📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রুগ্নদের দেখতে যাওয়া

📄 রুগ্নদের দেখতে যাওয়া


٢٣٤ - بَابُ عِيَادَة الْمَرْضِي
২৩৪-অনুচ্ছেদ: রুগ্নদের দেখতে যাওয়া।
৫১৭- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ أَصْبَحَ الْيَوْمَ مِنْكُمْ صَائِمًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ مَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ مَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ مَنْ أَطْعَمَ اليَوْمَ مِسْكِينًا قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا قَالَ مَرْوَانُ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَا اجْتَمَعَ هَذِهِ الْخِصَالُ فِي رَجُلٍ فِي يَوْمِ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
৫১৭। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোযা রেখেছে? আবু বাক্স (রা) বলেন, আমি। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ রোগী দেখতে গেছে? আবু বাক্স (রা) বলেন, আমি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ জানাযায় অংশগ্রহণ করেছে? আবু বাক্স (রা) বলেন, আমি। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আজ দরিদ্রকে আহার করিয়েছে? আবু বাক্স (রা) বলেন, আমি। মারওয়ান বলেন, আমি জানতে
পেরেছি যে, নবী (স) বলেনঃ এক দিনে যার মধ্যে এতগুলো সৎ কাজের সমাবেশ ঘটে, তাকে আল্লাহ অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (মু, না)।
৫১৮- عَنْ جَابِرٍ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ وَهِيَ تَزَفْزَفُ فَقَالَ مَا لَكِ قَالَتِ الحُمِّي أَخْزَاهَا اللهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تُسَبِّيْهَا فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا الْمُؤْمِنِ كَمَا يُذْهِبُ الْكَيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.
৫১৮। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) উম্মু সাইবের বাড়িতে গেলেন। তিনি জ্বরের প্রকোপে কাঁপছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন, জ্বর। আল্লাহ জ্বরের সর্বনাশ করুন। নবী (স) বলেনঃ থামো, জ্বরকে গালি দিও না। কেননা তা মুমিন বান্দার গুনাহসমূহ দূরীভূত করে, যেমন হাঁপড় লোহার মরিচা দূর করে (মু, হি, আন)।
৫১৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ يَقُولُ اللَّهُ اسْتَطْعَمْتُكَ فَلَمْ تُطْعِمْنِي قَالَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَكَيْفَ اسْتَطْعَمْتَنِي وَلَمْ أَطْعَمْكَ وَ أَنْتَ رَبُّ العَالَمِينَ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانَا اسْتَطْعَمَكَ فَلَمْ تُطْعِمْهُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَطْعَمْتَهُ لَوَجَدْتُ ذَلِكَ عِنْدِي ابْنَ آدَمَ اسْتَسْقَيْتُكَ فَلَمْ تَسْقِنِي فَقَالَ يَا رَبِّ وَكَيْفَ أَسْقِيكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ فَيَقُولُ إِنَّ عَبْدِي فُلَانَا اسْتَسْقَاكَ فَلَمْ تَسْقِهِ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ كُنْتَ سَقَيْتَهُ لَوَجَدْتُ ذَلكَ عِنْدِي يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعُدْنِي قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ أَعُودُكَ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنْ عَبْدِي فُلَانًا مَرْضَ فَلَوْ كُنْتَ عُدْتُهُ لَوَجَدْتُ ذلِكَ عِنْدِي أَوْ وَجَدْتُنِي عِنْدَهُ.
৫১৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: আল্লাহ (হাশরের মাঠে) বলবেন, আমি তোমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে আহার করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! তুমি কিভাবে আমার নিকট খাদ্য চেয়েছিলে, আর আমি তোমাকে আহার করাইনি! অথচ তুমিই তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। আল্লাহ বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট খাদ্য চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে আহার করাওনি। তুমি কি জানতে না, যদি তুমি তাকে আহার করাতে তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি তোমার নিকট পিপাসার্ত হয়ে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! কেমন করে আমি তোমাকে পানি পান করাতাম, অথচ তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে পানি পান করাতে, তবে তা আমার নিকট পেতে? আদম সন্তান! আমি রোগাক্রান্ত হয়েছিলাম, তুমি আমার সেবা করোনি। বান্দা বলবে, হে প্রভু! আমি কিভাবে তোমার সেবা করতে পারি, তুমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক! তিনি বলবেন, তুমি কি
জানতে না, আমার অমুক বান্দা রোগাক্রান্ত হয়েছিল? তুমি যদি তার সেবা করতে, তবে তা আমার নিকট পেতে অথবা তুমি তার কাছেই আমাকে পেতে (মু, আন)।
৫২০- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ عُودُوا الْمَرِيضِ وَاتَّبِعُوا الْجَنَائِزَ . تُذكِّرُكُمُ الْآخِرَةَ .
৫২০। আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তোমরা রুগ্নকে দেখতে যাও এবং জানাযার অনুসরণ করো। তা তোমাদেরকে আখেরাত স্মরণ করিয়ে দিবে (আ, হি)।
৫২১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلَاثَ كُلُّهُنَّ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ عِبَادَةٌ المَرِيضِ وَشُهُودُ الْجَنَازَةِ وَ تَسْمِيتُ الْعَاطِسِ إِذَا حَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ.
৫২১। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তিনটি বিষয়, তার প্রতিটিই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য করণীয়। রুগ্নকে দেখতে যাওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা এবং যে ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আল্লাহ্র প্রশংসা করে তার জবাব দেয়া (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা) (হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবে

📄 রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবে


٢٣٥ - بَابُ دُعَاءِ الْعَائد للمريض بالشَّفَاءِ
২৩৫- অনুচ্ছেদ: রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবে।
৫২২- عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ حَدَّثَنِي ثَلَاثَةٌ مِنْ بَنِي سَعْدٍ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ دَخَلَ عَلَى سَعْدِ يَعُودُهُ بِمَكَّةَ فَبَكَي فَقَالَ مَا يَبْكَيْكَ قَالَ خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ بِالْأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا كَمَا مَاتَ سَعْدٌ قَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا ثَلَاثًا فَقَالَ لِي مَالٌ كَثِيرٌ يَرِثُنِي ابْنَتِي أَفَأَوْصِي بِثُلُثَىْ مَالِي وَاتْرُكُ الثُّلُثَ قَالَ لَا قَالَ أُوصِي النَّصْفَ وَأَتْرُكُ لَهَا النَّصْفَ قَالَ لا قَالَ فَأُوصِي بالثلث وَاتْرُكُ لَهَا الثَّلُثَيْنِ قَالَ الثُّلث وَالثُّلث كَثِيرٌ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِي ثُمَّ مَسَحَ وَجْهِي وَ بَطْنِي ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا وَأَتْمَ لَهُ هِجْرَتَهُ فَمَا زِلْتُ أَجِدُ بَرْدَ يَدِهِ عَلَى كَبِدِي فِيْمَا يُخَالُ إِلَيَّ حَتَّى السَّاعَةَ.
৫২২। হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান (র) বলেন, সাদ (রা)-এর গোত্রের তিনজন নিজ নিজ পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) মক্কায় রোগাক্রান্ত সাদ (রা)-কে দেখতে গেলেন। সাদ (রা) কেঁদে দিলেন। তিনি বলেন, তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বলেন, আমার আশংকা যে, আমি যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সাদ ইবনে খাওলার মত সেই স্থানেই বুঝি মারা যাবো। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ হে আল্লাহ! সাদকে আরোগ্য দান করুন। তিনি তিনবার দোয়া করলেন। সাদ (রা) বলেন, আমার প্রচুর সম্পদ আছে এবং আমার একমাত্র কন্যা আমার ওয়ারিস। আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়াত করতে পারি? তিনি বলেনঃ না। সাদ (রা) বলেন, তবে দুই-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ না। সাদ (রা) বলেন, তবে অর্ধেক? তিনি বলেনঃ
না। সাদ (রা) বলেন, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয় তোমার মালের যাকাতও দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য তুমি যা খরচ করো তাও দানরূপে গণ্য। তোমার স্ত্রী তোমার খাদ্য থেকে যা আহার করে তাও তোমার জন্য দানরূপে গণ্য। তোমার পরিবার-পরিজজনকে তোমার সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া, তাদেরকে দ্বারে দ্বারে হাত পেতে বেড়ানোর মত অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম, (একথা বলে) তিনি হাত দ্বারা ইঙ্গিত করেন (মু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রোগীকে দেখতে যাওয়ার ফযীলাত

📄 রোগীকে দেখতে যাওয়ার ফযীলাত


২৩৬ - بَابُ فَضْلِ عِبَادَةِ الْمَرِيضِ
২৩৬-অনুচ্ছেদ: রোগীকে দেখতে যাওয়ার ফযীলাত।
৫২৩- عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ قَالَ مَنْ عَادَ أَخَاهُ كَانَ فِي خُرْفَةِ الْجَنَّةِ قُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ مَا خُرْفَةُ الْجَنَّةِ قَالَ جَنَاهَا قُلْتُ لِأَبِي قِلَابَةَ عَنْ مَنْ حَدَّثَهُ أَبُو أَسْمَاءَ قَالَ عَنْ . ثَوبَانَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ .
৫২৩। আবু আসমা (র) বলেন, যে ব্যক্তি তার রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায়, সে বেহেশতের খুরফার মধ্যে থাকে। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বেহেশতের খুরফা কি? তিনি বলেন, বেহেশতের কুড়ানো ফল। আমি আবু কিলাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু আসমা এই হাদীস কার সূত্রে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন, সাওবান (রা)-রাসূলুল্লাহ (স) সূত্রে (মু, তি, আ, হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রোগীর সাথে সাক্ষাতকারীর কথাবার্তা

📄 রোগীর সাথে সাক্ষাতকারীর কথাবার্তা


۲۳۷ - بَابُ الْحَدِيْثِ لِلْمَرِيضِ وَالْعَائِدِ
২৩৭-অনুচ্ছেদ: রোগীর সাথে সাক্ষাতকারীর কথাবার্তা।
৫২৪- حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنْ أَبَا بَكْرِ بْنَ الْمُنْكَدِرِ فِي نَاسِ مِّنْ أَهْلِ الْمَسْجِدِ عَادُوا عُمَرَ بْنَ الْحَكَمِ بْنِ رَافِعِ الْأَنْصَارِيِّ قَالُوا يَا أَبَا حَفْصٍ حَدَّثَنَا قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ مَنْ عَادَ مَرِيضًا خَاضَ فِي الرَّحْمَةِ حَتَّى إِذَا قَعَدَ اسْتَقَرٌّ فِيهَا .
৫২৪। আবদুল হামীদ ইবনে জাফর (র) বলেন, আমার পিতা আমাকে অবহিত করেন যে, আবু বাক্স ইবনে হাযম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (র) মসজিদের কতক লোকসহ অসুস্থ উমার ইবনে হাকাম ইবনে রাফে আনসারীকে দেখতে গেলেন। তারা বলেন, হে আবু হাফস! আমাদেরকে হাদীস শুনান। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা)-কে বলতে শুনেছি, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে রহমাতের মধ্যে ডুর দেয়, এমনকি সে যখন সেখানে বসে পড়ে, তখন তো রহমাতের মধ্যেই অবস্থান করে (মা, আ, হা, হি, বায)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00