📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ওয়াদা করলে তার খেলাপ করো না

📄 তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ওয়াদা করলে তার খেলাপ করো না


১৮৫ - بَابُ لَا تُعِدْ أَخَاكَ شَيْئًا فَتُخْلِفُهُ
১৮৫-অনুচ্ছেদ: তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ওয়াদা করলে তার খেলাপ করো না।
৩৮৫০ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تُمَارُ أَخَاكَ وَلَا تُمَازِحْهُ وَلَا تُعِدُهُ مَوْعِدًا فَتُخْلِفُهُ.
৩৯৫। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করো না, তাকে উপহাস করো না এবং তার সাথে এমন ওয়াদা করো না তুমি যার খেলাপ করবে (তি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বংশের খোটা দেয়া

📄 বংশের খোটা দেয়া


১৮৬ - بَابُ الطَّعْنِ فِي الْأَنْسَابِ
১৮৬-অনুচ্ছেদ: বংশের খোটা দেয়া।
৩৯৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ شُعْبَتَانِ لَا تَتْرُكُهُمَا أُمَّتِي النِّيَاحَةُ وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ .
৩৯৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: দুইটি (মন্দ) কর্ম যা আমার উম্মাত ত্যাগ করবে না: মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা এবং বংশ তুলে খোটা দেয়া (মু, তি, ইবনুল জারূদ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মানুষের নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসা

📄 মানুষের নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসা


১৮৭ - بَابُ حُبِّ الرَّجُلِ قَوْمَهُ
১৮৭-অনুচ্ছেদ: মানুষের নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসা।
৩৯৭- عَنْ نُسَيْلَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ آمِنَ الْعَصَبِيَّةِ أَنْ يُعِيْنَ الرَّجُلُ قَوْمَهُ عَلَي ظُلْمِ قَالَ نَعَمْ.
৩৯৭। ফুসায়লা (র) বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অন্যায় কাজে কোন ব্যক্তির নিজ সম্প্রদায়কে সাহায্য করা কি জাহিলী গোত্রপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত? তিনি বলেনঃ হাঁ (ই, আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কারো সম্পর্কচ্ছেদ করা

📄 কারো সম্পর্কচ্ছেদ করা


১৮৮ - بَابُ هِجْرَةِ الرَّجُلِ
১৮৮-অনুচ্ছেদ: কারো সম্পর্কচ্ছেদ করা।
৩৯৮- عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الطُّفَيْلِ وَهُوَ ابْنُ أَخِي عَائِشَةَ لِأُمِّهَا أَنْ عَائِشَةَ حَدَّثَتْ أَنَّ عَبْدًا لِلَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ قَالَ فِي بَيْعِ أَوْ عَطَاءٍ أَعْطَتْهُ عَائِشَةُ وَاللَّهِ لَتَنْتَهِيَنَّ عَائِشَةُ أَوْ لَأَحْجُرَنَّ عَلَيْهَا فَقَالَتْ أَهُوَ قَالَ هُذَا قَالُوا نَعَمْ قَالَتْ عَائِشَةُ هُوَ اللَّهِ عَلَيَّ نَدْرٌ أَنْ لَا أَكَلَّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ أَبَداً فَاسْتَشْفَعَ ابْنُ الزُّبَيْرِ بالمُهَاجِرِينَ حِيْنَ طَالَتْ هَجْرَتُهَا إِيَّاهُ فَقَالَتْ وَاللهِ لَا أَشَفَعُ فِيْهِ أَحَدًا أَبَداً وَلَا تَتَحَنْتُ إِلَي نَدْرِي فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَي ابْنِ الزُّبَيْرِ كَلَّمَ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْأَسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوْتَ وَهُمَا مِنْ بَنِي زُهْرَةً فَقَالَ لَهُمَا أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ لَمَّا أَدْخَلْتُمَانِي عَلَي عَائِشَةَ فَإِنَّهَا لَآيَحِلُّ لَهَا أَنْ
৩৯৮। আওফ ইবনুল হারিস (র) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন যে, তার কোন একটি জিনিস বিক্রয় বা দান করার ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনুষ যুবাইর (রা) বললেন, আল্লাহ্র কসম! হয় আয়েশা (রা) এ কাজ থেকে বিরত থাকবেন, নয়তো আমি তাকে সম্পদ দানের অযোগ্য ঘোষণা করবো। আয়েশা (রা) জিজ্ঞেস করলেন, সত্যিই কি সে এ ধরনের কথা বলেছে? লোকেরা বললো, হাঁ। আয়েশা (রা) বলেন, আল্লাহর নামে শপথ করছি যে, আমি ইবনুষ যুবাইরের সাথে কখনো কথা বলবো না। এ বিচ্ছেদকাল দীর্ঘায়িত হলে ইবনুষ যুবাইর (রা) আয়েশা (রা)-এর নিকট মধ্যস্থতাকারী পাঠান। কিন্তু আয়েশা (রা) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমি কখনো কারো সুপারিশ গ্রহণ করবো না এবং আমি আমার শপথও ভঙ্গ করবো না। ব্যাপারটি ইবনুয যুবাইর (রা)-এর জন্য দীর্ঘায়িত হলে তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগূসের সাথে কথা বলেন। তারা দু'জন বনু যোহরার লোক ছিলেন। ইবনুয যুবাইর (রা) তাদেরকে বলেন, তোমাদের দু'জনকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আমাকে তোমরা আয়েশা (রা)-এর সামনে পৌছিয়ে দাও। কেননা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার মানত মানা তার জন্য জায়েয হয়নি। অতএব মিসওয়ার ও আবদুর রহমান (রা) চাদর গায়ে জড়িয়ে ইবনুষ যুবাইর (রা)-কে সাথে নিয়ে চললেন। শেষ পর্যন্ত দু'জনে আয়েশা (রা)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। দু'জন বলেন, আসসালামু আলাইকে ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু! আমরা কি ভেতরে আসতে পারি? তিনি বলেন, হাঁ, আসো। তারা বলেন, হে উম্মুল মুমিনীন! আমরা সবাই কি ভেতরে আসতে পারি? আয়েশা বলেন, হাঁ সবাই আসো। আয়েশা (রা) জানতেন না যে, তাদের সাথে ইবনুয যুবাইর (রা)-ও আছেন। তারা ভেতরে প্রবেশ করলে ইবনুয যুবাইর (রা) পর্দার ভেতর গিয়ে আয়েশা (রা)-কে জড়িয়ে ধরে আল্লাহ্র দোহাই দিতে লাগলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। মিসওয়ার ও আবদুর রহমানও তাঁকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে ইবনুয যুবাইর (রা)-এর সাথে কথা বলতে এবং তার ওজর ও অনুশোচনা গ্রহণ করতে বলেন। তারা দু'জন বলেন, আপনি তো জানেন, নবী (স) সালাম-কালাম ও দেখা-সাক্ষাত বন্ধ করে দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ "কোন মুসলমানের জন্য তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী দেখা-সাক্ষাত ও সালাম-কালাম বন্ধ রাখা জায়েয নয়"। তারা দু'জন যখন এভাবে
আয়েশা (রা)-কে বুঝালেন এবং বারবার এর ক্ষতিকর দিক স্মরণ করিয়ে দিলেন তখন তিনিও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি (কথা না বলার) মানত ও শপথ করে ফেলেছি এবং অনেক কঠিন মানত। কিন্তু তারা দু'জন বরাবর তাকে বুঝাতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি ইবনুয যুবাইরের সাথে কথা বলেন। অতঃপর আয়েশা (রা) তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে চল্লিশজন গোলাম আযাদ করেন। এরপর যখনই এ মানতের কথা তার স্মরণ হতো তখনই তিনি কাঁদতেন, এমনকি তার চোখের পানিতে তার ওড়না ভিজে যেতো (বু, মু, দা, আ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00