📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 প্রশস্ত বসৎবাড়ি

📄 প্রশস্ত বসৎবাড়ি


২১৪ - بَابُ السَّكَنِ الْوَاسِعِ
২১৪-অনুচ্ছেদ: প্রশস্ত বসতবাড়ি।
৪৫৯- عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ الْحَارِثِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مِنْ سَعَادَةِ الْمَرْءِ الْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ وَالْجَارُ الصَّالِحُ والمَرْكَبُ الهَنِينُ .
৪৫৯ নাফে ইবনে আবদুল হারিস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলে নঃ কোন ব্যক্তির সৌভাগ্যের নিদর্শন হলো প্রশস্ত বসতবাড়ি, উত্তম প্রতিবেশী এবং মনোপূত বা আরামদায়ক বাহন (আ,তহা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 স্বতন্ত্র কোঠায় অবস্থান

📄 স্বতন্ত্র কোঠায় অবস্থান


২১৫ - بَابُ مَنِ اتَّخَذَ الْغُرَفَ
২১৫-অনুচ্ছেদ: স্বতন্ত্র কোঠায় অবস্থান।
৪৬০- عَنْ ثَابِتِ أَنَّهُ كَانَ مَعَ أَنَسِ بِالزَّاوِيَةِ فَوْقَ غُرْفَةٍ لَّهُ فَسَمِعَ الْآذَانَ فَنَزَلَ وَنَزَلْتُ فَقَارَبَ فِي الْخُطَا فَقَالَ كُنْتُ مَعَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَمَشْي بِي هَذِهِ الْمَشْيَةَ وَقَالَ أَتَدْرِي لِمَ فَعَلْتُ بِكَ فَإِنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَشْي بي هذه المَشْيَةَ وَقَالَ أَتَدْرِي لِمَ مَشَيْتُ بِكَ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ لِيَكْثُرَ عَدَدُ خُطَانَا فِي طَلَبِ الصَّلاةِ.
৪৬০। সাবিত (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস (রা)-এর সাথে তার ঘরে উপরের মাচানে ছিলেন। তিনি আযান শুনে নিচে নামলে আমিও তার সাথে নিচে নামলাম। তিনি ঘন ঘন পা ফেলে (মসজিদে) যেতে লাগলেন। তিনি বলেন, একদা আমি যায়েদ ইবনে সাবিত (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি এভাবে আমাকে সাথে নিয়ে হাঁটলেন এবং বললেন, তুমি কি জানো, আমি তোমার সাথে এভাবে কেন হাঁটছি? কেননা নবী (স) আমাকে সাথে নিয়ে এভাবে (ঘন কদমে) হেঁটেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ তুমি কি জানো, আমি কেন তোমার সাথে এভাবে হাঁটছি? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ যাতে নামাযের উদ্দেশ্যে আমাদের পদচারণার সংখ্যা অধিক হয় (ইবনে আবু শায়বা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 দালান-কোঠা কারুকার্য করা

📄 দালান-কোঠা কারুকার্য করা


২১৬ - بَابُ نَقْشِ الْبُنْيَانِ
২১৬-অনুচ্ছেদ: দালান-কোঠা কারুকার্য করা।
৪৬১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَبْنِي النَّاسُ بُيُوتًا يُشَبِّهُونَهَا بِالْمَرَاجِلِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي الثَّيَابَ الْمُخَطَّطَةَ.
৪৬১। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: লোকে নকশি কাঁথার মত কারুকার্যময় বাড়িঘর নির্মাণ না করা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। ইবরাহীম (র) বলেন, 'মারাজিল' অর্থ কারুকার্য মণ্ডিত কাপড়।
৪৬২- عَنْ وَرَادٍ كَاتِبِ الْمُغِيرَةِ قَالَ كَتَبَ مُعَاوِيَةُ الي الْمُغِيرَةِ أَكْتُبْ لِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَّسُولِ اللهِ ﷺ فَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ لَا إِلَهَ الا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ وَكَتَبَ إِلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَنْهِي عَنْ قِيلَ وَقَالَ وَكَثْرَةِ السُّؤالِهِ وَأَضَاعَةِ الْمَالِ وَكَانَ يَنْهِي عَنْ عُقُوقِ الْأُمِّهَاتِ وَوَادِ الْبَنَاتِ وَمَنْعِ وَهَاتِ.
৪৬২। মুগীরা (রা)-এর সচিব ওয়াররাদ (র) বলেন, মুয়াবিয়া (রা) মুগীরা (রা)-কে লিখে পাঠান, আপনি নবী (স)-এর কাছে যা শুনেছেন তা আমাকে লিখে পাঠান। মুগীরা (রা) তাকে লিখলেন, আল্লাহ্ নবী (স) প্রতি নামাযের পর বলতেন: "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই। তাঁরই রাজত্ব, তাঁর জন্যই সব প্রশংসা। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করো তা কেউ রোধ করতে পারে না এবং যা প্রতিরোধ করো তা কেউ দান করতে পারে না। কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার অসন্তুষ্টির মোকাবিলায় কোন উপকারে আসে না"। তিনি তাকে পত্রে আরো লিখেনঃ তিনি অযথা অধিক কথাবার্তা বলতে, যাঞ্চা করতে এবং সম্পদের অপচয় করতে নিষেধ করতেন। তিনি আরো নিষেধ করতেন, মায়েদের অবাধ্য হতে, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত প্রোথিত করতে এবং কার্পণ্য করতে ও অপরের প্রাপ্য রুখে রাখতে (বু,মু, দার, আ, হি, খু, আন)।
৪৬৩- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَنْ يُنْجِي أَحَدًا مِّنْكُمْ عَمَلُهُ قَالُوا وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ وَلَا أَنَا إِلا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللهُ مِنْهُ بِرَحْمَةٍ فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَاعْدُوا وَرُوحُوا وَشَيْءٌ مِّنَ الدُّلْجَةِ وَالقَصْدَ الْقَصْدَ تَبْلُغُوا .
৪৬৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তিকেই তার আমল মুক্তি দিতে পারবে না। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিও নন কি? তিনি বলেন: আমিও নই, যদি না আল্লাহ তাঁর রহমাত দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন। অতএব তোমরা সরল
পথে চলো, তাঁর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট হও, সকাল-সন্ধ্যায় ইবাদত করো, রাতের অন্ধকারেও কিছু ইবাদত করো এবং সর্বাবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করো (বু,মু,ই)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 নম্রতা প্রদর্শন

📄 নম্রতা প্রদর্শন


২১৭ - بَابُ الرِّفْق
২১৭- অনুচ্ছেদঃ নম্রতা প্রদর্শন।
৪৬৪- عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ دَخَلَ رَهْطُ مِّنَ الْيَهُودِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا السَّامُ عَلَيْكُمْ قَالَتْ عَائِشَةُ فَفَهُمْتُهَا فَقُلْتُ عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَهْلاً يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلَّهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَدْ قُلْتُ وَعَلَيْكُمْ.
৪৬৪। মহানবী (স)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেন, কয়েকজন ইহুদীর একটি দল রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট প্রবেশ করে বললো, আসসামু আলাইকুম (তোমাদের মৃত্যু হোক)। আয়েশা (রা) বলেন, কথাটা আমি বুঝতে পারলাম এবং বললাম, ওয়া আলাইকুমুস সামু ওয়াল-লানাতু (তোমাদের মৃত্যু হোক এবং অভিসম্পাতও)। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ থামো হে আয়েশা। আল্লাহ সব ব্যাপারে নম্রতা পছন্দ করেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কি বলেছে তা আপনি শুনেননি? রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ আমিও তো ওয়া আলাইকুম বলেছি (বু,মু)।
৪৬৫- عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ يَحْرُمُ الرَّفْقَ يَحْرُمُ الخَيْرَ.
৪৬৫। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
৪৬৬- عَنْ أَبي الدَّرْدَاء عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أُعْطِيَ حَظُّهُ مِنَ الرِّفْقِ فَقَدْ أُعْطِيَ حَظُّهُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَنْ حُرِّمَ حَظُّهُ مِنَ الرِّفْقِ فَقَدْ حُرِّمَ حَظُّهُ مِنَ الْخَيْرِ أَثْقَلُ شَيْءٍ فِي ميزان الْمُؤْمِن يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَسَنُ الْخُلُقِ وَإِنَّ اللَّهَ لَيُبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيِّ.
৪৬৬। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যাকে নম্রতার মতো গুণ দান করা হয়েছে তাকে কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর যাকে নম্রতার গুণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিয়ামতের দিন মুমিন বান্দার নেকীর পাল্লায় সবচেয়ে ভারী বস্তু হবে উত্তম চরিত্র। নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও বাচাল লোককে পছন্দ করেন না (তি, দা)।
৪৬৭- قَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَقِيلُوا ذَوِي الْهَيْئَاتِ عَثَرَاتِهِمْ.
৪৬৭। আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন: মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে তুচ্ছ জ্ঞান করো (দা,না)।
৪৬৮- عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَكُونُ الْخَرَقُ فِي شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ وَإِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ.
৪৬৮। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কর্কশ স্বভাব যে কোন বস্তুকেই দোষযুক্ত করে। নিশ্চয় আল্লাহ নম্র এবং তিনিও নম্রতা পছন্দ করেন (তি,ই)।
৪৬৯- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَشَدُّ حَيَاءً مِّنَ الْعَدْرَاءِ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ.
৪৬৯। আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন পর্দানশীন কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল। কোন কিছু তাঁর অপছন্দ হলে আমরা তাঁর চেহারা দর্শনেই তা বুঝতে পারতাম (বু.মু)।
৪৭১- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ عَلَى بَعِيرٍ فِيهِ صَعُوبَةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ فَإِنَّهُ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ وَلَا يَنْزِعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ.
৪৭১। আয়েশা (রা) বলেন, আমি একটি উটের পিঠে সওয়ার ছিলাম। তা ছিল বেশ কষ্টদায়ক। (আমি তাকে প্রহার করলে) নবী (স) বলেনঃ তুমি অবশ্যই নম্রতা অবলম্বন করবে। কোন বস্তুর মধ্যে তা বিদ্যমান থাকলে তা সেই বস্তুকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর কোন বস্তু থেকে তা অপসারিত করা হলে তা দোষদুষ্ট হয়ে যায় (মু)।
৪৭২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِيَّاكُمْ وَالسُّحْ فَإِنَّهُ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ سَفَكُوا دِمَاءَهُمْ وَقَطَعُوا أَرْحَامَهُمْ وَالظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
৪৭২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ সাবধান! কৃপণতা পরিহার করবে। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে এই কৃপণতাই ধ্বংস করেছে। ফলে তারা পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়েছে এবং আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। যুলুম কিয়ামতের দিন ঘনীভূত অন্ধকাররূপে আর্বিভূত হবে (মু,আ,হি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00