📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 শিশুকে কাঁধে উঠানো

📄 শিশুকে কাঁধে উঠানো


৪৬ - بَابُ حَمْلِ الصَّبِيُّ عَلَي الْعَاتِقِ
৮৫- عَنِ الْبَرَاءِ يَقُولُ رَأَيْتُ النَّبِيَّ للهِ وَالْحَسَنُ عَلَي عَاتِقِهِ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَاحِبُهُ .
৮৫। বারাআ (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে দেখেছি যে, হাসান তাঁর কাঁধের উপর আসীন অবস্থায় তিনি বলছেন : হে আল্লাহ! আমি একে ভালোবাসি। অতএব তুমিও একে ভালোবাস (বু, মু, তি, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সন্তান হলো নয়ন প্রীতিকর

📄 সন্তান হলো নয়ন প্রীতিকর


৪৭ - بَابُ الْوَلَدِ قُرَّةُ الْعَيْنِ
৮৬ - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَلَسْنَا إِلَى الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ يَوْمًا فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ فَقَالَ طُوبَي لِهَا تَيْنِ الْعَيْنَيْنِ اللَّتَيْنِ رَآنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَوَدِدْنَا أَنَّا رَأَيْنَا مَا رَأَيْتَ وَشَهِدْنَا مَا شَهِدْتَ فَاسْتَغْضَبَ فَجَعَلْتُ أَعْجَبُ مَا قَالَ أَلَا خَيْرًا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا يَحْمِلُ الرَّجُلَ عَلَى أَنْ يَتَمَنَّى مُحْضَرًا غَيْبَهُ اللَّهُ عَنْهُ لَا يَدْرِي لَوْ شَهِدَهُ كَيْفَ يَكُونُ فِيْهِ وَاللَّهِ لَقَدْ حَضَرَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَقْوَامٌ كَبَّهُمُ اللَّهُ عَلَي مَنَاخِرِهِمْ فِي جَهَنَّمَ لَمْ يَجِيبُوهُ وَلَمْ يُصَدِّقُوهُ أَوَلَا تَحْمَدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذْ أَخْرَجَكُمْ لَا تَعْرِفُونَ إِلَّا رَبَّكُمْ فَتُصَدِّقُونَ بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ ﷺ قَدْ كُفِيْتُمُ الْبَلَاءَ بِغَيْرِكُمْ وَاللَّهِ لَقَدْ بُعِثَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى أَشَدِّ حَالٍ بُعِثَ عَلَيْهَا نَبِيُّ قَطُّ فِي فَتْرَةٍ وَجَاهِلِيَّةٍ مَا يَرَوْنَ أَنَّ دِينًا أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ فَجَاءَ بِفُرْقَانِ فَرَّقَ بِهِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَفَرَّقَ به بَيْنَ الْوَالِد وَوَلَدِهِ حَتَّى إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَبَرِّي وَالِدَهُ أَوْ وَلَدَهُ أَوْ أَخَاهُ كَافِرًا قَدْ فَتَحَ اللَّهُ قُفْلَ قَلْبِهِ بِالْإِيْمَانِ وَيَعْلَمُ أَنَّهُ إِنْ هَلَكَ دَخَلَ النَّارَ فَلَا تُقِرُّ عَيْنُهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ حَبِيبَهُ فِي النَّارِ وَأَنَّهَا اللَّتِي قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنِ.
৮৬। জুবায়ের ইবনে নুফায়ের (র) বলেন, একদিন আমরা মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-র নিকট বসলাম। এক ব্যক্তি তাকে অতিক্রম করতে করতে বললো, ধন্য এই চক্ষুদ্বয়, যা রাসূলুল্লাহ (স)-কে দর্শন করেছে। আল্লাহর শপথ! আমরা কামনা করতাম আপনি যা দেখেছেন যদি আমরাও তা দেখতাম এবং আপনি যেখানে উপস্থিত ছিলেন, আমরাও যদি তথায় উপস্থিত থাকতাম। এতে মিকদাদ (রা) অসন্তুষ্ট হলেন। তাতে আমি অবাক হলাম যে, সে তো ভালো কথাই বলেছে। অতঃপর তিনি তার মুখোমুখি হয়ে বলেন, লোকটিকে এমন স্থানে উপস্থিতির আকাঙ্ক্ষা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো, যেখান থেকে আল্লাহ তাকে অনুপস্থিত রেখেছেন? কি জানি যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকতো তবে সে কি করতো। আল্লাহর শপথ! বহু লোক রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখেছে কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছেন। কারণ তারা তাঁর আহবানে সাড়া দেয়নি এবং তাঁকে বিশ্বাসও করেনি। তোমরা কি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে না যে, তিনি তোমাদের যখন সৃষ্টি করেছেন তখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালক ছাড়া আর কাউকে চেনো না। তোমাদের নবী (স) যা নিয়ে এসেছেন তাকে তোমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছো। আল্লাহর শপথ! নবী (স) আবির্ভূত হন কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, এরূপ কঠিন পরিস্থিতিতে আর কোন নবী আসেননি। নবী আসার পূর্বেকার সেই জাহিলিয়াতের দিনগুলিতে তারা প্রতিমা পূজার চেয়ে উত্তম কোন ধর্ম আছে বলে মনে করতো না। এই পরিস্থিতিতে তিনি ফুরকানসহ আবির্ভূত হন। তিনি তার দ্বারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করেন, পার্থক্য সূচিত করেন পিতা ও তার পুত্রের মধ্যে। শেষে অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, কোন ব্যক্তি তার পিতা বা পুত্র বা ভাইকে কাফের অবস্থায় দেখতো, অপরদিকে ঈমান আনার জন্য তার অন্তরের তালা আল্লাহ খুলে দিতেন, তখন সে ভাবতো, এই অবস্থায় তার আপনজন মারা গেলে নিশ্চয় সে দোযখে যাবে। এতে কারো চোখ জুড়াতো না। এই প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ বলেন, "এবং যারা বলে, আমাদের প্রভু! আমাদের স্ত্রীদের ও আমাদের সন্তানদের দ্বারা আমাদেরকে চোখের শীতলতা দান করো" (২৫ঃ ৭৪) (আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর ধন ও সন্তান বৃদ্ধির দোয়া করো

📄 যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর ধন ও সন্তান বৃদ্ধির দোয়া করো


৪৮ - بَابُ مَنْ دَعَا لصاحبه أَنْ أَكْثَرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ
۸۷ - عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ يَوْمًا وَمَا هُوَ إِلا أَنَا وَأُمِّي وَأُمُّ حَرَامٍ خَالَتِي اذْ دَخَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ مَا لَنَا ألا أَصَلَّى بِكُمْ وَذَلكَ في غَيْر وَقْت صَلَاةٍ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنَ الْقَوْمِ فَأَيْنَ جَعَلَ أَنَسًا مِّنْهُ فَقَالَ جَعَلَهُ عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ صَلِّي بِنَا ثُم دَعَا لَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ بِكُلِّ خَيْرٍ مِّنْ بِرِّ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَقَالَتْ أُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ خُوَيْدِمَكَ أَدْعُ اللَّهَ لَهُ فَدَعَا لِي بِكُلِّ خَيْرٍ كَانَ فِي آخِرِ دُعَائِهِ أَنْ قَالَ اللَّهُمَّ اكْثِرْ مَالَهُ وَ وَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ.
৮৭। আনাস (রা) বলেন, একদিন আমি নবী (স)-এর নিকট গেলাম। আমি, আমার মা ও খালা উম্মু হারাম (রা) ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তখন নবী (স) আমাদের নিকট এসে বলেনঃ আমি কি তোমাদের সাথে নামায পড়বো না? তখন কোন নামাযের ওয়াক্ত ছিলো না। লোকজনের মধ্যে একজন বললো, আনাসকে কোথায় দাঁড় করানো হয়েছিলো? রাবী বলেন, ডান দিকে। তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়লেন, অতঃপর আমাদের তথা ঘরের সকলের জন্য দোয়া করলেন দুনিয়া ও আখেরাতের সার্বিক কল্যাণের জন্য। আমার মা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার এই ক্ষুদে খাদেম, তার জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করুন। অতএব তিনি আমার সার্বিক কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন। তার দোয়ার শেষ ছিলঃ হে আল্লাহ! "তাকে অধিক ধন ও সন্তান দারন করুন এবং তাকে বরকত দান করুন" (বু, মু, তি)。

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মমতাময়ী মা

📄 মমতাময়ী মা


٤٩ - بَابُ الْوَالِدَات رَحِيْمَاتٌ
۸۸- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ جَاءَتْ امْرَأَةُ التي عَائِشَةَ فَأَعْطَتْهَا ثَلَاثَ تَمَرَاتِ فَأَعْطَتْ كُلَّ صَبِيٌّ لَهَا تَمَرَةً وَأَمْسَكَتْ لِنَفْسِهَا تَمَرَةً فَأَكَلَ الصَّبْيَانِ التَّمَرَتْينِ وَنَظَرَ إِلى أُمِّهِمَا فَعَمَدَتْ إِلَى التَّمَرَةِ فَشَقَّتْهَا فَاعْطَتْ كُلَّ صَبِيٌّ نِصْفَ تَمَرَةٍ فَجَاءَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ وَمَا يُعْجِبُكِ مِنْ ذُلِكَ لَقَدْ رَحِمَهَا اللَّهُ بِرَحْمَتِهَا صَبِبَيْهَا .
৮৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা আয়েশা (রা)-এর কাছে এলে তিনি তাকে তিনটি খেজুর দেন। সে তার ছেলে দু'টিকে একটি করে খেজুর দেয় এবং নিজের জন্য একটি রেখে দেয়। তারা খেজুর দু'টি খেয়ে তাদের মায়ের দিকে তাকালো এবং অবশিষ্ট খেজুরটি পেতে চাইলো। সে খেজুরটি দুই টুকরা করে প্রত্যেককে অর্ধেক অর্ধেক দিলো। নবী (স) ঘরে আসলে আয়েশা (রা) তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ এতে তোমার বিস্মিত হওয়ার কি আছে। সে তার ছেলে দুইটির প্রতি দয়াপরবশ হওয়ার কারণে আল্লাহ তার প্রতি দয়াপরবশ হয়েছেন (বু, মু.তি,ই)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00