📄 ইসলামী যুগে সাবেক আমলের চুক্তি
৫৭৮ - بَابُ لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ
২৫৮- অনুচ্ছেদ: ইসলামী যুগে সাবেক আমলের চুক্তি।
৫৭১- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ حَالَفَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بَيْنَ قُرَيْشٍ وَالْأَنْصَارِ فِي دَارِيَ الَّتِي بِالْمَدِينَةِ.
৫৭১। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার মদীনার বাড়িতে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে বন্ধুত্ব চুক্তি স্থাপন করেন (বু, মু, দা)।
৫৭২- عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ جَلَسَ النَّبِيُّ ﷺ عَامَ الْفَتْحِ عَلَي دَرْجِ الكَعْبَةِ فَحَمِدَ اللهَ وَاثْنِي عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ مَنْ كَانَ لَهُ حِلْفٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لَمْ يَزِدْهُ الإِسْلامُ إِلَّا شِدَّةً وَلَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ.
৫৭২। আমর ইবনে শুয়াইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর নবী (স) কাবা ঘরের সিঁড়িতে বসলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বলেনঃ জাহিলী যুগে যার চুক্তি ছিল, ইসলাম তা আরো মজবুত করেছে এবং মক্কা বিজয়ের পর আর হিজরত নাই (তি, আ, খু)।
📄 যে ব্যক্তি প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলো
২৫৯ - بَابُ مَنِ اسْتَمْطَرَ فِي أَوَّلِ الْمَطَرِ
২৫৯- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি প্রথম বৃষ্টিতে ভিজলো।
৫৭৩- عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَصَابَنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ مَطَرٌ فَحَسَرَ النَّبِيُّ ﷺ ثَوْبُهُ عَنْهُ حَتَّي أَصَابَهُ المَطَرُ قُلْنَا لِمَ فَعَلْتَ قَالَ لِأَنَّهُ حَدِيْثُ عَهْدٍ بِرَبِّهِ.
৫৭৩। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সংগে থাকা অবস্থায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগলো। নবী (স) তাঁর দেহের উপরিভাগ থেকে কাপড় সরিয়ে দিলেন। ফলে তাঁর শরীর বৃষ্টিতে ভিজে গেলো। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বলেনঃ যেহেতু মহান প্রভুর কাছ থেকে সদ্য আগত (তাই আমি তা শরীরে লাগিয়ে নিলাম বরকতের জন্য)।
📄 ছাগল-ভেড়ার মধ্যে বরকত নিহিত
٢٦٠ - بَابٌ إِنَّ الْغَنَمَ بَرَكَةً
২৬০- অনুচ্ছেদ: ছাগল-ভেড়ার মধ্যে বরকত নিহিত।
৫৭৪- عَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَالِكِ بْن خَيْثَمِ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ بِأَرْضِهِ بِالْعَقِيقِ فَأَتَاهُ قَوْمٌ مِّنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ عَلَى دَوَابٌ فَنَزَلُوا قَالَ حُمَيْدٌ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اذْهَبْ إِلى أُمِّي وَقُلْ لَهَا إِنَّ ابْنَكِ يُقْرِئُكَ السَّلامَ وَيَقُولُ أَطْعِمِينَا شَيْئًا قَالَ فَوَضَعَتْ ثَلَاثَةَ أَقْرَاصِ مِّنْ شَعِيْرٍ وَشَيْئًا مِّن زَيْتِ وَمِلْحِ فِي صَفْحَةٍ فَوَضَعْتُهَا عَلَى رَأْسِي فَحَمَلْتُهَا إِلَيْهِمْ فَلَمَّا وَضَعْتُهُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ كَبُرَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَشْبَعَنَا مِنَ الْخُبْزِ بَعْدَ أَنْ لَّمْ يَكُنْ طَعَامُنَا إِلَّا الْأَسْوَدَانِ التَّمْرُ وَالْمَاءُ فَلَمْ يُصِبِ الْقَوْمَ مِنَ الطَّعَامِ شَيْئًا فَلَمَّا انْصَرَفُوا قَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَحْسِنْ إِلَى غَنَمِكَ وَأَمْسَحَ الرَّغَامَ عَنْهَا وَأَطِبْ مَرَاحَهَا وَصَلِّ فِي نَاحِيَتِهَا فَإِنَّهَا مِنْ دَوَاب الْجَنَّةِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ تَكُونُ الظُّلَّةُ مِنَ الغَنَمِ أَحَبُّ إِلَى صَاحِبِهَا مِنْ دَارِ مَرْوَانَ.
৫৭৪। হুমাইদ ইবনে মালেক ইবনে খায়ছাম (র) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা)-এর সাথে তার আকীক নামক স্থানের ভূমিতে বসা ছিলাম। তখন জন্তযানে আরোহী একদল মদীনাবাসী তার নিকট উপস্থিত হন। তারা অবতরণ করলেন। হুমাইদ (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) আমাকে বললেন, আমার মায়ের নিকট গিয়ে বলো, আপনার পুত্র আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেন, আমাদের কিছু আহার করান। রাবী বলেন, তিনি তিনটি যবের পিঠা, কিছু যায়তুন তৈল ও কিছু লবণ একটি পেয়ালায় করে দিলেন। আমি তা আমার মাথায় তুলে নিয়ে তাদের নিকট ফিরে এলাম। আমি তা তাদের সামনে রেখে দিলে আবু হুরায়রা (রা) "আল্লাহু আকবার" বলেন এবং আরো বলেন, সেই সত্তার প্রশংসা যিনি আমাদের রুটি খাওয়ালেন। নতুবা এমন একদিন ছিল যখন দু'টি কালো বস্তু অর্থাৎ খেজুর ও পানি ছাড়া আমাদের আর কিছু জুটতো না। এই খাদ্যে দলের লোকজনের কিছু হলো না। তারা চলে গেলে আবু হুরায়রা (রা) আমাকে বলেন, হে ভাইপো! তোমার ছাগলগুলোর খুব যত্ন করো, এগুলোর গায়ের ধুলাবালি ঝেড়ে দাও, এগুলোর খোঁয়াড় পরিষ্কার রাখো এবং এর এক কোণে নামায পড়ো। কেননা এগুলো বেহেশতের জীবজন্তু। যাঁর হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার শপথ! অচিরেই লোকজনের উপর এমন এক সময় আসবে যখন এক পাল ছাগল তার মালিকের নিকট মারোয়ানের রাজপ্রাসাদের চেয়েও প্রিয়তর হবে।
৫৭৫- عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الشَّاةُ فِي الْبَيْتِ بَرَكَةُ وَالشَّاتَانِ بَرَكَتَانِ والثلاث بركات .
৫৭৫। আলী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ ঘরে একটি বকরী একটি বরকতস্বরূপ, দুইটি বকরী দুইটি বরকতস্বরূপ এবং তিনটি বকরী অনেক বরকত।
📄 উট তার মালিকের জন্য মর্যাদার উৎস
২৬১ - باب الابل عز لأهلها
২৬১- অনুচ্ছেদ: উট তার মালিকের জন্য মর্যাদার উৎস।
৫৭৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ رَأْسُ الكُفْرِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالْفَخْرُ وَالخُيَلاءُ فِي أَهْلِ الْخَيْلِ وَالْإِبِلِ وَالْقَدَّادِيْنَ أَهْلِ الْوَبَرِ وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ .
৫৭৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কুফরীর মূল পূর্ব দিকে (প্রাচ্যে), দম্ভ ও অহংকার উট ও ঘোড়ার পালের মালিকদের মধ্যে এবং বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উটের পাল নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং দীনের প্রতি মনোযোগী হয় না। আর প্রশান্তি ছাগলের মালিকের মধ্যে (বু, মু)।
৫৭৭- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ عَجِبْتُ لِلْكِلَابِ وَالشَّاءِ إِنَّ الشَّاءَ يُذْبَحُ مِنْهَا فِي السنة كذا وكذا ويُهدى كذا وكذا وَالكَلبُ تَضَعُ الْكَلْبَةُ الوَاحِدَةُ كَذَا وَكَذَا والشَّاءُ أَكْثَرُ مِنْهَا .
৫৭৭। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, কুকুর ও ছাগলের ব্যাপারে আমি বিস্মিত হই। ছাগল বছরে এতো এতো সংখ্যক যবেহ করা হয়, এতো এতো সংখ্যক কোরবানী করা হয়। আর কুকুর, এক একটি মাদী কুকুর এতো এতো সংখ্যক শাবক প্রসব করে। অথচ ছাগলের সংখ্যা কুকুরের চেয়ে অধিক।
৫৭৮- عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ قَالَ قَالَ لِي عُمَرُ بْنُ الخَطَابِ يَا أَبَا ظَبْيَانَ كَمْ عَطَاؤُكَ قُلْتُ الْفَانِ وَخَمْسُ مِائَةٍ قَالَ لَهُ يَا أَبَا ظَبْيَانَ اتَّخِذْ مِنَ الْحَرْثِ وَالسَّابَيَاءِ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلِيَكُمْ عَلَمَةُ قُرَيْشٍ لَا يَعُدُّا العَطَاءُ مَعَهُمْ مَالاً.
৫৭৮। আবু যাবয়ান (র) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) আমাকে বলেন, হে আবু যাবয়ান। তোমার রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ কতো? আমি বললাম, আড়াই হাজার। তিনি তাকে বলেন, হে আবু যাবয়ান! কুরাইশ বংশের গোলামেরা তোমাদের শাসক হওয়ার পূর্বেই তুমি চাষাবাদ ও পশুপালনে মনোযোগী হও। তাদের সামনে ভাতা কোন উল্লেখযোগ্য সম্পদ নয়।
৫৭৯- عَنْ عَبْدَةَ بْنِ حَزْنٍ يَقُولُ تَفَاخَرَ أَهْلُ الْإِبِلِ وَأَصْحَابُ الشَّاءِ فَقَالَ النَّبِيُّ بُعِثَ مُوسَى وَهُوَ رَاعِي غَنَمٍ وَبُعِثَ دَاوُودُ وَهُوَ رَاعِي غَنَمٍ وَبُعِثْتُ أَنَا وَأَنَا أَرْعَى غَنَمًا لِأَهْلِي بِأَجْيَادِ .
৫৭৯। আবদা ইবনে হুযন (র) বলেন, উট পালেন মালিক ও বকরীর পালের মালিকগণ পরস্পর গর্ব প্রকাশ করছিল। নবী (স) বলেনঃ মূসা (আ) মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করেন। দাউদ (আ) মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করেন। আমিও আজয়াদ নামক স্থানে আমার পরিবারের মেষপাল চরানো অবস্থায় নবুয়াত লাভ করি (না)।