📄 পাপাচার ব্যতীত অন্য সকল ব্যাপারে পিতা-মাতার অনুগত থাকা
- بَابُ يَبُرُّ وَالِدَيْهِ مَا لَمْ يَكُنْ مَعْصِيَةٌ
১৮ - عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ أَوْصَانِي رَسُولُ اللهِ ﷺ بِتِسْعِ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطَعْتَ أَوْ حُرِّقْتَ وَلَا تَتْرُكَنَّ الصَّلاةَ المَكْتُوبَةَ مُتَعَمِّداً وَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ الدِّمَّةُ وَلَا تَشْرَبَنَّ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ دُنْيَاكَ فَاخْرُجْ لَهُمَا وَلَا تَنَازِعَنَّ عَنْ وُلاةِ الْأَمْرِ وَإِنْ رَأَيْتَ أَنَّكَ أَنْتَ وَلَا تَفْرِرْ مِنَ الزَّحْفِ وَإِنْ هَلَكْتَ وَفَرَّ أَصْحَابُكَ وَانْفِقْ مِنْ طَوْلِكَ عَلَى أَهْلِكَ وَلَا تَرْفَعْ عَصَاكَ عَلَيْ أَهْلِكَ وَآخِفْهُمْ فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
১৮। আবু দারদা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে নয়টি ব্যাপারে ওসিয়াত করেছেন: (১) আল্লাহর সাথে কিছু শরীক করো না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা অগ্নিদগ্ধ করা হয়। (২) ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয নামায ত্যাগ করো না, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ফরয নামায ত্যাগ করবে তার সম্পর্কে আমার কোন দায়িত্ব নাই। (৩) মদ্যপান করো না, কেননা তা সকল অনাচারের চাবি। (৪) তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করবে, তারা যদি তোমাকে দুনিয়া ছাড়তেও আদেশ করেন তবে তাই করবে। (৫) শাসকদের সাথে বিবাদে জড়াবে না, যদিও দেখো যে, তুমিই তুমি। (৬) যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, যদিও তুমি ধ্বংস হও এবং তোমার সঙ্গীরা পলায়ন করে। (৭) তোমার সামর্থ্য অনুসারে পরিবারের জন্য ব্যয় করো। (৮) তোমার পরিবারের উপর থেকে লাঠি তুলে রাখবে না এবং (৯) তাদের মধ্যে মহামহিম আল্লাহ্ ভয় জাগ্রত রাখবে।
১৯ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَي النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ جِئْتُ أَبَايِعُكَ عَلَي الهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَيْ يَبْكِيَانِ قَالَ ارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا .
১৯। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, এক ব্যক্তি নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি হিজরত করার জন্য আমার পিতা-মাতাকে কান্নারত রেখে আপনার নিকট বায়আত হতে এসেছি। তিনি বলেন: তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে যেভাবে কাঁদিয়েছো সেভাবে তাদের মুখে হাসি ফোটাও (মু,না,দা,তি)।
٢٠ - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يُرِيدُ الْجِهَادَ فَقَالَ أَحَيُّ وَالِدَاكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ فَفِيْهِمَا فَجَاهِدٌ.
২০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, এক ব্যক্তি জিহাদে যাত্রার উদ্দেশ্যে নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? সে বললো, হাঁ। তিনি বলেন: যাও, তাদের মধ্যে (সেবাযত্নের) জিহাদে প্রবৃত্ত হও (বু, মু, দা, না, তি)।
📄 পিতা-মাতাকে পেয়েও যে ব্যক্তি বেহেশত লাভ করতে পারেনি
١٠ - بَابُ مَنْ أَدْرَكَ وَالدَيْهِ فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ
۲۱- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ رَغِمَ أَنْفُهُ رَغِمَ أَنْفُهُ رَغِمَ أَنْفُهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ.
২১। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তার নাক ধূলিমলিন হোক! তার নাক ধূলিমলিন হোক!! তার নাক ধূলিমলিন হোক!!! সাহাবাগণ বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! কার নাক? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে তাদের বৃদ্ধাবস্থায় পেলো অথচ সে দোযখে গেলো (মু, তি, আ)।
📄 যে ব্যক্তি নিজ পিতা-মাতার সাথে সদাচার করে আল্লাহ তার আয়ু বৃদ্ধি করেন
۱۱ - بَابُ مَنْ بَرَّ وَالِدَيْهِ زَادَ اللَّهُ فِي عُمُرِهِ
২২ - عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَادٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ بَرَّ وَالِدَيْهِ طُوبَي لَهُ زَادَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي عُمُرِهِ.
২২। মুআয (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজ পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করলো তার জন্য শুভ সংবাদ। আল্লাহ তার আয়ুস্কাল বৃদ্ধি করেন (হা, তা, ইলা)。
📄 কেউ নিজ মুশরিক পিতার জন্য যেন ক্ষমা প্রার্থনা না করে
١٢ - بَابُ لَا يَسْتَغْفِرُ لِأَبِيْهِ الْمُشْرِكِ
২৩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ إِلى قَوْلِهِ كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا فَنَسَخَهَا الْآيَةُ فِي بَرَاءَةِ مَا كَانَ لِلنَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَي مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ .
২৩। ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ্র বাণীঃ "তোমার জীবদ্দশায় তাদের কোন একজন অথবা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের প্রতি (বিরক্তিসূচক) উহ শব্দটিও বলো না, ....যেমন তারা তোমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছে” (১৭: ২৪)। উক্ত আয়াত "মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও ঈমানদারদের জন্য শোভনীয় নয়, যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয়, তাদের কাছে এ কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাবার পরও যে, তারা দোযখবাসী" (৯: ১১৩) এই আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে (তা, দুর)।