📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 রুগ্নের রোগযাতনা (তার গুনাহ্) কাফফারাস্বরূপ

📄 রুগ্নের রোগযাতনা (তার গুনাহ্) কাফফারাস্বরূপ


২২৬ - بَابُ كَفَّارَةِ الْمَرِيضِ
২২৬-অনুচ্ছেদ: রুগ্নের রোগযাতনা (তার গুনাহর) কাফফারাস্বরূপ।
৪৯৩- عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ رَجُلًا آتِي أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ وَهُوَ وَجَعٌ فَقَالَ كَيْفَ أَمْشِي أَجِرَ الْأَمِيرُ فَقَالَ هَلْ تَدْرُوْنَ فِيْمَا تُؤْجَرُونَ بِهِ فَقَالَ بِمَا يُصِيبُنَا فِيْمَا نَكْرَهُ فَقَالَ إِنَّمَا تُؤْجَرُوْنَ بِمَا أَنْفَقْتُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاسْتُنْفِقَ لَكُمْ ثُمَّ عَدَّ أَدَاةَ
৪৯৩। গুদাইফ ইবনুল হারিস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা)-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তার নিকট আসলো। সে বললো, আপনি কেমন আছেন? আমীর পুরস্কৃত হোন! তিনি বলেন, তোমরা কি জানো, কিসের বিনিময়ে তোমরা পুরস্কার লাভ করো? সে বললো, আমাদের উপর অবাঞ্ছিত কিছু আপতিত হলে তার বিমিনয়ে। তিনি বলেন, তোমরা আল্লাহ্র রাস্তায় যা ব্যয় করো এবং তোমাদের জন্য যা ব্যয় করা হয় তোমরা তার বিনিময় পাবে। অতঃপর তিনি হাওদা থেকে শুরু করে ঘোড়ার লাগাম পর্যন্ত অনেক কিছুর উল্লেখ করলেন। অতঃপর বলেন, কিন্তু তোমাদের দেহে যেসব অসুখ-বিসুখ হয় তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করেন (আ,তা)।
৪৯৪- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبَ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هُمْ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًي ولا غَمْ حَتَّى الشَّوْكَةَ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ.
৪৯৪। আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ মুসলিম বান্দার উপর রোগ-শোক, দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভাবনা যাই আসুক, এমনকি যে কাঁটা তার গায়ে বিধে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (বু, মু, তি, আ)।
৪৯৫- عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ وَعَادَ مَرِيضًا فِي كنْدَةَ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ أَبْشَرْ فَإِنَّ مَرَضَ الْمُؤْمِن يَجْعَلُهُ اللَّهُ لَهُ كَفَّارَةً وَمُسْتَعْتَبًا وَإِنَّ مَرَضَ الْفَاجِرِ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَا يَدْرِي لِمَ عَقَلَ وَلِمَ أَرْسَلَ.
৪৯৫। আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালমান (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি কিন্দায় এক রোগীকে দেখতে গেলেন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে বলেন, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহ মুমিন বান্দার রোগকে তার গুনাহসমূহের কাফফারা ও অনুশোচনাস্বরূপ গ্রহণ করেন। আর পাপাচারীর রোগ হলো এমন উটতুল্য যাকে তার মালিক বেঁধে রাখলো, অতঃপর ছেড়ে দিলো। অথচ সে জানে না যে, তারা কেন তাকে বাঁধলো এবং কেনই বা তাকে ছেড়ে দিলো।
৪৯৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ لَا يَزَالُ البَلاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنَةِ فِي جَسَدِهِ وَأَهْلِهِ وَمَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ.
৪৯৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ ঈমানদার পুরুষ ও নারীর জান-মাল ও পরিবার-পরিজনের উপর বালা-মুসীবত লেগেই থাকে। অতঃপর সে মহামহিম আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করে যে, তার কোন গুনাহ্ই অবশিষ্ট থাকে না (তি, আ)।
৪৯৭- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ هَلْ أَخَذَتْكَ أُمُّ مِلْدَمٍ قَالَ وَمَا أمُّ مِلْدَمٍ قَالَ حَرُّ بَيْنَ الْجِلْدِ وَاللَّحْمِ قَالَ لَا قَالَ فَهَلْ صُدِعْتَ قَالَ وَمَا الصُّدَاعُ قَالَ رِيحٌ تَعْتَرِضُ فِي الرَّأْسِ تَضْرِبُ الْعُرُوقَ قَالَ لَا قَالَ فَلَمَّا قَامَ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ الي رَجُلٍ مِّنْ أَهْلِ النَّارِ فَلْيَنْظُرْ.
৪৯৭। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, এক বেদুইন নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে বলেনঃ তোমাকে কি উম্মু মিলদাম স্পর্শ করেছে? সে বললো, উম্মু মিলদাম কি? তিনি বলেন: দেহের চামড়া ও গোশতের মধ্যবর্তী স্থানের উত্তাপ (জ্বর)। সে বললো, না। তিনি পুনরায় বলেনঃ তুমি কি সুদা আক্রান্ত হয়েছো? সে বললো, সুদা কি? তিনি বলেন: একটি বায়ু যা মাথায় অনুভূত হয় এবং তা শিরাসমূহে আঘাত করে। সে বললো, না। অতঃপর সে ব্যক্তি উঠে চলে গেলে তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোন দোযখীকে দেখতে আগ্রহী সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয় (হা, হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 গভীর রাতে রোগীকে দেখতে যাওয়া

📄 গভীর রাতে রোগীকে দেখতে যাওয়া


২২৭ - بَابُ الْعِيَادَةِ جَوْفَ اللَّيْلِ
২২৭-অনুচ্ছেদ: গভীর রাতে রোগীকে দেখতে যাওয়া।
৪৯৮- عَنْ خَالِدِ بْنِ الرَّبِيعِ قَالَ لَمَّا ثَقُلَ حُذَيْفَةُ سَمِعَ بِذَلِكَ رَهْطُهُ وَالْأَنْصَارُ فَأَتَوهُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ قَالَ أَيُّ سَاعَةٍ هُذِهِ قُلْنَا جَوْفُ اللَّيْلِ أَوْ عِنْدَ الصُّبْحِ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ صَبَاحِ النَّارِ قَالَ جِئْتُمْ بِمَا أَكَفَّنُ بِهِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ لَا تَغَالُوا بِالْأَكْفَانِ فَإِنَّهُ إِنْ يَكُنْ لِي عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ بُدَّلْتُ بِهِ خَيْرًا مِّنْهُ وَإِنْ كَانَتِ الْأُخْرَيِ سُلِبَتْ سَلَبًا سَرِيعًا.
৪৯৮। খালিদ ইবনুর রবী (র) বলেন, হুযায়ফা (রা) মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলে তা তার পরিবারের লোকজন ও আনসারগণ শুনতে পেলেন। তারা গভীর রাতে বা ভোর রাতের দিকে তার নিকট আসলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, এটা কোন সময়? আমরা বললাম, মধ্যরাত বা ভোরের কাছাকাছি সময়। তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের প্রভাত হতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। তিনি বলেন, তোমরা কি আমার কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছো? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, তোমরা কাফনের ব্যাপারে বেশি খরচ করো না। কেননা আল্লাহর কাছে যদি আমার জন্য কল্যাণ থেকে থাকে, তবে তার পরিবর্তে আমি এর চেয়ে উত্তম বস্ত্রই লাভ করবো। আর যদি তা না হয় তবে এই কাফনও অচিরেই ছিনিয়ে নেয়া হবে (হাকেম, সিফাতুস সাওয়া)।
৪৯৯- عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا اشْتَكَي الْمُؤْمِنُ أَخْلَصَهُ اللَّهُ كَمَا يَخْلُصُ الْكَيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ.
৪৯৯। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে আল্লাহ তাকে (গুনাহ্ থেকে) এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেন, যেমন হাঁপড় লোহাকে পরিচ্ছন্ন করে।
৫০০- عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصَابُ بِمُصِيبَةٍ وَجَعَ أَوْ مَرِضَ الا كَانَ كَفَّارَةُ ذُنُوبُه حَتَّى الشَّوْكَةَ يُشَاكُهَا أَو النَّكْبَةَ.
৫০০। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কোন মুসলমান ব্যথা-বেদনা বা রোগ-ব্যাধির দ্বারা বিপদগ্রস্ত হলে তা তার গুনাহ্ কাফফারা হয়, এমনকি তার দেহে কাঁটা বিধলে বা লাগলে বা সে হোঁচট খেলে তাও (বু,মু,না)।
৫০১- عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ أَنَّ أَبَاهَا قَالَ اشْتَكَيْتُ بِمَكَّةَ شَكْوَي شَدِيدَةً فَجَاءَ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَتْرُكُ مَالاً وَإِنِّي لَمْ أَتْرُكْ إِلَّا ابْنَةً وَاحِدَةً أَفَأَوْصِي بِثُلُثَىْ مَالِي وَاتْرُكُ الثُّلُثَ قَالَ لَا قَالَ أُوصِي النَّصْفَ وَأَتْرُكُ لَهَا النَّصْفَ قَالَ لا قَالَ فَأُوصِي بالثلث وَاتْرُكُ لَهَا الثَّلُثَيْنِ قَالَ الثُّلث وَالثُّلث كَثِيرٌ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِي ثُمَّ مَسَحَ وَجْهِي وَ بَطْنِي ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا وَأَتْمَ لَهُ هِجْرَتَهُ فَمَا زِلْتُ أَجِدُ بَرْدَ يَدِهِ عَلَى كَبِدِي فِيْمَا يُخَالُ إِلَيَّ حَتَّى السَّاعَةَ.
৫০১। সাদ (রা)-এর কন্যা আয়েশা (রা) বলেন, তার পিতা বলেছেন, আমি মক্কায় রোগগ্রস্ত হলাম। নবী (স) আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অনেক সম্পত্তি এবং একটি মাত্র কন্যা সন্তান রেখে যাচ্ছি। আমি কি আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যেতে পারি? তিনি বলেন : না। তিনি (পিতা) বলেন, তাহলে আমি কি অর্ধেক সম্পত্তি ওসিয়াত করে বাকী অর্ধেক তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেন: না। আমি বললাম, তবে কি আমি এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করে দুই- তৃতীয়াংশ তার জন্য রেখে যেতে পারি? তিনি বলেন: এক-তৃতীয়াংশ। তবে এক- তৃতীয়াংশও অনেক। অতঃপর তিনি তাঁর হাত আমার কপালে রাখলেন, অতঃপর আমার মুখমণ্ডলে ও পেটে হাত বুলালেন। অতঃপর বলেন: "হে আল্লাহ! সাদকে রোগমুক্ত করো এবং তার হিজরতকে পূর্ণ করো"। সাদ (রা) বলেন, তিনি আমার এখান থেকে বিদায়ের পর হতে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাঁর হাতের শীতলতা আমার হৃদপিণ্ডে অনুভব করছি (বু, মু, দা, তি, না, ই)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো

📄 কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো


২২৮ - بَابُ يُكْتَبُ لِلْمَرِيضِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ
২২৮-অনুচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো, তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়।
৫০২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ يَمْرَضُ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مِثْلَ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ.
৫০২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে সেই অবস্থায় সে তার সুস্থাবস্থায় যেরূপ আমল করতো সেরূপ সওয়াব তার জন্য লেখা হয় (আ, বা, হা)।
৫০৩- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ إِلا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحْتِهِ مَا كَانَ مَرِيضًا فَإِنْ عَافَاهُ أَرَاهُ قَالَ غَسَلَهُ وَانْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ.
৫০৩। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে কোন মুসলমানকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলেন, তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক তদ্রূপ সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হতে থাকে, যতক্ষণ সে রোগাক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে রোগমুক্ত করেন তবে তাকে (গুনাহ থেকে) ধৌত করে দেন, আর যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন (আ, মুশকিলুল আছার)।
৫০৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَتِ الحُمِّي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ ابْعَثْنِي إِلى أَثَرِ أَهْلِكَ عِنْدَكَ فَبَعَثَهَا إِلَى الْأَنْصَارِ فَبَقِيَتْ عَلَيْهِمْ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَتَاهُمْ فِي دِيَارِهِمْ فَشَكُوا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْخُلُ دَاراً دارا وَبَيْتًا بَيْتًا يَدْعُو لَهُمْ بِالْعَافِيَةِ فَلَمَّا رَجَعَ تَبِعَتْهُ امْرَأَةً مِّنْهُمْ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَمِنَ الْأَنْصَارِ وَإِنْ أَبِي لَمِنَ الْأَنْصَارِ فَادْعُ اللهَ لِي كَمَا دَعَوْتَ لِلْأَنْصَارِ قَالَ مَا شِئْتِ إِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيكَ وَإِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ قَالَتْ بَلْ أَصْبِرُ وَلَا أَجْعَلُ الْجَنَّةَ خَطراً .
৫০৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, একদা জ্বর নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নবী (স) তাদের বসতিতে এলে তারা তার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তাই নবী (স) তাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তাঁর অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তোমার জন্য হবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।
৫০৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا مِنْ مَرَضِ يُصِيبُنِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْحُمِّي لِأَنَّهَا تَدْخُلُ فِي كُلِّ عُضْوٍ مِّنِّي وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي كُلَّ عُضْوٍ قِسْطَهُ مِنَ الْأَجْرِ.
৫০৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার কাছে জ্বরের চেয়ে প্রিয়তর কোন রোগ নাই। তা আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করন (ইবনে আবু শায়বা)।
৫০৬- عَنْ أَبِي نُحَيْلَةَ قِيلَ لَهُ أَدْعُ اللهَ قَالَ اللَّهُمَّ انْقُصْ مِنَ الْمَرَضِ وَلَا تَنْقُصُ مِنَ الْأَجْرِ فَقِيلَ لَهُ أَدْعُ أَدْعُ فَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْمُقَرَّبِينَ وَاجْعَلْ أُمِّي مِنَ الْحُورِ الْعِينِ.
৫০৬। আবু নুহায়লা (র) থেকে বর্ণিত। তাকে বলা হলো, আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! রোগ কমিয়ে দিন, কিন্তু সওয়াব কমাবেন না। তাকে বলা হলো, আরো দোয়া করুন, আরো দোয়া করুন। তিনি বলেন: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নৈকট্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমার মাকে আয়তলোচনা হুরদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
৫০৭- حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَلَا أُرِيَكَ أَمْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْتُ بَلَّى قَالَ هَذِهِ المَرْأَةُ السُّودَاءُ أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ إِنِّي أَصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشْفُ فَادْعُ اللهَ لِي قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكَ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرُ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشْفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا .
৫০৭। আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একজন বেহেশতী নারী দেখাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, ঐ কৃষ্ণকায় মহিলা। সে নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং (অচৈতন্য অবস্থায়) আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং তোমার জন্য হবে জান্নাত। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করতে পারি। সে বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো। সে পুনরায় বললো, আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করলেন (বু, মু,না)।
৫০৮- عَنْ عَطَاء أَنَّهُ رَأي أُمّ زُفَرِ تِلْكَ الْمَرأَةَ طويلة سَوْدَاءَ عَلَي سُلْمِ الْكَعْبَةِ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ الْقَاسِمَ أَخْبَرَتْهُ أَنْ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شُوكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ.
৫০৮। আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি সেই কৃষ্ণকায় দীর্ঘদেহী উম্মু যুফারকে কাবা ঘরের সিঁড়ির উপর দেখেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা আমাকে অবহিত করেছেন যে, কাসেম (র) তাকে অবহিত করেছেন। আয়েশা (রা) তাকে অবহিত করেন যে, নবী (স) বলতেনঃ মুমিন ব্যক্তির দেহে কাঁটা বিদ্ধ হলে বা ততোধিক বিপদ এলে তাতে তার গুনাহ্ কাফফারা হয়ে যায় (বু, মু, মুশকিলুল আছার)।
৫০৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا إِلَّا قُضِيَ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
৫০৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: যে কোন মুসলমানের গায়ে এই দুনিয়ায় কাঁটা বিদ্ধ হয় এবং সে তাতে সওয়াবের আশা রাখে, তার বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার গুনাহসমূহ মাফ করা হবে (আ, মুশকিলুল আছার)।
৫১০- عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ وَلَا مُسْلِمٍ وَلَا مُسْلِمَةٍ يَمْرَضُ مَرَضًا إِلَّا قَضَى اللَّهُ بِهِ عَنْهُ مِنْ خَطَايَاهُ.
৫১০। জাবের (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছি: যে কোন মুমিন পুরুষ বা নারী এবং কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী রোগগ্রস্ত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (আ, মুশকিলুল আছার)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়

📄 তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়


২২৮ - بَابُ يُكْتَبُ لِلْمَرِيضِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ
২২৮-অনুচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় যেসব নেক আমল করতো, তার রুগ্ন অবস্থায়ও (তার আমলনামায়) তা লেখা হয়।
৫০২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ يَمْرَضُ إِلَّا كُتِبَ لَهُ مِثْلَ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَهُوَ صَحِيحٌ.
৫০২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে সেই অবস্থায় সে তার সুস্থাবস্থায় যেরূপ আমল করতো সেরূপ সওয়াব তার জন্য লেখা হয় (আ, বা, হা)।
৫০৩- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ ابْتَلَاهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ إِلا كُتِبَ لَهُ مَا كَانَ يَعْمَلُ فِي صِحْتِهِ مَا كَانَ مَرِيضًا فَإِنْ عَافَاهُ أَرَاهُ قَالَ غَسَلَهُ وَانْ قَبَضَهُ غَفَرَ لَهُ.
৫০৩। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে কোন মুসলমানকে আল্লাহ যখন দৈহিকভাবে পরীক্ষায় ফেলেন, তার সুস্থাবস্থায় সে যেরূপ আমল করতো ঠিক তদ্রূপ সওয়াব তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হতে থাকে, যতক্ষণ সে রোগাক্রান্ত থাকে। অতঃপর যদি তিনি তাকে রোগমুক্ত করেন তবে তাকে (গুনাহ থেকে) ধৌত করে দেন, আর যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দেন (আ, মুশকিলুল আছার)।
৫০৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ جَاءَتِ الحُمِّي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ ابْعَثْنِي إِلى أَثَرِ أَهْلِكَ عِنْدَكَ فَبَعَثَهَا إِلَى الْأَنْصَارِ فَبَقِيَتْ عَلَيْهِمْ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ فَأَتَاهُمْ فِي دِيَارِهِمْ فَشَكُوا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْخُلُ دَاراً دارا وَبَيْتًا بَيْتًا يَدْعُو لَهُمْ بِالْعَافِيَةِ فَلَمَّا رَجَعَ تَبِعَتْهُ امْرَأَةً مِّنْهُمْ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَمِنَ الْأَنْصَارِ وَإِنْ أَبِي لَمِنَ الْأَنْصَارِ فَادْعُ اللهَ لِي كَمَا دَعَوْتَ لِلْأَنْصَارِ قَالَ مَا شِئْتِ إِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيكَ وَإِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ قَالَتْ بَلْ أَصْبِرُ وَلَا أَجْعَلُ الْجَنَّةَ خَطراً .
৫০৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, একদা জ্বর নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নবী (স) তাদের বসতিতে এলে তারা তার নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তাই নবী (স) তাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তাঁর অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তোমার জন্য হবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।
৫০৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا مِنْ مَرَضِ يُصِيبُنِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الْحُمِّي لِأَنَّهَا تَدْخُلُ فِي كُلِّ عُضْوٍ مِّنِّي وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي كُلَّ عُضْوٍ قِسْطَهُ مِنَ الْأَجْرِ.
৫০৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার কাছে জ্বরের চেয়ে প্রিয়তর কোন রোগ নাই। তা আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করন (ইবনে আবু শায়বা)।
৫০৬- عَنْ أَبِي نُحَيْلَةَ قِيلَ لَهُ أَدْعُ اللهَ قَالَ اللَّهُمَّ انْقُصْ مِنَ الْمَرَضِ وَلَا تَنْقُصُ مِنَ الْأَجْرِ فَقِيلَ لَهُ أَدْعُ أَدْعُ فَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْمُقَرَّبِينَ وَاجْعَلْ أُمِّي مِنَ الْحُورِ الْعِينِ.
৫০৬। আবু নুহায়লা (র) থেকে বর্ণিত। তাকে বলা হলো, আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! রোগ কমিয়ে দিন, কিন্তু সওয়াব কমাবেন না। তাকে বলা হলো, আরো দোয়া করুন, আরো দোয়া করুন। তিনি বলেন: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার নৈকট্য লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমার মাকে আয়তলোচনা হুরদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
৫০৭- حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ قَالَ قَالَ لِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَلَا أُرِيَكَ أَمْرَأَةً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْتُ بَلَّى قَالَ هَذِهِ المَرْأَةُ السُّودَاءُ أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ إِنِّي أَصْرَعُ وَإِنِّي أَتَكَشْفُ فَادْعُ اللهَ لِي قَالَ إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكَ الْجَنَّةُ وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُعَافِيَكِ فَقَالَتْ أَصْبِرُ فَقَالَتْ إِنِّي أَتَكَشَّفُ فَادْعُ اللَّهَ لِي أَنْ لَا أَتَكَشَّفَ فَدَعَا لَهَا .
৫০৭। আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে একজন বেহেশতী নারী দেখাবো না? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেন, ঐ কৃষ্ণকায় মহিলা। সে নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত এবং (অচৈতন্য অবস্থায়) আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করুন। তিনি বলেন: তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং তোমার জন্য হবে জান্নাত। আর যদি চাও তবে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করতে পারি। সে বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো। সে পুনরায় বললো, আমি বিবস্ত্র হয়ে যাই। আপনি আমার জন্য আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, যেন আমি বিবস্ত্র না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করলেন (বু, মু,না)।
৫০৮- عَنْ عَطَاء أَنَّهُ رَأي أُمّ زُفَرِ تِلْكَ الْمَرأَةَ طويلة سَوْدَاءَ عَلَي سُلْمِ الْكَعْبَةِ قَالَ وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ الْقَاسِمَ أَخْبَرَتْهُ أَنْ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقُولُ مَا أَصَابَ الْمُؤْمِنَ مِنْ شُوكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ.
৫০৮। আতা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি সেই কৃষ্ণকায় দীর্ঘদেহী উম্মু যুফারকে কাবা ঘরের সিঁড়ির উপর দেখেছেন। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা আমাকে অবহিত করেছেন যে, কাসেম (র) তাকে অবহিত করেছেন। আয়েশা (রা) তাকে অবহিত করেন যে, নবী (স) বলতেনঃ মুমিন ব্যক্তির দেহে কাঁটা বিদ্ধ হলে বা ততোধিক বিপদ এলে তাতে তার গুনাহ্ কাফফারা হয়ে যায় (বু, মু, মুশকিলুল আছার)।
৫০৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُشَاكُ شَوْكَةً فِي الدُّنْيَا يَحْتَسِبُهَا إِلَّا قُضِيَ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
৫০৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: যে কোন মুসলমানের গায়ে এই দুনিয়ায় কাঁটা বিদ্ধ হয় এবং সে তাতে সওয়াবের আশা রাখে, তার বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তার গুনাহসমূহ মাফ করা হবে (আ, মুşkিলুল আছার)।
৫১০- عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ مَا مِنْ مُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ وَلَا مُسْلِمٍ وَلَا مُسْلِمَةٍ يَمْرَضُ مَرَضًا إِلَّا قَضَى اللَّهُ بِهِ عَنْهُ مِنْ خَطَايَاهُ.
৫১০। জাবের (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছি: যে কোন মুমিন পুরুষ বা নারী এবং কোন মুসলিম পুরুষ বা নারী রোগগ্রস্ত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন (আ, মুশকিলুল আছার)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00