📄 মিথ্যা কথন বর্জনীয়
১৮ - بَابُ لَا يَصْلُحُ الْكَذِبُ
১৮০-অনুচ্ছেদ: মিথ্যা কথন বর্জনীয়।
৩৮৭- عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَي البرِّ وَإِنَّ الْبرِّ يَهْدِي الي الْجَنَّةِ وَأَنَّ الرَّجُلَ يُصَدِّقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صَدِّيقًا وَأَيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَالْفُجُورُ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذَّابًا .
৩৮৭। আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তোমরা অবশ্যই সত্যের ধারক হবে। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে পথ দেখায় এবং কল্যাণ জান্নাতের দিকে পথ দেখায়। কোন ব্যক্তি সত্যবাদিতা অবলম্বন করে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দরবারে পরম সত্যাশ্রয়ী বলে তালিকাভুক্ত হয়। সাবধান! তোমরা মিথ্যা পরিহার করবে। কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে চালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। কোন ব্যক্তি মিথ্যাচার অবলম্বন করে এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্র দরবারে চরম মিথ্যাবাদীর তালিকাভুক্ত হয় (বু, মু, দা, তি)।
৩৮৮- عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ لَا يَصْلُحُ الكَذِبُ فِي جَدُّ وَلَا هَزْلٍ وَلَا أَنْ يُعِدَ أَحَدُكُمْ وَلَدَهُ شَيْئًا ثُمَّ لَا يُنْجِزُ لَهُ .
২৮৮। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, মিথ্যা বাস্তবিকপক্ষেও নয় এবং ঠাট্টাচ্ছলেও সংগত নয়। তোমাদের কেউ তার সন্তানকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করে তা তাকে না দেয়ার বিষয়টিও সংগত নয়।
📄 যে ব্যক্তি জনগণের উৎপাতে ধৈর্য ধারণ করে
১৮১ - بَابُ الَّذِي يَصْبِرُ عَلَي أَذَي النَّاسِ
১৮১-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি জনগণের উৎপাতে ধৈর্য ধারণ করে।
৩৮৯- عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ قَالَ الْمُؤْمِنُ الَّذِي يُخَالِطُ النَّاسَ وَيَصْبِرُ عَلَي آذَا هُمْ خَيْرٌ مِّنَ الَّذِي لَا يُخَالِطُ النَّاسَ وَلَا يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ.
৩৮৯। ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ যে ঈমানদার ব্যক্তি জনগণের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের উৎপাত সহ্য করে সে—যে ব্যক্তি মানুষের সাথে মেলামেশাও করে না এবং তাদের উৎপাতও সহ্য করে না, তার চেয়ে উত্তম (তি, না, ই, আ)।
📄 উৎপাত সহ্য করা
১৮২ - بَابُ الصَّبْرِ عَلَي الْأَذِي
১৮২-অনুচ্ছেদ: উৎপাত সহ্য করা।
৩৯০- عَنْ أَبِي مُوسي عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَيْسَ أَحَدٌ أَوْ لَيْسَ شَيْئً أَصْبَرَ عَلَي أَذًي يُسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنَّهُمْ لَيَدْعُوْنَ لَهُ وَلَدًا وَأَنَّهُ لَيُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقَهُمْ .
৩৯০। আবু মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: কষ্টদায়ক কিছু শোনার পরও ধৈর্য ধারণের ব্যাপারে মহামহিম আল্লাহ্ চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল আর কেউ বা কিছু নাই। লোকে তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে। এতদসত্ত্বেও তিনি তাদেরকে নিরাপদ রাখেন এবং রিযিক দান করেন (বু,মু,না,ই)।
৩৯১- قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَسَمَ النَّبِيُّ الله قِسْمَةً كَبَعْضٍ مَا كَانَ يَقْسِمُ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنَ الْأَنْصَارِ وَالله أَنَّهَا قَسْمَةً مَا أُريدَ بهَا وَجْهَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قُلْتُ أَنَا لَأَقُولُنَّ لِلنَّبِيِّ فَآتَيْتُهُ وَهُوَ فِي أَصْحَابِهِ فَسَارَرْتُهُ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ وَغَضِبَ حَتَّي وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ أَخْبَرْتُهُ ثُمَّ قَالَ قَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَصَبَرَ.
৩৯১। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, নবী (স) কিছু মাল বণ্টন করলেন, সাধারণত যেভাবে তিনি বণ্টন করতেন। আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহ্র শপথ! এটা এমন বণ্টন যাতে মহামহিম আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের অভিপ্রায় অনুপস্থিত। আমি মনে মনে বললাম, আমি অবশ্যই নবী (স)-কে বলবো। আমি তাঁর নিকট আসলাম। তিনি তখন তাঁর সাহাবী পরিবেষ্টিত ছিলেন। আমি তাঁকে নীরবে তা বললাম। এতে তাঁর মনোকষ্ট হলো এবং তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেলো। তিনি এতো অসন্তুষ্ট হলেন যে, আমি মনে মনে বললাম, যদি আমি তা তাঁকে অবগত না
করতাম! অতঃপর তিনি বলেন: মূসা (আ)-কে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন (বু, মু, আ)।
📄 মানুষের মধ্যে আপোষ-রফা করা
১৮৩ - بَابُ إِصْلَاحِ ذَاتِ الْبَيْنِ
১৮৩-অনুচ্ছেদ: মানুষের মধ্যে আপোষ-রফা করা।
৩৯২- عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِدَرَجَةٍ أَفْضَلَ مِنَ الصَّلَاةِ وَالصِّيَامِ وَالصَّدَقَةِ قَالُوا بَلَي قَالَ صَلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ وَفَسَادُ ذَاتِ الْبَيْنِ وَهِيَ الْحَالِقَةُ.
৩৯২। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে নামায, রোযা ও দান-খয়রাতের চেয়ে উত্তম কাজ সম্পর্কে অবহিত করবো না। সাহাবীগণ বলেন, নিশ্চয়। তিনি বলেন: জনগণের মধ্যে (বিবাদের) আপোষ-রফা। আর জনগণের মধ্যকার বিবাদ-বিসম্বাদ হলো ধ্বংসকারী (দা; তি)।
৩৯৩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَاتَّقُوا اللهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ قَالَ هُذَا تَحْرِيجُ مِّنَ اللَّهِ عَلَي الْمُؤْمِنِينَ أَنْ يَتَّقُوا اللَّهَ وَأَنْ يُصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِهِمْ.
৩৯৩। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। "অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করো” (সূরা আনফালঃ ১)। উক্ত আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর দ্বারা আল্লাহ বান্দার উপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছেন যে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের পারস্পরিক অবস্থার সংশোধন করে (তাবারানী)।