📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 উত্তম স্বভাব-চরিত্র

📄 উত্তম স্বভাব-চরিত্র


١٣٥ - بَابُ حُسْنِ الْخُلُقِ
۲۷۰ - عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ شَيْءٍ فِي المِيزَانِ أَثْقَلُ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ .
২৭০। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ ওজনদণ্ডে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই হবে না (দা, তি, আ, হি)।
۲۷۱ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَكَانَ يَقُولُ خَيَارِكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا .
২৭১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, নবী (স) নিজেও অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশ্লীলতাকে তিনি পছন্দও করতেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের লোকই সর্বোত্তম (বু, মু, তি)।
۲۷۲ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ أَخْبِرُكُمْ بَاحَبِّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَأَعَادَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا قَالَ الْقَوْمُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا .
২৭২। আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার নিকট প্রিয়তর এবং কিয়ামতের দিন আমার নিকটবর্তী আসনে উপবিষ্ট হবে তোমাদের মধ্যকার এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করবো না? লোকজন চুপ থাকলো। তিনি দুই অথবা তিনবার কথাটি বললেন। লোকজন বললো, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেন : তোমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি (আ, হি)।
۲۷۳ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحِي الْأَخْلَاقِ.
২৭৩। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের পূর্ণতা দান করার জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি (আ, হা)।
۲۷٤ - عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا خُيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ أَمْرَيْنِ الأَ إِخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِذَا كَانَ اثْمًا كَانَ أَبْعَدُ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرُمَةُ اللَّهِ تَعَالَي فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا .
২৭৪। আয়েশা (রা) বলেন, যখনই রাসূলুল্লাহ (স)-কে দুইটি ব্যাপারের একটি বেছে নেয়ার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তখনই তিনি সহজতরটিকে বেছে নিয়েছেন, যতক্ষণ না তা পাপাচার হতো। যদি তা পাপাচার হতো তবে তিনি লোকজনের চেয়ে তা থেকে সর্বাধিক দূরে থাকতেন। আর রাসূলুল্লাহ (স) কখনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। অবশ্য আল্লাহ তাআলার বিধানের পরিপন্থী কোন কিছু হতে দেখলে তিনি মহামহিম আল্লাহ্ জন্য তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন (বু, মু, মা)।
٢٧٥ - عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ إِنَّ اللهَ تَعَالَي قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ وَإِنَّ اللهَ تَعَالَي يُعْطِي الْمَالَ مَنْ أَحَبَّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ وَلَا يُعْطِي الْإِيْمَانَ الأَ مَنْ يُحِبُّ فَمَنْ ضَنَّ بِالْمَالِ أَنْ يُنْفِقَهُ وَخَافَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ وَهَابَ اللَّيْلَ أَنْ يُكَابِدَهُ فَلْيُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ.
২৭৫। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মধ্যে চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তোমাদের মধ্যে রিযিক বণ্টন করেছেন। আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না তাদের সকলকেই সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু তিনি ঈমান দান করেছেন কেবল যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন। অতএব যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয়ে কৃপণ, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদে ভীত এবং ইবাদতের মাধ্যমে রাত জাগরণে দুর্বল, সে যেন বেশি পাঠ করেঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল-হামদু লিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার" (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি মহাপবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ এবং আল্লাহ মহান) (আ, হা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মনের ঐশ্বর্য

📄 মনের ঐশ্বর্য


١٣٦ - بَابُ سَخَاوَةِ النَّفْسِ
٢٧٦ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَيْسَ الْغَنِي عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الغني غني النفس.
২৭৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ ঐশ্বর্যের প্রাচুর্য থাকলেই মানুষ ধনী হয় না। মনের ঐশ্বর্যই প্রকৃত ঐশ্বর্য (বু, মু, তি, আ)।
۲۷۷ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ خَدَمْتُ النَّبِيِّ ﷺ عَشَرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُفِّ قَطُّ وَمَا قَالَ لِي لِشَيْءٍ لَمْ أَفْعَلْهُ أَلَا كُنْتَ فَعَلْتَهُ وَلَا لِشَيْءٍ فَعَلْتُهُ لِمَ فَعَلْتَهُ.
২৭৭। আনাস (রা) বলেন, আমি দশটি বছর যাবত নবী (স)-এর খেদমত করেছি। কখনো তিনি আমাকে (বিরক্তিসূচক) উফ শব্দটিও বলেননি। তিনি আমাকে কোন কিছু করতে বললে, (যদিও আমি তা করেছি,) কখনো বলেননি : তুমি এটা করলে না কেন বা যা করেছি তার জন্যও বলেননি যে, তুমি তা করলে কেন (বু, মু)?
۲۷۸ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ رَحِيمًا وَكَانَ لَا يَأْتِيهِ أَحَدٌ إِلَّا وَعَدَهُ وَأَنْجَزَ لَهُ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ وَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَجَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَأَخَذَ بِشَوْبِهِ فَقَالَ إِنَّمَا بَقِيَ مِنْ حَاجَتِي يَسِيْرَةٍ وَأَخَافُ أَنْسَاهَا فَقَامَ مَعَهُ حَتَّي فَرَغَ مِنْ حَاجَتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَصَلَّي.
২৭৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তাঁর কাছে যে-ই আসতো, তিনি তাকে প্রতিশ্রুতি দিতেন। তাঁর কাছে দেয়ার মত কিছু থাকলে তিনি অবশ্যই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতেন। নামাযের ইকামত হয়ে গেলে এক বেদুইন এসে তাঁর পরিধেয় বস্ত্র চেপে ধরে বললো, আমার সামান্য একটু প্রয়োজন আছে এবং আমার আশঙ্কা হয় যে, পাছে আমি তা ভুলে না যাই। তখন তিনি তার সাথে গেলেন এবং তার প্রয়োজন সেরে দিয়ে নামাযে মনোনিবেশ করলেন (বু, মু)।
۲۷۹ - عَنْ جَابِرٍ قَالَ مَا سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ شَيْئًا فَقَالَ لَا.
২৭৯। জাবির (রা) বলেন, নবী (স)-এর কাছে কিছু চাওয়া হলে তিনি কখনো "না" বলেননি (মু, দার, হি)।
۲۸۰ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ مَا رَأَيْتُ امْرَأَتَيْنِ أَجْوَدَ مِنْ عَائِشَةَ وَأَسْمَاءَ وَجُودُهُمَا مُخْتَلِفٌ أَمَّا عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَجْمَعُ الشَّيْئَ إِلَى الشَّيْئِ حَتَّى إِذَا كَانَ اجْتَمَعَ عِنْدَهَا قَسَمَتْ وَأَمَّا أَسْمَاءُ فَكَانَتْ لَا تَمْسَكُ شَيْئًا لِغَدِ.
২৮০। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা) বলেন, আমি আয়েশা (রা) ও আসমা (রা)-এর চাইতে অধিক দানশীলা আর কোন দুই মহিলাকে দেখিনি। তাদের দু'জনের দানের বৈশিষ্ট্য ছিল দুই রকম। আয়েশা (রা) একটু একটু করে সঞ্চয় করতেন। সঞ্চিত বস্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হলে তিনি তা বণ্টন করে দিতেন। আর আসমা (রা) আগামী দিনের জন্য কিছু তুলে রাখতেন না (সাথে সাথে দান করে দিতেন)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মনের সংকীর্ণতা

📄 মনের সংকীর্ণতা


١٣٧ - بَابُ الشح
۲۸۱ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا يَجْتَمِعُ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ فِي جَوْفِ عَبْدٍ أَبَدًا وَلَا يَجْتَمِعُ الشُّحُ وَالْإِيْمَانُ فِي قَلْبِ عَبْدِ أَبَداً .
২৮১। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের) ধুলি ও জাহান্নামের ধোঁয়া কোন বান্দার মধ্যে কখনো একত্র হতে পারে না। অনুরূপভাবে মনের সংকীর্ণতা ও ঈমানও কোন বান্দার মধ্যে কখনো একত্র হতে পারে না (না, ই)।
۲۸۲ - عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ خَصْلَتَانِ لَا يَجْتَمِعَانِ فِي مُؤْمِنٍ الْبُخْلُ وَسُوْءُ الْخُلُق.
২৮২। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ দুইটি কুঅভ্যাস কোন মুমিন বান্দার মধ্যে একত্র হতে পারে নাঃ কার্পণ্য এবং অসৎ চরিত্র (তি)。
۲۸۳ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَبَيْعَةَ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ فَذَكَرُوا رَجُلاً فَذَكَرُوا مِنْ خُلْقِهِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَرَايَتُمْ لَوْ قَطَعْتُمْ رَأْسَهُ أَكُنْتُمْ تَسْتَطِيعُونَ أَنْ تُعِيدُوهُ قَالُوا لَا قَالَ فَيَدَهُ قَالُوا لاَ قَالَ فَرِجْلُهُ قَالُوا لاَ قَالَ فَإِنَّكُمْ لَا تَسْتَطِيعُونَ أَنْ تُغَيِّرُوا خُلُقَهُ إِنَّ النُّطْفَةَ لَتَسْتَقِرُّ فِي الرَّحِمِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ تَنْحَدِرُ دَمًا ثُمَّ تَكُوْنُ عَلَقَةً ثُمَّ تَكُونُ مُضْغَةً ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ مَلَكًا فَيَكْتُبُ رِزْقَهُ وَخُلْقَهُ وَشَقِيًّا أَوْ سَعِيدًا .
২৮৩। আবদুল্লাহ ইবনে রবীয়া (র) বলেন, আমরা আবদুল্লাহ (রা)-এর নিকট বসা ছিলাম। লোকজন এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলো। তারা তার চরিত্র সম্পর্কেও উল্লেখ করলো। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, তোমরা যদি তার মাথা কেটে ফেলো, তবে কি তাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবে? তারা বলেন, না। তিনি বলেন, তার হাত কেটে ফেললে? তারা বলেন, না। তার পা কাটলে? তারা বলেন, না। তিনি বলেন, তোমরা যদি কোন লোকের বাহ্যিক অবয়ব পরিবর্তন করতে অক্ষম হও, তাহলে তার আভ্যন্তরীণ অবয়ব কি করে পরিবর্তন করবে! বীর্য স্ব-অবস্থায় চল্লিশ দিন পর্যন্ত জরায়ুতে অবস্থান করে। তারপর তা রক্তে পরিণত হয়, অতঃপর জমাট রক্তে, অতঃপর মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান, যিনি তার জীবিকা, চরিত্র এবং সে হতভাগা না ভাগ্যবান হবে তা লিপিবদ্ধ করেন।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 লোকজন প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারলে উত্তম চরিত্রে ভূষিত হয়

📄 লোকজন প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারলে উত্তম চরিত্রে ভূষিত হয়


۱۳۸ - بَابُ حُسْنِ الْخُلُقِ إِذَا فَقُهُوا
٢٨٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الرَّجُلَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلْقِهِ دَرَجَةَ الْقَائِمِ بِاللَّيْلِ.
২৮৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ উত্তম স্বভাব-চরিত্রের সাহায্যে কোন ব্যক্তি রাত জেগে ইবাদতকারীর মর্যাদা লাভ করতে পারে (দা, হা)।
٢٨٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا القَاسِمِ ﷺ يَقُولُ خَيْرُكُمْ إِسْلَامًا أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا إِذَا فَقُهُوا .
২৮৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি আবুল কাসিম (স)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যকার উত্তম চরিত্রের লোক প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারলে ইসলামের মানদণ্ডে সে তোমাদের সকলের চেয়ে উত্তম (আ)।
٢٨٦ - حَدَّثَنِي ثَابِتُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَداً أَجْلَ إِذَا جَلَسَ مَعَ الْقَوْمِ وَلَا أَفْكَهَ فِي بَيْتِهِ مِنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِت.
২৮৬। সাবিত ইবনে উবাইদ (র) বলেন, আমি মজলিসে গাম্ভীর্য অবলম্বনকারী এবং নিজ বাড়িতে খোশমেজাজী লোক যায়েদ ইবনে সাবিত (রা) ব্যতীত আর কাউকে দেখিনি (ইসাবা)।
۲۸۷ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ الله أَيُّ الْأَدْيَانِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلٌ قَالَ الحَنَفِيَّةُ السَّمْحَةُ.
২৮৭। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী (স)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ দীন (ধার্মিকতা) মহামহিম আল্লাহ্র কাছে সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেনঃ সহজ সরল দীন (আ)।
۲۸۸ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرُو قَالَ أَرْبَعُ خِلَالٍ إِذَا أَعْطَيْتَهُنَّ فَلَا يَضُرُّكَ مَا عُزِلَ عَنْكَ مِنَ الدُّنْيَا حُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعَفَافُ طَعْمَةٍ وَصِدْقُ حَدِيثٍ وَحِفْظُ أَمَانَةٍ.
২৮৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, চারটি গুণ যদি তোমাকে দান করা হয় তবে পার্থিব অন্য কিছু না পেলেও তোমার কোন ক্ষতি নেই। (১) উত্তম স্বভাব-চরিত্র, (২) উত্তম ও পরিচ্ছন্ন (হালাল) রিযিক, (৩) সত্য ভাষণ এবং (৪) আমানত সংরক্ষণ (আ)।
۲۸۹ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ الله تَدْرُونَ مَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ النَّارَ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ الْأَجْوَفَانِ الْفَرْجُ وَالْقَمُ وَمَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلْقِ.
২৮৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ তোমরা কি জানো, কোন জিনিসের কারণে অধিকাংশ লোক জাহান্নামে যাবে? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ দুইটি ছিদ্র (১) লজ্জাস্থান ও (২) মুখ। অপরদিকে কোন জিনিসের বদৌলতে অধিক লোক বেহেশতে যাবে? আল্লাহর ভয় ও উত্তম স্বভাবের কারণে (আ, ই, তি)।
٢٩٠ - عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ قَامَ أَبُو الدَّرْدَاءِ لَيْلَةً يُصَلِّي فَجَعَل يَبْكِي وَيَقُولُ اللَّهُمُ أَحْسَنْتَ خَلْقِي فَحَسَّنَ خُلْقِي حَتَّي أَصْبَحَ فَقُلْتُ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ مَا كَانَ دُعَاءُكَ مُنْذُ اللَّيْلَةِ إِلا فِي حُسْنِ الْخُلْقِ فَقَالَ يَا أَمِّ الدَّرْدَاءِ إِنَّ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ يُحْسِنُ خُلْقَهُ حَتَّي يُدْخِلَهُ حُسْنُ خُلْقِهِ الْجَنَّةَ وَيَسِي خُلْقَهُ حَتَّى يُدْخِلَهُ سُوءُ خُلْقِهِ النَّارَ وَالْعَبْدُ الْمُسْلِمُ يُغْفَرُ لَهُ وَهُوَ نَائِمٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ كَيْفَ يُغْفَرُ لَهُ وَهُوَ نَائِمٌ قَالَ يَقُوْمُ أَخُوهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَجْتَهِدُ فَيَدْعُو اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ فَيَسْتَجِيبُ لَهُ وَيَدْعُو لِأَخَيْهِ فَيَسْتَجِيبُ لَهُ فِيْهِ.
২৯০। উম্মু দারদা (রা) বলেন, এক রাতে আবু দারদা (রা) নামায পড়তে দাঁড়ালেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকলেন, "হে আল্লাহ! তুমি আমার দৈহিক গঠন সুন্দর করেছো, আমার স্বভাব-চরিত্রও সুন্দর করে দাও"। এই অবস্থায় তিনি ভোরে উপনীত হলেন। আমি বললাম, হে আবু দারদা! কাল সারা রাত ধরে আপনার দোয়া ছিলো সুন্দর স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে। তিনি বলেন, হে উম্মু দারদা! মুসলিম বান্দা তার স্বভাব-চরিত্র সুন্দর করতে থাকে, শেষ পর্যন্ত সুন্দর স্বভাব-চরিত্র তাকে বেহেশতে প্রবেশ করায়। আবার সে তার স্বভাব-চরিত্র খারাপ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তা তাকে দোযখে প্রবেশ করায়। মুমিন বান্দাকে তার ঘুমন্ত অবস্থায় ক্ষমা করা হয়। আমি বললাম, হে আবু দারদা! ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে ক্ষমা করা হয় কিভাবে? তিনি বলেন, তার অপর ভাই শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে মহামহিম আল্লাহর কাছে দোয়া করে। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। সে তার অপর ভাইয়ের জন্যও দোয়া করে, আল্লাহ তার সেই দোয়াও কবুল করেন।
٢٩١ - عَنْ أَسَامَةَ بْنِ شَرِيكَ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ وَجَاءَتِ الْأَعْرَابُ نَاسُ كَثِيرٌ مِّنْ هُهُنَا وَهُهُنَا فَسَكَتَ النَّاسُ لَا يَتَكَلَّمُونَ غَيْرَهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعَلَيْنَا حَرَجٌ فِي كَذَا وَكَذَا فِي أَشْيَاءَ مِنْ أَمُورِ النَّاسِ لَا بَأْسَ بِهَا فَقَالَ يَا عِبَادَ اللَّهِ وَضَعَ الله الحَرَجَ الا امْرَأَ افْتَرَضَ أَمْرًا ظُلْمًا فَذَاكَ الَّذِي حَرَجٌ وَهَلَكَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ انْتَدَاوِي قَالَ نَعَمْ يَا عِبَادَ اللَّهِ تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءٌ غَيْرَ دَاء وَاحِدٍ قَالُوا وَمَا هُوَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الْهَرَمُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا خَيْرُ مَا أُعْطِيَ الْإِنْسَانُ قَالَ خُلْقَ حَسَنٌ.
২৯১। উসামা ইবনে শরীক (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন বিভিন্ন স্থান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেদুইন আসলো। লোকজন নির্বাক ছিলো। কেবল বেদুইনরাই কথা বলছিলো। তারা জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক অমুক ব্যাপারে আমাদের কোন দোষ হবে কি? তারা এমন কিছু মানবীয় বিষয় জিজ্ঞেস করে যাতে দোষের কিছু ছিলো না। তিনি বলেনঃ "হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ পাপকে রহিত করেছেন। পাপ তো এমন লোকের হতে পারে যে নিজের জন্য অত্যাচার-নির্যাতনকে অবধারিত করে নিয়েছে। এতে তার পাপ হয় এবং সে ধ্বংস হয়"। তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা ঔষধপত্র ব্যবহার করবো কি? তিনি বলেনঃ হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ঔষধ ব্যবহার করো। কেননা মহামহিম আল্লাহ এমন কোন রোগ রাখেননি, যার প্রতিশেধক রাখেননি, একটি রোগ ছাড়া। তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি? তিনি বলেনঃ বার্ধক্য। তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মানুষকে প্রদত্ত সর্বোত্তম জিনিস কি? তিনি বলেন: উত্তম স্বভাব-চরিত্র (তি, ই, দা, হা)।
۲۹۲ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ جِبْرِيلُ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِّنْ رَمَضَانَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسِلَةِ.
২৯২। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ছিলেন জনগণের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। তাঁর এই দানশীলতা উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছতো রমযান মাসে। জিবরাঈল (আ) যখন তাঁর সাথে মিলিত হতেন তখন তাঁর দানশীলতা আরো বেড়ে যেতো। জিবরাঈল (আ) রমযানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে মিলিত হতেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁকে কুরআন পড়ে শুনাতেন। জিবরাঈল (আ) যখন তাঁর সাথে মিলিত হতেন, তখন তাঁর দানশীলতার গতি বেগবান বাতাসের চেয়েও অধিক বেগবান হতো (বু, মু, না)।
۲۹۳ - عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوْجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ إِلا أَنَّهُ قَدْ كَانَ رَجُلًا يُخَالِطُ النَّاسِ وَكَانَ مُوسِراً فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ .
২৯৩। আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী কালের এক ব্যক্তির আমলের হিসাব নেয়া হলো। কিন্তু তার আমলনামায় কল্যাণকর কিছুই পাওয়া গেলো না। তবে লোকটির জনগণের সাথে সংস্রব ছিল এবং সে ছিল সচ্ছল। সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিতো যে, তারা অভাবী দেনাদারকে যেন সময় দেয়। তখন মহামহিম আল্লাহ বলেন, আমিই তার চাইতে এই গুণের বেশি যোগ্য। অতএব তোমরা (ফেরেশতাগণ) তাকে এড়িয়ে যাও (মু, তি)।
٢٩٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا اكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ قَالَ تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الْخُلْقِ قَالَ وَمَا أَكْثَرُ مَا يَدْخِلُ النَّارَ قَالَ الْأَجْوَفَانِ الْفَمُ وَالْفَرَجُ .
২৯৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কিসের বদৌলতে অধিক সংখ্যক লোক বেহেশতে যাবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহর ভয় এবং উত্তম স্বভাব-চরিত্র। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, কিসের কারণে বহু লোক দোযখে যাবে? তিনি বলেনঃ দু'টি ছিদ্র, মুখ ও লজ্জাস্থান (তি, ই, হা, হি)।
٢٩٥ - عَنْ نَواسِ بْنِ سَمْعَانَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ سَالَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنِ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ قَالَ البر حُسْنُ الْخُلْقِ وَالْإِثْمُ مَا حَكَ فِي نَفْسِكَ وَكَرِهْتَ أَنْ يُطْلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ .
২৯৫। নাওয়াস ইবনে সামআন আল-আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে পাপ ও পূণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন: পুণ্য হচ্ছে উত্তম স্বভাব-চরিত্র এবং পাপ হচ্ছে যা তোমার অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং লোকজন তা অবগত হোক তা তুমি পছন্দ করো না (মু, তি, আ, দার, হা, হি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00