📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সরল জীবনযাত্রা

📄 সরল জীবনযাত্রা


২১৮ - بَابُ الرِّزْقِ فِي الْمَعِيشَةِ.
২১৮-অনুচ্ছেদ: সরল জীবনযাত্রা।
৪৭৩- عَنْ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَي عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ إِمْسَكْ حَتَّى أَخِيْطَ نَقَبَتِي فَأَمْسَكَتُ فَقُلْتُ يَا أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ لَوْ خَرَجْتُ فَأَخْبَرْتُهُمْ لَعَدُّوهُ مِنْكِ بَحْلاً قَالَتْ أَبْصِرْ شَأْنَكَ إِنَّهُ لَا جَدِيدَ لِمَنْ لَا يَلْبَسُ الْخَلَقَ.
৪৭৩। কাসীর ইবনে উবায়দুল্লাহ (র) বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা)-এর নিকট গেলাম। তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করো। আমি আমার মুখাভরণটি একটু সেলাই করে নেই। আমি অপেক্ষা করলাম। আমি বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আমি যদি বাইরে গিয়ে লোকজনকে অবহিত করি তবে তারা এটাকে আপনার কৃপণতা বলবে। তিনি বলেন, তুমি নিজের অবস্থার দিকে তাকাও। যে ব্যক্তি পুরাতন কাপড় পরিধান করে না তার জন্য নতুন কাপড় নয় (তাবাকাত ইবনে সাদ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 নম্রতা অবলম্বন করলে বান্দাকে যা দেয়া হয়

📄 নম্রতা অবলম্বন করলে বান্দাকে যা দেয়া হয়


২১৯ - بَابُ مَا يُعْطِي الْعَبْدُ عَلَي الرِّفْقِ
২১৯-অনুচ্ছেদ: নম্রতা অবলম্বন করলে বান্দাকে যা দেয়া হয়।
৪৭৪- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعَنَفِ.
৪৭৪। আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা নম্র, তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্রতার উসীলায় (বান্দাকে) এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার বেলায় দান করেন না (মু, দা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সান্ত্বনা প্রদান

📄 সান্ত্বনা প্রদান


২২০ - بَابُ التَّسْكِينِ
২২০-অনুচ্ছেদ: সান্ত্বনা প্রদান।
৪৭৫- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَسَكِنُوا وَلَا تُنَفَرُوا .
৪৭৫। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না, সান্ত্বনা দাও, ঘৃণা বা বিরক্তি উৎপাদন করো না (বু,মু)।
৪৭৬- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ نَزَلَ ضَيْفٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ وَفِي الدَّارِ كَلْبَةٌ لَهُمْ فَقَالُوا يَا كَلْبَةُ لَا تُنَبِّحِي عَلَي ضَيْفِنَا فَصِحْنَ الْجِرَاءُ فِي بَطْنِهَا فَذَكَرُوا لِنَبِيٍّ لَهُمْ فَقَالَ إِنْ مَثَلَ هَذَا كَمَثَلِ أُمَّةٍ تَكُونُ بَعْدَكُمْ يَغْلِبُ سُفَهَاءُهَا عُلَمَانَهَا .
৪৭৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, বনী ইসরাঈলে জনৈক মেহমান আসলো। তাদের ঘরের দরজায় ছিল তাদের একটি মাদী কুকুর। লোকজন বললো, হে কুকুরী! আমাদের মেহমানের আগমনে ঘেউ ঘেউ করো না। (কুকুরী তো নীরব থাকলো কিন্তু) তার পেটের দানাগুলো ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। তারা (বিষয়টি) তাদের নবীর কাছে উল্লেখ করলো। তিনি বলেন: এর অনুরূপ তোমাদের পরবর্তী উম্মাতের মধ্যে ঘটবে। তাদের নির্বোধেরা তাদের আলেমদের পরাভূত করবে (আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কঠোরতা প্রদর্শন

📄 কঠোরতা প্রদর্শন


২২১ - بَابُ الْخَرَق
২২১- কঠোরতা প্রদর্শন।
৪৭৭- عَنْ عَائِشَةَ تَقُولُ كُنْتُ عَلَى بَعِيرٍ فِيهِ صَعُوبَةٌ فَجَعَلْتُ أَضْرِبُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَيْكَ بِالرِّفْقِ فَإِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا يَنْزِعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ.
৪৭৭। আয়েশা (রা) বলেন, আমি একটি উটের পিঠে সওয়ার ছিলাম। তা ছিল বেশ কষ্টদায়ক। আমি তাকে প্রহার করলে নবী (স) বলেনঃ তুমি অবশ্যই নম্রতা অবলম্বন করবে। কোন বস্তুর মধ্যে তা থাকলে তা সেই বস্তুকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর কোন বস্তু থেকে তা অপসারিত করা হলে তা দোষদুষ্ট হয়ে যায় (বু,মু,দা, আ)।
৪৭৮- عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ رَجُلٌ مِّنَّا يُقَالُ لَهُ جَابِرٌ أَوْ جُوَيْبِرٌ طَلَبْتُ حَاجَةً إِلَي عُمَرَ فِي خلافتِهِ فَانْتَهَيْتُ إِلَى الْمَدِينَةِ لَيْلاً فَغَدَوْتُ عَلَيْهِ وَقَدْ أُعْطِيتُ فِطْنَةً وَلِسَانًا ( أَوْ قَالَ مَنْطِقًا ) فَأَخَذْتُ فِي الدُّنْيَا فَصَغَرْتُهَا فَتَرَكْتُهَا لاَ تُسَوِّي شَيْئًا وَالِي جَنْبِهِ رَجُلٌ أَبْيَضَ الشَّعَرِ أَبْيَضَ الثَّيَابِ فَقَالَ لَمَّا فَرَغْتُ كُلُّ قَوْلِكَ كَانَ مُقَارِبًا إِلَّا وُقُوعُكَ فِي الدُّنْيَا وَهَلْ تَدْرِي مَا الدُّنْيَا إِنَّ الدُّنْيَا فِيْهَا بَلاغُنَا أَوْ قَالَ دَارُنَا ) إِلَى الْآخِرَةِ وَفِيْهَا أَعْمَالُنَا الَّتِي نُجْزِي بِهَا فِي الْآخِرَةِ قَالَ فَأَخَذَ فِي الدُّنْيَا رَجُلٌ هُوَ أَعْلَمُ بِهَا مِنِّي فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنْ هُذَا الرَّجُلُ الَّذِي الي جَنْبِكَ قَالَ سَيِّدُ الْمُسْلِمِينَ أَبَيُّ بْنُ كَعْبٍ.
৪৭৮। আবু নাদরা (র) বলেন, আমাদের মধ্যকার জাবির বা জুয়াইবির নামক এক ব্যক্তি বলেন, উমার (রা)-এর খেলাফতকালে তার কাছে আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলো। আমি রাতে মদীনায় পৌঁছলাম। ভোর হলে আমি উমার (রা)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমাকে জ্ঞান- বুদ্ধি ও বাকপটুতা উভয়ই দান করা হয়েছে। আমি পার্থিব জীবন সম্পর্কে কথা তুললাম এবং একে একেবারেই তুচ্ছ প্রতিপন্ন করলাম। তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সাদা পোশাক পরিহিত শুভ্রকেশী এক ব্যক্তি। আমি কথা শেষ করলে তিনি আমাকে বলেন, তোমার সব কথাই ঠিক। কিন্তু দুনিয়াই তোমার বর্তমান ঠিকানা। তুমি কি জানো, দুনিয়া কি? দুনিয়া হলো আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছার ক্ষেত্র বা আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের স্থান। এখানে আমরা যে আমল করবো তার প্রতিদান আমরা আখেরাতে লাভ করবো। আগন্তুক বলেন, দুনিয়া প্রসঙ্গে এমন এক ব্যক্তি কথা বললেন, যিনি এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ। আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার পাশে উপবিষ্ট ইনি কে? তিনি বলেন, ইনি হলেন মুসলমানদের নেতা উবাই ইবনে কাব (রা)।
৪৭৯- عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْأَشَرَةُ شَرٌّ .
৪৭৯। বারাআ ইবনে আযেব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: দাম্ভিকতা হলো সর্বনাশের মূল (আ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00