📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়

📄 কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়


২৪৯ - بَابُ إِذَا أَحَبَّ رَجُلًا فَلَا يُمَارِهِ وَلَا يَسْأَلُ عَنْهُ
২৪৯-অনুচ্ছেদ: কেউ কাউকে মহব্বত করলে সে যেন তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয় এবং তার নিকট কিছু না চায়।
৫৪৬- عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّهُ قَالَ إِذَا أَحْبَبْتَ أَنَّا فَلَا تُمَارِهِ وَلَا تُشَارِهِ وَلَا تَسْأَلُ عَنْهُ فَعَسَى أَنْ تَوَافِيَ لَهُ عَدُوا فَيُخْبِرُكَ بِمَا لَيْسَ فِيهِ فَيُفَرِّقُ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ.
৫৪৭। মুআয ইবনে জাবাল (রা) বলেন, তুমি তোমার কোন (মুসলমান) ভাইকে মহব্বত করলে তার সাথে ঝগড়া করবে না, তার ক্ষতি সাধনের চিন্তাও করবে না এবং তার কাছে কিছু চাইবেও না। এমন যেন না হয় যে, তুমি শত্রুর খপ্পরে পড়ে যাও এবং সে তোমাকে তার সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই। এভাবে সে তোমার ও তার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে (জামে সগীর, হিলয়া)।
৫৪৮- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو عَنِ النَّبِيِّ اللهُ قَالَ مَنْ أَحَبِّ أَنَّا لِلَّهِ فِي اللَّهِ قَالَ إِنِّي أُحِبُّكَ لِلَّهِ فَدَخَلاَ جَمِيعًا الْجَنَّةَ كَانَ الَّذِي أَحَبُّ فِي اللَّهِ أَرْفَعُ دَرَجَةً لِحُبِّهِ عَلَي الَّذِي أَحَبُّهُ لَهُ .
৫৪৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার অপর ভাইকে আল্লাহ্র উদ্দেশে মহব্বত করে এবং বলে, আমি তোমাকে আল্লাহ্ (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশে মহব্বত করি, তারা উভয়ে জান্নাতে দাখিল হবে। যার মহব্বত অধিক প্রবল হবে সে তার ভাইকে মহব্বত করার কারণে অধিক মর্যাদাবান হবে।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল

📄 অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল


২৫০ - بَابُ الْعَقْلِ فِي الْقَلْبِ
২৫০- অনুচ্ছেদ: অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল।
৫৪৯- عَنْ عِبَاضِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ عَلِيٌّ أَنَّهُ سَمِعَهُ بِصِفِّيْنَ يَقُولُ إِنَّ الْعَقْلَ فِي الْقَلْبِ وَالرَّحْمَةَ فِي الْكَبِدِ وَالرَّافَةَ فِي الطِّحالِ وَالنَّفْسَ فِي الرِّئَةِ.
৫৪৯। ইয়াদ ইবনে খলীফা (র) থেকে আলী (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে সিফফীন নামক স্থানে বলতে শুনেছেন, অন্তর হলো বুদ্ধির উৎসস্থল, করুণার স্থান হৃদপিণ্ড, মায়া-মমতার স্থান যকৃত এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্থান ফুসফুস

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 অহংকার-অহমিকা

📄 অহংকার-অহমিকা


২৫১ - بَابُ الكبر
২৫১- অনুচ্ছেদ: অহংকার-অহমিকা।
৫৫০- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَجَاءَ رَجُلٌ مِّنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ عَلَيْهِ جُبَّةٌ سِيْجَانِ حَتَّى قَامَ عَلَى رَأسِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنْ صَاحِبَكُمْ قَدْ وَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ أَوْ قَالَ يُرِيدُ أَنْ يُضَعَ كُلِّ فَارِسِ وَيَرْفَعَ كُلِّ رَاعٍ فَأَخَذَ النَّبِيُّ ﷺ بِمَجَامِعِ جُبَّتِهِ فَقَالَ أَلَا أَرَى عَلَيْكَ لِبَاسَ مَنْ لَا يَعْقِلُ ثُمَّ قَالَ إِنْ نَبِيُّ اللَّهِ نُوحًا ﷺ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لابنه إِنِّي قَاصُ عَلَيْكَ الْوَصِيَّةَ أَمُرُكَ بِاثْنَتَيْنِ وَأَنْهَاكَ عَنِ اثْنَتَيْنِ أَمُرُكَ بِلا اله الا اللهُ فَإِنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعَ لَوْ وُضِعْنَ فِي كَفَّةٍ وَوُضِعَتْ لا اله الا اللهُ فِي كَفَّةٍ لَرَجَحَتْ بِهِنَّ وَلَوْ أَنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعَ كُنْ حَلْقَةً مُبْهَمَةً لَقَصَمَتْهُنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فَإِنَّهَا صَلَاةُ كُلَّ شَيْءٍ وَبِهَا يُرْزَقُ كُلَّ شَيْءٍ وَأَنْهَاكَ عَنِ الشَّرْكِ وَالْكِبْرِ فَقُلْتُ أَوْ قِبْلَ يَا رَسُولَ الله هذا الشَّرْكُ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَمَا الكَبْرُ قَالَ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا نَعْلَانِ حَسَنَتَانِ لَهُمَا شَرَاكَانِ حَسَنَانِ قَالَ لَا قَالَ فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا دَابَّةٌ يُرْكَبُهَا قَالَ لَا قَالَ فَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا أَصْحَابٌ يُجْلِسُونَ إِلَيْهِ قَالَ لَا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْكِبْرُ قَالَ سَفَهُ الْحَقِّ وَغَمْصُ النَّاسِ.
৫৫০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন বনভূমি থেকে সীজান (এক প্রকার মাছ) রং-এর জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি এসে নবী (স) -এর মাথার কাছে দাঁড়ালো এবং বললো, তোমাদের সাথী প্রত্যেক আরোহীকে অবদমিত করেছে বা আরোহীদেরকে অবদমিত করার সংকল্প করেছে এবং প্রত্যেক রাখালকে সমুন্নত করেছে। রাসূলুল্লাহ (স) তার জুব্বার হাতা ধরে বলেনঃ আমি কি তোমাকে নির্বোধের পোশাক পরিহিত দেখছি না? অতঃপর তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ নবী হযরত নূহ (আ)-এর ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর পুত্রকে বলেনঃ আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি। আমি তোমাকে দু'টি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং দু'টি বিষয় নিষেধ করছি। আমি তোমাকে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”-এর নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা, সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় তোলা হয় এবং অপর পাল্লায় "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” তোলা হয়, তবে সেই তৌহীদের পাল্লাই ভারী হবে। সাত আসমান
ও সাত জমিন যদি একটি জটিল গ্রন্থির রূপ ধারণ করে, তবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” এবং "সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী" তা চুরমার করে দিবে। কেননা তা প্রত্যেক বস্তুর নামায এবং সকলেই এর বদৌলতে রিযিক লাভ করে থাকে। আর আমি তোমাকে বারণ করছি শেরেক এবং অহংকারে লিপ্ত হতে। আমি বললাম অথবা বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শেরেক তো আমরা বুঝলাম, তবে অহংকার কি? আমাদের মধ্যকার কারো যদি কারুকার্য খচিত চাদর থাকে, আর তা পরিধান করে? তিনি বলেনঃ না। সে আবার বললো, যদি আমাদের কারো সুন্দর ফিতাযুক্ত সুন্দর একজোড়া জুতা থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে পুনরায় বললো, যদি আমাদের কারো আরোহণের একটি জন্তযান থাকে? তিনি বলেনঃ না। সে বললো, যদি আমাদের কারো বন্ধু-বান্ধব থাকে এবং তারা তার সাথে ওঠা-বসাও করে (তবে তা কি অহংকার হবে)? তিনি বলেনঃ না। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে অহংকার কি? তিনি বলেনঃ সত্য থেকে বিমুখ থাকা এবং মানুষকে হেয় জ্ঞান করা (আ, না, বা, হা, হি, তহা)।
৫৫১- عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ مَنْ تَعَظَمَ فِي نَفْسِهِ أَوْ إِخْتَالَ فِي مَشِيَتِهِ لقِي اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانٌ.
৫৫১। ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজেকে বড়ো মনে করে অথবা তার চালচলনে অহংকার প্রকাশ করে, সে এমন অবস্থায় মহামহিম আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাত করবে যে, তিনি তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন (আ, হা)।
৫৫২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا اسْتَكْبَرَ مَنْ أَكَلَ مَعَهُ خَادِمُهُ وركب الحمار بالأسواقِ وَاعْتَقَلَ الشَّاةَ فَحَلَبَهَا .
৫৫২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার খাদেমকে সাথে নিয়ে আহার করে, গাধায় চড়ে বাজারে যায়, ছাগল পোষে এবং তার দুধ দোহন করে, সে অহংকারী নয়।
৫৫৩- حَدَّثَنَا صَالِحٌ بَيَاعُ الْأَكْسِيَةِ عَنْ جَدَّتِهِ قَالَتْ رَأَيْتُ عَلِيًّا اشْتَرَي تَمْرًا بِدِرْهَم فَحَمَلَهُ فِي مَلْحَفَتِهِ فَقُلْتُ لَهُ أَوْ قَالَ لَهُ رَجُلٌ أَحْمِلُ عَنْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ لَا أَبُو الْعِبَالِ أَحَقُّ أَنْ يُحْمَلَ.
৫৫৩। কাপড় বিক্রেতা সালেহ (র) থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রা)-কে দেখলাম যে, তিনি এক দিরহামের খেজুর কিনে তা তার চাদরে করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাকে বললাম অথবা এক ব্যক্তি তাকে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার বোঝাটি আমিই বহন করি। তিনি বলেন, না, পরিবারের পিতাই বোঝা বহনের অধিক উপযুক্ত (তারীখুল কামিল)।
৫৫৪- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْعِزُّ إِزَارَهُ وَالْكِبْرِيَاءُ رِدَاؤُهُ فَمَنْ نَازَعَنِي بِشَيْءٍ مِّنْهُمَا عَذَبْتُهُ.
৫৫৪। আবু সাঈদ (রা) ও আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, ইজ্জত আমার পরিধেয় এবং কিবরিয়া (অহংকার) আমার চাদর। যে কেউ আমার সাথে এই দু'টি জিনিস নিয়ে বিবাদ করবে, আমি তাকে শাস্তি দিবো (মু, ই, হা)।
৫৫৫- عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ مَالِكِ الطَّائِيُّ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ إِنَّ لِلشَّيْطَانِ مَصَالِي وَفَخُوْفًا وَإِنْ مَصَالِي الشَّيْطَانِ وَفُخُوفَهُ الْبَطْرُ بِأَنْعُمِ اللَّهِ وَالفَخْرُ بعطاء الله والكبرياء عَلَى عِبَادِ اللهِ وَاتَّبَاعُ الْهَوَى فِي غَيْرِ ذَاتِ اللَّهِ .
৫৫৫। হায়সাম ইবনে মালেক আত-তাই (র) বলেন, আমি নোমান ইবনে বশীর (রা)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি, শয়তানের অনেক রকম জাল ও ফাঁদ আছে। শয়তানের জাল ও ফাঁদ হচ্ছে আল্লাহ্ নিয়ামত সম্পর্কে অহংকার করা, আল্লাহ্র দান সম্পর্কে গর্ব করা, আল্লাহর বান্দাগণের উপর অহংকার করা এবং আল্লাহর সত্তা ব্যতীত নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করা (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান, জামে সগীর, ইবনে আসাকির)।
৫৫৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ احْتَجَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ وَقَالَ سُفْيَانُ أَيْضًا احْتَصَمَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ قَالَتِ النَّارُ يَلِجُنِي الْجَبَّارُونَ وَيَلِجُنِي الْمُتَكْبُرُونَ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ يَلجُنِي الضُّعَفَاءُ وَيَلِجُنِي الفُقَرَاءُ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ ثُمَّ قَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِّنْكُمَا مِنْؤُهَا .
৫৫৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: বেহেশত ও দোযখ পরস্পর বিতর্ক ও বাদানুবাদে লিপ্ত হলো। দোযখ বললো, পরাক্রমশালী, স্বৈরাচারী ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বেহেশত বললো, দুর্বল ও দরিদ্ররা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। বরكতময় মহান আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, তুমি হলে আমার রহমাত, আমি যাকে ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করবো। অতঃপর তিনি দোযখকে বলেন, তুমি হলে আমার শাস্তি। আমি যাকে ইচ্ছা তোর মাধ্যমে শাস্তি দিবো। তোদের দু'জনকেই পূর্ণ করা হবে (বু, মু, তি, আ, খু, হি)।
৫৫৭- عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ لَمْ يَكُنْ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ ﷺ مُتَحَزَّقِينَ وَلَا مُتَمَاوِتِيْنَ وَكَانُوا يَتَنَاشَدُونَ الشَّعْرَ فِي مَجَالِسِهِمْ وَيَذْكُرُونَ أَمْرَ جَاهِلِيَّتِهِمْ فَإِذَا أَرِيدَ أَحَدٌ مِّنْهُمْ عَلَى شَيْءٍ مِّنْ أَمْرِ اللَّهِ دَارَتْ حَمَالِيْقَ عَيْنَيْهِ كَأَنَّهُ مَجْنُونٌ.
৫৫৭। আবদুর রহমান (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহাবীগণ অশিষ্ট বা মনমরা ছিলেন না। তারা তাদের মজলিসসমূহে উত্তম কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহিলী যুগের বিষয়াদি আলোচনা করতেন। কিন্তু তাদের কাউকে আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করাবার প্রয়াস চালানো হলে তার দৃষ্টি বিস্ফোরিত হয়ে যেতো। যেন তিনি এক উন্মাদ (ইবনে আবু শায়বা)।
৫৫৮- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا أَتَي النَّبِيَّ ﷺ وَكَانَ جَمِيلاً فَقَالَ حُبِّبَ إِلَى الْجَمَالُ وَأُعْطِيتُ مَا تَرَى حَتَّى مَا أُحِبُّ أَنْ يَفُوقَنِي أَحَدٌ إِمَّا قَالَ بِشَرَاكَ نَعْلٍ وَإِمَّا قَالَ بِشِسْع أَحْمَرَ الْكِبْرُ ذَاكَ قَالَ لَا وَلَكِنَّ الْكِبْرُ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ وَغَمَطَ النَّاسَ.
৫৫৮। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক অতিশয় সুন্দর ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, সৌন্দর্য আমার অতি প্রিয়, আর আমাকে সৌন্দর্য দান করা হয়েছে যা আপনি দেখছেন। এমনকি আমি এতটুকুও পছন্দ করি না যে, জুতার ফিতা বা তার লাল অগ্রভাগের সৌন্দর্যের দিক দিয়েও কেউ আমাকে ডিংগিয়ে যাক। এটা কি অহংকার? তিনি বলেনঃ না, বরং অহংকার হলো সত্য থেকে বিমুখ হওয়া এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা (দা, তি)।
৫৫৯- عَنْ عَمْرُو بْن شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذُّرِّ فِي صُورَةِ الرِّجَالِ يَغْشَاهُمُ الذُّلُّ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ يُسَاقُوْنَ مَنْ جَهَنَّمَ يُسَمَّى يُولَسَ تَعْلُوهُمْ نَارُ الْأَنْبَارِ وَيَسْقُوْنَ مِنْ الي سجن من . النَّارِ طِينَةَ الخَبَالِ . مِنْ عُصَارَةِ أَهْلِ
৫৫৯। আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। মহানবী (স) বলেনঃ কিয়ামতের দিন অহংকারীদেরকে পিপিলিকা সদৃশ (ক্ষুদ্রদেহ) মানুষরূপে হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে। তারা সব দিক থেকে লাঞ্ছনা পরিবেষ্টিত থাকবে। তাদেরকে দোযখের বৃলাস নামক কারাগারের দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা দোযখের আগুনে জ্বলতে থাকবে এবং দোযখীদের (দেহ নির্গত) ঘাম পান করবে (তি, না, আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 যে ব্যক্তি যুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে

📄 যে ব্যক্তি যুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে


২৫২ - بَابٌ مَنْ انْتَصَرَ مَن ظُلْمِهِ
২৫২- অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি যুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
৫৬০- عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ لَهَا دُونَكَ فَانْتَصِرِي.
৫৬০। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) তাকে বলেন: তুমি তোমার প্রতিশোধ নাও।
৫৬১- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَرْسَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ الله فَاطِمَةَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَاسْتَأْذَنَتْ وَالنَّبِيُّ ﷺ مَعَ عَائِشَةَ فِي مِرْطِهَا فَاذِنَ لَهَا فَدَخَلَتْ فَقَالَتْ إِنَّ أَزْوَاجَكَ أَرْسَلْنَنِي يَسْأَلُنَكَ العَدلَ فِي بِنْتِ أَبِي قُحَافَةَ قَالَ أَي بُنَيَّةُ أَتُحِبِّيْنَ مَا أُحِبُّ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَاحِبِّي هَذِهِ فَقَامَتْ فَخَرَجَتْ فَحَدَّثَتْهُنَّ فَقُلْنَ مَا أَغْنَيْتِ عَنَّا شَيْئًا فَارْجِعِي إِلَيْهِ قَالَتْ وَاللَّهِ لَا أَكَلَمُهُ فِيْهَا أَبَدًا فَأَرْسَلْنَ زَيْنَبَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ فَاسْتَأْذَنَتْ فَأَذِنَ لَهَا فَقَالَتْ
২০৬ আল-আদাবুল মুফরাদ
لَهُ ذَلِكَ وَوَقَعَتْ فِي زَيْنَبُ تَسُبُّنِي فَطَفِقْتُ انْظُرُ هَلْ يَأْذَنْ لِي النَّبِيُّ ﷺ فَلَمْ أَزَلْ حَتَّى عَرَفْتُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَا يَكْرَهُ إِنْ أَنْتَصِرَ فَوَقَعْتُ بِزَيْنَبَ فَلَمْ أَنشَبْ أَنْ أَشْخَنْتُهَا غَلَبَةً فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ أَمَا إِنَّهَا ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ.
৫৬১।' আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স)-এর স্ত্রীগণ ফাতেমা (রা)-কে নবী (স)-এর নিকট পাঠান। তিনি (গিয়ে) অনুমতি প্রার্থনা করেন। নবী (স) তখন আয়েশা (রা)-এর বিছানায় ছিলেন। তিনি তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তিনি প্রবেশ করে বলেন, আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার কন্যার ব্যাপারে তাদের প্রতি সুবিচার প্রার্থনা করার জন্য আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তিনি বলেনঃ হে আমার কন্যা! আমি যা ভালোবাসি তুমি কি তা ভালোবাসবে? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেনঃ তবে তুমি তাকে (আয়েশা) ভালোবাসবে। অতঃপর ফাতেমা (রা) উঠে চলে এলেন এবং বিষয়টি তাদের বললেন। তারা বলেন, তুমি আমাদের কোন উপকার করতে পারলে না। তুমি আবার তাঁর কাছে যাও। তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! এই প্রসঙ্গে আমি আর কখনো তাঁর সাথে কথা বলবো না। অতঃপর তারা নবী-পত্নী যয়নব (রা)-কে পাঠান। তিনি গিয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ (স) তাকে অনুমতি দিলেন। তিনি তখন সেই কথা তাঁকে বলেন। আয়েশা (রা) বলেন, যয়নব আমাকে গালি দিয়ে কথা বলতে লাগলো। আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম যে, নবী (স) আমাকে (প্রতিউত্তরের) অনুমতি দেন কিনা। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, আমি প্রত্যুত্তর করলে তিনি অপছন্দ করবেন না, তখন আমিও যয়নবের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং তাকে পরাস্ত করে ছাড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (স) মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ সাবধান! সে তো আবু বাকরের কন্যা (মু, না, ই)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00