📄 পিতা-মাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা
৫- অনুচ্ছেদঃ পিতা- মাতার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলা।
৮। তায়সালা ইবনে মায়্যাস (র) বলেন, আমি যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত ছিলাম। আমি কিছু পাপকাজ করে বসি যা আমার মতে কবীরা গুনাহর শামিল। আমি তা ইবনে উমার (রা)-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, এই এই ব্যাপার। তিনি বলেন, এগুলো কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত নয়। কবীরা গুনাহ নয়টি: (১) আল্লাহ্র সাথে শরীক করা, (২) নরহত্যা, (৩) জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন, (৪) সতী-সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে যেনার মিথ্যা অপবাদ রটানো, (৫) সূদ খাওয়া, (৬) ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, (৭) মসজিদে ধর্মদ্রোহী কাজ করা, (৮) ধর্ম নিয়ে উপহাস করা এবং (৯) সন্তানের অসadaচরণ যা পিতা-মাতার কান্নার কারণ হয়। ইবনে উমার (রা) আমাকে বলেন, তুমি কি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও? আমি বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমি তাই চাই। তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম, আমার মা জীবিত আছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তুমি তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বললে এবং তার ভরণপোষণ করলে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যদি কবীরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকো (তাবারীর তাফসীর, আবদুর রাযযাক আল-খারাইতীর মাসাবিউল আখলাক)।
৯। হিশাম ইবনে উরওয়া (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। "তাদের জন্য মায়া-মমতার পক্ষপুট বিস্তার করে দাও" (১৭ঃ ২৪) শীর্ষক আয়াত প্রসংগে তিনি বলেন, তারা যে জিনিসই পছন্দ করেন, তাতে বাধা দিও না (তাবারী)।
📄 পিতা-মাতার প্রতিদান
৬- অনুচ্ছেদ : পিতা-মাতার প্রতিদান।
১০। আবু হুরায়ারা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ সন্তানের পক্ষে তার পিতার প্রতিদান শোধ করা সম্ভব নয়। তবে সে তাকে দাসরূপে পেয়ে ক্রয় করে দাসত্বমুক্ত করে দিলে তার প্রতিদান হতে পারে (মু, দা, ই, তি, হি, তহা)।
১১। আবু বুরদা (র) বলেন, তিনি ইবনে উমার (রা)-এর সাথে ছিলেন। ইয়ামনের এক ব্যক্তি তার মাকে তার পিঠে বহন করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিল আর বলছিল, "আমি তার জন্য তার অনুগত উটতুল্য+আমি তার পাদানিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও নিরুদ্বেগে তা সহ্য করি।" অতঃপর সে ইবনে উমার (রা)-কে বললো, আমি কি আমার মাতার প্রতিদান দিতে পেরেছি বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন, না, তার একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদানও হয়নি। অতঃপর ইবনে উমার (রা) তাওয়াফ করলেন। তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌছে দুই রাকআত নামায পড়ার পর বলেন, হে আবু মূসার পুত্র! প্রতি দুই রাকআত নামায পূর্ববর্তী পাপের কাফফারা (বায়হাকী, কানযুল উম্মাল)।
১২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। মারওয়ান তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছিল এবং তিনি তখন যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে অবস্থান করতেন। তিনি একটি ঘরে বাস করতেন এবং তার মা আর একটি ঘরে বাস করতেন। যখন তিনি ঘর থেকে বের হতেন তখন তার মায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন, "আসসালামু আলাইকে ইয়া উম্মাতাহ ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" (মা! আপনার প্রতি শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তার মা বলতেন, "ওয়া আলাইকা ইয়া বুনাইয়্যা ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" (হে পুত্র! তোমার উপরও শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। তিনি পুনরায় বলতেন, আল্লাহ "আপনার প্রতি দয়া করুন যেভাবে আপনি আমার শৈশবকালে আমাকে লালন-পালন করেছেন"। তার মা বলতেন, "আল্লাহ তোমার প্রতিও দয়া করুন যেরূপ আমার বার্ধক্যে তুমি আমার প্রতি সদ্ব্যবহার করছো"। অতঃপর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখনও অনুরূপ বলতেন (আ)।
১৩। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বলেন, হিজরতের উদ্দেশ্যে বায়আত হওয়ার জন্য এক ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে কান্নারত অবস্থায় ত্যাগ করে নবী (স)-এর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি বলেনঃ তুমি তাদের নিকট ফিরে যাও এবং তাদেরকে যেমন কাঁদিয়ে এসেছো তেমনি তাদের মুখে গিয়ে হাসি ফুটাও (বু, মু, দা, না, ই)।
১৪। আবু তালিব কন্যা উম্মে হানী (রা)-র মুক্তদাস আবু মুররা (র) অবহিত করেন যে, তিনি আকীক নামক স্থানে অবস্থিত আবু হুরায়রা (রা)-র সাথে তার খামার বাড়ীতে একই বাহনে চড়ে গমন করেন। তিনি তার বাড়িতে পৌছে উচ্চস্বরে বলেন, আলাইকিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ইয়া উম্মাতাহ্। তার মা বলেন, ওয়া আলাইকাস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আবার আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রহিমাকিল্লাহ্ কামা রব্বায়তানী সাগীরা। তার মা বলেন, ইয়া বুনাইয়্যা ওয়া আনতা জাযাকাল্লাহু খায়রান ওয়া রাদিয়া আনকা কামা বারারতানী কাবীরা (বা)।
📄 পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার পরিণতি
৭- অনুচ্ছেদ : পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার পরিণতি। ১৫। আবু বাকরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মকগুলি সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবো না? কথাটি তিনি তিনবার বলেন। সাহাবাগণ বলেন, হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেন: আল্লাহ্র সাথে শরীক করা (শিরক) এবং পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ। তিনি হেলান দেয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বলেনঃ এবং মিথ্যা বলা। তিনি এ কথাটি বারবার বলছিলেন। আমি মনে মনে বললাম, আহা! তিনি যদি ক্ষান্ত হতেন (বু. মু. তি)। ১৬। মুগীরা ইবনে শোব্য (রা)-র সচিব ওয়াররাদ বলেন, মুয়াবিয়া (রা) তাকে পত্র লিখলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখে তুমি যা শুনেছো তা আমাকে লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বলেন, মুগীরা (রা) আমার দ্বারাই লিখালেন এবং আমি স্বহস্তে লিখলাম। আমি তাঁকে "বেশী যাঞ্চা করতে, অর্থের অপচয় করতে এবং গুজবে কান দিতে নিষেধ করতে শুনেছি" (বু, মু, দা)।
📄 যে ব্যক্তি পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয় আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন
- ১৭ عَنْ أَبِي الطَّفَيْلِ قَالَ سُئِلَ عَلِيٌّ هَلْ خَصَّكُمُ النَّبِيُّ ﷺ بِشَيْءٍ لَمْ يَخُصُّ بِهِ النَّاسَ كَافَّةً قَالَ مَا خَصَّنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِشَيْءٍ لَمْ يَخْصُ بِهِ النَّاسَ إِلَّا مَا فِي قِرَابِ سَيْفِي ثُمَّ أَخْرَجَ صَحِيفَةً فَإِذَا فِيهَا مَكْتُوبٌ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللهُ مَنْ سَرَقَ مَنَارَ الْأَرْضِ لَعَنَ اللهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ آوَي مُحْدِثًا .
১৭। আবু তোফাইল (র) বলেন, আলী (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবী (স) কি কোন বিশেষ ব্যাপার আপনাকে বলেছেন, যা সর্বসাধারণকে বলেননি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) অন্য কাউকে বলেননি এমন কোন বিশেষ কথা একান্তভাবে আমাকে বলেননি। অবশ্য আমার তরবারির খাপের মধ্যে যা আছে ততটুকুই। অতঃপর তিনি একখানি লিপি বের করলেন। তাতে লেখা ছিলঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অপর কারো নামে পশু জবাই করে তার প্রতি আল্লাহ্র অভিশাপ। যে ব্যক্তি জমির সীমানা চিহ্ন চুরি করে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। যে ব্যক্তি বেদাতীকে আশ্রয় দেয় তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ (মু,না,আ)।