📄 রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ
۱۱٦ - بَابُ امَاطَة الْآذِي
۲۲۷ - عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَي عَمَلٍ يُدْخِلْنِي الْجَنَّةَ قال أمط الْأَذِي عَنْ طَرِيقِ النَّاس.
২২৭। আবু বারযা আল-আসলামী (রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে একটি আমল শিখিয়ে দিন, যা আমাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবে। তিনি বলেনঃ জনপথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করো (মু, ই, আ, হি)।
۲۲۸- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَرَّ رَجُلٌ بِشَوكَ فِي الطَّرِيقِ فَقَالَ لَآمِيطَنَّ هذا السُّوكَ لا يَضُرُّ رَجُلاً مُسْلِمًا فَغُفِرَ لَهُ.
২২৮। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ এক ব্যক্তি রাস্তা অতিক্রমকালে তার সামনে কাঁটা পড়লো। সে বললো, আমি অবশ্যই এই কাঁটা সরিয়ে ফেলবো, যাতে তা কোন মুসলমানকে কষ্ট দিতে না পারে। তাকে (এই) কাজের উসীলায় ক্ষমা করা হয় (বু, মু, হি)।
۲۲۹ - عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيِّنُهَا فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا أَنَّ الْأَذِي يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النَّخَاعَةَ فِي الْمَسْجِدِ لَا تُدْفَنُ.
২২৯। আবু যার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের ভালো-মন্দ সমুদয় আমল আমার সামনে পেশ করা হলো। আমি তাদের নেক আমলসমূহের মধ্যে জনপথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও দেখতে পেলাম এবং তাদের বদ আমলসমূহের মধ্যে মসজিদে নিক্ষিপ্ত থুথুও দেখতে পেলাম যা মাটি দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়নি (বু, মু, ই, আ, খু, হি)।
📄 উত্তম কথা
۱۱۷ - بَابُ قَوْلَ الْمَعْرُوفِ
٢٣٠ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِي قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ كُلُّ مَعْرُوفِ صَدَقَةٌ.
২৩০। আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-খাতমী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ প্রতিটি সৎকাজ একটি দানস্বরূপ (আ)।
۲۳۱ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ الله إِذا أُتِيَ بِالشَّنْيِ يَقُولُ اذْهَبُوا بِهِ إِلَي فُلَانَةَ فَإِنَّهَا كَانَتْ صَدِيقَةُ خَدِيجَةَ اذْهَبُوا بِهِ إِلى بَيْتِ فُلَانَةً فَإِنَّهَا كَانَتْ تُحِبُّ خَدِيجَةَ.
২৩১। আনাস (রা) বলেন, নবী (স)-কে কিছু দেয়া হলে তিনি বলতেনঃ যাও, এটা অমুক নারীকে দিয়ে এসো। কেননা সে ছিল খাদীজার বান্ধবী। এটি নিয়ে অমুক মহিলার ঘরে যাও। কেননা সে খাদীজাকে মহব্বত করতো (বায, হা, হি)。
٢٣٢ - عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ نَبِيُّكُمْ اللهُ كُلُّ مَعْرُوفِ صَدَقَةٌ.
২৩২। হুযায়ফা (রা) বলেন, তোমাদের নবী (স) বলেছেনঃ প্রতিটি সৎকাজই দানস্বরূপ (মু,দা)।
📄 সব্জি বাগানে গমন এবং থলে ভর্তি জিনিসপত্রসহ তা কাঁধে বহন করে বাড়ি ফেরা
۱۱۸ - بَابُ الْخُرُوجِ إِلَي الْمُبَقَلَةِ وَحَمْلِ الشَّيْئَ عَلَى عَاتِقِهِ إِلَى أَهْلِه بالزبيل
۲۳۳ - عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قُرَّةَ الْكِنْدِي قَالَ عَرَضَ أَبِي عَلَي سَلْمَانَ أُخْتَهُ فَأَبِي وَزَوْجَ مَوْلَاةً لَهُ يُقَالُ لَهَا بُقَيْرَةُ فَبَلَغَ أَبَا قُرَّةَ أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ حُذَيْفَةً وَسَلْمَانَ شَيْءٍ فَآتَاهُ يَطْلُبُهُ فَأَخْبِرَ أَنَّهُ فِي مَبْقَلَةٍ لَهُ فَتَوَجَّهَ إِلَيْهِ فَلَقِيَهُ مَعَهُ زَبِيلٌ فِيهِ بَقْلُ قَدْ أَدْخَلَ عَصَاهُ فِي عُرْوَةِ الزَّبِيلِ وَهُوَ عَلَى عَاتِقِهِ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ مَا كَانَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ حُذَيْفَةَ قَالَ يَقُولُ سَلْمَانُ وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولاً فَانْطَلَقَا حَتَّى أَتَيَا دَارَ سَلْمَانَ فَدَخَلَ سَلْمَانُ الدَّارَ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ ثُمَّ أَذِنَ لِأَبِي قُرَّةَ فَدَخَلَ فَإِذَا نِمْطُ مَوْضُوعٌ عَلَي بَابٍ وَعِنْدَ رَأْسِهِ لبنات واذا قرطاط فَقَالَ اجْلِسْ عَلَي فراش مَوْلاتِكَ الَّتِي تُمَهِّدُ لِنَفْسِهَا ثُمَّ أَنْشَا يُحَدِّثُ فَقَالَ إِنْ حُذَيْفَةَ كَانَ يُحَدِّثُ بِأَشْيَاء كَانَ يَقُولُهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي غَضَبِهِ لأَقْوَامٍ فَأُوتِيَ فَاسْتَلُ عَنْهَا فَأَقُولُ حُذَيْفَةُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُ وَأَكْرَهُ أَنْ تَكُوْنَ ضَغَائِنُ بَيْنَ أَقْوَامٍ فَأُتِيَ حُذَيْفَةُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ سَلْمَانَ لا يُصَدِّقُكَ وَلَا يُكَذِّبُكَ بِمَا تَقُولُ فَجَاءَنِي حُذَيْفَةً فَقَالَ يَا سَلْمَانُ بْنُ أَمِّ سَلَمَانَ فَقُلْتُ يَا حُذَيْفَةُ بْنُ أُمِّ حُذَيْفَةَ لَتَنْتَهِيَنَّ أَوْ لَاكْتُبَنَّ فِيكَ الى عُمَرَ فَلَمَّا خَوفْتُهُ بِعُمَرَ تَرَكَنِي وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ وُلْدِ آدَمَ أَنَا فَأَيُّمَا عَبْدٍ مِّنْ أُمَّتِي لَعَنْتُهُ لَعْنَةً أَوْ سَبَبْتُهُ سَبَةً فِي غَيْرِ كُنْهِهِ فَاجْعَلْهَا عَلَيْهِ صَلَاةً.
২৩৩। আমর ইবনে আবু কুররা আল-কিন্দী (র) বলেন, আমার পিতা আবুল কুররা (র) সালমান (রা)-এর নিকট তার বোনের বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। তিনি তাতে অসম্মত হলেন এবং বুকায়রা নাম্নী নিজ মুক্তদাসীকে বিবাহ করলেন। আবু কুররা (র) সালমান (রা) ও হুযায়ফ (রা)-এর মধ্যকার মনোমালিন্যের কথা জানতে পারলেন। তিনি তার খোঁজে গেলেন। তাকে জানানো হলো যে, তিনি তার সব্জি বাগানে আছেন। তিনি সেখানে গেলেন এবং তার সাক্ষাত পেলেন। তার সাথে সব্জি ভর্তি একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি এর হাতার মধ্যে তার লাঠি ঢুকিয়ে তা কাঁধে তুলে নিলেন। তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ্ পিতা! আপনার ও হুযায়ফা (রা)-র মধ্যে কি ঘটেছে? আবু কুররা (র) বলেন, সালমান (রা) পড়লেন, "মানুষ তাড়াহুড়া প্রবণ" (১৭ঃ ১১)। অতএব তারা রওয়ানা হয়ে সালমান (রা)-র বাড়িতে এসে পৌঁছলেন। সালমান (রা) ঘরে প্রবেশ করে 'আসসালামু আলাইকুম' বললেন। আবু কুররাকে অনুমতি দিলে তিনিও ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে একখানা মাদুর বিছানো ছিল। সালমান (রা) বলেন, আপনার দাসীর বিছানায় বসুন। সে নিজের জন্য তা পেতেছে। অতঃপর তিনি তার সাথে কথা শুরু করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (স) অসন্তুষ্ট অবস্থায় যা বিভিন্নজনকে বলতেন, হুযায়ফা (রা) তা লোকদের নিকট বর্ণনা করেন। এসব সম্পর্কে আমার নিকট এসে আমাকে জিজ্ঞেস করা হতো। আমি বলতাম, হুযায়ফা-ই তার কথা সম্পর্কে অধিক অবগত। লোকজনের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়া আমি অপছন্দ করতাম। লোকজন আবার হুযায়ফার কাছে গিয়ে বলতো, সালমান (রা) আপনার বক্তব্যকে সমর্থনও করেননি এবং মিথা প্রতিপন্নও করেননি। হুযায়ফা (রা) আমার নিকট এসে বলেন, হে সালমানের মায়ের পুত্র সালমান। আমিও বললাম, হে হুযায়ফার মায়ের পুত্র হুযায়ফা! তুমি বিরত হবে, অন্যথায় আমি উমারকে তোমার সম্পর্কে লিখে জানাবো। আমি তাকে উমারের ভয় প্রদর্শন করলে তিনি আমাকে ত্যাগ করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ "আমিও আদমেরই সন্তান। (হে আল্লাহ!) আমি আমার কোন উম্মাতকে অকারণে ভর্ৎসনা করলে বা গালি দিলে তুমি তা তার পক্ষে দোয়ারূপে গ্রহণ করো" (দা, আ)।
২৩৪ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ أَخْرُجُوا بِنَا الي قَوْمِنَا فَخَرَجْنَا فَكُنْتُ أَنَا وَأَبَيُّ ابْنُ كَعْبٍ فِي مُوَخَّرِ النَّاسِ فَهَاجَتْ سَحَابَةٌ فَقَالَ أَبَيُّ اللَّهُمَّ اصْرِفْ عَنَّا أَذَاهَا فَلَحِقْنَاهُمْ وَقَدْ ابْتَلَتْ رِجَالُهُمْ فَقَالُوا مَا أَصَابَكُمُ الَّذِي أَصَابَنَا قُلْتُ إِنَّهُ دَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُصْرِفَ عَنَّا آذَاهَا فَقَالَ عُمَرُ أَلا دَعَوْتُمْ لَنَا مَعَكُمْ.
২৩৪। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, উমার (রা) বললেন, তোমরা আমার সাথে চলো, আমাদের লোকজনের এলাকায় ঘুরে আসি। আমরা রওয়ানা হলাম। আমি ও উবাই ইবনে কাব (রা) ছিলাম সকলের পেছনে। আকাশে মেঘ উঠলে উবাই (রা) বলেন, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে এর কষ্ট দূর করো। পরে আমরা অন্যান্যদের সাথে গিয়ে মিলিত হলাম। তাদের হাওদাসমূহ ভিজে গিয়েছিল। তারা জিজ্ঞেস করলো, আমাদের উপর যা (বৃষ্টি) বর্ষিত হলো তা কি তোমাদের উপর হয়নি? আমি বললাম, ইনি (উবাই) মহামহিম আল্লাহর নিকট এর কষ্ট সরিয়ে নেয়ার জন্য দোয়া করেছিলেন। উমার (রা) বলেন, তোমাদের সাথে আমাদের জন্যও দোয়া করলে না কেন (তারীখ ইবনে আসাকির)।
📄 ভূ-সম্পত্তি দেখতে যাওয়া
۱۱۹ - بَابُ الْخُرُوجِ إِلَى الضَّيْعَةِ
২৩৫ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ أَتَيْتُ أَبَا سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ وَكَانَ لِي صَدِيقًا فَقُلْتُ أَلَا تَخْرُجُ بِنَا إِلَي النَّخْلِ فَخَرَجَ وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ لَهُ.
২৩৫। আবু সালামা (রা) বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী (রা)-র নিকট আসলাম। তিনি ছিলেন আমার বন্ধু। আমি বললাম, আপনি কি আমাদের সাথে খেজুর বাগানে বেড়াতে যাবেন না? অতএব তিনি তার কালো চাদর পরিহিত অবস্থায় রওয়ানা হলেন।
٢٣٦ - عَنْ أُمِّ مُوسَى قَالَتْ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ أَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ أَنْ يُصْعَدَ شَجَرَةً فَيَأْتِيهِ مِنْهَا بِشَيْءٍ فَنَظَرَ أَصْحَابُهُ إِلَي سَاقِ عَبْدِ اللَّهِ فَضَحِكُوا مِنْ حُمُوشَةِ سَاقَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا تَضْحَكُونَ لَرِجْلٍ عَبْدِ اللَّهِ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ مِنْ أَحد.
২৩৬। উম্মু মূসা (র) বলেন, আমি আলী (রা)-কে বলতে শুনেছি, নবী (স) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)-কে গাছে উঠে কিছু নিয়ে আসতে হুকুম দিলেন। তাঁর সাথীরা আবদুল্লাহ (রা)-র উরুর দিকে তাকিয়ে তার কৃশতার কারণে তারা হেসে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তোমরা কেন হাসছো? (পুণ্যের) পাল্লায় আবদুল্লাহর পা উহুদ পাহাড়ের তুলনায় অধিক ভারী হবে।