📄 বিরান জনপদে বসবাসকারী
٢٦٣ - بَابُ سَاكِنِ الْقُرَى
২৬৩- অনুচ্ছেদ: বিরান জনপদে বসবাসকারী।
৫৮১- عَنْ ثَوْبَانَ يَقُولُ قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُسْكِنِ الْكَفُورَ فَإِنْ سَاكِنَ الْكَفُورِ كَسَاكِنِ الْقُبُورِ قَالَ أَحْمَدُ الْكَفُورُ القُرى.৫৮১। সাওবান (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলেন: তুমি বিরানভূমিতে বসতি স্থাপন করো না। কেননা বিরানভূমির অধিবাসী যেন কবরের অধিবাসী। আহমاد (র) বলেন, কাফুর শব্দের অর্থ গ্রামাঞ্চল।
৫৮২- عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ يَا ثَوبَانُ لَا تُسْكِنِ الْكَفُورَ فَإِنَّ سَاكِنَ الْكَفُورِ كَسَاكِنِ الْقُبُورِ.৫৮২। সাওবাস (রা) বলেন, নবী (স) আমাকে বলেছেন: হে সাওবান! বিরানভূমিতে বসবাস করো না। কেননা বিরানভূমির বাসিন্দা কবরের বাসিন্দা তুল্য।
📄 মরুময় ভূমিতে বা পানির উৎসে বসবাস
٢٦٤ - بَابُ الْبَدَوِ إِلَي التَّلاعِ
২৬৪- অনুচ্ছেদ: মরুময় ভূমিতে বা পানির উৎসে বসবাস।
৫৮৩- عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْبَدَوِ قُلْتُ وَهَلْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَبْدُو قَالَتْ نَعَمْ كَانَ بَيْدُوْ إِلَى هَؤُلاءِ التَّلاعِ.
৫৮৩। মিকদাম ইবনে শুরায়হ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে মরু এলাকায় বসবাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, নবী (স) কি মরুময় এলাকায় যেতেন! তিনি বলেনঃ তিনি (পাহাড়ের উপর থেকে নিচে প্রবাহিত) ঐসব পানির উৎসে যেতেন (দা, মু, আ)।
৫৮৪- عَنْ عَمْرِو بْنِ وَهْبٍ قَالَ رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَسَيْدٍ إِذَا رَكِبَ وَهُوَ مُحْرِمٌ وَضَعَ ثَوْبَهُ عَنْ مَنْكِبَيْهِ وَوَضَعَهُ عَلَى فَخِذَيْهِ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَفْعَلُ مِثْلَ هذا .
৫৮৪। আমর ইবনে ওয়াহব (র) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উসাইদ (R)-কে দেখেছি যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় জন্তুযানে আরোহণ করলে, তার দুই কাঁধের উপর থেকে কাপড় তার দুই উরুর উপর রাখতেন। আমি বললাম, এটা কি? তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ (রা)-কে এরূপ করতে দেখেছি।
📄 যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে
٢٦٥ - بَابُ مَنْ أَحَبُّ كِتْمَانَ السِّرِّ وَأَنْ يُجَالِسَ كُلَّ قَوْمٍ فَيَعْرِفُ أَخْلَاقَهُمْ
২৬৫- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি গোপনীয়তা রক্ষা পছন্দ করে এবং যে কোন লোকের সাথে তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী অবহিত হওয়ার জন্য মেলামেশা করে।
৫৮৫- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْقَارِيِّ عَنْ أَبِيْهِ أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ وَرَجُلاً مِّنَ الْأَنْصَارِ كَانَا جَالِسَيْنِ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْقَارِيِّ فَجَلَسَ إِلَيْهِمَا فَقَالَ عُمَرُ إِنَّا لَا نُحِبُّ مَنْ يُرْفَعُ حَدِيثَنَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لَسْتُ أَجَالِسُ أُولَئِكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ عُمَرُ بَلَى فَجَالِسٌ هُذَا وَهُذَا وَلَا تَرْفَعْ حَدِيثَنَا ثُمَّ قَالَ لِلْأَنْصَارِي مَنْ تَرَى النَّاسَ يَقُولُوْنَ يَكُونُ الخَلِيفَةُ بَعْدِي فَعَدْدَ الْأَنْصَارِيُّ رِجَالاً مِّنَ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يُسَمَّ عَلِيًّا فَقَالَ عُمَرُ فَمَا لَهُمْ عَنْ أَبِي الْحَسَنِ فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَحْرَاهُمْ إِنْ كَانَ عَلَيْهِمْ أَنْ يُقِيمَهُمْ عَلَى طَرِيقَةٍ مِّنَ الْحَقِّ.
৫৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) ও এক আনসার ব্যক্তি একত্রে বসা ছিলেন। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল কারী (র) এসে তাদের নিকট বসলেন। উমার (রা) বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের কথা অন্যদের কাছে পৌঁছায় আমরা তাকে পছন্দ করি না। আবদুর রহমান (র) তাকে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি তাদের সাথে ওঠাবসা করি না। উমার (রা) বলেন, হাঁ, তুমি এর সাথে ওর সাথে ওঠাবসা করো, কিন্তু আমাদের (গোপন) কথা কোথাও ফাঁস করো না। অতঃপর তিনি আনসারীকে বলেন, আচ্ছা! আমার পরে কে খলীফা হবে বলে লোকজন আলোচনা করে? আনসারী মুহাজিরদের বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন, কিন্তু তাতে আলী (রা)-এর নাম উল্লেখ করেননি? উমার (রা) বলেন, তারা হাসানের পিতার (আলীর) কথা বলে না কেন? আল্লাহর শপথ! তিনি তাদের শাসনভার প্রাপ্ত হলে তিনিই তাদের সত্য পথে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার ব্যাপারে সর্বাধিক যোগ্য।
📄 কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বর্জনীয়
٢٦٦ - بَابُ التَّوَدَّةِ فِي الْأُمُورِ
২৬৬- অনুচ্ছেদ: কাজেকর্মে তাড়াহুড়া বর্জনীয়।
৫৮৬- حَدَّثَنَا الْحَسَنُ أَنَّ رَجُلًا تُوُفِّيَ وَتَرَكَ ابْنَا لَهُ وَمَوْلَى لَهُ فَأَوْصَى مَوْلَاهُ بِابْنِهِ فَلَمْ يَالُوهُ حَتَّى أَدْرَكَ وَزَوْجَهُ فَقَالَ لَهُ جَهَرْنِي أَطْلُبُ الْعِلْمَ فَجَهْزَهُ فَأَتَى عَالِمًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ تَنْطَلِقَ فَقُلْ لِي أَعَلِّمُكَ فَقَالَ حَضَرَ مِنِّي الْخُرُوجَ فَعَلَّمْنِي فَقَالَ اتَّقِ اللَّهَ وَاصْبِرْ وَلَا تَسْتَعْجِلْ قَالَ الْحَسَنُ فِي هَذَا الخُيْرُ كُلُّهُ فَجَاءَ وَلَا يَكَادُ يَنْسَاهُنَّ إِنَّمَا هُنَّ ثَلَاثَ فَلَمَّا جَاءَ أَهْلَهُ نَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا نَزَلَ الدَّارَ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ نَائِمِ مُتَرَاجٍ عَنِ المَرأَةِ وَإِذَا امْرَأَتُهُ نَائِمَةٌ قَالَ وَاللَّهِ مَا أُرِيدُ مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا فَرَجَعَ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ السَّيْفَ قَالَ اتَّقِ اللهَ وَاصْبِرْ وَلَا تَسْتَعْجِلْ فَرَجَعَ فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَأْسِهِ قَالَ مَا أَنْتَظِرُ بِهَذَا شَيْئًا فَرَجَعَ الى راحلته فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَأْخُذَ سَيْفَهُ ذَكَرَهُ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَلَمَّا قَامَ عَلَى رَاسه اسْتَيْقَظَ الرَّجُلُ فَلَمَّا رَأَهُ وَتَبَ إِلَيْهِ فَعَانَقَهُ وَقَبْلَهُ وَسَائِلَهُ قَالَ مَا أَصَبْتَ بَعْدِي قَالَ أَصَبْتُ وَالله بَعْدَكَ خَيْرًا كَثِيراً أَصَبْتُ وَاللَّهِ بَعْدَكَ أَنِّي مَسَيْتُ اللَّيْلَةَ بَيْنَ السَّيْفِ وَبَيْنَ رَأْسِكَ ثَلَاثَ مِرَارٍ فَحَجَزَنِي مَا أَصَبْتُ مِنَ الْعِلْمِ عَنْ قَتْلِكَ.
৫৮৬। হাসান বসরী (র) বলেন, এক ব্যক্তি মৃত্যুকালে একটি পুত্র সন্তান ও একটি মুক্তদাস রেখে যায়। সে তার পুত্রের বিষয়ে তার মুক্তদাসকে ওসিয়াত করে যায়। সে তার ব্যাপারে কোন অবহেলা করেনি। ছেলেটি বালেগ হলে সে তাকে বিবাহও করায়। সে মুক্তদাসকে বললো, আমার সফরের আয়োজন করে দাও। আমি জ্ঞান অন্বেষণ করবো। সে তার সফরের আয়োজন করে দিলো। অতএব সে একজন আলেমের নিকট এসে তার কাছে জ্ঞানদানের আবেদন করলো। আলেম ব্যক্তি তাকে বলেন, তোমার ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তখন আমাকে বলবে, আমি তোমাকে জ্ঞানের কথা শিখাবো। সে আলেমকে বললো, আমার প্রত্যাবর্তনের সময় হয়েছে। আপনি আমাকে জ্ঞানের কথা শিখিয়ে দিন। আলেম বলেন, "তুমি আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরো এবং (কোন ব্যাপারে) তাড়াহুড়া করো না"। হাসান (র) বলেন, এতে সার্বিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সে যখন ফিরে এলো তখন তা তার স্মরণে ছিল। কেননা কথা ছিল মাত্র তিনটি। সে তার পরিবারে পৌঁছে সওয়ারী থেকে অবতরণ করলো। সে ঘরে ঢুকে দেখলো যে, একটি পুরুষলোক শিথিল অবস্থায় একটি নারীর অদূরে ঘুমিয়ে আছে। আর সেই নারী হচ্ছে তারই স্ত্রী। সে মনে মনে বললো, আল্লাহ্র শপথ! এই দৃশ্য দেখার পর আর কিসের অপেক্ষা করবো। সে তার সওয়ারীর কাছে ফিরে এলো। তরবারি নিতে গিয়ে তার স্মরণ হলো, "আল্লাহকে ভয় করো, ধৈর্য ধরো এবং তাড়াহুড়া করো না"। সে আবার ফিরে গিয়ে তার শিয়রের নিকট দাঁড়িয়ে বললো, এমন দৃশ্য দেখার পর আর মোটেও অপেক্ষা করবো না। সে তার সওয়ারীর নিকট ফিরে এলো এবং তরবারি তুলতে যেতেই উপদেশের কথা স্মরণ হলো। পুনরায় সে তার নিকট ফিরে গেলো।
সে তার শিয়রের নিকট দাঁড়াতেই নিদ্রিত ব্যক্তি জেগে উঠলো এবং তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলো, তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলো। সে বললো, আমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আপনি কেমন ছিলেন? সে বললো, আল্লাহ্র শপথ! তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর আমি পর্যাপ্ত কল্যাণ লাভ করেছি, আল্লাহর শপথ! ভালোই। আজ রাতে আমি মোট তিনবার তরবারি ও তোমার মাথার মাঝে যাতায়াত করেছি এবং যে জ্ঞান আমি অর্জন করেছি, তোমাকে হত্যা করার ব্যাপারে তা আমার প্রতিবন্ধক হয়েছে।