📄 কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা
২৬৭ - بَابُ التَّوَدَّةِ فِي الْأُمُورِ
২৬৭- অনুচ্ছেদ: কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা।
৫৮৭- عَنْ أَشَجَّ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ فِيْكَ الْخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ قُلْتُ وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الحِلْمُ وَالْحَيَاءُ قُلْتُ قَدِيْمًا كَانَ أَوْ حَدِيثًا قَالَ قَدِيمًا قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَي خُلُقَيْنِ أَحَبَّهُمَا اللَّهُ.
৫৮৭। আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জ (রা) বলেন, নবী (স) বললেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহ্ পছন্দনীয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ সহিষ্ণুতা ও লজ্জাশীলতা। আমি বললাম, এই দুইটি অভ্যাস পূর্ব থেকে আমার মধ্যে ছিল না নতুনভাবে দেখছেন? তিনি বলেনঃ পূর্ব থেকে। আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহ্, যিনি আমার মধ্যে জন্মগতভাবে এমন দু'টি অভ্যাস সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহ পছন্দ করেন (নাসাঈ, আবু ইয়ালা)।
৫৮৮- عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ إِنَّ فِيكَ لخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمُ وَالْآنَاةُ.
৫৮৮। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, নবী (স) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতা) আশাজ্জ (রা)-কে বলেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন। তা হলো সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা (মু)।
৫৮৯- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ إِنَّ فِيْكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الحِلْمُ وَالْآنَاةُ.
৫৮৯। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতা) আশাজ্জ (রা)-কে বললেন: তোমার মধ্যে এমন দু'টি বৈশিষ্ট্য আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন, সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা (মু, তি, ই, হি, আন)।
৫৯০- عَنْ مَزِيدَةَ العَبْدِي قَالَ جَاءَ الْأَشَقُّ يَمْشِي حَتَّى أَخَذَ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَبَّلَهَا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ أَمَا إِنَّ فِيْكَ لَخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ قَالَ جَبْلاً جُبِلْتُ
২১৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
عَلَيْهِ أَوْ خُلُقًا مُعِي قَالَ لَا بَلْ جَبْلاً جُبِلْتَ عَلَيْهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَى مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَرَسُولُهُ .
৫৯০। মাযীদা আল-আবদী (র) বলেন, আশাজ্জ (রা) পদব্রজে এসে নবী (স)-এর হাত ধরে তাতে চুমা দিলেন। নবী (স) তাকে বলেনঃ জেনে রাখো, তোমার মধ্যে এমন দু'টি স্বভাব রয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খুবই মনঃপুত। আশাজ্জ (রা) বলেন, ঐগুলি কি আমার প্রকৃতিগত না আমার চরিত্রগত? তিনি বলেনঃ না, ঐগুলি তোমাকে প্রকৃতিগতভাবেই দান করা হয়েছে। আশাজ্জ (রা) বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, যিনি আমাকে প্রকৃতিগতভাবেই এমন স্বভাব দান করেছেন, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের মনঃপুত (বুখারীর তারীখুল কাবীর)।
📄 বিদ্রোহ
٢٦٨ - بَابُ الْبَغْيِ
২৬৮- অনুচ্ছেদ : বিদ্রোহ।
৫৯১- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَوْ أَنْ جَبَلَا بَغْيِ عَلَى جَبَلٍ لَدِكَ الْبَاغِيِّ.
৫৯১। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, যদি এক পাহাড় অন্য পাহাড়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতো, তবে বিদ্রোহী পাহাড় একাকার হয়ে যেতো (তাফসীরে রূহুল মাআনী, সূরা ইউনুস, জামে সগীর, শুয়াব)।
৫৯২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ احْتَجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ فَقَالَتِ النَّارُ يَدْخُلُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ وَالمُتَجَبِّرُونَ وَقَالَت الجَنَّةُ لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا الضُّعَفَاءُ وَالْمَسَاكِينُ فَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أَنْتَقِمُ بِكِ مِمَّنْ شِئْتُ وَقَالَ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكَ مَنْ شِئْتُ.
৫৯২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: দোযখ ও বেহেশত বিতর্কে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, অহংকারী ও পরাক্রমশালী স্বৈরাচারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও নিঃস্বরাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা দোযখকে বলেন, তুই হলি আমার আযাব। যার থেকে ইচ্ছা আমি তোর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো। তিনি বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার রহমাত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো।
৫৯৩- عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَعَصَى إِمَامَهُ فَمَاتَ عَاصِيًا فَلَا تُسْأَلُ عَنْهُ وَآمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبَقَ مِنْ سَيِّدِهِ وَامْرَأَةٌ غَابَ زَوْجُهَا وَكَفَاهَا مُؤنَةَ الدُّنْيَا فَتَبَرِّجَتْ وَتَمَرَّجَتْ بَعْدَهُ وَثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلُ نَازَعَ اللهِ رِدَاءَهُ فَإِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرِيَاءُ وَ إِزَارَهُ عِزَّهُ وَرَجُلٌ شَكٍّ فِي أَمْرِ اللَّهِ وَالْقَنُوطُ مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ.
৫৯৩। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না (সরাসরি দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে)। (১) যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো এবং তার ইমামের (নেতার) অবাধ্য হলো এবং অবাধ্য অবস্থায় মারা গেলো। তাকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (২) যে ক্রীতদাসী বা ক্রীতদাস তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেলো। (৩) যে নারীর স্বামী বহির্দেশে গিয়েছে, সে যদি তার অনুপস্থিতিতে তার রূপ-যৌবনের পসরা করে বেড়ায় এবং ভ্রষ্টা হয়। আরো তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র চাদর নিয়ে টানাহেঁচড়া করে। আর তাঁর চাদর হচ্ছে অহংকার এবং তাঁর পরিধেয় হচ্ছে তাঁর ইজ্জত। (২) যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের মধ্যে সন্দেহ পোষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ রহমাত থেকে নিরাশ হয় (আ)।
৫৯৪- حَدَّثَنَا بَكَارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كُلُّ ذُنُوبِ يُؤَخِّرُ اللَّهُ مِنْهَا مَا شَاءَ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا الْبَغِيُّ وَعُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ أَوْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ يُعَجِّلُ لِصَاحِبِهَا فِي الدُّنْيَا قَبْلَ الْمَوْتِ.
৫৯৪। বাক্কার ইবনে আবদুল আযীয (র) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আল্লাহ তার মর্যিমাফিক গুনাহসমূহের মধ্যে যে কোন গুনাহের শাস্তি প্রদান কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহ, পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার গুনাহর শাস্তি অপরাধীর মৃত্যুর পূর্বেই এই দুনিয়াতে দিয়ে থাকেন (দা, তি)।
৫৯৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ يُبْصِرُ أَحَدُكُمُ القَدَاةَ فِي عَيْنٍ أَخِيهِ وَيَنْسَى الْجِدْلَ أَوِ الجذع فِي عَيْنِ نَفْسِهِ قَالَ أَبُو عُبَيْدِ الجِزْلُ الخَشَبَةُ العَالِيَةُ الكَبِيرَةُ.
৫৯৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যকার সামান্য ধূলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা কড়িকাঠ বা গুড়ি পড়ে থাকলেও তা দেখতে পায় না।
৫৯৬- عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ مَعْقِلِ الْمُزَنِي فَأَمَاطَ أَذِي عَنِ الطَّرِيقِ فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَبَادَرْتُهُ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ شَيْئًا فَصَنْعْتُهُ قَالَ أَحْسَنْتَ يَا ابْنَ أَخِي سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ مَنْ أَمَاطَ أَذَا عَنْ طَرِيقِ المسلمينَ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ وَمَنْ تُقْبَلَتْ لَهُ حَسَنَةٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৫৯৬। মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমি মাকিল আল-মুযানী (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করলেন। অতঃপর আমিও রাস্তায় কিছু একটা দেখে তা সরালাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে কিসে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? আমি বললাম, আপনাকে এরূপ করতে দেখে আমিও তাই করলাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি খুব উত্তম কাজ করেছো। আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলমানদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করে, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়। আর যার একটি সওয়াবের কাজ কবুল হয়, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।
📄 উপহারাদি গ্রহণ
২৬৯ - بَابُ قُبُول الهدية
২৬৯- অনুচ্ছেদ: উপহারাদি গ্রহণ।
৫৯৭- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ تَهَادُوا تَحَابُّوا .
৫৯৭। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তোমরা পরস্পর উপহারাদি বিনিময় করো, তোমাদের পারস্পরিক মহব্বত সৃষ্টি হবে (যায়লাঈ ও সুয়ূতীর মতে আবু ইয়ালা, নাসাঈর কিতাবুল কুনা, শুআব, ইবনে আদীর কামিল)।
৫৯৮- عَنْ ثَابِتٍ قَالَ كَانَ أَنَسٌ يَقُولُ يَا بُنَيَّ تَبَادَلُوا بَيْنَكُمْ فَإِنَّهُ أَوَدُّ لِمَا بَيْنَكُمْ .
৫৯৮। সাবিত (র) বলেন, আনাস (রা) বলতেন, হে বৎসগণ! তোমরা পরস্পরের জন্য অর্থ-সম্পদ ব্যয় করো, তা তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টির উপায় হবে।
📄 মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি উপহারাদি বর্জন করে
۲۷۰ - بَابُ مَنْ لَمْ يَقْبَلِ الْهَدْيَةَ لَمَّا دَخَلَ الْبُغْضُ فِي النَّاسِ
২৭০- অনুচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি উপহারাদি বর্জন করে।
৫৯৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَهْدِي رَجُلٌ مِّنْ بَنِي فَزَارَةَ لِلنَّبِيِّ اللَّهُ نَاقَةً فَعَوَّضَهُ فَتَسَخْطَهُ فَسَمِعْتُ النَّبِيُّ الله عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ يُهْدِي أَحَدُهُمْ فَأَعَوِّضُهُ بِقَدْرِ مَا عِنْدِي ثُمَّ يَسْخُطُهُ وَأَيْمُ اللَّهِ لَا أَقْبَلُ بَعْدَ عَامِي هَذَا مِنَ الْعَرَبِ هَدْيَةً إِلَّا مِنْ قُرَشِي أَوْ أَنْصَارِي أَوْ ثَقَفِي أَوْ دَوْسِي.
৫৯৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ফাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি নবী (স)-কে একটি উষ্ট্রী উপহার দিলো। তিনিও তাকে প্রতিদান দিলেন। তাতে সে অসন্তুষ্ট হলো। আমি নবী (স)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমাকে তোমাদের কেউ হাদিয়া দিলে আমিও আমার সামর্থ্য অনুসারে তাকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। তাতে সে অসন্তুষ্ট হয়। আল্লাহ্র শপথ! এই বছরের পর আমি কুরাশী, আনসারী, সাকাফী ও দাওসী গোত্র ছাড়া কোন বেদুইনের হাদিয়া গ্রহণ করব না (তি, দা, না, আ, বা, হি)।