📄 বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বক্তব্য পেশ ও জিজ্ঞাসার সূচনা করবে
১৬৫ - بَابُ يَبْدَأُ الْكَبِيرُ بِالْكَلَامِ وَالسُّؤَالِ
১৬৫-অনুচ্ছেদ: বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বক্তব্য পেশ ও জিজ্ঞাসার সূচনা করবে।
৩৬০- عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ أَنَّهُمَا حَدَّنَا أَوْ حَدَّثَاهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيَّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَيَا خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلِ وَحُوَبَّصَةُ وَمُحَيَّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ فَبَدَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَكَانَ أَصْغَرُ الْقَوْمِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ كَبِّرِ الْكُبْرَ قَالَ يَحْيُ لِيَلِى الكَلامَ الْأَكْبَرَ فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَتَسْتَحِقُونَ قَتِيلَكُمْ أَوْ قَالَ صَاحِبَكُمْ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْرُ لَمْ نَرَهُ قَالَ فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِيْنَ مِنْهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ فَوَدَاهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ قِبَلِهِ. قَالَ سَهْلٌ فَأَدْرَكْتُ نَاقَةً مِّنْ تِلْكَ الْإِبِلِ فَدَخَلْتُ مربداً لَّهُمْ فَرَكَضَتْني برجلها .
৩৬০। রাফে ইবনে খাদীজ ও সাহল ইবনে আবু হাসমা (র) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাহল ও মুহাইয়্যাসা ইবনে মাসউদ (রা) খায়বারে পৌছে এক খেজুর বাগানে তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যান। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে সাহল (গুপ্ত ঘাতক দ্বারা) নিহত হন। (এ খবর মদীনায় পৌঁছলে) সাহলের পুত্র আবদুর রহমান এবং মাসউদের দুই পুত্র হুআইয়্যাসা ও মুহাইয়্যাসা এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নবী (স)-এর নিকট আসেন। আবদুর রহমান কথা শুরু করলেন। তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ। নবী (স) তাকে বলেনঃ বড়োকে অগ্রাধিকার দাও। রাবী ইয়াহইয়া (র) বলেন, অর্থাৎ বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরই প্রথম কথা বলা উচিত। অতএব তারা তাদের সাথীর ব্যাপারে আলাপ করলেন। নবী (স) বলেন: তোমরা কি তোমাদের পঞ্চাশ ব্যক্তির শপথের দ্বারা তোমাদের নিহত ব্যক্তির দিয়াতের দাবিদার হবে? তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন একটি বিষয় যা আমরা স্বচক্ষে দেখিনি। তিনি বলেনঃ তাহলে ইহুদীরা তাদের পঞ্চাশ ব্যক্তির শপথের দ্বারা এই খুনের দায় থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা তো কাফের সম্প্রদায়। রাসূলুল্লাহ (স) নিজের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির দিয়াত পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। সাহল (রা) বলেন, দিয়াতের উটগুলোর মধ্যকার একটি উষ্ট্রী আমার ভাগে পড়ে। আমি এদের খোঁয়াড়ে গেলে সেই উষ্ট্রী আমাকে লাথি মারে (বু, মু, দা, তি, না, ই)।
📄 প্রবীণ ব্যক্তি কথা না বললে কনিষ্ঠজন কি কথা বলতে পারে?
১৬৬ - بَابُ إِذَا لَمْ يَتَكَلَّمِ الْكَبِيرُ هَلْ لِلْأَصْغَرِ أَنْ يَتَكَلَّمَ
১৬৬-অনুচ্ছেদ: প্রবীণ ব্যক্তি কথা না বললে কনিষ্ঠজন কি কথা বলতে পারে?
৩৬১- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَخْبِرُونِي بِشَجَرَةٍ مَثَلُهَا مَثَلُ الْمُسْلِمِ تُؤْتِي أَكُلَهَا كُلَّ حِيْنِ بِإِذْنِ رَبِّهَا لَا تَحْتُ وَرَقُهَا فَوَقَعَ فِي نَفْسِي النَّخْلَةُ فَكَرِهْتُ أَنْ
৩৬১। ইবনে উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বললেন: তোমরা আমাকে এমন একটি গাছ সম্পর্কে অবহিত করো যা মুসলমানের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ, যা তার প্রভুর নির্দেশে অনবরত ফল দান করে এবং যার পাতাও ঝরে না। তখন আমার মনে খেজুর গাছ স্মরণ হলো। কিন্তু আবু বাকর ও উমার (রা) উপস্থিত থাকাতে আমি কথা বলা অসঙ্গত মনে করলাম। তারাও কোন উত্তর দিলেন না। তখন নবী (স) বলেনঃ তা খেজুর গাছ। আমি আমার পিতার সাথে মজলিস ত্যাগ করে বললাম, পিতা! আমার মনেও খেজুর গাছের কথা উদয় হয়েছিল। তিনি বলেন, তোমাকে তা বলতে কিসে বাধা দিলো? তুমি তা বললে আমার নিকট তা এই জিনিস হতেও আনন্দদায়ক হতো। আমি বললাম, আমার বলতে কোন বাধা ছিলো না। তবে আমি দেখলাম, আপনি বা আবু বাক্ (রা) কেউ কথা বলছেন না। তাই আমি তা বলা অসঙ্গত মনে করলাম (বু, মু)।
📄 প্রবীণদের নেতৃপদে সমাসীন করা
১৬৭- بَابُ تَسْويد الأكابر
১৬৭-অনুচ্ছেদ: প্রবীণদের নেতৃপদে সমাসীন করা।
৩৬২- عَنْ حَكِيمِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ أَنَّ آبَاهُ أَوْضِي عِنْدَ مَوْتِهِ بَنِيْهِ فَقَالَ اتَّقُوا اللَّهَ وَسَوَّدُوا أَكْبَرَكُمْ فَإِنَّ الْقَوْمَ إِذَا سَوَّدُوا أَكْبَرَهُمْ خَلَفُوا أَبَا ءَهُمْ وَإِذَا سَوَّدُوا أَصْغَرَهُمْ أَزْرَي بِهِمْ ذَلِكَ فِي أَكْفَائِهِمْ وَعَلَيْكُمْ بِالْمَالِ وَاصْطَنَاعِهِ فَإِنَّهُ مَنْبَهَةٌ لِلْكَرِيمِ وَيَسْتَغْنِي بِهِ عَنِ اللَّنِيمِ وَإِيَّاكُم وَمَسْئَلَةِ النَّاسِ فَإِنَّهَا مِنْ آخِرِ كَسْبِ الرَّجُلِ وَإِذَا مُتُّ فَلَا تَنُوحُوا فَإِنَّهُ لَمْ يُنْحَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَإِذَا مُتُّ فَادْفَنُونِي بِأَرْضِ لَا تُشْعِرُ بِدَفَنِي بَكْرُ بْنُ وَائِلٍ فَإِنِّي كُنْتُ أَغَافِلُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ.
৩৬২। হাকীম ইবনে কায়েস ইবনে আসেম (র) থেকে বর্ণিত। তার পিতা তার মৃত্যুকালে তার সন্তানদের ওসিয়াত করে বলেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের মধ্যকার প্রবীণ ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দান করো। কেননা কোন সম্প্রদায় তাদের প্রবীণদের উপর নেতৃত্ব অর্পণ করলে তারা তাদের পূর্বপুরুষের অনুসরণ করে এবং তাদের বয়কনিষ্ঠদের নেতৃপদে দিলে তারা তাদের সমকক্ষদের দৃষ্টিতে তাদেরকে হেয় করে দেয়। তোমরা অবশ্যই সম্পদ সংরক্ষণ করো এবং তা উৎপাদনমুখী কাজে বিনিয়োগ করো। কেননা তা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে স্মরণীয় করে এবং তা দ্বারা ইতর লোকের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বাঁচা যায়। সাবধান! মানুষের কাছে যাঞ্চা করা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তা হচ্ছে মানুষের উপার্জনের সর্বশেষ উপায়। আমি মারা গেলে তোমরা আমার জন্য বিলাপ করবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য বিলাপ করা হয়নি। আমি মারা গেলে আমাকে এমন স্থানে দাফন করবে যেন বাক্স ইবনে ওয়াইল গোত্র তা টের না পায়। কেননা জাহিলী যুগে আমি তাদের সাথে বহু অন্যায় করেছি (না, আ, বু)।
📄 উপস্থিত শিশুদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠকে ফল খেতে দেয়া
১৬৮-বাব: ইউ'তী আছ্ছামারাতা আছগারা মান হাদ্বারা মিনাল্ উইল্দান।
১৬৮-অনুচ্ছেদ: উপস্থিত শিশুদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠকে ফল খেতে দেয়া।
৩৬৩- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا أُتِيَ بِالْجَزْرِ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَفِي مُدِّنَا وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَاتٍ ثُمَّ نَاوَلَهُ أَصْغَرَ مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْوِلْدَانِ.
৩৬৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট মৌসুমের প্রথম ফল আনা হলে তিনি বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমাদের শহরে এবং আমাদের ওজনে ও মাপে বরকতের সাথে আরো বরকত দিন"। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত শিশুদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠকে তা খেতে দিতেন (মু, তি, না, ই)।