📄 যে ব্যক্তি কাউকে মুখের উপর কিছু বলে না
২০৩ - بَابُ مَنْ لَمْ يُوَاجِهِ النَّاسَ بِكَلامِهِ
২০৩-অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কাউকে মুখের উপর কিছু বলে না।
৪৩৮- عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ صَنَعَ النَّبِيُّ ﷺ شَيْئًا فَرَخَّصَ فِيهِ فَتَنَزَّهُ عَنْهُ قَوْمٌ فَبَلَغَ ذُلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَخَطَبَ فَحَمِدَ الله ثُمَّ قَالَ مَا بَالُ قَوْمٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنِ الشَّيْئِ أَصْنَعُهُ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُهُمْ بِاللَّهِ وَاشَدُّهُمْ لَهُ خَشْيَةً.
৪৩৮। আয়েশা (রা) বলেন, নবী (স) একটা কিছু করলেন এবং লোকদেরকেও তা করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু লোকেরা তা করা থেকে বিরত থাকলো। এ খবর নবী (স)-এর কাছে পৌছলে তিনি লোকদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য পেশ করলেন। বক্তৃতায় তিনি প্রথমে আল্লাহ্ প্রশংসা করলেন এবং তারপর বলেন: লোকদের কি হয়েছে যে, এমন কাজ থেকে তারা বিরত থাকছে যা আমি করেছি? আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহকে তাদের চেয়ে বেশী জানি এবং তাদের চেয়ে বেশী ভয়ও করি (বু,মু,না)।
৪৩৯- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ قَلَّ مَا يُوَاجِهُ الرَّجُلَ بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ فَدَخَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا رَجُلٌ وَعَلَيْهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ فَلَمَّا قَامَ قَالَ لأَصْحَابِهِ لَوْ غَيْرَ أَوْ نَزَعَ هَذِهِ الصُّفْرَةَ.
৪৩৯। আনাস (রা) বলেন, কারো কোন আচরণ অপছন্দ হলে মহানবী (স) তাকে কাদাচিৎ মুখের উপর কিছু বলেছেন। একদিন তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হলো যার পরিধেয় বস্ত্রে হলুদ রং-এর ছাপ ছিল। সে চলে গেলে তিনি তাঁর সাহাবীদের বলেনঃ কতই না উত্তম হতো যদি এই ব্যক্তি এই রংটি পরিবর্তন করতো বা তা তুলে ফেলতো (দা, আ,তি)।
📄 যে ব্যক্তি ব্যাখ্যা সাপেক্ষে অপরকে বললো
২০৪ - بَابُ مَنْ قَالَ لِلْآخَرِ يَا مُنَافِقُ فِي تَأْوِيلِ تَأَوَّلَهُ
২০৪-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ব্যাখ্যা সাপেক্ষে অপরকে বললো, হে মোনাফেক।
৪৪১- عَنْ عَلِيٌّ يَقُولُ بَعَثَنِي النَّبِيُّ ﷺ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَامِ وَكِلانَا فَارِسٌ فَقَالَ انْطَلِقُوا حَتَّى تَبْلُغُوا رَوْضَةَ كَذَا وَكَذَا وَكَذَا وَبَهَا امْرَأَةً مَّعَهَا كِتَابٌ مِّنْ حَاطِبِ إِلَى
৪৪১। আলী (রা) বলেন, মহানবী (স) আমাকে ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে পাঠালেন। আমরা দু'জনই ছিলাম ঘোড়সওয়ার। তিনি বলেন: “তোমরা রওয়ানা হয়ে অমুক অমুক রওদায় (বাগানে) গিয়ে পৌঁছবে। সেখানে এক নারীকে পাবে। তার সাথে একটি চিঠি আছে যা হাতেব মুশরিকদের লিখেছে। তোমরা সেই পত্র উদ্ধার করে আমার নিকট নিয়ে আসবে”। আমরা পথ চলতে লাগলাম এবং নবী (স)-এর দেয়া তথ্য মোতাবেক সেই নারীকে পেয়ে গেলাম। সে তার উটে করে যাচ্ছিল। আমরা বললাম, তোমার সাথের চিঠি কোথায়? সে বললো, আমার সাথে কোন চিঠি নাই। আমরা তাকে এবং তার উট তল্লাশী করলাম। আমার সাথী বললো, আমি তো (চিঠি) দেখি না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (স) মিথ্যা বলেননি। আল্লাহর শপথ! হয় তুমি পত্র বের করে দিবে, নতুবা আমি তোমাকে উলঙ্গ করবো। তখন সে তার কোমরের দিকে তার হাত বাড়ালো। সে একটি পশমী কাপড় পরিহিত ছিল। সে চিঠি বের করলো। আমি তা নিয়ে নবী (স)-এর নিকট ফিরে এলাম। উমার (রা) বললেন, এই ব্যক্তি (হাতিব) আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিম জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দিন। নবী (স) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কেন এটা করলে? হাতিব বললেন, আল্লাহর উপর আমার ঈমান ঠিক আছে। আমি ইচ্ছা করলাম যে তাদের উপর আমার একটু অনুগ্রহ থাকুক। নবী (স) বলেনঃ সে ঠিক বলেছে। হে উমার! সে কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন, "তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে"। এ কথায় উমার (রা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে গেলো এবং তিনি বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত (বু,মু,দা)।
📄 হে মোনাফেক
২০৪ - بَابُ مَنْ قَالَ لِلْآخَرِ يَا مُنَافِقُ فِي تَأْوِيلِ تَأَوَّلَهُ
২০৪-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ব্যাখ্যা সাপেক্ষে অপরকে বললো, হে মোনাফেক।
৪৪১- عَنْ عَلِيٌّ يَقُولُ بَعَثَنِي النَّبِيُّ ﷺ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَامِ وَكِلانَا فَارِسٌ فَقَالَ انْطَلِقُوا حَتَّى تَبْلُغُوا رَوْضَةَ كَذَا وَكَذَا وَكَذَا وَبَهَا امْرَأَةً مَّعَهَا كِتَابٌ مِّنْ حَاطِبِ إِلَى
৪৪১। আলী (রা) বলেন, মহানবী (স) আমাকে ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে পাঠালেন। আমরা দু'জনই ছিলাম ঘোড়সওয়ার। তিনি বলেন: “তোমরা রওয়ানা হয়ে অমুক অমুক রওদায় (বাগানে) গিয়ে পৌঁছবে। সেখানে এক নারীকে পাবে। তার সাথে একটি চিঠি আছে যা হাতেব মুশরিকদের লিখেছে। তোমরা সেই পত্র উদ্ধার করে আমার নিকট নিয়ে আসবে”। আমরা পথ চলতে লাগলাম এবং নবী (স)-এর দেয়া তথ্য মোতাবেক সেই নারীকে পেয়ে গেলাম। সে তার উটে করে যাচ্ছিল। আমরা বললাম, তোমার সাথের চিঠি কোথায়? সে বললো, আমার সাথে কোন চিঠি নাই। আমরা তাকে এবং তার উট তল্লাশী করলাম। আমার সাথী বললো, আমি তো (চিঠি) দেখি না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (স) মিথ্যা বলেননি। আল্লাহর শপথ! হয় তুমি পত্র বের করে দিবে, নতুবা আমি তোমাকে উলঙ্গ করবো। তখন সে তার কোমরের দিকে তার হাত বাড়ালো। সে একটি পশমী কাপড় পরিহিত ছিল। সে চিঠি বের করলো। আমি তা নিয়ে নবী (স)-এর নিকট ফিরে এলাম। উমার (রা) বললেন, এই ব্যক্তি (হাতিব) আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলিম জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে তাকে হত্যা করার অনুমতি দিন। নবী (স) জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কেন এটা করলে? হাতিব বললেন, আল্লাহর উপর আমার ঈমান ঠিক আছে। আমি ইচ্ছা করলাম যে তাদের উপর আমার একটু অনুগ্রহ থাকুক। নবী (স) বলেনঃ সে ঠিক বলেছে। হে উমার! সে কি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন, "তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গেছে"। এ কথায় উমার (রা)-এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসজল হয়ে গেলো এবং তিনি বলেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত (বু,মু,দা)।
📄 যে ব্যক্তি তার (মুসলমান) ভাইকে বলে
২০৫ - بَابُ مَنْ قَالَ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ
২০৫-অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি তার (মুসলমান) ভাইকে বলে, হে কাফের!
৪৪১- عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ قَالَ لِأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا .
৪৪১। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ কোন লোক তার কোন ভাইকে 'হে কাফের' বলে সম্বোধন করলে তাদের একজন কুফরীর শিকার হলো (বু,মু,তি,মা)।
৪৪২- عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ اذَا قَالَ لِلْآخَرِ كَافِرُ فَقَدْ كَفَرَ أَحَدُهُمَا إِنْ كَانَ الَّذِي قَالَ لَهُ كَافِرًا فَقَدْ صَدَقَ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَمَا قَالَ لَهُ فَقَدْ بَاءَ الذي له بالكفر.
৪৪২। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে কাফের বললে তাদের দুইজনের মধ্যে একজন কাফের হয়ে যায়। সেই ব্যক্তি যাকে কাফের বলেছে, সে যদি সত্যিই কাফের হয়ে থাকে তাহলে সে যথার্থই বলেছে। আর সে যদি তার মন্তব্য অনুযায়ী কাফের না হয়ে থাকে, তবে যে তাকে কাফের বললো সে কাফের হয়ে যায় (বু,আ)।