📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কেউ যেন নিজ পিতা-মাতাকে গালি না দেয়

📄 কেউ যেন নিজ পিতা-মাতাকে গালি না দেয়


২৭ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتِمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ فَقَالُوا كَيْفَ يَسْتِمُ قَالَ يَشْتِمُ الرَّجُلُ فَيَشْتِمُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ.
২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের একটি হলো নিজ পিতা-মাতাকে গালি দেয়া। সাহাবীগণ বলেন, কেউ কি নিজ পিতা-মাতাকে গালি দিতে পারে! তিনি বলেনঃ সে অন্যের পিতা-মাতাকে গালি দিবে, প্রতিশোধ স্বরূপ ঐ ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে গালি দিবে (বু, মু, দা, তি)।
۲۸ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ مِنَ الْكَبَائِرِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَي أَنْ يُسْتَسِبُ الرَّجُلُ لِوَالِدَهُ.
৯২৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বলেন, পিতা-মাতাকে গালি শুনানো আল্লাহ্র নিকট একটি কবীরা গুনাহ (বু, মু, দা, তি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার শাস্তি

📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার শাস্তি


٢٩ - عَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ مَعَ مَا يُدْخَرُ لَهُ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ.
২৯। আবু বাকরা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার অপরাধের শাস্তি অন্যান্য পাপের চেয়ে দ্রুত অপরাধীর উপর কার্যকর হয়। পরকালের শাস্তি তো আছেই (দা, তি, ই, আ, হা, হি)।
٣٠ - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا تَقُولُونَ فِي الزَّنَا وَشُرْبِ الْخَمْرِ وَالسَّرِقَةِ قُلْنَا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هُنَّ الْفَوَاحِشَ وَفِيهِنَّ الْعُقُوبَةُ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِاكْبَرِ الكبائر الشرك بالله عَزَّ وَجَلٌ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَكَانَ مُتَّكِنًا فَاحْتَفَزَ قَالَ وَالزُّوْرُ.
৩০। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা ব্যভিচার, মদ্যপান ও চুরি সম্পর্কে কি বলো? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ এগুলি জঘন্য পাপাচার এবং এগুলির জন্য ভীষণ শাস্তি অবধারিত আছে। আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে মারাত্মক কবীরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না? মহান আল্লাহ্র সাথে শীরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচারী হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যাচার (বা,তা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার কান্না

📄 পিতা-মাতার কান্না


٣١ - عَنْ طَيْسَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بُكَاءُ الْوَالِدَيْنِ مِنَ الْعُقُوقِ وَالْكَبَائِرِ.
৩১। তায়সালা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনে উমার (রা)-কে বলতে শুনেছেনঃ পিতা-মাতাকে কাঁদানো এবং তাদের অবাধ্যাচরণ কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত (৮ নং হাদীসের বরাত)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার দোয়া

📄 পিতা-মাতার দোয়া


٣٢ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ الله ثَلاثُ دَعْوَاتِ مُسْتَجَابَاتٍ لَهُنَّ لَا شَكٍّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ المَظْلُومِ وَدَعْوَةُ المُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدَيْنِ عَلَي وَلَدهما .
৩২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তিনটি দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, এতে কোন সন্দেহ নাই। (১) মযলুম বা নির্যাতিতের দোয়া, (২) মুসাফিরের দোয়া এবং (৩) সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া (দা,তি,ই)।
٣٣ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَا تَكَلَّمَ مَوْلُودٌ مِّنَ النَّاسِ فِي مَهْدِ إِلَّا عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ قِيلَ يَا نَبِيُّ اللَّهِ وَمَا صَاحِبُ جُرَيْجٍ قَالَ فَإِنَّ جُرَيْجًا كَانَ رَجُلاً رَاهِبًا فِي صَوْمَعَةٍ لَهُ وَكَانَ رَاعِي بَقَرٍ يَأْوِي إِلَي أَسْفَلِ صَوْمَعَتِهِ وَكَانَتْ امْرَأَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْقَرْيَةِ تَخْتَلِفُ الي الرَّاعِي فَأَتَتْ أُمُّهُ يَوْمًا فَقَالَتْ يَا جُرَيْجُ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَ فِي نَفْسِهِ وَهُوَ يُصَلِّي أَمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّانِيَةَ فَقَالَ فِي نَفْسِهِ أُمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ ثُمَّ صَرَخَتْ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ أُمِّي وَصَلَاتِي فَرَأَي أَنْ يُؤْثِرَ صَلَاتَهُ فَلَمَّا لَمْ يُجِبْهَا قَالَتْ لَا أَمَاتَكَ اللَّهُ يَا جُرَيْجُ حَتَّى تَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمُؤْمِسَاتِ ثُمَّ انْصَرَفَتْ فَأُتِيَ الْمَلِكُ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ وَلَدَتْ فَقَالَ مِمَّنْ قَالَتْ مِنْ جُرَيْجٍ قَالَ أَصَاحِبُ الصَّوْمَعَةِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ اهْدِمُوا صَوْمَعَتَهُ وَاتُونِي بِهِ فَضَرَبُوا صَوْمَعَتَهُ بِالْفُؤُوسِ حَتَّى وَقَعَتْ فَجَعَلُوا يَدَهُ إِلى عُنُقِهِ بِحَبْلٍ ثُمَّ انْطَلِقَ بِهِ فَمَرَّ بِهِ عَلَي الْمُؤْمِسَاتِ فَرَاهُنَّ فَتَبَسَّمَ وَهُنَّ يَنْظُرْنَ إِلَيْهِ فِي النَّاسِ فَقَالَ الْمَلِكُ مَا تَزْعُمُ هُذِهِ قَالَ مَا تَزْعُمُ قَالَ تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا مِنْكَ قَالَ أَنْتِ تَزْعَمِيْنَ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ ابْنَ هَذَا الصَّغِيرُ قَالُوا هُوَ ذَا فِي حِجْرِهَا فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ أَبُوكَ قَالَ رَاعِي الْبَقَرِ قَالَ الْمَلِكُ أَنَجْعَلُ صَوْمَعَتَكَ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ لَا قَالَ مِنْ فِضَّةٍ قَالَ لَا قَالَ فَمَا نَجْعَلُهَا قَالَ رُدُّوهَا كَمَا كَانَتْ قَالَ فَمَا الَّذِي تَبَسُمْتَ قَالَ أَمْرًا عَرَفْتُهُ ادْرَكَتْنِي دَعْوَةُ أُمِّي ثُمَّ أَخْبَرَهُمْ.
৩৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) এবং জুরাইজ সংশ্লিষ্ট শিশু ব্যতীত আর কোন মানব-সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ামাত্র দোলনায় কথা বলেনি। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জুরাইজ কে? তিনি বলেনঃ জুরাইজ ছিলেন একজন উপাসনালয়বাসী সংসারত্যাগী দরবেশ। তার উপাসনালয়ের প্রান্তেই এক রাখাল বাস কারতো। গ্রাম্য এক নারী সেই রাখালের কাছে যাতায়াত করতো। একদিন জুরাইজের মা তার নিকট এসে বলেন, হে জুরাইজ! তিনি তখন নামাযরত ছিলেন। তিনি নামাযরত অবস্থায় মনে মনে বলেন, আমার মা এবং আমার নামায। তিনি তার নামাযকে অগ্রাধিকার দিলেন। দ্বিতীয়বার তার মা জোরে ডাক দিলে তিনি মনে মনে বলেন, আমার মা ও আমার নামায। তিনি মায়ের উপর নামাযকে অগ্রাধিকার দিলেন। তৃতীয়বার চীৎকার দিয়ে তার মা তাকে ডাকলে তিনি বলেন, আমার মা ও আমার নামায। তিনি নামাযকে অগ্রাধিকার দেয়াই সমীচীন ভাবলেন। জুরাইজ তার ডাকে সাড়া না দিলে তিনি তাকে অভিশাপ দিলেনঃ "তোকে পতিতা নারীদের মুখ না দেখিয়ে যেন আল্লাহ তোর মৃত্যু না ঘটান"। অতঃপর তার মা চলে গেলেন। ঘটনাক্রমে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু সন্তানসহ সেই নারীকে রাজ-দরবারে উপস্থিত করা হলো। রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, কার ঔরসে এ শিশুর জন্ম? সে বললো, জুরাইজের ঔরসে। রাজা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, উপাসনালয়বাসী জুরাইজ? সে বললো, হাঁ। রাজা নির্দেশ দিলেন, উপাসনালয়টি ভেঙ্গে দাও এবং তাকে আমার নিকট হাযির করো। তারা কুঠারাঘাতে তার উপাসনালয়টি ভূপাতিত করলো এবং তার দুই হাত রশি দিয়ে তার ঘাড়ের সাথে বেঁধে তাকে নিয়ে রাজ-দরবারে চললো। পথে পতিতা নারীরা সামনে পড়লো, তিনি তাদের দেখে মৃদু হাসলেন। তারাও তাকে লোকজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখলো। রাজা তাকে বলেন, সে কি ধারণা করে? জুরাইজ বলেন, সে কী ধারণা করে? রাজা বলেন, তার দাবি এই যে, এ শিশু আপনার ঔরসজাত। জুরাইজ পতিতাকে বলেন, সত্যিই কি তোমার এই ধারণা? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন, কোথায় সেই শিশু? তারা বললো, ঐ যে তার মায়ের কোলে। তিনি তার সামনে গেলেন এবং বললেন, কে তোমার পিতা? শিশুটি বললো, গরুর রাখাল। এবার রাজা বলেন, আমরা কি আপনার খানকাহ সোনা দ্বারা নির্মাণ করে দিবো? তিনি বলেন, না। রাজা পুনর্বার বলেন, তবে রূপা দ্বারা? তিনি বলেন, না। রাজা বলেন, তবে আমরা সেটিকে কি করবো? তিনি বলেন, রুদুহা কামা কানাত। রাজা জিজ্ঞেস করলেন, তবে আপনার মৃদু হাসির কারণ কি? তিনি বলেন, এমন একটি ঘটনা যা আমার জানা ছিল। আমার মায়ের অভিশাপই আমাকে স্পর্শ করেছে। অতঃপর তিনি সকল ঘটনা তাদেরকে অবহিত করেন (বু,মু)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00