📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়

📄 তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়


২২৮ - بَابُ يُكْتَبُ لِلْمَرِيضِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ
২২৮-অনুচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো, তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়।
৫০২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ يَمْرَضُ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مِثْلَ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ.
৫০২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে সেই অবস্থায় সে তার সুস্থাবস্থায় যেরূপ আমল করতো সেরূপ সওয়াব তার জন্য লেখা হয় (আ, বা, হা)।
৫০৩- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ إِلا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحْتِهِ مَا كَانَ مَرِيضًا فَإِنْ عَافَاهُ أَرَاهُ قَالَ غَسَلَهُ وَانْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ.
৫০৩। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে কোন মুসলমানকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলেন, তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক তদ্রূপ সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হতে থাকে, যতক্ষণ সে রোগাক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে রোগমুক্ত করেন তবে তাকে (গুনাহ থেকে) ধৌত করে দেন, আর যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন (আ, মুশকিলুল আছার)।
৫০৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَتِ الحُمِّي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ ابْعَثْنِي إِلى أَثَرِ أَهْلِكَ عِنْدَكَ فَبَعَثَهَا إِلَى الْأَنْصَارِ فَبَقِيَتْ عَلَيْهِمْ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَتَاهُمْ فِي دِيَارِهِمْ فَشَكُوا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْخُلُ دَاراً دارا وَبَيْتًا بَيْتًا يَدْعُو لَهُمْ بِالْعَافِيَةِ فَلَمَّا رَجَعَ تَبِعَتْهُ امْرَأَةً مِّنْهُمْ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَمِنَ الْأَنْصَارِ وَإِنْ أَبِي لَمِنَ الْأَنْصَارِ فَادْعُ اللهَ لِي كَمَا دَعَوْتَ لِلْأَنْصَارِ قَالَ مَا شِئْتِ إِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيكَ وَإِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ قَالَتْ بَلْ أَصْبِرُ وَلَا أَجْعَلُ الْجَنَّةَ خَطراً .
৫০৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, একদা জ্বর নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নবী (স) তাদের বসতিতে এলে তারা তার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তাই নবী (স) তাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তাঁর অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তোমার জন্য হবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।
৫০৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا مِنْ مَرَضِ يُصِيبُنِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْحُمِّي لِأَنَّهَا تَدْخُلُ فِي كُلِّ عُضْوٍ مِّنِّي وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي كُلَّ عُضْوٍ قِسْطَهُ مِنَ الْأَجْرِ.
৫০৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার কাছে জ্বরের চেয়ে প্রিয়তর কোন রোগ নাই। তা আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করন (ইবনে আবু শায়বা)।
৫০৬- عَنْ أَبِي نُحَيْلَةَ قِيلَ لَهُ أَدْعُ اللهَ قَالَ اللَّهُمَّ انْقُصْ مِنَ الْمَرَضِ وَلَا تَنْقُصُ مِنَ الْأَجْرِ فَقِيلَ لَهُ أَدْعُ أَدْعُ فَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْمُقَرَّبِينَ وَاجْعَلْ أُمِّي مِنَ الْحُورِ الْعِينِ.
৫০৬। আবু নুহায়লা (র) থেকে বর্ণিত। তাকে বলা হলো, আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! রোগ কমিয়ে দিন, কিন্তু সওয়াব কমাবেন না। তাকে বলা হলো, আরো দোয়া করুন, আরো দোয়া করুন। তিনি বলেন: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নৈকট্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমার মাকে আয়তলোচনা হুরদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
৫০৭- حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَلَا أُرِيَكَ أَمْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْتُ بَلَّى قَالَ هَذِهِ المَرْأَةُ السُّودَاءُ أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ إِنِّي أَصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشْفُ فَادْعُ اللهَ لِي قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكَ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرُ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا .
৫০৭। আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একজন বেহেশতী নারী দেখাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, ঐ কৃষ্ণকায় মহিলা। সে নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং (অচৈতন্য অবস্থায়) আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং তোমার জন্য হবে জান্নাত। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করতে পারি। সে বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো। সে পুনরায় বললো, আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করলেন (বু, মু,না)।
৫০৮- عَنْ عَطَاء أَنَّهُ رَأي أُمّ زُفَرِ تِلْكَ الْمَرأَةَ طويلة سَوْدَاءَ عَلَي سُلْمِ الْكَعْبَةِ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ الْقَاسِمَ أَخْبَرَتْهُ أَنْ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شُوكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ.
৫০৮। আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি সেই কৃষ্ণকায় দীর্ঘদেহী উম্মু যুফারকে কাবা ঘরের সিঁড়ির উপর দেখেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা আমাকে অবহিত করেছেন যে, কাসেম (র) তাকে অবহিত করেছেন। আয়েশা (রা) তাকে অবহিত করেন যে, নবী (স) বলতেনঃ মুমিন ব্যক্তির দেহে কাঁটা বিদ্ধ হলে বা ততোধিক বিপদ এলে তাতে তার গুনাহ্ কাফফারা হয়ে যায় (বু, মু, মুশকিলুল আছার)।
৫০৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا إِلَّا قُضِيَ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
৫০৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: যে কোন মুসলমানের গায়ে এই দুনিয়ায় কাঁটা বিদ্ধ হয় এবং সে তাতে সওয়াবের আশা রাখে, তার বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার গুনাহসমূহ মাফ করা হবে (আ, মুşkিলুল আছার)।
৫১০- عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ وَلَا مُسْلِمٍ وَلَا مُسْلِمَةٍ يَمْرَضُ مَرَضًا إِلَّا قَضَى اللَّهُ بِهِ عَنْهُ مِنْ خَطَايَاهُ.
৫১০। জাবের (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছি: যে কোন মুমিন পুরুষ বা নারী এবং কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী রোগগ্রস্ত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (আ, মুশকিলুল আছার)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?

📄 রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?


২২৯ - بَابُ هَلْ يَكُونُ قَوْلَ الْمَرِيضِ أَنِّي وَجَعٌ شَكَايَةٌ
২২৯-অনুচ্ছেদ: রোগীর 'আমি অসুস্থ' বলা কি অভিযোগ?
৫১১- عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ عَلَي أَسْمَاءَ قَبْلَ قُتِلَ عَبْدُ اللهِ بِعَشْرِ لَيَالٍ وَأَسْمَاءُ وَجَعَةٌ فَقَالَ لَهَا عَبْدُ اللَّهِ كَيْفَ تَجِدِيْنَكَ قَالَتْ وَجَعَةٌ قَالَ إِنِّي فِي الْمَوْتِ قَالَتْ لَعَلَّكَ تَشْتَهِي مَوْتِي فَلَذَلِكَ تَتَمَنَّاهُ فَلَا تَفْعَلْ فَوَاللَّهِ مَا أَشْتَهِي أَنْ أَمُوْتَ حَتَّى يَأْتِي عَلَى أَحَدٍ طَرَفَيْكَ أَوْ تُقْتَلَ فَاحْتَسِبُكَ وَإِمَّا أَنْ تَظْفَرَ فَتَقَرُّ عَيْنِي فَإِيَّاكَ أَنْ تُعْرِضَ عَلَيْكَ خَطَّةً فَلَا تُوَافِقُكَ فَتَقَبَّلُهَا كَرَاهِيَةَ الْمَوْتِ وَأَنَّمَا عَلَي ابْنُ الزُّبَيْرِ لِيَقْتُلَ فَيُحْزِنُهَا ذلك .
৫১১। হিশাম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) তার শাহাদাতের দশ দিন পূর্বে (তার মা) আসমা (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আসমা (রা) তখন রোগাক্রান্ত। আবদুল্লাহ (রা) তাকে বলেন, আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বলেন, অসুস্থ বোধ করছি। তিনি বলেন, আমি তো মৃত্যুর মুখে আছি। আসমা (রা) বলেন, হয়তো তুমি আমার মৃত্যু আশা করছো। তাই তুমি তোমার মৃত্যু কামনা করছো। তুমি তা করো
না। আল্লাহর শপথ! তোমার একটা কূল-কিনারা না হওয়া পর্যন্ত আমি মরতে চাই না। হয় তুমি শহীদ হবে এবং আমি তোমার জন্য সওয়াবের আশা করবো অথবা তুমি বিজয়ী হবে এবং তাতে আমার চোখ জুড়াবে। খবরদার! মৃত্যুভয়ে তুমি কোন অবাঞ্ছিত প্রস্তাবে সম্মত হয়ো না। ইবনুয যুবাইর (রা)-র আশংকা ছিল, তিনি শহীদ হলে তাতে তার মা শোকাকুল হয়ে পড়বেন।
৫১২- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ مَوْعُوكَ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ فَوَجَدَ حَرَارَتَهَا فَوْقَ القَطِيفَة فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ مَا أَشَدُّ حُمَّاكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِنَّا كَذَلِكَ يَشْتَدُّ عَلَيْنَا البَلاءُ وَيُضَاعِفُ لَنَا الْأَجْرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلاء قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الصَّالِحُوْنَ وَقَدْ كَانَ أَحَدُهُمْ يُبْتَلِي بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ إِلا الْعِبَاءَةَ يَجُوبُهَا فَيَلْبَسُهَا وَيُبْتَلي بِالْقُمْلِ حَتَّى يَقْتُلَهُ وَلَأَحَدُهُمْ كَانَ أَشَدُّ فَرَحًا بِالْبَلَاءِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِالْعَطَاءِ.
৫১২। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর শরীরে একটি চাদর জড়ানো ছিল। আবু সাঈদ (রা) তার দেহে হাত রাখলেন এবং চাদরের উপড় দিয়েই উত্তাপ অনুভব করলেন। আবু সাঈদ (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার শরীরে কি ভীষণ জ্বর। তিনি বলেনঃ আমাদের এরূপ হয়ে থাকে। আমাদের উপর কঠিন বিপদ আসে এবং আমাদের দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হয়। আবু সাঈদ (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন মানুষের উপর অধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেনঃ নবী-রাসূলগণের উপর, অতঃপর সৎকর্মশীলদের উপর। তাদের কেউ দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, এমনকি একটি জুব্বা ছাড়া পরার মত কিছুই তাঁর ছিলো না। কেউ উকুনের বিপদে পতিত হয়েছেন। শেষে তা তাঁকে হত্যা করে। নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যকার কেউ পুরস্কার লাভে যতো খুশি হয়, তাদের কেউ বিপদে পতিত হলে ততোধিক খুশি হতেন (ইবনে মাজা, মুশকিলুল আছার)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া

📄 সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া


২৩٠ - بَابُ عِيَادَةِ المُعْمِيَ عَلَيْهِ
২৩০- অনুচ্ছেদ: সংজ্ঞাহীন রোগীকে দেখতে যাওয়া।
৫১৩- عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ مَرِضْتُ مَرَضًا فَأَتَانِي النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُنِي وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا مَاشِيَانِ فَوَجَدَانِي أَعْمِي عَلَيَّ فَتَوَضَّا النَّبِيُّ اللهِ ثُمَّ صَبِّ وَضُوءَهُ عَلَيْ فَأَفَقْتُ فَإِذَا النَّبِيُّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي أَقْضِي فِي مَالِي فَلَمْ يُجِبْنِي بِشَيْءٍ حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ الْمِيْرَاتِ.
৫১৩। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমি রোগাক্রান্ত হলে নবী (স) আবু বাক্স (রা)-কে সাথে নিয়ে পদব্রজে আমাকে দেখতে এলেন। তারা আমাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। নবী
(স) উযু করলেন এবং তাঁর উযুর অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দিলেন। ফলে আমি হুঁশ ফিরে পেলাম। দেখি নবী (স) উপস্থিত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সম্পত্তির কি করবো, আমার মাল সম্পর্কে কিরূপ সিদ্ধান্ত নিবো? ওয়ারিসী স্বত্ত্ব সংক্রান্ত আয়াত নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমার কথার কোন জবাব দেননি (বু, মু, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া

📄 রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া


২২১ - باب عبادة الصبيان
২০১ - অনুচ্ছেদ : রুগ্ন শিশুদের দেখতে যাওয়া।
৫১৪- عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ صَبِيَّا لِابْنَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بُعِثَتْ أُمُّهُ أَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ وَلَدِىْ فِي الْمَوْتِ فَقَالَ لِلرَّسُوْلِ اذْهَبْ فَقُلْ لَهَا إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرُ وَلْتَحْتَسِبْ فَرَجَعَ الرَّسُوْلُ فَأَخْبَرَهَا فَبُعِثَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَمَّا جَاءَ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فِي نَفَرٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ مِنْهُمْ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ فَأَخَذَ النَّبِيُّ ﷺ الصَّبِيُّ فَوَضَعَهُ بَيْنَ ثُنْدُوَتَيْهِ وَلَصْدُرِهِ كَفَقِقَةِ الشَّنَّةِ فَدَمَعَتْ عَيْنَا رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ سَعْدُ أَتَبْكِي وَأَنْتَ رَسُوْلُ اللهِ فَقَالَ إِنَّمَا أَبْكِي رَحْمَةٌ لَّهَا إِنَّ اللهَ لَا يَرْحَمُ مِنْ عِبَادِهِ إِلَّا الرُّحَمَاءِ.
৫১৪। উসামা ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-এর এক মেয়ের শিশু পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলো। তার মা নবী (স)-কে বলে পাঠান, আমার সন্তান মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। তিনি বার্তাবাহককে বলেনঃ “তাকে গিয়ে বলো, যা আল্লাহ নিয়ে যান এবং যা তিনি দান করেন সবই তাঁর এবং প্রত্যেক বস্তুর জন্যই তাঁর নিকট মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে”। সুতরাং সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং তার জন্য সওয়াবের আশা করে। বার্তাবাহক ফিরে গিয়ে তাকে তা জানালে তিনি পুনরায় তাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আসার জন্য বলে পাঠান। নবী (স) কয়েকজন সঙ্গীসহ রওয়ানা হলেন। সাদ ইবনে উবাদা (রা)-ও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী (স) মুমূর্ষু শিশুকে তাঁর দুই বাহুর উপর রাখলেন। ছেলেটির বুকে পুরান কলসীর অনুরূপ শব্দ হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (স)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুপূর্ণ হলো। সাদ (রা) বলেন, আপনিও কাঁদছেন, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেনঃ আমি তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কাঁদছি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ার্দ্র হৃদয় বান্দার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন (বু, মু, দা, না, ই)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00