📄 মুখের উপর প্রশংসা করা
১৫৩ - بَابُ مَا جَاءَ فِي التَّمَادُح
১৫৩-অনুচ্ছেদ: মুখের উপর প্রশংসা করা।
৩৩৩- عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَجُلًا ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَثْنِي عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْرًا فَقَالَ النَّبِيُّ الله وَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ يَقُولُهُ مِرَارًا إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا لَا مُحَالَةَ فَلْيَقُلْ أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا إِنْ كَانَ يَرْيِ أَنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيبُهُ اللَّهُ وَلَا يُزَكِّي عَلَى اللهِ أَحَداً .
৩৩৩। আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রা) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (স)-এর সামনে এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠলে এক ব্যক্তি তার প্রশংসা করলো। নবী (স) বলেনঃ তোমার সর্বনাশ! তুমি তো তোমার ভাইয়ের গলা কাটলে! এ কথা তিনি কয়েকবার উচ্চারণ করলেন। তোমাদের কেউ যদি একান্তই কারো প্রশংসা করতে চায় তবে সে যেন বলে, আমি তাকে এরূপ মনে করি, যদি তার ধারণামতে সে তদ্রূপ হয়ে থাকে। তার হিসাব গ্রহণকারী তো আল্লাহ। আর আল্লাহ্র সামনে কাউকে নির্দোষ মনে করো না (বু, মু, দা, তি, আ, হি)।
৩৩৪- عَنْ أَبِي مُوسي قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلاً يُثْنِي عَلَى رَجُلٍ وَيُطْرِيْهِ فَقَالَ النبي ﷺ أَهْلَكْتُمْ أَوْ قَطَعْتُمْ ظَهْرَ الرَّجُلِ.
৩৩৪। আবু মূসা (রা) বলেন, নবী (স) এক ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির সজীব প্রশংসা করতে শুনলেন। নবী (স) বলেনঃ তোমরা তো তাকে হত্যা করলে অথবা তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিলে (বু, মু)।
৩৩৫- عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ فَأَثْنَى رَجُلٌ عَلَي رَجُلٍ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ عَقَرْتَ الرَّجُلَ عَقَرَكَ اللهُ .
৩৩৫। ইবরাহীম আত-তায়মী (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমার (রা)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির উপস্থিত প্রশংসা করলে উমার (রা) বলেন, তুমি তো লোকটিকে হত্যা করলে। আল্লাহ তোমার সর্বনাশ করুন।
৩৩৬- عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ الْمَدَحُ ذَبْحٌ قَالَ مُحَمَّدٌ يَعْنِي إِذا قَبْلَهَا .
৩৩৬। যায়েদ ইবনে আসলাম (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রা)-কে বলতে শুনেছি, (কারো) প্রশংসা করা (তাকে) যেন হত্যা করা। মুহাম্মাদ (র) বলেন, যখন প্রশংসিত ব্যক্তি তা গ্রহণ করে (বা, ই)।
📄 কোন ব্যক্তি তার সহযোগীর প্রশংসা করলে তাতে তার ক্ষতির আশংকা না থাকলে
১৫৪ - بَابُ مَنْ أَثْنِي عَلَيْ صَاحِبِهِ إِنْ كَانَ آمِنًا بِهِ
১৫৪ অনুচ্ছেদ: কোন ব্যক্তি তার সহযোগীর প্রশংসা করলে তাতে তার ক্ষতির আশংকা না থাকলে।
৩৩৭- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ اللهِ قَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ أَبُو بَكْرِ نِعْمَ الرَّجُلُ أَسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ نِعْمَ الرَّجُلُ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْجَمُوحِ نِعْمَ الرَّجُلُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ قَالَ وَبِئْسَ الرَّجُلُ فُلاَنٌ وَبِئْسَ الرَّجُلُ فُلانٌ حَتَّى عَدَّ سَبْعَةً .
৩৩৭। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ কতো উত্তম লোক আবু বাকর, কতো উত্তম লোক উমার, কতো উত্তম লোক আবু উবায়দা, কতো উত্তম লোক উসাইদ ইবনে হুদাইর, কতো উত্তম লোক মুয়ায ইবনে আমর ইবনুল জামূহ, কতো উত্তম লোক মুআয ইবনে জাবাল। তিনি পুনরায় বলেনঃ কতো মন্দ লোক অমুক, কতো মন্দ লোক অমুক। এভাবে তিনি একে একে সাতজন সম্পর্কে মন্তব্য করেন (তি, না, হা, হি)।
৩৩৮- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى رَسُول الله ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِئْسَ ابْنُ الْعَشِيْرَةِ فَلَمَّا دَخَلَ هَشَ لَهُ وَانْبَسَطَ إِلَيْهِ فَلَمَّا خَرَجَ الرَّجُلُ اسْتَأْذَنَ أَخَرُ قَالَ نِعْمَ ابْنُ الْعَشِيْرَةِ فَلَمَّا دَخَلَ لَمْ يَنْبَسِطُ إِلَيْهِ كَمَا انْبَسَطَ إِلَى الْآخَرِ وَلَم يَهُشَ إِلَيْهِ
৩৩৮। আয়েশা (রা) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাক্ষাত প্রার্থনা করলো। তিনি বলেনঃ বংশের কু-সন্তান। সে তার সাক্ষাতে উপস্থিত হলে তিনি তার সাথে হাসিমুখে প্রশস্ত হৃদয়ে মিলিত হন। সে বের হয়ে যাওয়ার পর আর এক ব্যক্তি তাঁর সাক্ষাত প্রার্থনা করে। তিনি বলেনঃ বংশের সু-সন্তান। কিন্তু তিনি তার সাথে আগের ব্যক্তির মতো হাসিমুখে মিলিত হননি। এ ব্যক্তিও বের হয়ে চলে গেলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুকের সম্পর্কে ঐরূপ মন্তব্য করলেন অথচ তার সাথে হাসিমুখে মিলিত হলেন এবং এই ব্যক্তি সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করলেন অথচ প্রথম ব্যক্তির মতো তার সাথে সাক্ষাত করেননি। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! যার অশ্লীলবাক ও দুর্ব্যবহারের জন্য লোকে তাকে ত্যাগ করে, সে হলো সর্বনিকৃষ্ট (বু, মু)।
📄 চাটুকারদের মুখে ধূলি নিক্ষেপ করা
১৫৫ - بَابُ يُحْيِي فِي وُجُوهِ الْمَدَاحِيْنَ
১৫৫ - অনুচ্ছেদ: চাটুকারদের মুখে ধূলি নিক্ষেপ করা।
৩৩৯- عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ قَالَ قَامَ رَجُلٌ يُثْنِي عَلَى أَمِيرٍ مِّنَ الْأَمْرَاءِ فَجَعَلَ الْمِقْدَادُ يَحْتِي فِي وَجْهِهِ التَّرَابَ وَقَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ نَّحْشِيَ فِي وُجُوهِ الْمَدَاحِيْنَ التَّرَابَ.
৩৩৯। আবু মামার (র) বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জনৈক প্রশাসকের চাটুকারিতা করছিল। মিকদাদ (রা) তার মুখে ধূলি নিক্ষেপ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে চাটুকারদের মুখে ধূলি নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন (মু, দা, তি, ই)।
৩৪০- عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ أَنَّ رَجُلاً كَانَ يَمْدَحُ رَجُلًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَجَعَلَ ابْنُ عُمَرَ يَحْلُو التَّرَابَ نَحْوَ فِيْهِ وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَدَاحِينَ فَاحْتُوا فِي وُجُوهِهِمُ التَّرَابَ .
৩৪০। আতা ইবনে আবু রাবাহ (র) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইবনে উমার (র)-এর সামনে অপর ব্যক্তির প্রশংসা করছিল। ইবনে উমার (রা) তার মুখের দিকে ধূলি নিক্ষেপ করতে করতে বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলছেনঃ তোমরা চাটুকারদের দেখলে তাদের মুখে ধূলি নিক্ষেপ করবে (হি)।
৩৪১- قَالَ رَجَاءَ أَقْبَلْتُ مَعَ مِحْجَنٍ ذَاتَ يَوْمٍ حَتَّى انْتَهَيْنَا إِلَي مَسْجِدِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَإِذَا بُرَيْدُ الْأَسْلَامِيُّ عَلَي بَابٍ مِّنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِد جَالِسٌ قَالَ وَكَانَ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ سُكْبَةً يُطِيلُ الصَّلاةَ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا الي بَابِ الْمَسْجِدِ وَعَلَيْهِ بُرْدَةً وَكَانَ بُرَيْدَةُ صَاحِبُ مَزَاحَاتٍ فَقَالَ يَا مِحْجَنُ أَتُصَلِّي كَمَا يُصَلِّي سُكْبَةٌ فَلَمْ يَرُدْ عَلَيْهِ مِحْجَنٌ وَرَجَعَ قَالَ قَالَ مِحْجَنٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَخَذَ بِيَدِي فَانْطَلَقْنَا نَمْشِي حَتَّى
৩৪১। রাজা (র) বলেন, আমি একদিন মিজান আল-আসলামী (রা)-এর সাথে ছিলাম। শেষে আমরা বসরাবাসীদের এক মসজিদে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন মসজিদের এক দরজায় বুরাইদা আল-আসলামী (রা) বসা ছিলেন। রাবী বলেন, মসজিদে সুকবা নামক এক ব্যক্তিও ছিলেন। তিনি নামায দীর্ঘ করে পড়তেন। আমরা যখন মসজিদের দরজায় পৌঁছলাম তখন বুরাইদা (রা)-র গায়ে জড়ানো ছিল একটি চাদর। বুরাইদা (রা) ছিলেন রসিক প্রকৃতির। তিনি বলেন, হে মিজান! তুমি কি সুকবার মতো নামায পড়ো? মিজান (রা) এর প্রতিউত্তর না করেই প্রত্যাবর্তন করেন। রাবী বলেন, মিজান (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত ধরলেন। আমরা পদব্রজে অগ্রসর হলাম। শেষে আমরা গিয়ে উহুদ পাহাড়ে উঠলাম। তিনি মদীনার দিকে তাকিয়ে বলেন: এই জনপদের জন্য দুঃখ হয় যখন তা বসতিপূর্ণ থাকবে, এমন অবস্থায় তার অধিবাসীরা তা ত্যাগ করবে। এখানে দাজ্জাল আসবে এবং মদীনার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে একজন করে ফেরেশতা দেখতে পাবে। অতএব সে তাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তিনি ফিরে এলেন। আমরা মসজিদে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ (স) এক ব্যক্তিকে নামায ও রুকু-সিজদায় মশগুল দেখলেন। রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে বলেনঃ লোকটি কে? আমি তার অতিরিক্ত প্রশংসা করে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে অমুক লোক যার এই গুণ আছে। তিনি বলেন: ক্ষান্ত হও, তাকে শুনাবে না, অন্যথায় তুমি তার সর্বনাশ করবে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি চলতে থাকলেন, শেষে যখন তাঁর হুজরার নিকট এলেন তখন তার দুই হাত জড়িয়ে ধরে বলেন: তোমাদের উত্তম দীন হলো তার সহজতা, তোমাদের উত্তম দীন হলো তার সহজতা। তিনি একথা তিনবার বলেন (দা, না, আ ১৯১৮৫)।
📄 যে ব্যক্তি কবিতার মাধ্যমে প্রশংসা করলো
১৫৬ - بَابُ مَنْ مَدَحَ فِي الشَّعْرِ
১৫৬-অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কবিতার মাধ্যমে প্রশংসা করলো।
৩৪২- عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعِ قَالَ آتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ مَدَحْتُ اللَّهَ بِمَحَامِدٍ وَمِدَحٍ وَإِيَّاكَ فَقَالَ أَمَا إِنَّ رَبَّكَ يُحِبُّ الْحَمْدَ فَجَعَلْتُ أَنْشُدُهُ فَاسْتَأْذَنَ رَجُلٌ طَوَالٌ أَصْلُعُ فَقَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ اسْكُتْ فَدَخَلَ فَتَكَلَّمَ سَاعَةً ثُمَّ خَرَجَ فَانْشَدْتُهُ ثُمَّ جَاءَ فَسَكَتَنِي ثُمَّ خَرَجَ فَعَلَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا فَقُلْتُ مَنْ هُذَا الَّذِي سَكَتَنِي لَهُ قَالَ هَذَا رَجُلٌ لَا يُحِبُّ الْبَاطِلَ .
৩৪২। আল-আসওয়াদ ইবনুস সারী (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহ্র পর্যাপ্ত প্রশংসা করেছি এবং আপনারও। তিনি বলেনঃ তোমার প্রতিপালক তো তাঁর প্রশংসা পছন্দ করেন। আমি তাঁকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাতে লাগলাম। তখন দীর্ঘকায় ও টাকমাথার এক ব্যক্তি তাঁর সাক্ষাত প্রার্থনা করলেন। নবী (স) আমাকে বলেনঃ থামো। সেই ব্যক্তি প্রবেশ করে ক্ষণিক তাঁর সাথে আলাপ করে বের হয়ে চলে গেলেন। আমি পুনরায় আবৃত্তি করতে লাগলাম। লোকটি পুনরায় এলে তিনি আমাকে থামিয়ে দিলেন, অতঃপর বের হয়ে চলে গেলেন। তিনি দুই কি তিনবার এরূপ করলেন। আমি বললাম, এ লোকটি কে, যার জন্য আপনি আমাকে থামিয়ে দিলেন? তিনি বলেনঃ ইনি এমন ব্যক্তি (উমার) যিনি বাতিলকে পছন্দ করেন না (আ, হা, হি)।