📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?

📄 রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?


২২৯ - بَابُ هَلْ يَكُونُ قَوْلَ الْمَرِيضِ أَنِّي وَجَعٌ شَكَايَةٌ
২২৯-অনুচ্ছেদ: রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?
৫১১- عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَي أَسْمَاءَ قَبْلَ قُتِلَ عَبْدُ اللهِ بِعَشْرِ لَيَالٍ وَأَسْمَاءُ وَجَعَةٌ فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ كَيْفَ تَجِدِيْنَكَ قَالَتْ وَجَعَةٌ قَالَ إِنِّي فِي الْمَوْتِ قَالَتْ لَعَلَّكَ تَشْتَهِي مَوْتِي فَلَذَلِكَ تَتَمَنَّاهُ فَلَا تَفْعَلْ فَوَاللَّهِ مَا أَشْتَهِي أَنْ أَمُوْتَ حَتَّى يَأْتِي عَلَى أَحَدٍ طَرَفَيْكَ أَوْ تُقْتَلَ فَاحْتَسِبُكَ وَإِمَّا أَنْ تَظْفَرَ فَتَقَرُّ عَيْنِي فَإِيَّاكَ أَنْ تُعْرِضَ عَلَيْكَ خَطَّةً فَلَا تُوَافِقُكَ فَتَقَبَّلُهَا كَرَاهِيَةَ الْمَوْتِ وَأَنَّمَا عَلَي ابْنُ الزُّبَيْرِ لِيَقْتُلَ فَيُحْزِنُهَا ذلك .
৫১১। হিশাম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) তার শাহাদাতের দশ দিন পূর্বে (তার মা) আসমা (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আসমা (রা) তখন রোগাক্রান্ত। আবদুল্লাহ (রা) তাকে বলেন, আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বলেন, অসুস্থ বোধ করছি। তিনি বলেন, আমি তো মৃত্যুর মুখে আছি। আসমা (রা) বলেন, হয়তো তুমি আমার মৃত্যু আশা করছো। তাই তুমি তোমার মৃত্যু কামনা করছো। তুমি তা করো
না। আল্লাহর শপথ! তোমার একটা কূল-কিনারা না হওয়া পর্যন্ত আমি মরতে চাই না। হয় তুমি শহীদ হবে এবং আমি তোমার জন্য সওয়াবের আশা করবো অথবা তুমি বিজয়ী হবে এবং তাতে আমার চোখ জুড়াবে। খবরদার! মৃত্যুভয়ে তুমি কোন অবাঞ্ছিত প্রস্তাবে সম্মত হয়ো না। ইবনুয যুবাইর (রা)-র আশংকা ছিল, তিনি শহীদ হলে তাতে তার মা শোকাকুল হয়ে পড়বেন।
৫১২- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ مَوْعُوكَ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَوَجَدَ حَرَارَتَهَا فَوْقَ القَطِيفَة فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ مَا أَشَدُّ حُمَّاكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِنَّا كَذَلِكَ يَشْتَدُّ عَلَيْنَا البَلاءُ وَيُضَاعِفُ لَنَا الْأَجْرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلاء قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الصَّالِحُوْنَ وَقَدْ كَانَ أَحَدُهُمْ يُبْتَلِي بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ إِلا الْعِبَاءَةَ يَجُوبُهَا فَيَلْبَسُهَا وَيُبْتَلي بِالْقُمْلِ حَتَّى يَقْتُلَهُ وَلَأَحَدُهُمْ كَانَ أَشَدُّ فَرَحًا بِالْبَلَاءِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِالْعَطَاءِ.
৫১২। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর শরীরে একটি চাদর জড়ানো ছিল। আবু সাঈদ (রা) তার দেহে হাত রাখলেন এবং চাদরের উপড় দিয়েই উত্তাপ অনুভব করলেন। আবু সাঈদ (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার শরীরে কি ভীষণ জ্বর। তিনি বলেনঃ আমাদের এরূপ হয়ে থাকে। আমাদের উপর কঠিন বিপদ আসে এবং আমাদের দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হয়। আবু সাঈদ (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন মানুষের উপর অধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেনঃ নবী-রাসূলগণের উপর, অতঃপর সৎকর্মশীলদের উপর। তাদের কেউ দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, এমনকি একটি জুব্বা ছাড়া পরার মত কিছুই তাঁর ছিলো না। কেউ উকুনের বিপদে পতিত হয়েছেন। শেষে তা তাঁকে হত্যা করে। নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যকার কেউ পুরস্কার লাভে যতো খুশি হয়, তাদের কেউ বিপদে পতিত হলে ততোধিক খুশি হতেন (ইবনে মাজা, মুশকিলুল আছার)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া

📄 সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া


২৩٠ - بَابُ عِيَادَةِ المُعْمِيَ عَلَيْهِ
২৩০- অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া।
৫১৩- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ مَرِضْتُ مَرَضًا فَأَتَانِي النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُنِي وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا مَاشِيَانِ فَوَجَدَانِي أَعْمِي عَلَيَّ فَتَوَضَّا النَّبِيُّ اللهِ ثُمَّ صَبِّ وَضُوءَهُ عَلَيْ فَأَفَقْتُ فَإِذَا النَّبِيُّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي أَقْضِي فِي مَالِي فَلَمْ يُجِبْنِي بِشَيْءٍ حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ الْمِيْرَاتِ.
৫১৩। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমি রোগাক্রান্ত হলে নবী (স) আবু বাক্স (রা)-কে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমাকে দেখতে এলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। নবী
(স) উযু করলেন এবং তাঁর উযুর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি হুঁশ ফিরে পেলাম। দেখি নবী (স) উপস্থিত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সম্পত্তির কি করবো, আমার মাল সম্পর্কে কিরূপ সিদ্ধান্ত নিবো? ওয়ারিসী স্বত্ত্ব সংক্রান্ত আয়াত নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমার কথার কোন জবাব দেননি (বু, মু, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া

📄 রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া


২২১ - باب عبادة الصبيان
২০১ - অনুচ্ছেদ : রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া।
৫১৪- عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ صَبِيَّا لِابْنَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بُعِثَتْ أُمُّهُ أَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ وَلَدِىْ فِي الْمَوْتِ فَقَالَ لِلرَّسُوْلِ اذْهَبْ فَقُلْ لَهَا إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرُ وَلْتَحْتَسِبْ فَرَجَعَ الرَّسُوْلُ فَأَخْبَرَهَا فَبُعِثَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَمَّا جَاءَ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فِي نَفَرٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ مِنْهُمْ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَأَخَذَ النَّبِيُّ ﷺ الصَّبِيُّ فَوَضَعَهُ بَيْنَ ثُنْدُوَتَيْهِ وَلَصْدُرِهِ كَفَقِقَةِ الشَّنَّةِ فَدَمَعَتْ عَيْنَا رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ سَعْدُ أَتَبْكِي وَأَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ فَقَالَ إِنَّمَا أَبْكِي رَحْمَةٌ لَّهَا إِنَّ اللهَ لَا يَرْحَمُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الرُّحَمَاءِ.
৫১৪। উসামা ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এক মেয়ের শিশু পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলো। তার মা নবী (স)-কে বলে পাঠান, আমার সন্তান মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। তিনি বার্তাবাহককে বলেনঃ “তাকে গিয়ে বলো, যা আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা তিনি দান করেন সবই তাঁর এবং প্রত্যেক বস্তুর জন্যই তাঁর নিকট মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে”। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং তার জন্য সওয়াবের আশা করে। বার্তাবাহক ফিরে গিয়ে তাকে তা জানালে তিনি পুনরায় তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আসার জন্য বলে পাঠান। নবী (স) কয়েকজন সঙ্গীসহ রওয়ানা হলেন। সাদ ইবনে উবাদা (রা)-ও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী (স) মুমূর্ষু শিশুকে তাঁর দুই বাহুর উপর রাখলেন। ছেলেটির বুকে পুরান কলসীর অনুরূপ শব্দ হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুপূর্ণ হলো। সাদ (রা) বলেন, আপনিও কাঁদছেন, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ আমি তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কাঁদছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ার্দ্র হৃদয় বান্দার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন (বু, মু, দা, না, ই)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 (উন্মু দারদা (রা) রুগ্নার স্বামীকে আহার করাতেন)

📄 (উন্মু দারদা (রা) রুগ্নার স্বামীকে আহার করাতেন)


২২২ - باب
২০২ - অনুচ্ছেদ : উম্মু দারদা (রা) রুগণ স্বামীকে আহার করাতেন।
৫১৫- عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ قَالَ مَرِضَتْ امْرَأَتِيْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ فَتَقُوْلُ لِى كَيْفَ أَهْلُكَ قَالُوا لَهَا مَرْضَى فَتَدْعُوْ لِيْ بِطَعَامٍ فَآكُلُ ثُمَّ فَعَلَتْ.
৫১৫। ইবরাহীম ইবনে আবু ইবলা (র) বলেন, আমার স্ত্রী রোগাক্রান্ত হলে আমি উম্মু দারদা (রা)-এর নিকট যাতায়াত করতাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, তোমার স্ত্রী কেমন আছে? আমি তাকে বলতাম, অসুস্থ। তিনি আমার জন্য খাবার নিয়ে ডাকতেন। আমি আহার করে ফিরে আসতাম। একবার আমি তার বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, (রুগ্নার) অবস্থা কি? আমি বললাম, অনেকটা সুস্থ। তিনি বলেন, তুমি যদি বলতে তোমার স্ত্রী অসুস্থ, তাহলে আমি তোমার জন্য খাবার আনাতাম। এখন যেহেতু সে সুস্থ, তাই তোমার জন্য আর কিছু আনাচ্ছি না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00