📄 যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানদের মৃত্যু কামনা অপছন্দ করে
৪৪- বাবঃ যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানদের মৃত্যু কামনা অপছন্দ করে।
৮২- আন ইবনি উমারা আন্না রাজুলান কানা ইন্দাহু ওয়া লাহু বানাতুন ফাতামান্না মাওতাহুন্না ফাগাদ্বিবা ইবনু উমারা ওয়া কালা আন্তা তারযুকুহুন্না.
৬২। ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার সাথে থাকতো। তার কয়েকটি কন্যা সন্তান ছিল। সে তাদের মৃত্যু কামনা করলো। ইবনে উমার (রা) ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, তুমি কি তাদের রিযিক দাও?
📄 মানুষ সন্তানের কারণে কৃপণ ও কাপুরুষ হয়
৪৫ - بَابُ الْوَلَد مَبْخَلَةٌ مَجْبَنَةٌ
৮৩- عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ أَبُو بَكْرٍ يَوْمًا وَاللَّهِ مَا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ رَجُلٌ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عُمَرَ فَلَمَّا خَرَجَ رَجَعَ فَقَالَ كَيْفَ حَلَفْتُ أَي بُنَيَّةَ فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ أَعَزُّ عَلَيَّ وَالْوَلَدُ الْوَطُ .
৮৩। আয়েশা (রা) বলেন, একদিন আবু বাকর (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ! পৃথিবীর বুকে উমারের চেয়ে অধিক প্রিয় আমার কাছে আর কেউ নাই। তিনি চলে যাবার পর পুনরায় ফিরে এসে বলেন, হে বৎস! আমি কিভাবে শপথ করেছি? আমি তাকে তা বললাম। তিনি বলেন, (উমার) আমার নিকট অধিক প্রিয়। আর সন্তান তো অন্তরের সাথে লেগে থাকে (তারীখ ইবনে আসাকির)।
٨٤ - عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ قَالَ كُنْتُ شَاهِدًا ابْنَ عُمَرَ إِذْ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ دَمِ الْبَعُوضَةِ فَقَالَ مِمَّنْ أَنْتَ فَقَالَ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ أَنْظُرُوا إِلى هَذَا يَسْأَلُنِي عَنْ دَمِ الْبَعُوضَةِ وَقَدْ قَتَلُوا ابْنَ النَّبِيِّ اللهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ هُمَا رَيْحَانَيَّ مِنَ الدُّنْيَا .
৮৪। ইবনে আবু নু'ম (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রা)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বলেন, তুমি কোথাকার লোক? সে বললো, ইরাকের। তিনি বলেন, দেখো তাকে! সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। অথচ এরা নবী (স)-এর নাতিকে হত্যা করেছে। আমি নবী (স)-কে বলতে শুনেছিঃ এরা দু'জন পৃথিবীতে আমার দু'টি ফুল (তি, আ, হা)।
📄 শিশুকে কাঁধে উঠানো
৪৬ - بَابُ حَمْلِ الصَّبِيُّ عَلَي الْعَاتِقِ
৮৫- عَنِ الْبَرَاءِ يَقُولُ رَأَيْتُ النَّبِيَّ للهِ وَالْحَسَنُ عَلَي عَاتِقِهِ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَاحِبُهُ .
৮৫। বারাআ (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে দেখেছি যে, হাসান তাঁর কাঁধের উপর আসীন অবস্থায় তিনি বলছেন : হে আল্লাহ! আমি একে ভালোবাসি। অতএব তুমিও একে ভালোবাস (বু, মু, তি, না)।
📄 সন্তান হলো নয়ন প্রীতিকর
৪৭ - بَابُ الْوَلَدِ قُرَّةُ الْعَيْنِ
৮৬ - حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَلَسْنَا إِلَى الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ يَوْمًا فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ فَقَالَ طُوبَي لِهَا تَيْنِ الْعَيْنَيْنِ اللَّتَيْنِ رَآنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَوَدِدْنَا أَنَّا رَأَيْنَا مَا رَأَيْتَ وَشَهِدْنَا مَا شَهِدْتَ فَاسْتَغْضَبَ فَجَعَلْتُ أَعْجَبُ مَا قَالَ أَلَا خَيْرًا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا يَحْمِلُ الرَّجُلَ عَلَى أَنْ يَتَمَنَّى مُحْضَرًا غَيْبَهُ اللَّهُ عَنْهُ لَا يَدْرِي لَوْ شَهِدَهُ كَيْفَ يَكُونُ فِيْهِ وَاللَّهِ لَقَدْ حَضَرَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَقْوَامٌ كَبَّهُمُ اللَّهُ عَلَي مَنَاخِرِهِمْ فِي جَهَنَّمَ لَمْ يَجِيبُوهُ وَلَمْ يُصَدِّقُوهُ أَوَلَا تَحْمَدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذْ أَخْرَجَكُمْ لَا تَعْرِفُونَ إِلَّا رَبَّكُمْ فَتُصَدِّقُونَ بِمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّكُمْ ﷺ قَدْ كُفِيْتُمُ الْبَلَاءَ بِغَيْرِكُمْ وَاللَّهِ لَقَدْ بُعِثَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى أَشَدِّ حَالٍ بُعِثَ عَلَيْهَا نَبِيُّ قَطُّ فِي فَتْرَةٍ وَجَاهِلِيَّةٍ مَا يَرَوْنَ أَنَّ دِينًا أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ فَجَاءَ بِفُرْقَانِ فَرَّقَ بِهِ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَفَرَّقَ به بَيْنَ الْوَالِد وَوَلَدِهِ حَتَّى إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَبَرِّي وَالِدَهُ أَوْ وَلَدَهُ أَوْ أَخَاهُ كَافِرًا قَدْ فَتَحَ اللَّهُ قُفْلَ قَلْبِهِ بِالْإِيْمَانِ وَيَعْلَمُ أَنَّهُ إِنْ هَلَكَ دَخَلَ النَّارَ فَلَا تُقِرُّ عَيْنُهُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ حَبِيبَهُ فِي النَّارِ وَأَنَّهَا اللَّتِي قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنِ.
৮৬। জুবায়ের ইবনে নুফায়ের (র) বলেন, একদিন আমরা মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা)-র নিকট বসলাম। এক ব্যক্তি তাকে অতিক্রম করতে করতে বললো, ধন্য এই চক্ষুদ্বয়, যা রাসূলুল্লাহ (স)-কে দর্শন করেছে। আল্লাহর শপথ! আমরা কামনা করতাম আপনি যা দেখেছেন যদি আমরাও তা দেখতাম এবং আপনি যেখানে উপস্থিত ছিলেন, আমরাও যদি তথায় উপস্থিত থাকতাম। এতে মিকদাদ (রা) অসন্তুষ্ট হলেন। তাতে আমি অবাক হলাম যে, সে তো ভালো কথাই বলেছে। অতঃপর তিনি তার মুখোমুখি হয়ে বলেন, লোকটিকে এমন স্থানে উপস্থিতির আকাঙ্ক্ষা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো, যেখান থেকে আল্লাহ তাকে অনুপস্থিত রেখেছেন? কি জানি যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকতো তবে সে কি করতো। আল্লাহর শপথ! বহু লোক রাসূলুল্লাহ (স)-কে দেখেছে কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছেন। কারণ তারা তাঁর আহবানে সাড়া দেয়নি এবং তাঁকে বিশ্বাসও করেনি। তোমরা কি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে না যে, তিনি তোমাদের যখন সৃষ্টি করেছেন তখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালক ছাড়া আর কাউকে চেনো না। তোমাদের নবী (স) যা নিয়ে এসেছেন তাকে তোমরা সত্য বলে মেনে নিয়েছো। আল্লাহর শপথ! নবী (স) আবির্ভূত হন কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, এরূপ কঠিন পরিস্থিতিতে আর কোন নবী আসেননি। নবী আসার পূর্বেকার সেই জাহিলিয়াতের দিনগুলিতে তারা প্রতিমা পূজার চেয়ে উত্তম কোন ধর্ম আছে বলে মনে করতো না। এই পরিস্থিতিতে তিনি ফুরকানসহ আবির্ভূত হন। তিনি তার দ্বারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করেন, পার্থক্য সূচিত করেন পিতা ও তার পুত্রের মধ্যে। শেষে অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, কোন ব্যক্তি তার পিতা বা পুত্র বা ভাইকে কাফের অবস্থায় দেখতো, অপরদিকে ঈমান আনার জন্য তার অন্তরের তালা আল্লাহ খুলে দিতেন, তখন সে ভাবতো, এই অবস্থায় তার আপনজন মারা গেলে নিশ্চয় সে দোযখে যাবে। এতে কারো চোখ জুড়াতো না। এই প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ বলেন, "এবং যারা বলে, আমাদের প্রভু! আমাদের স্ত্রীদের ও আমাদের সন্তানদের দ্বারা আমাদেরকে চোখের শীতলতা দান করো" (২৫ঃ ৭৪) (আ)।