📄 স্নেহ-মমতা
১৩২ - بَابُ الْأَلْفَة
٢٦٠ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ لَيَلْتَقِيَانِ فِي مَسِيرَةِ يَوْمٍ وَمَا رَأَي أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ.
২৬০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ মুমিন দুই ব্যক্তির রূহ এক দিনের দূরত্ব থেকে পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করে, অথচ তাদের একজন অপরজনকে কখনো দেখেনি (ইতহাফ)।
٢٦١ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ النَّعَمُ تُكْفَرُ وَالرَّحِمُ تُقْطَعُ وَلَمْ نَرَ مِثْلَ تَقَارُبِ الْقُلُوبِ.
২৬১। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, কতো সুখ-সুবিধার শোকরগোযারী করা হয় না। কতো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হয়। কিন্তু অন্তরসমূহের ঘনিষ্ঠতার মত কিছু আমি দেখেনি (ইتহাফ)।
٢٦٢ - عَنْ عُمَيْرِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنْ أَوَّلَ مَا يُرْفَعُ مِنَ النَّاسِ الْأَلِفَةُ.
২৬২। উমাইর ইবনে ইসহাক (র) বলেন, আমরা আলোচনা করতাম যে, সর্বপ্রথম মানুষের মন থেকে স্নেহ-মমতা তুলে নেয়া হবে।
📄 রসিকতা
١٣٣ - بَابُ الْمَزَاحِ
٢٦٣ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ أَتَي النَّبِيُّ ﷺ عَلَى بَعْضٍ نِسَائِهِ وَمَعَهُنَّ أُمُّ سُلَيْمٍ فَقَالَ يَا أَنْجَشَةُ رُوَيْدَ سُوقَكَ بِالْقَوَارِيرِ قَالَ أَبُو قِلَابَةَ فَتَكَلَّمَ النَّبِيُّ ﷺ بِكَلِمَةٍ لَوْ تَكَلَّمَ بَعْضُكُمْ لَعِبْتُمُوهَا عَلَيْهِ قَولُهُ سُوقُكَ بِالْقَوَارِير.
২৬৩। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) তাঁর এক স্ত্রীর নিকট এলেন। উম্মু সুলাইম (রা)-ও তাদের সাথে ছিলেন। তিনি বলেনঃ "ধীরে হে আনজাশা, ধীরে! তোমার চালান যে কাঁচের চালান হে"! রাবী আবু কিলাবা (র) বলেন, নবী (স) এমন বাক্য উচ্চারণ করলেন, যদি তোমাদের মধ্যকার কেউ তা বলতো, তবে তোমরা নিশ্চয় তাকে দোষারোপ করতে। তাঁর সেই বাক্যটি ছিলঃ "তোমার চালান যে কাঁচের চালান হে" (বু, মু, না)।
٢٦٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا قَالَ إِنِّي لَا أَقُولُ إِلا حَقًّا .
২৬৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের সাথে রসিকতাও করেন। তিনি বলেনঃ আমি সত্য ছাড়া কিছু বলি না (তি, আ)।
٢٦٥ - عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ اللَّهُ يَتَبَادَحُونَ بِالْبِطَّيْنِ فَإِذَا كَانَتِ الْحَقَائِقُ كَانُوا هُمُ الرِّجَالُ.
২৬৫। বাক্স ইবনে আবদুল্লাহ (র) বলেন, নবী (স)-এর সাহাবীগণ একে অপরের প্রতি তরমুজ নিক্ষেপ করেও রসিকতা করতেন। কিন্তু তারা কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হলে যোগ্য পুরুষই প্রতিপন্ন হতেন।
٢٦٦ - عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةً قَالَ مَزَحَتْ عَائِشَةُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَتْ أُمُّهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ بَعْضَ دَعَابَاتِ هَذا الحَيِّ مِنْ كِنَانَةَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ بَلْ بَعْضُ مَزَاحِنَا هذا الْحَيِّ .
২৬৬। ইবনে আবু মুলাইকা (র) বলেন, আয়েশা (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাথে রসিকতা করলেন। তার মা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই পরিবারের কোন কোন রসিকতা কিনানা গোত্র থেকে এসেছে। নবী (স) বলেনঃ বরং আমাদের কতক রসিকতা ঐ গোত্র থেকেই এসেছে।
٢٦٧ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيُّ الله يَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ أَنَا حَامِلُكَ علي وَلَد نَاقَةٍ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ نَاقَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهَلْ تَلِدُ الابل الا النُّوقُ.
২৬৭। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট একটি বাহন চাইতে আসে। তিনি বলেন: আমি তোমাকে একটা উষ্ট্রীর বাচ্চা বাহন হিসেবে দিবো। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উষ্ট্রীর বাচ্চা দিয়ে আমি কি করবো! রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ উষ্ট্রীই তো উট প্রসব করে (দা, তি, আ)।
📄 শিশুর সাথে রসিকতা
١٣٤ - بَابُ الْمَزَاحَ مَعَ الصَّبِيِّ
٢٦٨ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَيُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُولَ لَأَحْ لَيْ صَغِيرٍ يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ.
২৬৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) আমাদের (শিশুদের) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতেন। তিনি আমার ছোট ভাইকে বলতেনঃ হে আবু উমাইর! কি করলো তোমার নুগায়র (বু, মু, দা, তি, না, ই)!
٢٦٩ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَخَذَ النَّبِيُّ اللهِ بِيَدِ الْحَسَنِ أَوِ الْحُسَيْنِ ثُمَّ وَضَعَ قَدَمَيْهِ عَلَى قَدَمَيْهِ ثُمَّ قَالَ تَرْقِ.
২৬৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) হাসান অথবা হুসাইন (রা)-এর হাত ধরলেন, অতঃপর তার পদদ্বয় নিজের পদদ্বয়ের উপর রাখলেন, অতঃপর বলেনঃ আরোহণ করো।
📄 উত্তম স্বভাব-চরিত্র
١٣٥ - بَابُ حُسْنِ الْخُلُقِ
۲۷۰ - عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ شَيْءٍ فِي المِيزَانِ أَثْقَلُ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ .
২৭০। আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ ওজনদণ্ডে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই হবে না (দা, তি, আ, হি)।
۲۷۱ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَكَانَ يَقُولُ خَيَارِكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا .
২৭১। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, নবী (স) নিজেও অশ্লীলভাষী ছিলেন না এবং অশ্লীলতাকে তিনি পছন্দও করতেন না। তিনি বলতেনঃ তোমাদের মধ্যে উত্তম স্বভাব-চরিত্রের লোকই সর্বোত্তম (বু, মু, তি)।
۲۷۲ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ أَخْبِرُكُمْ بَاحَبِّكُمْ إِلَيَّ وَأَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَأَعَادَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا قَالَ الْقَوْمُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا .
২৭২। আমর ইবনে শুআইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমার নিকট প্রিয়তর এবং কিয়ামতের দিন আমার নিকটবর্তী আসনে উপবিষ্ট হবে তোমাদের মধ্যকার এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করবো না? লোকজন চুপ থাকলো। তিনি দুই অথবা তিনবার কথাটি বললেন। লোকজন বললো, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেন : তোমাদের মধ্যকার সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি (আ, হি)।
۲۷۳ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحِي الْأَخْلَاقِ.
২৭৩। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের পূর্ণতা দান করার জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি (আ, হা)।
۲۷٤ - عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا خُيْرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بَيْنَ أَمْرَيْنِ الأَ إِخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا فَإِذَا كَانَ اثْمًا كَانَ أَبْعَدُ النَّاسِ مِنْهُ وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرُمَةُ اللَّهِ تَعَالَي فَيَنْتَقِمُ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا .
২৭৪। আয়েশা (রা) বলেন, যখনই রাসূলুল্লাহ (স)-কে দুইটি ব্যাপারের একটি বেছে নেয়ার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তখনই তিনি সহজতরটিকে বেছে নিয়েছেন, যতক্ষণ না তা পাপাচার হতো। যদি তা পাপাচার হতো তবে তিনি লোকজনের চেয়ে তা থেকে সর্বাধিক দূরে থাকতেন। আর রাসূলুল্লাহ (স) কখনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। অবশ্য আল্লাহ তাআলার বিধানের পরিপন্থী কোন কিছু হতে দেখলে তিনি মহামহিম আল্লাহ্ জন্য তার প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন (বু, মু, মা)।
٢٧٥ - عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ إِنَّ اللهَ تَعَالَي قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَخْلَاقَكُمْ كَمَا قَسَمَ بَيْنَكُمْ أَرْزَاقَكُمْ وَإِنَّ اللهَ تَعَالَي يُعْطِي الْمَالَ مَنْ أَحَبَّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ وَلَا يُعْطِي الْإِيْمَانَ الأَ مَنْ يُحِبُّ فَمَنْ ضَنَّ بِالْمَالِ أَنْ يُنْفِقَهُ وَخَافَ الْعَدُوَّ أَنْ يُجَاهِدَهُ وَهَابَ اللَّيْلَ أَنْ يُكَابِدَهُ فَلْيُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ.
২৭৫। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মধ্যে চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তোমাদের মধ্যে রিযিক বণ্টন করেছেন। আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না তাদের সকলকেই সম্পদ দান করেছেন। কিন্তু তিনি ঈমান দান করেছেন কেবল যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন। অতএব যে ব্যক্তি সম্পদ ব্যয়ে কৃপণ, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদে ভীত এবং ইবাদতের মাধ্যমে রাত জাগরণে দুর্বল, সে যেন বেশি পাঠ করেঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল-হামদু লিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার" (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তিনি মহাপবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ এবং আল্লাহ মহান) (আ, হা)।