📄 যে ব্যক্তি বছরব্যাপী তার ভাইয়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে
১৯০ - بَابُ مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً
১৯০-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি বছরব্যাপী তার ভাইয়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে।
৪০৫- عَنْ أَبِي خِرَاشِ السُّلَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ بِسَفَكِ دَمِهِ.
৪০৫। আবু খিরাশ আস-সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর ধরে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে, সে যেন তাকে হত্যা করলো (দা, আ, হা)।
৪০৬- عَنْ عِمْرَانَ ابْنِ أَبِي أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا مِّنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ حَدَّثَهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ هَجْرَةُ الْمُؤْمِنِ سَنَةً كَدَمَه وَفِي المَجْلِسِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي عِتَابٍ فَقَالَا قَدْ سَمِعْنَا هُذَا عَنْهُ .
৪০৬। ইমরান ইবনে আবু আনাস (র) থেকে বর্ণিত। আসলাম গোত্রীয় মহানবী (স)-এর জনৈক সাহাবী তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ "কোন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে এক বছর ধরে সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা তাকে হত্যা করার সমতুল্য"। সেই মজলিসে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবু ইতাবও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আমরাও সেই সাহারীর নিকট এ হাদীস শুনেছি (দা,আ, হা)।
📄 দুই সম্পর্কচ্ছেদকারী
১৯১ - بَابُ الْمُتَهَجِرَيْنِ
১৯১-অনুচ্ছেদ: দুই সম্পর্কচ্ছেদকারী।
৪০৭- عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ أَنْ يُهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ يَلْتَقِيَانِ فَيَعْرِضُ هُذَا وَيَعْرِضُ هَذَا وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ.
৪০৭। আবু আইউب আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ কোন লোকের জন্য তার (মুসলমান) ভাইকে এভাবে পরিত্যাগ করা (কথাবার্তা না বলা) বৈধ নয় যে, উভয়ের সাক্ষাত হলে একে অপরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। তাদের দু'জনের মধ্যে উত্তম সেইজন যে সালাম দ্বারা (কথাবার্তার) সূচনা করে।
৪০৮- عَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ يُصَارِمُ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَإِنَّهُمَا مَا صَارِمًا فَوْقَ ثَلاثِ لَيَالٍ فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامَا عَلَي صُرَامِهِمَا وَإِنْ أَوَّلَهُمَا فَيْنَا يَكُونُ كَفَّارَةٌ لَهُ سَبْقُهُ بِالْفَيْنِ وَإِنَّ هُمَا مَاتَا علي صرامهمَا لَمْ يَدْخُلَا الْجَنَّةَ جَمِيعًا.
৪০৮। হিশাম ইবনে আমের আল-আনসারী (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তারা যাবত সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকবে তাবৎ তারা সত্য বিমুখ বলে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথম কথা বলার উদ্যোগ নিবে, তার সেই উদ্যোগ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহের কাফ্ফারাস্বরূপ হবে। আর যদি তারা এইরূপ সম্পর্কচ্ছেদ অবস্থায় মারা যায় তবে তারা কখনও একত্রে বেহেশতে যেতে পারবে না (আ,হি)।
📄 শত্রুতা
১৯২-বাবুশ্ শাহ্না
১৯২-অনুচ্ছেদ: শত্রুতা।
৪০৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لا تَبَاغَضُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ اخْوَانًا .
৪০৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং আল্লাহ্র বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও (বু,মু)।
৪১০- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هُؤُلَاءِ بِوَجْهِ وَهُؤُلَاءِ بِوَجْهِ .
৪১০। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কিয়ামতের দিন তুমি দ্বিমুখী চরিত্রের লোককে আল্লাহ্র নিকট নিকৃষ্টরূপে দেখতে পাবে, যে এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে এবং অন্যদের কাছে ভিন্ন চেহারা (চরিত্র) নিয়ে আসে (বু, মু, দা, তি)।
৪১১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهُ ﷺ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيث وَلَا تَنَاجَشُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَفَاسَدُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا .
৪১১। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: সাবধান! তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাকবে। কেননা কুধারণা হলো ডাহা মিথ্যা। তোমরা নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে পণ্যের দরদাম করো না, ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, অসাক্ষাতে দোষচর্চা করো না, হিংসা ও ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে যাও (বু,মু,ই)।
৪১২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا إِلَّا رَجُلٌ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أخيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظُرُوا هُدَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا .
৪১২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যারা আল্লাহ্র সাথে শরীক করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয় যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। বলা হয়, এই দু'জনকে আপোষ-রক্ষা করার জন্য অবকাশ দাও। এই দু'জনকে আপোষ-রফা করার জন্য অবকাশ দাও; এই দু'জনকে আপোষ-রফার জন্য অবকাশ দাও (মু,তি,ই,মা, হি)।
৪১৩- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ يَقُولُ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِمَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمْ مِّنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّيَامِ صلاح ذاتِ البَيْنِ أَلَا وَإِنَّ الْبَغْضَةَ هِيَ الْحَالِقَةُ.
৪১৩। আবু দারদা (রা) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলবো না যা দান-খয়রাত ও রোযার তুলনায় উত্তম? তা হলো মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়া। সাবধান! ঘৃণা-বিদ্বেষ ধ্বংসাত্মক।
৪১৪- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاثَ مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ غُفِرَ لَهُ مَا سِوَاهُ لِمَنْ شَاءَ مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا وَلَمْ يَكُنْ سَاجِرًا يَتْبَعُ السَّحَرَةَ وَلَم يَحْقَدْ عَلَي أخيه .
৪১৪। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কোন ব্যক্তির মধ্যে তিনটি পাপাচার না থাকলে যাকে ইচ্ছা তার অন্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। (১) যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কিছু শরীক না করে মারা গেলো, (২) সে যাদু চর্চাকারী ছিলো না এবং (৩) সে তার কোন (মুসলমান) ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেনি।
📄 সালাম সম্পর্কচ্ছেদের কাফফারাস্বরূপ
১৯৩ - بَابُ إِنَّ السَّلَامَ يُجْزِءُ مِنَ الصَّرَمِ
১৯৩-অনুচ্ছেদ: সালাম সম্পর্কচ্ছেদের কাফফারাস্বরূপ।
৪১৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فَإِذَا مَرَّتْ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَلْيَلْقَهُ فَلْيُسَلَّمْ عَلَيْهِ فَإِنْ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ فَقَدِ اشتَرَكَا فِي الْأَجْرِ وَإِنْ لَمْ يُرَدَّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَرِئَ الْمُسْلِمُ مِنَ الْهِجْرَةِ.
৪১৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন ব্যক্তির জন্য কোন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে তিন দিনের অধিক সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা জায়েয নয়। তিন দিন অতিরিক্ত হওয়ার পর সে যেন তার সাথে সাক্ষাত করে তাকে সালাম দেয়। মুমিন ব্যক্তি তার সালামের জবাব দিলে তারা দু'জনই সওয়াবে অংশীদার হবে। আর তার সালামের উত্তর না দেয়া হলে সালামদাতা মুসলমান ব্যক্তি সম্পর্কচ্ছেদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে (দা)।