বু,মু)।
৬০২- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ أَشَدُّ حَيَاءٌ مِّنَ الْعَدْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ.
৬০২। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, নবী (স) অন্দর মহলের পর্দানশীন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে তাঁর চেহারা দর্শনেই আমরা তা বুঝতে পারতাম (বু,মু, ই)।
৬০৩- عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ حَدَّثَاهُ أَنْ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ مُضْطَجِعُ عَلَى فِرَاشِ عَائِشَةَ لَأَبِسًا مِرْطَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ أَبِي بَكْرٍ هُوَ كَذَلِكَ فَقَضْي إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَاذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فَقَضْي إِلَيْهِ حَاجَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ قَالَ عُثْمَانُ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ اجْمَعِي إِلَيْكَ ثِيَابَكَ قَالَ فَقَضَيْتُ الَيْهِ حَاجَتِي ثُمَّ انْصَرَفْتُ قَالَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنْ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَبِّي وَإِنِّي خَشِيْتُ إِنْ اذِنْتُ لَهُ وَأَنَا عَلَى تِلْكَ الْحَالِ أَنْ لَا يَبْلُغَ إِلَى فِي حَاجَتِهِ.
৬০৩। উসমান (রা) ও আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। আবু বাক্স (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি তখন আয়েশা (রা)-এর একটি চাদর পরিহিত অবস্থায় তার বিছানায় শায়িত ছিলেন। তিনি এই অবস্থায় থাকতেই আবু বাক্স (রা)-কে সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন। আবু বাক্স (রা) তার সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। অতঃপর উমার (রা) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। তিনি শায়িত অবস্থায় তাকেও অনুমতি দিলেন। তিনিও তাঁর সাথে প্রয়োজন সেড়ে চলে গেলেন। উসমান (রা) বলেন, অতঃপর আমি তার সাথে সাক্ষাত প্রার্থনা করলাম। তিনি উঠে বসে আয়েশা (রা)-কে বলেনঃ তুমি তোমার কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নাও। উসমান (রা) বলেন, আমিও তাঁর সাথে নিজ প্রয়োজন সেড়ে বিদায় নিলাম। আয়েশা (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি দেখলাম, আপনি আবু বাক্স ও উমার (রা)-র আগমনে শংকিত বা সতর্ক হননি, যতটা হয়েছেন উসমান (রা)-এর আগমনে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ উসমান
২২০ আল-আদাবুল মুফরাদ
অতিশয় লজ্জাশীল প্রকৃতির লোক। আমি আশংকা করলাম, যদি আমি তাকে এই অবস্থায় ঘরে ঢোকার অনুমতি দেই তবে সে তার প্রয়োজন নিয়ে আমার নিকট পৌঁছতো না (মু, মুশকিল)।
৬০৪- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا كَانَ الْفُحْشَ فِي شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ.
৬০৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা কোন বস্তুর কেবল কদর্যতাই বৃদ্ধি করে। আর লজ্জা কোন জিনিসের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে (আ,ই)।
৬০৫- عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مَرَّ بِرَجُلٍ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০৫। সালেম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার ভাইকে লজ্জাশীলতার বিরুদ্ধে নসীহত করছিল। নবী (স) বলেনঃ তাকে ছাড়ো। কেননা লজ্জাশীলতা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত (মু, আ)।
৬০৬- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى رَجُلٍ يُعَاتِبُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ حَتَّى كَأَنَّهُ يَقُولُ أَضَرُّ بِكَ فَقَالَ ﷺ دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيْمَانِ.
৬০৬। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, নবী (স) এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি লজ্জা সম্পর্কে তার ভাইকে তিরস্কার করে বলছিল: তুমি খুবই লাজুক, এতে তোমার দারুণ ক্ষতি হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ঈমানের অংশ।
৬০৭- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مُضْطَجِعًا فِي بَيْتِي كَاشِفَاعَنْ فَخِذَيْهِ أَوْ سَاقَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ كَذَلِكَ ثُمَّ تَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ النَّبِيُّ ﷺ وَسَوَّى ثَيَابَهُ قَالَ مُحَمَّدٌ وَلَا أَقُولُ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ فَدَخَلَ فَتَحَدِّثَ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهِشٌ وَلَمْ تُبَالِهُ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهِشْ وَلَمْ تُبَالِهُ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ قَالَ أَلَا أَسْتَحْيِي مِنْ رَّجُلٍ تَسْتَحْيِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ .
৬০৭। আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তার ঘরে শোয়া ছিলেন। তার উরু অথবা পা খোলা ছিলো। আবু বাকর (রা) এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থাতেই কথাবার্তা বলেন। এরপর উমার (রা) অনুমতি চাইলে তিনি তাকেও অনুমতি দিলেন এবং এ অবস্থায় কথাবার্তা বলেন। অতঃপর উসমান (রা) অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (স) উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করলেন। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ ব্যাপারটি একই দিনে ঘটেছে বলে আমি বলতে পারি না। এরপর উসমান (রা) এসে কথাবার্তা বলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রা) বলেন, আবু বাক্স (রা) এলেন, আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উমার (রা) এলেন,
আপনি কোন খেয়াল করলেন না। উসমান (রা) আসতেই আপনি উঠে বসলেন এবং কাপড় ঠিক করে নিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: আমি কি সে ব্যক্তিকে লজ্জা করবো না ফেরেশতারা যাকে লজ্জা করে থাকেন (মু, মুশকিল)।