📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মুশরিক পিতার সাথেও সদাচার করতে হবে

📄 মুশরিক পিতার সাথেও সদাচার করতে হবে


۱۳ - بَابُ بِرِّ الْوَالِدِ الْمُشْرِكِ
٢٤ - عَنْ سَعْدِ ابْنِ أَبِي وَقَاصِ قَالَ نَزَلَتْ فِي أَرْبَعُ أَيَاتٍ مِّنْ كَتَابِ اللَّهِ تَعَالَي كَانَتْ أُمِّي حَلَفَتْ أَنْ لَا تَأْكُلَ وَلَا تَشْرَبَ حَتَّى أَفَارِقَ مُحَمَّداً ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ وَإِنْ جَاهَدَاكَ عَلَى أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبَهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَالثَّانِيَةُ إِنِّي كُنْتُ أَخَذْتُ سَيْفًا أَعْجَبَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَبْ لِي هَذَا فَنَزَلَتْ يَسْتَلُونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ ، وَالثَّالِثَةُ إِنِّي مَرِضْتُ فَأَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَقْسَمَ مَالِي أَفَأَوْصِي بِالنِّصْفِ فَقَالَ لَا فَقُلْتُ الثُّلُثُ فَسَكَتَ فَكَانَ الثُّلُثُ بَعْدَهُ جَائِزاً والرَّابِعَةُ إِنِّي شَرِبْتُ الخَمْرَ مَعَ قَوْمٍ مِّنَ الْأَنْصَارِ فَضَرَبَ رَجُلٌ مِّنْهُمْ أَنْفِي بِلَحْيِ جَمَلٍ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ تَحْرِيمَ الْخَمْرِ.
২৪। সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা) বলেন, আমার সম্পর্কে আল্লাহ্র কিতাবের চারটি আয়াত নাযিল হয়। (১) আমার মা শপথ করেন যে, আমি যতক্ষণ মুহাম্মাদ (স)-কে ত্যাগ না করবো ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি পানাহার করবেন না। এই প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ নাযিল করেনঃ "পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করতে চাপ দেয় যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে" (৩১: ১৫)। (২) একখানি তরবারি আমার পছন্দ হলে আমি তা গ্রহণ করে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এটা দান করুন। তখন নাযিল হলো, "লোকে আপনার নিকট যুদ্ধলব্ধ দ্রব্যসম্ভার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে" (৮: ১)। (৩) আমি রোগাক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে দেখতে আসেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার সম্পদ বণ্টন করে দিতে চাই। আমি কি আমার অর্ধেক সম্পত্তি সম্পর্কে ওসিয়াত করবো? তিনি বলেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি নিরুত্তর থাকলেন। শেষে এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করা বৈধ করা হয়। (৪) আমি কতক আনসারীর সাথে মদপান করি। তাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি উটের নীচের চোয়ালের হাড় আমার নাকের উপর ছুড়ে মারে। আমি নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হলে মহামহিম আল্লাহ মদ্যপান হারাম হওয়া সংক্রান্ত আয়াত (৫: ৯০-৯১) নাযিল করেন (মু, দা, আ, তি, তাব)।
٢٥ - أَخْبَرَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ أَتَتْنِي أُمِّي رَاغِبَةً فِي عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ أَفَاصِلُهَا قَالَ نَعَمْ . قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلٌ فِيْهَا لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ .
২৫। আসমা বিনতে আবু বাকর (রা) বলেন, আমার মা নবী (স)-এর যুগে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট অবস্থায় আমার কাছে আসেন। আমি নবী (স)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি তার সাথে আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখবো? তিনি বলেন: হাঁ। ইবনে উয়ায়না (র) বলেন, এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ "যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি, তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না" (৬০:৮) (বু, মু, দা)।
٢٦ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ يَقُولُ رَأَي عُمَرُ حُلَّةٌ سِيَرَاءَ تُبَاعُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْتَعْ هُذِهِ فَالْبَسْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَإِذَا جَاءَكَ الْوُفُودُ قَالَ إِنَّمَا يَلْبَسُ هُذِهِ مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فَأْتِيَ النبيُّ ﷺ مِنْهَا بحلل فَأَرْسَلَ الي عُمَرَ بِحُلَّةٍ فَقَالَ كَيْفَ الْبَسُهَا وَقَدْ قُلْتَ فِيهَا مَا قُلْتَ قَالَ إِنِّي لَمْ أُعْطِكَهَا لِتَلْبَسَهَا وَلَكِنْ تَبِيعُهَا أَوْ تَكْسُوهَا فَأَرْسَلَ بِهَا عُمَرُ إِلي اخ لَهُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ.
২৬। ইবনে উমার (রা) বলেন, উমার (রা) একটি লাল বর্ণের রেশমী চাদর বিক্রি হতে দেখে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা আপনি ক্রয় করুন। জুমুআর দিন ও বহিরাগত প্রতিনিধি দলসমূহের সাথে সাক্ষাতদানকালে তা আপনি পরতে পারবেন। তিনি বলেন: তা সেইসব লোকই পরবে যাদের (আখেরাতে) কোন অংশ নাই। পরে অনুরূপ লাল বর্ণের কিছু সংখ্যক রেশমী চাদর নবী (স)-এর দরবারে আসে। তিনি তার একটি উমারের কাছে পাঠিয়ে দেন। উমার (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এটা পরিধান সম্পর্কে যা বলেছেন, তারপর আমি তা কিভাবে পরতে পারি! তিনি বলেন: আমি তা তোমার পরিধানের জন্য পাঠাইনি, বরং তুমি তা বিক্রি করবে অথবা কাউকে পরতে দিবে। উমার (রা) তা তার জনৈক মক্কাবাসী ভাইয়ের জন্য পাঠিয়ে দিলেন, যিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি (বু, মু, দা, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কেউ যেন নিজ পিতা-মাতাকে গালি না দেয়

📄 কেউ যেন নিজ পিতা-মাতাকে গালি না দেয়


২৭ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرُو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مِنَ الْكَبَائِرِ أَنْ يَشْتِمَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ فَقَالُوا كَيْفَ يَسْتِمُ قَالَ يَشْتِمُ الرَّجُلُ فَيَشْتِمُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ.
২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের একটি হলো নিজ পিতা-মাতাকে গালি দেয়া। সাহাবীগণ বলেন, কেউ কি নিজ পিতা-মাতাকে গালি দিতে পারে! তিনি বলেনঃ সে অন্যের পিতা-মাতাকে গালি দিবে, প্রতিশোধ স্বরূপ ঐ ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে গালি দিবে (বু, মু, দা, তি)।
۲۸ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ مِنَ الْكَبَائِرِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَي أَنْ يُسْتَسِبُ الرَّجُلُ لِوَالِدَهُ.
৯২৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বলেন, পিতা-মাতাকে গালি শুনানো আল্লাহ্র নিকট একটি কবীরা গুনাহ (বু, মু, দা, তি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার শাস্তি

📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার শাস্তি


٢٩ - عَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ مَعَ مَا يُدْخَرُ لَهُ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ.
২৯। আবু বাকরা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ পিতা-মাতার অবাধ্যতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার অপরাধের শাস্তি অন্যান্য পাপের চেয়ে দ্রুত অপরাধীর উপর কার্যকর হয়। পরকালের শাস্তি তো আছেই (দা, তি, ই, আ, হা, হি)।
٣٠ - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا تَقُولُونَ فِي الزَّنَا وَشُرْبِ الْخَمْرِ وَالسَّرِقَةِ قُلْنَا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هُنَّ الْفَوَاحِشَ وَفِيهِنَّ الْعُقُوبَةُ أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِاكْبَرِ الكبائر الشرك بالله عَزَّ وَجَلٌ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَكَانَ مُتَّكِنًا فَاحْتَفَزَ قَالَ وَالزُّوْرُ.
৩০। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তোমরা ব্যভিচার, মদ্যপান ও চুরি সম্পর্কে কি বলো? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বলেনঃ এগুলি জঘন্য পাপাচার এবং এগুলির জন্য ভীষণ শাস্তি অবধারিত আছে। আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে মারাত্মক কবীরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না? মহান আল্লাহ্র সাথে শীরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচারী হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যাচার (বা,তা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পিতা-মাতার কান্না

📄 পিতা-মাতার কান্না


٣١ - عَنْ طَيْسَلَةَ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ بُكَاءُ الْوَالِدَيْنِ مِنَ الْعُقُوقِ وَالْكَبَائِرِ.
৩১। তায়সালা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনে উমার (রা)-কে বলতে শুনেছেনঃ পিতা-মাতাকে কাঁদানো এবং তাদের অবাধ্যাচরণ কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত (৮ নং হাদীসের বরাত)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00