📄 পিতা-মাতার কান্না
٣١ - عَنْ طَيْسَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بُكَاءُ الْوَالِدَيْنِ مِنَ الْعُقُوقِ وَالْكَبَائِرِ.
৩১। তায়সালা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনে উমার (রা)-কে বলতে শুনেছেনঃ পিতা-মাতাকে কাঁদানো এবং তাদের অবাধ্যাচরণ কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত (৮ নং হাদীসের বরাত)।
📄 পিতা-মাতার দোয়া
٣٢ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ الله ثَلاثُ دَعْوَاتِ مُسْتَجَابَاتٍ لَهُنَّ لَا شَكٍّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ المَظْلُومِ وَدَعْوَةُ المُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدَيْنِ عَلَي وَلَدهما .
৩২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তিনটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, এতে কোন সন্দেহ নাই। (১) মযলুম বা নির্যাতিতের দোয়া, (২) মুসাফিরের দোয়া এবং (৩) সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া (দা,তি,ই)।
٣٣ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَا تَكَلَّمَ مَوْلُودٌ مِّنَ النَّاسِ فِي مَهْدِ إِلَّا عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ قِيلَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ وَمَا صَاحِبُ جُرَيْجٍ قَالَ فَإِنَّ جُرَيْجًا كَانَ رَجُلاً رَاهِبًا فِي صَوْمَعَةٍ لَهُ وَكَانَ رَاعِي بَقَرٍ يَأْوِي إِلَي أَسْفَلِ صَوْمَعَتِهِ وَكَانَتْ امْرَأَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْقَرْيَةِ تَخْتَلِفُ الي الرَّاعِي فَأَتَتْ أُمُّهُ يَوْمًا فَقَالَتْ يَا جُرَيْجُ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَ فِي نَفْسِهِ وَهُوَ يُصَلِّي أَمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّانِيَةَ فَقَالَ فِي نَفْسِهِ أُمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ أُمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ فَلَمَّا لَمْ يُجِبْهَا قَالَتْ لَا أَمَاتَكَ اللَّهُ يَا جُرَيْجُ حَتَّى تَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمُؤْمِسَاتِ ثُمَّ انْصَرَفَتْ فَأُتِيَ الْمَلِكُ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ وَلَدَتْ فَقَالَ مِمَّنْ قَالَتْ مِنْ جُرَيْجٍ قَالَ أَصَاحِبُ الصَّوْمَعَةِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ اهْدِمُوا صَوْمَعَتَهُ وَاتُونِي بِهِ فَضَرَبُوا صَوْمَعَتَهُ بِالْفُؤُوسِ حَتَّى وَقَعَتْ فَجَعَلُوا يَدَهُ إِلى عُنُقِهِ بِحَبْلٍ ثُمَّ انْطَلِقَ بِهِ فَمَرَّ بِهِ عَلَي الْمُؤْمِسَاتِ فَرَاهُنَّ فَتَبَسَّمَ وَهُنَّ يَنْظُرْنَ إِلَيْهِ فِي النَّاسِ فَقَالَ الْمَلِكُ مَا تَزْعُمُ هُذِهِ قَالَ مَا تَزْعُمُ قَالَ تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا مِنْكَ قَالَ أَنْتِ تَزْعَمِيْنَ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ ابْنَ هَذَا الصَّغِيرُ قَالُوا هُوَ ذَا فِي حِجْرِهَا فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ أَبُوكَ قَالَ رَاعِي الْبَقَرِ قَالَ الْمَلِكُ أَنَجْعَلُ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ لَا قَالَ مِنْ فِضَّةٍ قَالَ لَا قَالَ فَمَا نَجْعَلُهَا قَالَ رُدُّوهَا كَمَا كَانَتْ قَالَ فَمَا الَّذِي تَبَسُمْتَ قَالَ أَمْرًا عَرَفْتُهُ ادْرَكَتْنِي دَعْوَةُ أُمِّي ثُمَّ أَخْبَرَهُمْ.
৩৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) এবং জুরাইজ সংশ্লিষ্ট শিশু ব্যতীত আর কোন মানব-সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ামাত্র দোলনায় কথা বলেনি। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জুরাইজ কে? তিনি বলেনঃ জুরাইজ ছিলেন একজন উপাসনালয়বাসী সংসারত্যাগী দরবেশ। তার উপাসনালয়ের প্রান্তেই এক রাখাল বাস কারতো। গ্রাম্য এক নারী সেই রাখালের কাছে যাতায়াত করতো। একদিন জুরাইজের মা তার নিকট এসে বলেন, হে জুরাইজ! তিনি তখন নামাযরত ছিলেন। তিনি নামাযরত অবস্থায় মনে মনে বলেন, আমার মা এবং আমার নামায। তিনি তার নামাযকে অগ্রাধিকার দিলেন। দ্বিতীয়বার তার মা জোরে ডাক দিলে তিনি মনে মনে বলেন, আমার মা ও আমার নামায। তিনি মায়ের উপর নামাযকে অগ্রাধিকার দিলেন। তৃতীয়বার চীৎকার দিয়ে তার মা তাকে ডাকলে তিনি বলেন, আমার মা ও আমার নামায। তিনি নামাযকে অগ্রাধিকার দেয়াই সমীচীন ভাবলেন। জুরাইজ তার ডাকে সাড়া না দিলে তিনি তাকে অভিশাপ দিলেনঃ "তোকে পতিতা নারীদের মুখ না দেখিয়ে যেন আল্লাহ তোর মৃত্যু না ঘটান"। অতঃপর তার মা চলে গেলেন। ঘটনাক্রমে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু সন্তানসহ সেই নারীকে রাজ-দরবারে উপস্থিত করা হলো। রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, কার ঔরসে এ শিশুর জন্ম? সে বললো, জুরাইজের ঔরসে। রাজা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, উপাসনালয়বাসী জুরাইজ? সে বললো, হাঁ। রাজা নির্দেশ দিলেন, উপাসনালয়টি ভেঙ্গে দাও এবং তাকে আমার নিকট হাযির করো। তারা কুঠারাঘাতে তার উপাসনালয়টি ভূপাতিত করলো এবং তার দুই হাত রশি দিয়ে তার ঘাড়ের সাথে বেঁধে তাকে নিয়ে রাজ-দরবারে চললো। পথে পতিতা নারীরা সামনে পড়লো, তিনি তাদের দেখে মৃদু হাসলেন। তারাও তাকে লোকজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখলো। রাজা তাকে বলেন, সে কি ধারণা করে? জুরাইজ বলেন, সে কী ধারণা করে? রাজা বলেন, তার দাবি এই যে, এ শিশু আপনার ঔরসজাত। জুরাইজ পতিতাকে বলেন, সত্যিই কি তোমার এই ধারণা? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন, কোথায় সেই শিশু? তারা বললো, ঐ যে তার মায়ের কোলে। তিনি তার সামনে গেলেন এবং বললেন, কে তোমার পিতা? শিশুটি বললো, গরুর রাখাল। এবার রাজা বলেন, আমরা কি আপনার খানকাহ সোনা দ্বারা নির্মাণ করে দিবো? তিনি বলেন, না। রাজা পুনর্বার বলেন, তবে রূপা দ্বারা? তিনি বলেন, না। রাজা বলেন, তবে আমরা সেটিকে কি করবো? তিনি বলেন, রুদুহা কামা কানাত। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, তবে আপনার মৃদু হাসির কারণ কি? তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা যা আমার জানা ছিল। আমার মায়ের অভিশাপই আমাকে স্পর্শ করেছে। অতঃপর তিনি সকল ঘটনা তাদেরকে অবহিত করেন (বু,মু)।
📄 খৃস্টান ধর্মাবলম্বী মাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেয়া
٣٤ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ مَا سَمِعَ بِي أَحَدٌ يَهُودِي وَلَا نَصْرَانِيُّ إِلَّا أَحَبَّنِي إِنْ أُمِّي كُنْتُ أُرِيدُهَا عَلَى الْإِسْلَامِ فَتَابِي فَقُلْتُ لَهَا فَابَتْ فَآتَيْتُ النَّبِيِّ ﷺ فَقُلْتُ أَدْعُ اللَّهَ لَهَا فَدَعَا فَأَتَيْتُهَا وَقَدْ أَجَافَتْ عَلَيْهَا الْبَابَ فَقَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَسْلَمْتُ فَأَخْبَرْتُ النَّبِيُّ فَقُلْتُ أَدْعُ اللهَ لِي وَلأُمِّي فَقَالَ اللَّهُمَّ عَبْدُكَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأُمُّهُ أَحِبُّهُمَا إِلَي النَّاسِ.
৩৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমার পরিচিত যে কোন ইহুদী বা খৃষ্টান আমাকে ভালোবাসে। আমি চাইতাম যে, আমার মা ইসলাম গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি তাতে রাজী হতেন না। আমি তাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলাম কিন্তু তিনি তাতে রাজী হননি। আমি নবী (স)-এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনি তার জন্য দোয়া করুন। তিনি দোয়া করলেন। আমি তার নিকট গিয়ে দেখি, তিনি ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে আছেন। তিনি বলেন, হে আবু হুরায়রা! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমি নবী (স)-কে তা অবগত করে বললাম, আমার জন্য এবং আমার মায়ের জন্য দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ "হে আল্লাহ! তোমার বান্দা আবু হুরায়রা এবং তার মা, তাদের উভয়কে জনপ্রিয় করো” (মু,আ)।
📄 মৃত পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার
٣٥- عَنْ أَبِي أُسَيْدِ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ بَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَيْ شَيْئً بَعْدَ مَوْتِهِمَا أَبَرُّهُمَا قَالَ نَعَمْ خِصَالٌ أَرْبَعُ الدُّعَاءُ لَهُمَا وَالْاسْتِغْفَارُ لَهُمَا وَإِنْفَاذُ عَهْدِهِمَا وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لَا رَحِمَ لَكَ إِلَّا مِنْ قَبْلِهِمَا .
৩৫। আবু উসাইদ (রা) বলেন, আমরা নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার কোন অবকাশ আছে কি? তিনি বলেনঃ হাঁ, চারটি উপায় আছে। (১) তাদের জন্য দোয়া করা, (২) তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, (৩) তাদের প্রতিশ্রুতিসমূহ পূর্ণ করা এবং (৪) তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করা, যারা তাদের মাধ্যমে তোমার আত্মীয় (দা,ই, হা, হি)।
٣٦- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ تُرْفَعُ لِلْمَيِّتِ بَعْدَ مَوْتِهِ دَرَجَتُهُ فَيَقُولُ أَي رَبِّ أَيُّ شَيْءٍ هُذِهِ فَيُقَالُ وَلَدَكَ اسْتَغْفَرَ لَكَ.
৩৬। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে, হে প্রভু! এটা কি জিনিস? তাকে বলা হয়, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে (ই,মা)।
۳۷- عَنْ غَالِبٍ قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ لَيْلَةً فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ وَلِأُمِّي وَلِمَنِ اسْتَغْفَرَ لَهُمَا قَالَ مُحَمَّدٌ فَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُ لَهُمْ حَتَّي نَدْخُلَ فِي دَعْوَةٍ أَبِي هُرَيْرَةَ.
৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (র) বলেন, এক রাতে আমরা আবু হুরায়রা (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, "হে আল্লাহ! আবু হুরায়রাকে, আমার মাকে এবং তাদের দু'জনের জন্য যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাদের সকলকে তুমি ক্ষমা করো"। মুহাম্মাদ (R) বলেন, আমরা তার দোয়ায় শামিল হওয়ার আশায় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।
٣٨- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا مَاتَ الْعَبْدُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَ صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ أَوْ عِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ.
৩৮। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ বান্দা মারা যাবার সাথে সাথে তার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি কাজ ব্যতীত। (১) সদকায়ে জারিয়া, (২) উপকারী জ্ঞান এবং (৩) সুসন্তান যে তার জন্য দোয়া করে (মু, দা, তি, না)।
٣٩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَلَمْ تُوْصُ أَفَيَنْفَعُهَا إِنْ أَتَصَدِّقُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ.
৩৯। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা মারা গেছেন। তিনি কোনরূপ ওসিয়াত করে যাননি। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করি তবে তাতে তার কোন উপকার হবে কি? তিনি বলেনঃ হাঁ (বু, দা, তি, না)।