📄 আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা বাধ্যতামূলক
২৫- বَابُ وُجُوبِ وَصَلَةِ الرَّحِمِ
৪৭ - حَدَّثَنَا كُلَيْبُ بْنُ مَنْفَعَةَ قَالَ قَالَ جَدِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ قَالَ أُمِّكَ وَأَبَاكَ واخْتَكَ وَأَخَاكَ وَمَوْلَاكَ الَّذِي يَلِي ذَاكَ حَقٌّ وَاجِبٌ وَرَحِمٌ مَوْصُولَةٌ.
৪৭। কুলাইব ইবনে মানফায়া (র) বলেন, আমার দাদা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সদাচরণ প্রাপ্তির ব্যাপারে কে অগ্রগণ্য? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা-মাতা, তোমার ভাইবোন এবং এতদসংশ্লিষ্ট তোমার গোলাম, এদের অধিকার পূর্ণ করা ওয়াজিব এবং আত্মীয়-সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখবে (মু,দা,তি)।
٤٨ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَانْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَنَادِي يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُوَيِّ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِّنَ النَّارِ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافِ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي هَاشِمِ انْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ انْقِذِي أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَابُلُهَا بِبِلالِهَا .
৪৮। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ "তোমার নিকটতম আত্মীয়দের সতর্ক করো" (২৬ঃ ২১৪), তখন নবী (স) দাঁড়ালেন এবং ডেকে বলেনঃ হে বনু কাব ইবনে লুয়াই! নিজেদেরকে আগুন (দোযখ) থেকে রক্ষা করো। হে বনু আবদে মানাফ! নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। হে হাশেম বংশীয়গণ! নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ! নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। হে মুহাম্মদ কন্যা ফাতেমা! নিজেদেরকে আগুন থেকে রক্ষা করো। অন্যথায় তোমাকে আল্লাহ্ বিচার থেকে রক্ষা করার সামর্থ্য আমার নাই। কেবল আমার সাথে তোমাদের রক্তের বন্ধন, তা আমি সজীব রাখবো (বু,মু,না,তি,দা,হি)।
📄 আত্মীয়তার বন্ধন
٢٦ - بَابُ صِلَةِ الرَّحِمِ
٤٩ - عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِى أَنْ أَعْرَابِيًّا عَرَضَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فِي مَسِيرَةٍ فَقَالَ أَخْبِرْنِي مَا يُقَرِّبَنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ قَالَ تَعْبُدِ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَوٰةَ وَتَصْلُ الرَّحِمَ .
৪৯। আবু আইউব আনসারী (রা) বলেন, এক বেদুইন নবী (স)-এর এক সফরে তার সাথে সাক্ষাত করে বললো, যা আমাকে বেহেশতের নিকটবর্তী এবং দোযখের দূরবর্তী করবে তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন : তুমি আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কিছু শরীক করো না, নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুন্ন রাখো (বু,মু,না)।
٥٠ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ خَلَقَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْخَلْقَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهُ . قَامَتِ الرَّحِمُ فَقَالَ مَنْ قَالَتْ هذا مَقَامُ الْعَائِذِ بكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ قَالَ أَلَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكَ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكَ قَالَتْ بَلَى يَا رَبِّ قَالَ فَذَلِكَ لَكَ ثُمَّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ .
৫০। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: যখন মহামহিম আল্লাহ যাবতীয় মাখলুকের সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন তখন “রেহেম” (আত্মীয়তার বন্ধন) উঠে দাঁড়ালো। তিনি বলেন, কি ব্যাপার! সে বললো, এ হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। তিনি বলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমাকে যুক্ত রাখবে আমিও তাকে যুক্ত রাখবো এবং যে তোমাকে ছিন্ন করবে আমিও তাকে ছিন্ন করবো? রেহেম বললো, হে প্রভু! তিনি বলেন, এটাই তোমার প্রাপ্য। অতঃপর আবু হুরায়রা (রা) বলেন, তোমরা চাইলে পড়তে পারো : "তোমরা আধিপত্য লাভ করলে হয়তো পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে" (৪৭:২২)।
٥١ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَاتِ ذَا الْقُرْنِي حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ الْآيَةُ قَالَ بَدَا فَأَمَرَهُ بِأَوْجَب الحُقُوقِ وَدَلَّهُ عَلَى أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ اذَا كَانَ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَقَالَ وَات ذَا الْقُرْنِي حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَعَلَّمَهُ إِذَا لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ شَيْءٌ كَيْفَ يَقُولُ فَقَالَ وَأَمَّا تُعْرِضَنْ عَنْهُمُ ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ تَرْجُوْهَا فَقُلْ لَهُمْ قَوْلًا مُبْسُورًا عِدَةً حَسَنَةٌ كَأَنَّهُ قَدْ كَانَ وَلَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ إِنْ شَاءَ اللهُ وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ لَا تُعْطِي شَيْئًا وَلَا تَبْسُطُهَا كُلَّ الْبَسْطِ تُعْطِي مَا عِنْدَكَ فَتَقْعُدَ مَلُوْمًا يَلُوْمُكَ مَنْ يَأْتِيْكَ بَعْدُ وَلَا يَجِدُ عِنْدَكَ شَيْئًا مُحْسُورًا قَالَ قَدْ حَسَرَكَ مَنْ قَدْ أَعْطَيْتَهُ.
৫১। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ "আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও" (১৭: ২৬)। যদি কারো কিছু অর্থ-সম্পদ থাকে, তবে প্রথমেই তার সর্বোত্তম কর্তব্য কি তা আল্লাহ বলে দিলেন। "নিকটাত্মীয়দেরকে তাদের প্রাপ্য প্রদান করো এবং দরিদ্র ও পথিকজনকেও” (১৭: ২৬)। যদি তার কাছে কিছু না থাকে তবে সে কি করবে তা তিনি এভাবে শিক্ষা দিলেনঃ "তুমি তোমার প্রভুর কাঙ্খিত রহমাতের আশায় থাকাকালে তাদেরকে বঞ্চিত করতে হলে, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো" (১৭:২৮)। অর্থাৎ উত্তম প্রতিশ্রুতি দাও, যেন তা নিশ্চিত এবং আল্লাহ্ মর্জি তা অচিরেই হয়ে যাবে। "এবং তুমি ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না" (১৭: ২৯) অর্থাৎ দান করা থেকে তুমি একেবারে বিরত থেকো না। "এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না" (১৭: ২৯) অর্থাৎ যা আছে তা সবই দান করো না, "তাহলে তুমি তিরস্কৃত হবে" (১৭: ২৯) অর্থাৎ পরে যারা আসবে তারা যেন তোমাদেরকে রিক্তহস্ত দেখে তিরস্কার না করে। এবং "রিক্তহস্ত" (১৭: ২৯) অর্থাৎ যা দান করেছো তার জন্য পরে যেন আক্ষেপ করতে না হয় (তারীখুল কবীর)।
📄 আত্মীয় সম্পর্ক অটুট রাখার ফযীলাত
২৭- অনুচ্ছেদ: আত্মীয় সম্পর্ক অটুট রাখার ফযীলাত।
٥٢ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ آتِي رَجُلُ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي قِرَابَةٌ أَصِلُهُمْ وَيَقْطَعُونَ وَأُحْسِنُ إِلَيْهِمْ وَيَسِيئُونَ إِلَيَّ وَيَجْهَلُونَ عَلَيَّ وَأَحْلُمُ عَنْهُمْ قَالَ لَئِنْ كَانَ كَمَا تَقُولُ كَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَي ذَلِكَ.
৫২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, কিন্তু তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে, কিন্তু আমি তা সহ্য করি। তিনি বলেনঃ যদি তোমার বক্তব্য সঠিক হয়, তবে তুমি যেন তাদের মুখে উত্তপ্ত ছাই পুরে দিচ্ছো। তোমার কারণে তাদের দুর্ভোগ আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সাথে থাকবেন (মু, আ, হি, আন)।
٥٣ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا الرَّحْمَنُ وَأَنَا خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَاشْتَقَقْتُ لَهَا مِنْ اسْمِي فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُهُ .
৫৩। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছেন: মহামহিম আল্লাহ বলেন, আমার নাম রহমান, দয়াময়। আমি রেহেম (জরায়ু, আত্মীয় সম্পর্ক)-কে সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে তার নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে তাকে যুক্ত রাখবে আমিও তাকে আমার সাথে যুক্ত রাখবো এবং যে তাকে ছিন্ন করবে আমিও তাকে আমার থেকে ছিন্ন করবো (দা,তি,আ,হা)।
٥٤ - عَنْ أَبِي الْعَنْبَسِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرُو فِي الْوَهْطِ يَعْنِي أَرْضًا لَهُ بِالطَّائِفِ فَقَالَ عَطَفَ لَنَا النَّبِيُّ ﷺ اصْبَعَهُ فَقَالَ الرَّحِمُ شُجْنَةٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ مَنْ يُصِلُهَا يَصِلُهُ وَمَنْ يُقْطَعُهَا يَقْطَعُهُ لَهَا لِسَانٌ طَلْقٌ ذَلَقٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
৫৪। আবুল আনবাস (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা)-র সাথে তায়েফে তার খামার বাড়ি ওয়াহ্-এ গেলাম। তখন তিনি বলেন, নবী (স) তাঁর আঙ্গুলসমূহ একত্র করলেন এবং বললেনঃ রেহেম হলো রহমানের অংশ। যে তাকে যুক্ত রাখবে, আল্লাহও তাকে যুক্ত রাখবেন এবং যে তাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহও তাকে ছিন্ন করবেন। কিয়ামতের দিন তা সাবলীল বাগ্মীভাষী হবে (তি, হা)।
٥٥ - عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ الرَّحِمُ شِجْنَةٌ مِّنَ اللَّهِ مَنْ وَصَلَهَا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَهَا قَطْعَهُ اللهُ .
৫৫। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: রেহেম হলো আল্লাহ্হর একটি শাখা। যে তাকে যুক্ত রাখবে, আল্লাহও তাকে যুক্ত রাখবেন এবং যে তাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহঃ তাকে ছিন্ন করবেন (বু, মু, তি, আ)।
📄 আত্মীয়-সম্পর্ক বজায় রাখলে হায়াত বাড়ে
২৮- চনুচ্ছেদ : আত্মীয়-সম্পর্ক বজায় রাখলে হায়াত বাড়ে।
٥٦ - أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَحَبُّ أَنْ يَبْسُطُ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَأَنْ يُنْسَا لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ.
৫৬। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি চায় যে, তার জীবিকা প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখে।
٥٧ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسُطُ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَأَنْ يُنْسَا لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ .
৫৭। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তার জীবিকা প্রশস্ত এবং আয়ু বৃদ্ধি হওয়ার দ্বারা আনন্দিত হতে চায়, সে যেন তার আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখে।