📄 কল্যাণের দিকে পথ প্রদর্শন
১২২ - بَابُ الدَّالَّ عَلَى الْخَيْرِ
٢٤١ - عَنْ أَبِي مَسْعُودِ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَي النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ إِنِّي أَبْدَعَ بِي فَأَحْمِلْنِي قَالَ لَا أَجِدُ وَلَكِنِ انْتِ فُلَانًا فَلَعَلَّهُ أَنْ يَحْمِلَكَ فَآتَاهُ فَحَمَلَهُ فَأَتَي النَّبِيُّ ﷺ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرٍ فَاعله.
২৪১। আবু মাসউদ আনসারী (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, আমি ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছি। আমাকে একটি বাহন দান করুন। তিনি বলেনঃ আমার কাছে তা নেই। বরং তুমি অমুকের কাছে যাও। হয়তো সে তোমাকে বাহন দিতে পারে। সে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির নিকট গেলো এবং সে তাকে বাহন দান করলো। লোকটি নবী (স)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে তা অবহিত করলো। তিনি বলেনঃ কেউ কল্যাণের পথ দেখালে সে কল্যাণ সাধনকারীর সমান সওয়াব পায় (মু, দা, তি)।
📄 মানুষের প্রতি ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শন
১২৩ - بَابُ الْعَفْوِ وَالصَّفْحِ عَنِ النَّاسِ
٢٤٢ - عَنْ أَنَسٍ أَنْ يَهُودِيَّةٌ أتتِ النَّبيِّ الله بشَاةٍ مُسْمُومَةٍ فَأَكَلَ مِنْهَا فَجِئْيَ بِهَا فَقِيلَ أَلَا نَقْتُلُهَا قَالَ لَا قَالَ فَمَا زِلْتُ أَعْرِفُهَا فِي لَهَوَاتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
২৪২। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ইহুদী নারী বিষ মিশ্রিত ছাগলের গোশত নিয়ে নবী (স)-এর নিকট আসলো। তিনি তার কিছুটা আহার করলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে আনা হলো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমরা কি তাকে হত্যা করবো না? তিনি বলেনঃ না। রাবী বলেন, আমি আজীবন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখগহ্বরে সেই বিষের ক্রিয়া লক্ষ্য করেছি (বু, মু, দা, আ)।
٢٤٣ - عَنْ وَهْبِ ابْنِ كَيْسَانَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ خُذ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ قَالَ وَاللَّهِ مَا أَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤْخَذَ إِلَّا مِنْ أخْلاقِ النَّاسِ وَاللَّهِ لَأَخُذَنَّهَا مِنْهُمْ مَا صَحِبْتُهُمْ.
২৪৩। ওয়াহ্ ইবনে কায়সান (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রা)-কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ "ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খদের থেকে দূরে থাকো" (৭ঃ ১৯৯)। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এই আয়াতে লোকদের উত্তম চরিত্র গ্রহণের আদেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তাদের সাথে থাকবো, ততক্ষণ তাদের থেকে তা গ্রহণ করতে থাকবো (বু, দা)।
٢٤٤ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَّمُوا وَيَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُتُ
২৪৪। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা জ্ঞান দান করো, দীনকে সহজসাধ্য করো, কঠিন করো না এবং তোমাদের মধ্যকার কেউ ক্রুদ্ধ হলে সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে (আ)।
📄 মানুষের সাথে খোলা মনে মেলামেশা করা
১২৪ - بَابُ الْإِنْبِسَاطِ إِلَى النَّاسِ
٢٤٥ - عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةِ رَسُول الله ﷺ في التَّوْرَاةِ قَالَ فَقَالَ أَجَلٌ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَمَوْصُوفٌ فِي التوراة ببعض صفته في الْقُرْآنِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَحِرْزًا للأُمِّيِّينَ أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكَّلَ لَيْسَ فَظًّا وَلَا غَلِيظٌ وَلَا سَخَّابٌ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُوْ وَيَغْفِرُ وَلَنْ يُقْبِضَهُ اللَّهُ تَعَالَي حَتَّي يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ العَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيَفْتَحُوا بِهَا أَعْيُنَا عميًا وَأَذَانَا صُمَّا وَقُلُوبًا غُلْفًا.
২৪৫। আতা ইবনে ইয়াসার (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, তাওরাতে উক্ত রাসূলুল্লাহ (স)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, অবশ্যই। আল্লাহর শপথ! তাওরাতেও রাসূলুল্লাহ (স)-এর এমন কতক বৈশিষ্ট্য উক্ত আছে যা কুরআনেও উক্ত আছে : “হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি" (৩৩ঃ ৪৫) এবং নিরক্ষরদের আশ্রয়স্থল, আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (আল্লাহ্র উপর নির্ভরশীল)। আপনি রুক্ষ মেজাজ, পাষাণহৃদয় ও হাট-বাজারে শোরগোলকারী নন। আপনি মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না, বরং ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাঁকে ততক্ষণ পর্যন্ত তুলে নিবেন না যতক্ষণ তাঁর দ্বারা বক্র জাতিকে সরল পথে প্রতিষ্ঠিত না করবেন এবং তারা বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। এর দ্বারা তিনি অন্ধ চক্ষু খুলে দিবেন, বধির কানকে শ্রবণশক্তি দান করবেন, আচ্ছাদিত অন্তরসমূহকে আচ্ছাদনমুক্ত করবেন (বু)।
٢٤٦ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو قَالَ إِنَّ هَذَا الْآيَةَ الَّتِي فِي الْقُرْآنِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا فِي التَّوْرَاةِ نَحْوَهُ.
২৪৬। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, কুরআনের আয়াতঃ "হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি" (৩৩ঃ ৪৫), তাওরাতে অনুরূপ উল্লেখ আছে (বু)।
٢٤٧ - عَنْ مُعَاوِيَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ مِنَ النَّبِيِّ ﷺ كَلامًا مَا نَفَعَنِيَ اللَّهُ بِهِ سَمِعْتُهُ يَقُولُ أَوْ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِنَّكَ إِذَا اتَّبَعْتَ الرَّيْبَةَ فِي النَّاسِ أَفْسَدَتَهُمْ فَإِنِّي لا أَتَّبِعُ الرَّيْبَةَ فِيهِمْ فَأَفْسَدْتُهُمْ.
২৪৭। মুয়াবিয়া (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট এমন কথা শুনেছি যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করেছেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ "তুমি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কারো পেছনে লেগে গেলে তাদের সর্বনাশ করবে"। সুতরাং আমি তাদের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ হবো না এবং তাদের সর্বনাশও করবো না (দা, হি)।
٢٤٨ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعَ أُذْنَايَ هَاتَانِ وَبَصُرَ عَيْنَايَ هَاتَانِ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَخَذَ بِيَدَيْهِ جَمِيعاً بِكَفْيِ الْحَسَنِ أَوِ الحُسَيْنِ وَقَدَمَيْهِ عَلَي قَدَمٍ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ ارْقَهُ قَالَ فَرَقَي الغُلَامُ حَتَّى وَضَعَ قَدَمَيْهِ عَلَي صَدْرِ رَسُولِ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ افْتَحْ فَاكَ ثُمَّ قَبْلَهُ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَحِبَّهُ فَإِنِّي أَحِبُّهُ.
২৪৮। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার এই দুই কান শুনেছে এবং আমার এই দুই চোখ দেখেছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর দুই হাতে হাসান অথবা হুসাইনের দুই হাত চেপে ধরলেন। তার দুই পা ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর পায়ের উপর। আর রাসূলুল্লাহ (স) বলছিলেনঃ আরোহণ করো। বালকটি চড়তে থাকে, এমনকি তার পদদ্বয় রাসূলুল্লাহ (স)-এর বুকের উপর রাখলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তোমার মুখ উন্মুক্ত করো। অতঃপর তিনি তাকে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে মহব্বত করুন। কেননা আমি তাকে মহব্বত করি (তা)।
📄 মুচকি হাসি
১২৫ - بَابُ التَّبَسُّمِ
٢٤٩ - عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرًا يَقُولُ مَا رَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مُنْذُ أَسْلَمْتُ الأَ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي وَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدْخُلُ مِنْ هُذَا الْبَابِ رَجُلٌ مِّنْ خَيْرِ ذِي يَمَنٍ علَي وَجْهِهِ مَسْحَةً مَلَكَ فَدَخَلَ جَرِيرٌ.
২৪৯। কায়েস (র) বলেন, আমি জারীর (রা)-কে বলতে শুনেছি, আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসূলুল্লাহ (স) যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ এই দরজা দিয়ে কল্যাণময় ও বরকতের অধিকারী এক ব্যক্তি প্রবেশ করবে যার চেহারায় ফেরেশতার হাতের স্পর্শ রয়েছে। জারীর (রা) তখন সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন (বু, মু, দা, ই, আ)।
٢٥٠ - عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّي اري مِنْهُ لَهَوَاتَهُ إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسْمُ قَالَتْ وَكَانَ إِذَا رَأَي غَيْمًا أَوْ رِيحًا عُرِفَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْغَيْمَ فَرِحُوا رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ فِيْهِ الْمَطَرُ وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عُرِفَتْ فِي وَجْهِكَ الْكَرَاهَةُ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ مَا يُؤْمِنِّي أَنْ يَكُونَ فِيْهِ عَذَابٌ عَذَبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ وَقَدْ رَأَي قَوْمُ الْعَذَابَ فَقَالُوا هَذَا عَارِضُ مُمْطِرُنَا .
২৫০। মহানবী (স)-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে এমনভাবে হাসতে দেখিনি যাতে তার আলজিভ দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। তিনি আরও বলেন, তিনি মেঘ অথবা বাতাস বইতে দেখলে তাঁর চেহারায় দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেতো। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকেরা মেঘ দেখে বৃষ্টির আশায় আনন্দিত হয়। আর আমি লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মেঘ দেখলে আপনার চেহারায় বিরূপ অবস্থা প্রতিভাত হয়। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তা যে শাস্তির বাহক নয় সেই নিশ্চয়তা আমাকে কে দিবে? এক সম্প্রদায়কে বায়ু দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এক সম্প্রদায় শান্তি আসতে দেখে বললো, তা আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে (বু, মু, দা)।