📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে

📄 যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে


٢٦٥ - بَابُ مَنْ أَحَبُّ كِتْمَانَ السِّرِّ وَأَنْ يُجَالِسَ كُلَّ قَوْمٍ فَيَعْرِفُ أَخْلَاقَهُمْ
২৬৫- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে।
৫৮৫- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِيِّ عَنْ أَبِيْهِ أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ وَرَجُلاً مِّنَ الْأَنْصَارِ كَانَا جَالِسَيْنِ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْقَارِيِّ فَجَلَسَ إِلَيْهِمَا فَقَالَ عُمَرُ إِنَّا لَا نُحِبُّ مَنْ يُرْفَعُ حَدِيثَنَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لَسْتُ أَجَالِسُ أُولَئِكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ عُمَرُ بَلَى فَجَالِسٌ هُذَا وَهُذَا وَلَا تَرْفَعْ حَدِيثَنَا ثُمَّ قَالَ لِلْأَنْصَارِي مَنْ تَرَى النَّاسَ يَقُولُوْنَ يَكُونُ الخَلِيفَةُ بَعْدِي فَعَدْدَ الْأَنْصَارِيُّ رِجَالاً مِّنَ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يُسَمَّ عَلِيًّا فَقَالَ عُمَرُ فَمَا لَهُمْ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَحْرَاهُمْ إِنْ كَانَ عَلَيْهِمْ أَنْ يُقِيمَهُمْ عَلَى طَرِيقَةٍ مِّنَ الْحَقِّ.
৫৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) ও এক আনসার ব্যক্তি একত্রে বসা ছিলেন। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) এসে তাদের নিকট বসলেন। উমার (রা) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের কথা অন্যদের কাছে পৌঁছায় আমরা তাকে পছন্দ করি না। আবদুর রহমান (র) তাকে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি তাদের সাথে ওঠাবসা করি না। উমার (রা) বলেন, হাঁ, তুমি এর সাথে ওর সাথে ওঠাবসা করো, কিন্তু আমাদের (গোপন) কথা কোথাও ফাঁস করো না। অতঃপর তিনি আনসারীকে বলেন, আচ্ছা! আমার পরে কে খলীফা হবে বলে লোকজন আলোচনা করে? আনসারী মুহাজিরদের বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন, কিন্তু তাতে আলী (রা)-এর নাম উল্লেখ করেননি? উমার (রা) বলেন, তারা হাসানের পিতার (আলীর) কথা বলে না কেন? আল্লাহর শপথ! তিনি তাদের শাসনভার প্রাপ্ত হলে তিনিই তাদের সত্য পথে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার ব্যাপারে সর্বাধিক যোগ্য।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বর্জনীয়

📄 কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বর্জনীয়


٢٦٦ - بَابُ التَّوَدَّةِ فِي الْأُمُورِ
২৬৬- অনুচ্ছেদ: কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বর্জনীয়।
৫৮৬- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ أَنَّ رَجُلًا تُوُفِّيَ وَتَرَكَ ابْنَا لَهُ وَمَوْلَى لَهُ فَأَوْصَى مَوْلَاهُ بِابْنِهِ فَلَمْ يَالُوهُ حَتَّى أَدْرَكَ وَزَوْجَهُ فَقَالَ لَهُ جَهَرْنِي أَطْلُبُ الْعِلْمَ فَجَهْزَهُ فَأَتَى عَالِمًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ تَنْطَلِقَ فَقُلْ لِي أَعَلِّمُكَ فَقَالَ حَضَرَ مِنِّي الْخُرُوجَ فَعَلَّمْنِي فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَاصْبِرْ وَلَا تَسْتَعْجِلْ قَالَ الْحَسَنُ فِي هَذَا الخُيْرُ كُلُّهُ فَجَاءَ وَلَا يَكَادُ يَنْسَاهُنَّ إِنَّمَا هُنَّ ثَلَاثَ فَلَمَّا جَاءَ أَهْلَهُ نَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا نَزَلَ الدَّارَ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ نَائِمِ مُتَرَاجٍ عَنِ المَرأَةِ وَإِذَا امْرَأَتُهُ نَائِمَةٌ قَالَ وَاللَّهِ مَا أُرِيدُ مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا فَرَجَعَ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ السَّيْفَ قَالَ اتَّقِ اللهَ وَاصْبِرْ وَلَا تَسْتَعْجِلْ فَرَجَعَ فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا شَيْئًا فَرَجَعَ الى راحلته فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ سَيْفَهُ ذَكَرَهُ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَاسه اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ فَلَمَّا رَأَهُ وَتَبَ إِلَيْهِ فَعَانَقَهُ وَقَبْلَهُ وَسَائِلَهُ قَالَ مَا أَصَبْتَ بَعْدِي قَالَ أَصَبْتُ وَالله بَعْدَكَ خَيْرًا كَثِيراً أَصَبْتُ وَاللَّهِ بَعْدَكَ أَنِّي مَسَيْتُ اللَّيْلَةَ بَيْنَ السَّيْفِ وَبَيْنَ رَأْسِكَ ثَلَاثَ مِرَارٍ فَحَجَزَنِي مَا أَصَبْتُ مِنَ الْعِلْمِ عَنْ قَتْلِكَ.
৫৮৬। হাসান বসরী (র) বলেন, এক ব্যক্তি মৃত্যুকালে একটি পুত্র সন্তান ও একটি মুক্তদাস রেখে যায়। সে তার পুত্রের বিষয়ে তার মুক্তদাসকে ওসিয়াত করে যায়। সে তার ব্যাপারে কোন অবহেলা করেনি। ছেলেটি বালেগ হলে সে তাকে বিবাহও করায়। সে মুক্তদাসকে বললো, আমার সফরের আয়োজন করে দাও। আমি জ্ঞান অন্বেষণ করবো। সে তার সফরের আয়োজন করে দিলো। অতএব সে একজন আলেমের নিকট এসে তার কাছে জ্ঞানদানের আবেদন করলো। আলেম ব্যক্তি তাকে বলেন, তোমার ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তখন আমাকে বলবে, আমি তোমাকে জ্ঞানের কথা শিখাবো। সে আলেমকে বললো, আমার প্রত্যাবর্তনের সময় হয়েছে। আপনি আমাকে জ্ঞানের কথা শিখিয়ে দিন। আলেম বলেন, "তুমি আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরো এবং (কোন ব্যাপারে) তাড়াহুড়া করো না"। হাসান (র) বলেন, এতে সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সে যখন ফিরে এলো তখন তা তার স্মরণে ছিল। কেননা কথা ছিল মাত্র তিনটি। সে তার পরিবারে পৌঁছে সওয়ারী থেকে অবতরণ করলো। সে ঘরে ঢুকে দেখলো যে, একটি পুরুষলোক শিথিল অবস্থায় একটি নারীর অদূরে ঘুমিয়ে আছে। আর সেই নারী হচ্ছে তারই স্ত্রী। সে মনে মনে বললো, আল্লাহ্র শপথ! এই দৃশ্য দেখার পর আর কিসের অপেক্ষা করবো। সে তার সওয়ারীর কাছে ফিরে এলো। তরবারি নিতে গিয়ে তার স্মরণ হলো, "আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরো এবং তাড়াহুড়া করো না"। সে আবার ফিরে গিয়ে তার শিয়রের নিকট দাঁড়িয়ে বললো, এমন দৃশ্য দেখার পর আর মোটেও অপেক্ষা করবো না। সে তার সওয়ারীর নিকট ফিরে এলো এবং তরবারি তুলতে যেতেই উপদেশের কথা স্মরণ হলো। পুনরায় সে তার নিকট ফিরে গেলো।
সে তার শিয়রের নিকট দাঁড়াতেই নিদ্রিত ব্যক্তি জেগে উঠলো এবং তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলো, তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো। সে বললো, আমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আপনি কেমন ছিলেন? সে বললো, আল্লাহ্র শপথ! তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আমি পর্যাপ্ত কল্যাণ লাভ করেছি, আল্লাহর শপথ! ভালোই। আজ রাতে আমি মোট তিনবার তরবারি ও তোমার মাথার মাঝে যাতায়াত করেছি এবং যে জ্ঞান আমি অর্জন করেছি, তোমাকে হত্যা করার ব্যাপারে তা আমার প্রতিবন্ধক হয়েছে।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা

📄 কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা


২৬৭ - بَابُ التَّوَدَّةِ فِي الْأُمُورِ
২৬৭- অনুচ্ছেদ: কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা।
৫৮৭- عَنْ أَشَجَّ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ فِيْكَ الْخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ قُلْتُ وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الحِلْمُ وَالْحَيَاءُ قُلْتُ قَدِيْمًا كَانَ أَوْ حَدِيثًا قَالَ قَدِيمًا قُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَي خُلُقَيْنِ أَحَبَّهُمَا اللَّهُ.
৫৮৭। আবদুল কায়েস গোত্রের আশাজ্জ (রা) বলেন, নবী (স) বললেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহ্ পছন্দনীয়। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ সহিষ্ণুতা ও লজ্জাশীলতা। আমি বললাম, এই দুইটি অভ্যাস পূর্ব থেকে আমার মধ্যে ছিল না নতুনভাবে দেখছেন? তিনি বলেনঃ পূর্ব থেকে। আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহ্, যিনি আমার মধ্যে জন্মগতভাবে এমন দু'টি অভ্যাস সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহ পছন্দ করেন (নাসাঈ, আবু ইয়ালা)।
৫৮৮- عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ إِنَّ فِيكَ لخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمُ وَالْآنَاةُ.
৫৮৮। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, নবী (স) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতা) আশাজ্জ (রা)-কে বলেনঃ তোমার মধ্যে এমন দুইটি অভ্যাস আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন। তা হলো সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা (মু)।
৫৮৯- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ إِنَّ فِيْكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الحِلْمُ وَالْآنَاةُ.
৫৮৯। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স) আবদুল কায়েস গোত্রের (প্রতিনিধি দলের নেতা) আশাজ্জ (রা)-কে বললেন: তোমার মধ্যে এমন দু'টি বৈশিষ্ট্য আছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন, সহিষ্ণুতা ও ধীরস্থিরতা (মু, তি, ই, হি, আন)।
৫৯০- عَنْ مَزِيدَةَ العَبْدِي قَالَ جَاءَ الْأَشَقُّ يَمْشِي حَتَّى أَخَذَ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَبَّلَهَا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ أَمَا إِنَّ فِيْكَ لَخُلُقَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ قَالَ جَبْلاً جُبِلْتُ
২১৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
عَلَيْهِ أَوْ خُلُقًا مُعِي قَالَ لَا بَلْ جَبْلاً جُبِلْتَ عَلَيْهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَبَلَنِي عَلَى مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَرَسُولُهُ .
৫৯০। মাযীদা আল-আবদী (র) বলেন, আশাজ্জ (রা) পদব্রজে এসে নবী (স)-এর হাত ধরে তাতে চুমা দিলেন। নবী (স) তাকে বলেনঃ জেনে রাখো, তোমার মধ্যে এমন দু'টি স্বভাব রয়েছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খুবই মনঃপুত। আশাজ্জ (রা) বলেন, ঐগুলি কি আমার প্রকৃতিগত না আমার চরিত্রগত? তিনি বলেনঃ না, ঐগুলি তোমাকে প্রকৃতিগতভাবেই দান করা হয়েছে। আশাজ্জ (রা) বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র, যিনি আমাকে প্রকৃতিগতভাবেই এমন স্বভাব দান করেছেন, যা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের মনঃপুত (বুখারীর তারীখুল কাবীর)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বিদ্রোহ

📄 বিদ্রোহ


٢٦٨ - بَابُ الْبَغْيِ
২৬৮- অনুচ্ছেদ : বিদ্রোহ।
৫৯১- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَوْ أَنْ جَبَلَا بَغْيِ عَلَى جَبَلٍ لَدِكَ الْبَاغِيِّ.
৫৯১। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, যদি এক পাহাড় অন্য পাহাড়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতো, তবে বিদ্রোহী পাহাড় একাকার হয়ে যেতো (তাফসীরে রূহুল মাআনী, সূরা ইউনুস, জামে সগীর, শুয়াব)।
৫৯২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ احْتَجَّتِ النَّارُ وَالْجَنَّةُ فَقَالَتِ النَّارُ يَدْخُلُنِي الْمُتَكَبِّرُونَ وَالمُتَجَبِّرُونَ وَقَالَت الجَنَّةُ لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا الضُّعَفَاءُ وَالْمَسَاكِينُ فَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أَنْتَقِمُ بِكِ مِمَّنْ شِئْتُ وَقَالَ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكَ مَنْ شِئْتُ.
৫৯২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: দোযখ ও বেহেশত বিতর্কে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, অহংকারী ও পরাক্রমশালী স্বৈরাচারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও নিঃস্বরাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা দোযখকে বলেন, তুই হলি আমার আযাব। যার থেকে ইচ্ছা আমি তোর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিবো। তিনি বেহেশতকে বলেন, তুমি আমার রহমাত, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো।
৫৯৩- عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَعَصَى إِمَامَهُ فَمَاتَ عَاصِيًا فَلَا تُسْأَلُ عَنْهُ وَآمَةٌ أَوْ عَبْدٌ أَبَقَ مِنْ سَيِّدِهِ وَامْرَأَةٌ غَابَ زَوْجُهَا وَكَفَاهَا مُؤنَةَ الدُّنْيَا فَتَبَرِّجَتْ وَتَمَرَّجَتْ بَعْدَهُ وَثَلَاثَةٌ لَا يُسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلُ نَازَعَ اللهِ رِدَاءَهُ فَإِنَّ رِدَاءَهُ الْكِبْرِيَاءُ وَ إِزَارَهُ عِزَّهُ وَرَجُلٌ شَكٍّ فِي أَمْرِ اللَّهِ وَالْقَنُوطُ مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ.
৫৯৩। ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না (সরাসরি দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে)। (১) যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো এবং তার ইমামের (নেতার) অবাধ্য হলো এবং অবাধ্য অবস্থায় মারা গেলো। তাকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (২) যে ক্রীতদাসী বা ক্রীতদাস তার মনিবের নিকট থেকে পালিয়ে গেলো। (৩) যে নারীর স্বামী বহির্দেশে গিয়েছে, সে যদি তার অনুপস্থিতিতে তার রূপ-যৌবনের পসরা করে বেড়ায় এবং ভ্রষ্টা হয়। আরো তিন ব্যক্তিকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র চাদর নিয়ে টানাহেঁচড়া করে। আর তাঁর চাদর হচ্ছে অহংকার এবং তাঁর পরিধেয় হচ্ছে তাঁর ইজ্জত। (২) যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুমের মধ্যে সন্দেহ পোষণ করে। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহ্ রহমাত থেকে নিরাশ হয় (আ)।
৫৯৪- حَدَّثَنَا بَكَارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ كُلُّ ذُنُوبِ يُؤَخِّرُ اللَّهُ مِنْهَا مَا شَاءَ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَّا الْبَغِيُّ وَعُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ أَوْ قَطِيعَةِ الرَّحِمِ يُعَجِّلُ لِصَاحِبِهَا فِي الدُّنْيَا قَبْلَ الْمَوْتِ.
৫৯৪। বাক্কার ইবনে আবদুল আযীয (র) থেকে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আল্লাহ তার মর্যিমাফিক গুনাহসমূহের মধ্যে যে কোন গুনাহের শাস্তি প্রদান কিয়ামত পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহ, পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার গুনাহর শাস্তি অপরাধীর মৃত্যুর পূর্বেই এই দুনিয়াতে দিয়ে থাকেন (দা, তি)।
৫৯৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ يُبْصِرُ أَحَدُكُمُ القَدَاةَ فِي عَيْنٍ أَخِيهِ وَيَنْسَى الْجِدْلَ أَوِ الجذع فِي عَيْنِ نَفْسِهِ قَالَ أَبُو عُبَيْدِ الجِزْلُ الخَشَبَةُ العَالِيَةُ الكَبِيرَةُ.
৫৯৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যকার সামান্য ধূলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা কড়িকাঠ বা গুড়ি পড়ে থাকলেও তা দেখতে পায় না।
৫৯৬- عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ مَعْقِلِ الْمُزَنِي فَأَمَاطَ أَذِي عَنِ الطَّرِيقِ فَرَأَيْتُ شَيْئًا فَبَادَرْتُهُ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَا ابْنَ أَخِي قَالَ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ شَيْئًا فَصَنْعْتُهُ قَالَ أَحْسَنْتَ يَا ابْنَ أَخِي سَمِعْتُ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ مَنْ أَمَاطَ أَذَا عَنْ طَرِيقِ المسلمينَ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ وَمَنْ تُقْبَلَتْ لَهُ حَسَنَةٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৫৯৬। মুয়াবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমি মাকিল আল-মুযানী (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করলেন। অতঃপর আমিও রাস্তায় কিছু একটা দেখে তা সরালাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে কিসে এই কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? আমি বললাম, আপনাকে এরূপ করতে দেখে আমিও তাই করলাম। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি খুব উত্তম কাজ করেছো। আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলমানদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করে, তার জন্য একটি সওয়াব লেখা হয়। আর যার একটি সওয়াবের কাজ কবুল হয়, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00