📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মুচকি হাসি

📄 মুচকি হাসি


১২৫ - بَابُ التَّبَسُّمِ
٢٤٩ - عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرًا يَقُولُ مَا رَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مُنْذُ أَسْلَمْتُ الأَ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي وَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدْخُلُ مِنْ هُذَا الْبَابِ رَجُلٌ مِّنْ خَيْرِ ذِي يَمَنٍ علَي وَجْهِهِ مَسْحَةً مَلَكَ فَدَخَلَ جَرِيرٌ.
২৪৯। কায়েস (র) বলেন, আমি জারীর (রা)-কে বলতে শুনেছি, আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসূলুল্লাহ (স) যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ এই দরজা দিয়ে কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করবে যার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রয়েছে। জারীর (রা) তখন সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন (বু, মু, দা, ই, আ)।
٢٥٠ - عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّي اري مِنْهُ لَهَوَاتَهُ إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسْمُ قَالَتْ وَكَانَ إِذَا رَأَي غَيْمًا أَوْ رِيحًا عُرِفَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْغَيْمَ فَرِحُوا رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ فِيْهِ الْمَطَرُ وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عُرِفَتْ فِي وَجْهِكَ الْكَرَاهَةُ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيْهِ عَذَابٌ عَذَبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ وَقَدْ رَأَي قَوْمُ الْعَذَابَ فَقَالُوا هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا .
২৫০। মহানবী (স)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এমনভাবে হাসতে দেখিনি যাতে তার আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। তিনি আরও বলেন, তিনি মেঘ অথবা বাতাস বইতে দেখলে তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেতো। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা মেঘ দেখে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়। আর আমি লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মেঘ দেখলে আপনার চেহারায় বিরূপ অবস্থা প্রতিভাত হয়। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তা যে শাস্তির বাহক নয় সেই নিশ্চয়তা আমাকে কে দিবে? এক সম্প্রদায়কে বায়ু দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এক সম্প্রদায় শান্তি আসতে দেখে বললো, তা আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে (বু, মু, দা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 হাসি

📄 হাসি


১২৬-অনুচ্ছেদ : হাসি।
২৫১ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَقِلَّ الضَّحِكَ فَإِنْ كَشْرَةَ الضَّحِكِ تميت القلب .
২৫১। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ কম হাসো, কেননা অধিক হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায় (তি, ই)।
٢٥٢ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لا تُكْثِرُوا الضَّحِكَ فَإِنْ كَثْرَةَ الضَّحِكَ تُمِيتُ القلب .
২৫২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ তোমরা বেশি হাসবে না। কেননা অধিক হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায় (ই,তা)।
٢٥٣ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى رَهْطٍ مِّنْ أَصْحَابِهِ يَضْحَكُونَ وَيَتَحَدِّثُونَ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيْلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ثُمَّ انْصَرَفَ وَابْكَي الْقَوْمُ وَأَوْحَي اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَيْهِ يَا مُحَمَّدُ لِمَ تَقْتُطُ عِبَادِي فَرَجَعَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ أَبْشِرُوا وَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا.
২৫৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) তাঁর কতক সাহাবীকে অতিক্রম করছিলেন। তখন তারা হাস্যালাপ ও কথাবার্তায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে। অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং লোকজন কাঁদতে লাগলো। তখন মহামহিম আল্লাহ ওহী নাযিল করেন, হে মুহাম্মাদ! আমার বান্দাদেরকে কেন নিরাশ করছো! নবী (স) ফিরে এসে বলেন: তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, সরল পথ অবলম্বন করো এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে তৎপর হও (বু, আ, হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 তুমি আবির্ভূত হলে সশরীরে আবির্ভূত হও এবং প্রস্থান করলেও সশরীরে প্রস্থান করো

📄 তুমি আবির্ভূত হলে সশরীরে আবির্ভূত হও এবং প্রস্থান করলেও সশরীরে প্রস্থান করো


১২৭-অনুচ্ছেদ: তুমি আবির্ভূত হলে সশরীরে আবির্ভূত হও এবং প্রস্থান করলেও সশরীরে প্রস্থান করো।
٢٥٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ رُبَّمَا حَدَّثَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فَيَقُولُ حَدَّثَنِيهِ أَهْدَبُ الشَّفَرَيْنِ وَأَبْيَضُ الْكَشَحَيْنِ إِذَا أَقْبِلْ أَقْبِلْ جَمِيعًا وَإِذَا أَدْبِرْ أَدْبِرْ جَمِيعًا لَمْ تَرَ عَيْنٌ مثْلَهُ وَلَنْ تَرَاهُ .
২৫৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি এ হাদীস বর্ণনাকালে প্রায়ই মহানবী (স)-এর উল্লেখ করে বলতেন, যাঁর ভ্রুযুগল প্রশস্ত, বাহুদ্বয় শুভ্র তিনি আমাকে বলেছেনঃ "তুমি যখন আবির্ভূত হবে পূর্ণদেহে আবির্ভূত হবে এবং যখন প্রস্থান করবে পূর্ণদেহে প্রস্থান করবে"। কোন চোখ তাঁর সমকক্ষ কাউকে কখনও দেখেনি এবং কখনও দেখবে না।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পরামর্শদাতা হলো আমানতদার

📄 পরামর্শদাতা হলো আমানতদার


১২৮-অনুচ্ছেদ: পরামর্শদাতা হলো আমানতদার।
٢٥٥ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ اللهِ لِأَبِي الْهَيْثَمِ هَلْ لَكَ خَادِمٌ قَالَ لَا قَالَ فَإِذَا آتَانَا سَبْيٌّ فَأْتِنَا فَأْتِي النَّبِيُّ اللهِ بِرَأْسَيْنِ لَيْسَ مَعَهُمَا ثَالِثٍ فَآتَاهُ أَبُو الْهَيْثَمِ قَالَ النَّبِيُّ اخْتَرْ مِنْهُمَا قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ اخْتَرْ لِي فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ الْمُسْتَشَارَ مُؤْتَمِنٌ خُذْ هُذَا فَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي وَاسْتَوْصِ بِهِ خَيْرًا فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ مَا أَنْتَ بِبَالِغ مَا قَالَ فِيْهِ النَّبِيُّ الله إِلا أَنْ تُعْتِقَهُ قَالَ فَهُوَ عَتِيقٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا وَلَا خَلِيفَةً إِلا وَلَهُ بِطَانَتَانِ بِطَانَةً تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَاهُ عَنِ الْمُنْكَرِ وَبِطَانَةٌ لَا تَالُوهُ خَبَالاً وَمَنْ يُوقَ بِطَانَةَ السُّوْءِ فَقَدْ وَقِي.
২৫৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) আবুল হায়ছাম (রা)-কে বলেন: তোমার কি খাদেম আছে? তিনি বলেন, না। তিনি বলেনঃ আমাদের কাছে বন্দী আসলে তুমি আমাদের নিকট আসবে। তারপর নবী (স)-এর কাছে দু'জন বন্দী আনা হলো, এদের সাথে তৃতীয় কেউ ছিলো না। তখন আবুল হায়ছাম (রা) তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। নবী (স) বলেনঃ তুমি এদের দুইজনের মধ্যে একজনকে বেছে নাও। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিই আমাকে একজন বেছে দিন। নবী (স) বলেনঃ যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয় তাকে বিশ্বস্ত হতে হয়। একে নিয়ে যাও। আমি তাকে নামায পড়তে দেখেছি। তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। পরে তার স্ত্রী তাকে বলেন, নবী (স) তার ব্যাপারে যা বলেছেন, তাকে দাসত্বমুক্ত করা ছাড়া অন্যভাবে তার দাবি তুমি পূরণ করতে পারবে না। আবুল হায়ছাম (রা) বলেন, সে স্বাধীন। নবী (স) বলেনঃ আল্লাহ কোন নবী অথবা খলীফা প্রেরণ করেননি যার সাথে দুইজন অন্তরঙ্গ বন্ধু দেননি। এক বন্ধু তাকে উত্তম কাজের প্রেরণা দেয় এবং পাপ কাজ থেকে বারণ করে এবং অপরটি তার সর্বনাশ সাধন করে। যে ব্যক্তি মন্দ প্ররোচনাদানকারী বন্ধুর প্ররোচনা থেকে রক্ষা পেয়েছে সে রক্ষা পেয়েছে (দা,ই,হা, হি,তহা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00