📄 শত্রুতা
১৯২-বাবুশ্ শাহ্না
১৯২-অনুচ্ছেদ: শত্রুতা।
৪০৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ اخْوَانًا .
৪০৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং আল্লাহ্র বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (বু,মু)।
৪১০- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هُؤُلَاءِ بِوَجْهِ وَهُؤُلَاءِ بِوَجْهِ .
৪১০। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কিয়ামতের দিন তুমি দ্বিমুখী চরিত্রের লোককে আল্লাহ্র নিকট নিকৃষ্টরূপে দেখতে পাবে, যে এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে এবং অন্যদের কাছে ভিন্ন চেহারা (চরিত্র) নিয়ে আসে (বু, মু, দা, তি)।
৪১১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهُ ﷺ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيث وَلَا تَنَاجَشُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَفَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا .
৪১১। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: সাবধান! তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কুধারণা হলো ডাহা মিথ্যা। তোমরা নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে পণ্যের দরদাম করো না, ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, অসাক্ষাতে দোষচর্চা করো না, হিংসা ও ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে যাও (বু,মু,ই)।
৪১২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا إِلَّا رَجُلٌ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أخيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا .
৪১২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যারা আল্লাহ্র সাথে শরীক করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয় যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। বলা হয়, এই দু'জনকে আপোষ-রক্ষা করার জন্য অবকাশ দাও। এই দু'জনকে আপোষ-রফা করার জন্য অবকাশ দাও; এই দু'জনকে আপোষ-রফার জন্য অবকাশ দাও (মু,তি,ই,মা, হি)।
৪১৩- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ يَقُولُ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِمَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ مِّنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّيَامِ صلاح ذاتِ البَيْنِ أَلَا وَإِنَّ الْبَغْضَةَ هِيَ الْحَالِقَةُ.
৪১৩। আবু দারদা (রা) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলবো না যা দান-খয়রাত ও রোযার তুলনায় উত্তম? তা হলো মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়া। সাবধান! ঘৃণা-বিদ্বেষ ধ্বংসাত্মক।
৪১৪- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاثَ مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ غُفِرَ لَهُ مَا سِوَاهُ لِمَنْ شَاءَ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا وَلَمْ يَكُنْ سَاجِرًا يَتْبَعُ السَّحَرَةَ وَلَم يَحْقَدْ عَلَي أخيه .
৪১৪। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কোন ব্যক্তির মধ্যে তিনটি পাপাচার না থাকলে যাকে ইচ্ছা তার অন্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কিছু শরীক না করে মারা গেলো, (২) সে যাদু চর্চাকারী ছিলো না এবং (৩) সে তার কোন (মুসলমান) ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেনি।
📄 সালাম সম্পর্কচ্ছেদের কাফফারাস্বরূপ
১৯৩ - بَابُ إِنَّ السَّلَامَ يُجْزِءُ مِنَ الصَّرَمِ
১৯৩-অনুচ্ছেদ: সালাম সম্পর্কচ্ছেদের কাফফারাস্বরূপ।
৪১৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَإِذَا مَرَّتْ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَلْيَلْقَهُ فَلْيُسَلَّمْ عَلَيْهِ فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ فَقَدِ اشتَرَكَا فِي الْأَجْرِ وَإِنْ لَمْ يُرَدَّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَرِئَ الْمُسْلِمُ مِنَ الْهِجْرَةِ.
৪১৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির জন্য কোন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তিন দিন অতিরিক্ত হওয়ার পর সে যেন তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে সালাম দেয়। মুমিন ব্যক্তি তার সালামের জবাব দিলে তারা দু'জনই সওয়াবে অংশীদার হবে। আর তার সালামের উত্তর না দেয়া হলে সালামদাতা মুসলমান ব্যক্তি সম্পর্কচ্ছেদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে (দা)।
📄 উঠতি বয়সের যুবকদের পৃথক পৃথক রাখা
১৯৪ - بَابُ التَّفْرِقَةِ بَيْنَ الْأَحْدَاثِ
১৯৪-অনুচ্ছেদ: উঠতি বয়সের যুবকদের পৃথক পৃথক রাখা।
৪১৬- عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيْهِ كَانَ عُمَرُ يَقُولُ لِبَنِيْهِ إِذَا أَصْبَحْتُمْ فَتَبَدَّدُوا وَلَا تَجْتَمِعُوا فِي دَارٍ وَاحِدَةٍ فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَقَاطَعُوا أَوْ يَكُونُ بَيْنَكُمْ شَرٌّ.
৪১৬। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। উমার (রা) তার পুত্রদেরকে বলতেন, ভোর হলেই তোমরা পৃথক পৃথক হয়ে যাবে এবং এক ঘরে একত্র হবে না। কেননা আমার আশংকা হয়, না জানি তোমাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ বা কোন অঘটন ঘটে যায়।
📄 পরামর্শ না চাইতেই কেউ তার ভাইকে পরামর্শ দিলে
১৯৫ - بَابُ مَنْ أَشَارَ عَلَي أَخِيهِ وَإِنْ لَمْ يَسْتَشِرْهُ
১৯৫-অনুচ্ছেদ: পরামর্শ না চাইতেই কেউ তার ভাইকে পরামর্শ দিলে।
৪১৭- عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَأي رَاعِيًا وَغَنَمًا فِي مَكَانٍ قَشْحٍ وَرَأَي مَكَانًا أَمْثَلَ مِنْهُ فَقَالَ لَهُ وَيْحَكَ يَا رَاعِي حَوْلَهَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ كُلُّ رَاعٍ مَسْئُولٌ عَنْ رَاعِيَتِهِ
৪১৭। ইবনে উমার (রা) এক রাখালকে তার ছাগলসহ একটি তৃণলতাহীন স্থানে দেখতে পেলেন। তিনি তার চাইতে উত্তম একটি স্থানও দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বলেন, হে রাখাল! তোমার জন্য দুঃখ হয়। এগুলো অন্যত্র নিয়ে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "প্রত্যেক রাখালকে তার রাখালী সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে" (বু,মু,আ)।